মানবতাবাদী কবিতা —৮
আমার মুখ
বিশ্বজিৎ রায়
করোনাকালের লকডাউনে কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর রংমিস্ত্রি পাঁচুদা এখন
কাঁচুমাচু মুখে সাইকেলে চেপে মাছ বিক্রি করেন পাড়ায় পাড়ায়,
বোসবাড়ির খোকন হোটেলের চাকরিটা খুইয়ে
নিজের রান্নাকরা খাবার বাড়ি বাড়ি "হোম ডেলিভারি" দেয় স্ত্রীর সহায়তায়,
ঘোষপাড়ার শম্পার 'নার্সারি স্কুলের' চাকরিটা চলে যাওয়ায়
চেনা বৌদিদের কিস্তিতে শাড়ি-ব্লাউজ বিক্রি করে কিছু রোজগারের আশায়,
কোভিডের পর শয্যাশায়ী মানসের সংসার সামলায় বন্ধু প্রীতম
মানসের স্ত্রীর সঙ্গে 'গোপন' বোঝাপড়ায়---
ওই পাঁচুদা, খোকন, শম্পা, মানসের মধ্যে কবে যেন
আমি ঢুকে গেছি, ওদের সব মুখগুলো কবে যেন আমার মুখ হয়ে গেছে...
সিকিউরিটি গার্ডের চাকরিটা চলে যাওয়ার পর
'লম্বু শ্যামল' পাড়ার মোড়ে চেঁচায় সবজি নিয়ে,
সাধনদা হঠাৎ করোনার কামড়ে চলে গেলে, সুচিত্রা বৌদি
চারপেটের সংসার চালান উদয়াস্ত সেলাই মেসিন চালিয়ে,
কলোনি পাড়ার চন্দনাদের বাড়ির
পাঁচ পাতের সংসারে হাঁড়ি চড়ে
বাড়ি বাড়ি জ্যাম জেলি আচার বিক্রি করে...
ওরা সবাই আমার স্বজন, ওদের সবার শরীরে আমার শরীর
ওদের প্রতিটা মুখে আমার মুখ, ওদের প্রতিটা ভাতের গ্রাসে আমার খিদের স্বস্তি...

ভালো লাগলো কবিতাটি। জীবন সংগ্রামের কবিতা।
উত্তরমুছুন