ধারাবাহিক রহস্য উপন্যাস (পর্ব-১২)
ট্রেকিংয়ের পথে রহস্য
অনন্যা দাশ
ওরা যখন পুলিশ স্টেশান চত্বরে ঢুকছে তখন একটা কালো গাড়ি হুস করে ওদের পাশ দিয়ে বেরিয়ে গেল। রক গাড়িটাকে দেখেই বলল, “আরে এটা তো সেই গাড়িটা যেটা আমার পিছন পিছন এখানে আসছিল! ওরা পুলিশ স্টেশানে কী করছিল? নির্ঘাৎ সি অ্যাণ্ড স্যান্ডের লোক!”
ভজা বলল, “হুঁ, তাই হবে!”
ভিতরে ঢুকে কাউকে দেখতে না পেয়ে ওরা, “হ্যালো!” বলতে একটা অফিস থেকে একজন অফিসার বেরিয়ে এলেন। মাথায় সম্পূর্ণ টাক, বড়োসড়ো ভুঁড়ি, গুম্ফ বিশিষ্ট অফিসারকে দেখে হিন্দি সিনেমার ভিলেনের মতন লাগছিল। তবে সবুজ চোখগুলো অসম্ভব তীক্ষ্ণ। নিজের পরিচয় দিয়ে উনি বললেন, “আমি শেরিফ ওম্যালি। তোমরা তো গ্রান্টের বন্ধু তাই না?”
“হ্যাঁ, আপনি কী করে জানলেন?”
“এটা ছোট জায়গা! এখানে সবাই সব জানে!” মুচকি হেসে বললেন অফিসার।
“আপনার সঙ্গে একটু কথা ছিল,” রক বলল।
সেটা শুনেই ওনার হাসি মিলিয়ে গেল আর কর্কশ স্বরে বললেন, “তোমরা এখানে কী করছ? বন্ধুর মৃত্যুতেও শিক্ষা হয়নি? এখুনি চলে যাও এখান থেকে! তোমাদের সঙ্গে কথা বলা তো দূরের কথা তোমাদের মুখও দেখতে চাই না আমি! নিজেদেরকে খুব কেউকেটা মনে করছ নাকি তোমরা? এটা কী বাচ্চাদের খেলার জায়গা নাকি? কারা সব ঘুরে বেড়াচ্ছে জানো না? তোমাদের কেটে ফেলে দেবে আর লাশ খুঁজেও পাওয়া যাবে না! কলেজে পড়ছ বলে মনে করছ যে মাথা কিনে নিয়েছো সবার? এখুনি এখান থেকে বেরিয়ে যাও!” বলে উনি নিজের অফিসে ঢুকে ওদের মুখের ওপর দরজা বন্ধ করে দিলেন। ওরা তিনজন স্তম্ভিত হয়ে দাঁড়িয়ে রইল।
বাইরে বেরিয়ে রক গ্রান্টের দিদিকে ফোন করল। একটু পরেই সে গাড়ি নিয়ে চলে এল।
ওরা গাড়িতে উঠে বসতে সে জিজ্ঞেস করল, “কী হল পুলিশ স্টেশানে?”
রক মাথা নাড়ল, বলল, “নাহ, ওদের কাছ থেকে কোন সাহায্য পাওয়া যাবে বলে মনে হয় না। আমাদের একেবারে দুর দুর করে তাড়িয়ে দিল।
“ও!” ক্যাথি যেন একটু মুষড়েই পড়ল। কী আশা করেছিল সে কে জানে।
কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল, “বাবা তোমাদের সঙ্গে কথা বলবেন তবে বাড়িতে নয়। বাড়ির ওপর কে নজর রাখছে কে জানে। কিছুটা দূরে সমুদ্রের ধারে আমাদের একটা খালি বিচহাউস বা কেবিন মতন আছে। আমি তোমাদের ওখানে নামিয়ে দিয়ে আসছি এখন। একটু পরে বাবা চুপি চুপি ওখানে চলে যাবেন। তোমাদের কথা হয়ে গেলে বাবা বেরিয়ে চলে যাবেন আর আমি পরে গিয়ে তোমাদের নিয়ে আসব। খালি খেয়াল রেখো কেউ যেন পিছু না নেয় আমাদের।”
“ঠিক আছে আমাদের গাড়ি সারাই হতে তো কিছুটা দেরি তাই যেখানে নিয়ে যাবে সেখানেই যাব!”
ক্যাথি গাড়ি করে অলি গলি হয়ে সমুদ্রের ধারে একটা জায়গায় দাঁড় করালো। বলা বাহুল্য কেউ ওদের পিছু নেয়নি। ওদের নামিয়ে দিয়ে ক্যাথি বলল, “এর পর বালি, ওখানে গাড়ি আটকে যাবে, তোমরা হেঁটে ওই সবুজ জানালা দেওয়া বাড়িটাতে চলে যাও। এই নাও চাবি। আমি এবার চলি, বাবা এখুনি এসে পড়বেন,” বলে সে চলে গেল।
ওরা বালির ওপর দিয়ে হেঁটে বাড়িটায় পৌঁছে দরজা খুলে ভিতরে ঢুকল। ভিতরে কিছু আসবাব রয়েছে। কয়েকটা বেতের চেয়ার টেবিল। রক একটা চেয়ারে বসে পকেট থেকে ফোনটা বার করে বলল, “খেয়েছে! এখানে তো সিগনাল নেই! ক্যাথিকে ডাকব কী ভাবে?”
অঙ্কন বলল, “সে ওর বাবা যখন বেরবেন তখন ওনাকে বলে দিলেই হবে যে বাড়ি পৌঁছে ক্যাথিকে পাঠিয়ে দেবেন বা কিছু!”
মিনিট পনেরো হয়ে গেল কিন্তু গ্রান্টের বাবা এলেন না।
ভজা গুম হয়ে ছিল এতক্ষণ, হঠাৎ বলল, “ব্যাপারটা ঠিক ভালো ঠেকছে না আমার। মনে হচ্ছে আমরা কোন একটা ফাঁদে পা দিয়েছি!”
রক বলল, “মানে? কী ফাঁদ? আমরা এখানে বিপদে পড়ব নাকি?”
দরজাটা খুলে এরিক ঢুকে এল আর বলল, “ঠিক বলেছো! বিপদ নয়, মহা বিপদ!সত্যি বলতে কী আমারও একদম ভালো লাগছে না তোমাদের মতন বুদ্ধিমান কম বয়সী তিনজনকে মেরে ফেলতে, কিন্তু উপায় নেই। বড়ো কিছু একটা করতে গেলে অনেক সময় ছোট চুনোপুঁটিদের বলিদান দিতে হয়! যেমন তোমাদের বন্ধুকে দিতে হল। ও হ্যাঁ, ওকে তো আমিই ঠেলে ফেলেছিলাম ওই খাদে। তবে বৃষ্টির জন্যে পথের যা অবস্থা ছিল তাতে খুব সুবিধা হয়েছিল। ও কোন প্রতিরোধই করতে পারেনি!”
চলবে...
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন