পৌষ এল ঘরে -২৪
দীপক বেরা
১.
দূরত্ব
আজকাল পৌষ আসে একটু দেরিতে
ভোরবেলা ছাদের হিমছায়ায় সে আসে চুপিসারে
সোনালি খড়ের কুটো এলোমেলো উড়িয়ে
খেলা করে সে ছোট্ট বালিকার মত।
উত্তরের হাওয়া ছুঁয়ে যায় আমার হৃদয়ের ঘরবাড়ি
টের পাই বুকের ভিতর তার আদিগন্ত বিস্তার...
অথচ, কী এক নিষিদ্ধ শাসন, বারণ
আমাকে দূরে দূরে রাখে শীতের স্পর্শ থেকে।
দূরে গাছের ডালে দু'টি শালিখ খুঁটে খুঁটে খায়
আমাদের যাবতীয় দূরত্ব ও পৌষের শীতলতা!
২.
ক্ষয়িষ্ণু
পাঁচিলের উপর অনেকক্ষণ বসে আছে কাক-টা
সেও কি আমার মত নিঃসঙ্গ, একা?
আহ্লাদের স্বপ্নগুলো মুখ থুবড়ে পড়ে আছে
আমার ক্ষয়ে যাওয়া দোমড়ানো থালায়
ফুটপাতে স্বপ্নের কোনও রঙ নেই, ধূসর ছাড়া!
পাঁচিলের গায়ে হেলান দিয়ে রাখা সাইকেলটা
কত ভার সয়ে সয়ে ক্ষয়ে ক্ষয়ে চলৎশক্তিহীন
জং-ধরা, ভাঙাচোরা,.. পরিত্যক্ত, বাতিল বহুদিন
তবু, মনে করিয়ে দেয় কত হারিয়ে যাওয়া গল্পকথা
ঝরে ঝরে পড়ে শুকনো পাতার সেই মর্মর ধ্বনি!
শীতের সকালে ঠিকরে পড়া মহার্ঘ একফালি রোদে
ছোট্ট বুধনকে ফুটপাতে একপাশে শুইয়ে রেখে
কাঁথা সেলাই করে চলেছে মালতি মাসি।
হঠাৎ কঁকিয়ে কেঁদে ওঠে বুধন, হয়তো বা
স্বপ্ন দেখে, কিংবা খিদের চোটে!
পাঁচিলের কাকটা উড়ে যায়, কি জানি কোথায়?
রেখে যায় —
পুরনো স্বপ্নের গায়ে ইতস্তত লেগে থাকা, .. পালকের ক্ষয়!
দূরত্ব ও ক্ষয়িষ্ণু -দুটি কবিতায় কবি দুখানি ছবি এঁকেছেন।
উত্তরমুছুন'ক্ষয়িষ্ণু'- হৃদয়স্পর্শী।
প্রাণিত হলাম দিদি। আমার আন্তরিক অপার শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানবেন।
মুছুনভালো লাগলো, অনন্য প্রচেষ্টা।
উত্তরমুছুনশুভকামনা নিরন্তর।