পৌষ এল ঘরে —১৬
মৌ মধুবন্তী
(টরন্টো-কানাডা-পৃথিবী)
১.
বাকল কাটা কপাল তোলা
এল পৌষ ঘরে ঘরে শুরু হল শীতের আনাগোনা
গানে গানে পিঠা পুলি ক্ষীর পায়েসের চলে বন্দনা
না হলে খেজুর রসের নলেন গুড় শীত জমে না
আহা! বাংলার এই আদি দাদী ঐতিহ্য কেউ ভোলে না
বাঙ্গালীর জিভে থাকে মন ভোলানো খেজুর রসের স্বাদ
পৌষ মাসে বৌ ঝিয়ের বাড়ে কাম, বাড়ে যে আহ্বালাদ
শহর থেকে গ্রামে আসে আত্মীয় পরিজন
নানা রকম পিঠা খাইতে চায় যে তাদের মন
কুয়াশায় শীতের সকালে ওড়ে ভাপা পিঠার ধোঁয়া
নলেন গুড়ের রাঙ্গা রূপে পিঠা হয় তোয়া তোয়া
এলে পৌষ মাস, লোকে বলে সর্বনাশ, আমি দেখি আশা
গায়ে মাখ কাঁচা সোনা রোদ, পিঠায় দিও ভালোবাসা।
২.
লক্ষ্মী শাক্ত পদাবলি পৌষ
পৌষ মানেই পিঠা পার্বন, পৌষ মানেই বনভোজন
পৌষ মানেই লক্ষ্মী মাস, বোঝে কয়জন
কত হাজার আচার নিয়ম রীতি নীতি বাংলার গ্রামে গ্রামে
কত হাজার শীতের পাখী উড়ে এসে বনেতে নামে
অগ্রহায়ণে নতুন ধান ঘরে তোলা হয়
পৌষ এলে নানা রকম চালের গুড়া কোটা হয়
শাক্ত পদাবলি বলে, নবমীর নিশাবসানে , উমা চলে যাবে
মা মেনকা তখন উপাচারে বুক চিরে গান গাবে
যেতে দিতে চায় না মা কন্যা পৌষ মাসকে
পিঠার দোহাই দিয়ে আকুলিবিকুলি করে ডাকে
যাসনে রে ও পৌষ মাস, তুই যে আমার বারোমাস
তুই এলি গুড়ি গুড়ি, তোকে দেবো সোনার ঝুড়ি
তুই গেলে চলে যাবে আমার মা-কন্যা-আদর বুড়ি।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন