লেবেল

মঙ্গলবার, ৫ জানুয়ারি, ২০২১

আজ থেকে প্রকাশিত হলো ধারাবাহিক নাট্যকাব্য (পর্ব-১) ।। সুখ শিকার - নির্ঝর মুখোপাধ্যায়

 




আজ থেকে প্রকাশিত হলো ধারাবাহিক  নাট্যকাব্য    

(পর্ব-১)


  সুখ শিকার                                              

                                                                          
                                                                        
নির্ঝর মুখোপাধ্যায় 
                              
( ঋণ স্বীকার :Happiness Hunting by Bo Anderson )

                  
এককালে ছিল অরণ্য 
             তারপর লাগলো আগুন
             লাগলো না কেউ লাগালো
             জানতে হলে  দয়া করে
                             ধৈর্য্য একটু  ধরুন।
             এখন রয়েছে পড়ে আর কিছু না  ছাই-
             তবুও এখানে ওখানে
             তুলেছে মাথা দুএক টুকরো
             ঘাসের মতো গাছ
                               যেন বা  বনসাই। 

( একটি বছর কুড়ি পঁচিশের মেয়ের প্রবেশ) 

          মেয়েটি-

সক্কল কে আমার নমস্কার অভিবাদন
আপানাদের কাছে যা করব নিবেদন
“সুখ শিকার” মনে রাখবেন
 সেই কাহিনীর নাম  ।  
আর আমার কি বা কাম ?
ঠিক হ্যায় আসুন বাতলে দিচ্ছি 
আমার কি নাম ধাম-
আমি হলাম সুখ
যদিও আমি অধরা 
কিন্তু কি করব বলুন ? 
এখন 
আমায় দিতেই হবে ধরা 
নইলে কেমন করে
 দেখবেন সেই সুখের ভাঙ্গা গড়া ?
তাই এই মেয়ের রূপটি ধরে  
টি শার্ট টি পরে 
বুকের মাঝে   “সুখ “ টি লিখে
এমনি হাজির করা। 
কি বললেন ?
 টি শার্ট টা কিনেছি কোথা   থেকে ?
এটা খুবই সস্তার মাল 
আমদানি  চিন থেকে 
কিনতে গেলে  
পেয়ে যাবেন
চায়না টাউন মলে। 
বুঝুন মশাই ব্যাপার
চিন দেশটা কত্ত দূরে 
তবু  কি কারবার ।
পৃথিবী জুড়ে  
সস্তা দিয়ে করছে যে জেরবার ।
একবার খুব ইচ্ছে করে
চায়না ঘুরে আসি
সস্তার সে দেশে কেমন
লোকের মুখে হাসি
দেখি আমায় খোঁজে কেমন
দুরের সে দেশবাসী।

(হঠাৎ পিছন থেকে হই হই আওয়াজ )

এইরে এবার পালাই না হলে
পাগলিনী সেই নারী 
কবের থেকে আমার খোঁজে
ফিরছে বাড়ি বাড়ি।
সুধী পাঠক, বাবুমশাই,মান্যগন্য জন
জানেন তো সে আমায়  খোঁজে
কেন
তার কি কারণ ?
ভাবছে সে যে ধরতে পারলে 
      আমায় একটি বার
পাবে হদিশ অনেক সুখের 
  এটাই মোদ্দা ব্যাপার।
জানিনা ঠিক আপনারাও
        কি সেই নারীটির মতো
আমার খোঁজে ছুটে চলেন
          দিনরাত অবিরত !
তাই যাবার আগে
     বলে দিয়ে যাই
শেষ বারেরই মতো
    যুবতির বেশে আসলে আমি
একটি ছায়ার মতো।

( ছুটে বেরিয়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গে একটি নারীর প্রবেশ)

                                        

নারী-
 
এইখানেই সে দাঁড়িয়ে ছিল বোধহয়
মাটির থেকে উঠছে গায়ের গন্ধ 
তার মানে তো কাছেই আছে সে
কিন্তু এ তো ভস্মীভূত অরণ্য নিস্পন্দ।
ছুটতে ছুটতে নিশ্চয়ই সে ক্লান্ত
খুঁজছি তাকে অনাদি অনন্ত।
সামনে নদী বইছে আকুল পারা
এইবার সে আমার হাতে ঠিক পড়বে ধরা।


(মেয়েটি ছুটে চলে যায়। পুরুষের প্রবেশ। 
তার হাতে বাগান পরিষ্কার করার কাটা ঝাড়ু।)   


পুরুষ

আমি এইখানেতেই থাকি
         এই অরণ্য আমার
“একে অরণ্য বলে নাকি ?”

          জানি এমন প্রশ্ন 
করবে সবাই আমায়
           প্রশ্ন যারা করবে
আমার সাধ্য কি তা থামায়।

এক কালে সে ছিল বটে এক
      বিশাল বিশাল আকাশ ছোঁয়া গাছ
কিন্তু এখন শুধুই পোড়া ছাই
       এটাই আমার নিশ্চিন্তের ঠাঁই। 

নেইকো পাখির ডাক
        আর নেইকো হু হু হাওয়া
নেইকো কোনো ন্যাকা ট্যুরিস্ট
        নেইকো গাছের ছাওয়া।

এখানেই আমি প্রাণপণে রোজ
        সরাচ্ছি জঞ্জাল 
একটি কণাও ঘাসের  আগা
        হচ্ছে না আজকাল।

প্রত্যেকেই তো খোঁজে একটা  কোণ
    হয়তো বা কেউ পাহাড়ে যায়
কিম্বা গভীর বন
      আমার হোল এটাই স্বর্গ
সুখের গৃহ কোণ। 

মাইল জুড়ে ধু ধু পোড়া মাঠ
      নিঝুম নিস্তব্ধ চারিধার
কান পাতলে শুনতে পাবেন
      প্রকৃতির হাহাকার।

শুনেছেন কি নিঃশব্দের
      অপূর্ব সেই গান
সেইটা নিয়েই বাঁচি আমি
      সেটাই আমার প্রাণ।
( ইইইইই চিৎকার করতে করতে সুখ ছুটে বেরিয়ে যায়। পিছন পিছন নারীটি ছুটতে ছুটতে বেরিয়ে যায়।)
আরে আরে হচ্ছেটা কি এসব
         এই পোড়া বনে উটকো কান্ড যত
ওর পিছনে এ ছুটছে পাগলা ঘোড়ার মতো।

      এখানে এরা কি পাবে কে জানে
একটু আগেই ছিলোতো এই খানে।
      ছুটতে ছুটতে হয় যদি হোক
কঙ্কাল সার জীর্ণ
           আর যেন না ফিরে আসে
এই বনে এক দিনও। 

( বাঁচাও বাঁচাও বলতে বলতে সুখ ছুটে বেরিয়ে যায়। পিছন পিছন নারীটি উর্ধশ্বাসে ছুটতে ছুটতে বেরিয়ে যায় )
 
এই এই কি চাই এইখানে 
বেরোও বলছি  যাও অন্যখানে
যেমন ছুটছো ছোটো সারাজীবন
জ্বালাতে এসো না 
আমি আছি বেশ , 
           আমার শান্তিবন।

( ছুটতে ছুটতে আবার সুখ ঢুকে পড়ে। পুরুষ তাকে ধরবার চেষ্টা করে। সুখ ফসকে পালিয়ে যায়। নারীটি ছুটতে  ছুটতে আসে। পুরুষটির সঙ্গে ধাক্কা লেগে মাটিতে পড়ে যায়।) 
                        
নারী---

 একটুর  জন্যে ফস্কে গেল উফ
 এই লোকটা দেখছি  একটা আস্ত বেইকুফ।

                         
পুরুষ

এই এই , মুখ সামলে  নারী
 এটা আমার বন , কি চাই তোমার
জানো না তোমায় এই মুহূর্তে 
বিদেয় করতে পারি ?
চাই না তোমায় চাই না এই বনে
এক্ষুণি যাও  আর কোনদিন
এসো না এই স্থানে।
                          

নারী

যাব না আমি থাকবো এই বনে
                         

 পুরুষ--

ঠাঁই দিও না কথাটা ওই
তোমার মনের কোণে। 
                        

 নারী—

সে হবে না থাকবো আমি  
              ভস্মীভূত বনে-
                   

 পুরুষ

দেখ নারী অনেক কষ্টে , 
 এই ভস্মীভূত বনে, 
একলা থাকার পেয়েছি একটা ঠাঁই
এইখানেতে আমার মতো আমি থাকতে চাই। 
এখানে তোমার স্থান হবে না মোটে
এসো ওঠো,  ওই দেখো কে তোমায় দেখে ছোটে 
বুঝতে পারছি পড়ে গিয়ে চোট পেয়েছ কিছু
ঠিক আছে তবে হাতটা ধরো হচ্ছি একটু নিচু।

                               

নারী

খবরদার!
 ছোঁবে না আমায় মোটে 
ক্লান্ত আমি এইখানেতে ঘুমোই বরং বটে। 

                                        

পুরুষ

দেখ নারী আমি  কিন্তু 
       বেজায় অসন্তুষ্ট 
এক্ষণি এ জায়গা ছাড়ো
       নইলে হবো রুষ্ট।
আর থামাও তোমার 
        ঘ্যানঘ্যানানি বিশ্রী 
                        এই কান্না
এবার মানে মানে 
           কেটে পড়ো
                  অনেক হয়েছে
                             আর না।



চলবে...



----------------------------------------------------------------

প্রকাশিত এই ধারাবাহিক কাব্যনাট্যটি  প্রতি বুধবারে অঙ্কুরীশা-র পাতায়  ক্লিক করে পড়ুন ও পড়ান। 
মতামত জানান। 

ankurishapatrika@gmail. com
---------------------------------------------------------------------                     




কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন