পৌষ এল ঘরে -২৩
স্মৃতি শেখর মিত্র
শীত
১.
শীত এলেই ভীষণ ভাবে নাড়া দেয় গরীবের কথা।
ফুটপাতে শুয়ে থাকা বাচ্চা বুড়ো সকলের ওপর ময়াল
সাপের মতো জড়িয়ে ধরে শীতের কামড়। গভীর
এক অসাম্য দৃশ্যতই ফুটে ওঠে গরীব ও ধনীদের
মধ্যে সীমারেখা হয়ে। শীততাপনিয়ন্ত্রিত গৃহকোণে
সুসজ্জিত বিছানায় লেপের তলায় দিব্য ঘুম দেয়
ধনীর দুলাল। শীত মানেই গরীবের চরম শাস্তি।
কত দুঃস্থ অসহায়দের একমাত্র আস্তানা ফুটপাতের উপর।
এই অসাম্য ভীষণ দৃষ্টিকটু।
কত মানুষ সারারাত না ঘুমিয়ে একটু উষ্ণতার খোঁজে রাস্তার নেড়ি কুত্তার মতো শুয়ে থাকে এখানে সেখানে। শীত করে তোলে নাজেহাল।
অনেক মানুষই মারা যায় শীতের প্রকোপে প্রতিরাতে
যার কোন হিসাব থাকে না সরকারের হিসাবের খাতায়।
২.
শীত নিয়ে আসে আনন্দ উৎসব শ্রমজীবী মানুষের
কাছে। শীত মানেই বছর ভর কঠিন পরিশ্রমের পর
কিছুদিন আরাম ও স্বস্তির নিঃশ্বাস।গ্ৰামের মানুষের ঘরে ঘরে সোনালী ধানের শীষ আর বিভিন্ন ফসল।শীত নিয়ে আসে আনন্দ। মেলার আনন্দ সমস্ত গ্ৰামের মানুষের কাছে। প্রতিটি ছোট বড় নদীর তীরে মেলা বসে।খেলাইচন্ডীর মেলা, বড়গ্ৰামের মেলা।
পৌষমাসে পুরুলিয়া, বাঁকুড়া জেলার টুসুর পূজা।
অজয় নদীর তীরে জয়দেব কেন্দুলির মেলা, শান্তিনিকেতনের স্বনামধন্য পৌষ মেলা।রাতভর বাউলের গান আর পদাবলী কীর্তন গান।মানুষের হৃদয়ে লালন সাঁইয়ের গান। চড়ুইভাতি বনভোজন ময়ূরাক্ষী নদীর চরে। শীত মানেই জেলায় জেলায় বইমেলা
আর উড়ে এসে জুড়ে বসা নানান পাখির হৃদয়ের গান।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন