১.
তোমাকে নিয়ে লেখা
রোজ রোজ বসে থাকতে আর ভালো লাগে না
লিখে যাওয়া কবিতাগুলোর দিকে তাকাইও না
আসলে মনখারাপের সময়ে শুধু তোমায় নিয়ে লিখি
অসময়ে প্রেম এলেও প্রেমের দিকে মন থাকে না।
জানালা থেকে দেখি আকাশ , মাথায় ঝাঁকড়া চুল
পাখিরা হাসে মেঘকে দেখে , চুল আঁচড়ায় না
তোমাকে নিয়ে লিখতে গিয়ে, আকাশ, নদী , প্রেম
ভাবতে ভাবতে ঘুম আসে, আর প্রেম আসে না।
সকাল - বিকেল , সন্ধ্যা - রাত্রি কবিতাতে থাকি
চারদিক নির্জন , স্তব্ধ।কবিতায় নিরবতা থাকে না
লিখে যাই তোমার জন্যে, যা আসে যখন মনে
তোমাকে নিয়ে কবিতায়, শুধু আমার ভাবনা।
২.
বীরপুত্র
গ্রাম-শহর সব চুপচাপ
বীরপুত্রের ভয়ে
বিশ্বজুড়ে ঘুরে নিয়েছে
বাবার মতো হয়ে।
বিদেশ থেকে বিমান-ট্রেনে
আসে বীরপুত্র
সবাই তাকে ভয়ে পেয়ে
লুকায় যত্রতত্র।
চারদিকে খুন করে চলেছে
বীরপুত্রের সব বাহিনী
কেমন করে বাঁচবে মানুষ
শুনে বীরপুত্রের কাহিনী ।
দেশজুড়ে মানুষ আজ গৃহবন্দী
বীরপুত্র রেগে ছড়ায় মৃত্যুবীজ
রাজ্য, দেশ, শুনশান- শুধুই হাহাকার
সব রাস্তা দখলে বাহিনীর গিজগিজ।
৩.
দুঃসময়
কতগুলো সিঁড়ি ভেঙে, গ্রাম, বাংলা পথ
ব্যাকরণ কোলাজে, বর্ণ, শব্দময়
নদী ডাকে প্লুতস্বরে, জোয়ার -ভাটায়
পাখিরা অসময়ে স্বরবৃত্তের সুর করে অবরোধ
মানুষের হাহাকার ছন্দহীন মিলে
দুঃসময় কারা যেন খায় শুধু গিলে।
৪.
নিশানা
মুখের থেকে গলা, গলা থেকে ফুসফুস
কতগুলো বর্ণের রূপে
তাপমাত্রায় পুড়ে যায় শরীর
নাকের থেকে ঝরে পড়ে মোম
সারা পাকস্থলীতে যন্ত্রণার শব্দ
নিজের অজান্তে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অনু -পরমানু
ছড়িয়ে দিচ্ছি দৃশ্যহীন ভাবে
মেরুদণ্ডহীন হয়ে থাবা বসায়
বিশ্রী ভাবে
অগনিত মানুষের নিশানায়।
৫.
-অভয়াশ্রমে
আমি চেয়ে থাকি নিঃসঙ্গ দ্বীপে
কান্নার সমুদ্রে ভেসে চলেছি
একটা উদ্দ্যেশ্য পথে
এক নৌকায় চেপে
সমুদ্র শেষে বাইচ টেনে টেনে
নদীর প্রান্ত ধরে
দু'পাশে ঘন জঙ্গল
সূর্য কিংবা চাঁদের আলোতে আঁধার থাকে
আমি চলেছি নৌকায় চেপে
নৌকার একপাশে আমি, অন্য পাশে কলম
লিখে চলেছি সুন্দরবন, জঙ্গল , মানুষ- ভয়
বৈকালিক ছায়ায় কলমটা ভোঁতা হয়
আমি অবাক দৃষ্টিতে
প্রকৃতির রূপ-লাবণ্যে
অসহায় বন্যপ্রাণীর অভয়াশ্রমে।
৬.
-জ্যোৎস্নার হাসি
আমার কবিতার হৃদয়ের ওপর
বিশাল জ্যোৎস্না আড়াআড়ি শুয়ে
বিশ্রাম নেয় অনবদ্য শিথিল দেহে
নিষ্পাপ হাতে শব্দ বুনি শরীর ছুঁয়ে।
দুলে ওঠে পিঠ,কবিতার খোলা মাঠে
সুক্ষ্ম সুক্ষ্ম হাসি ঢেকে শুয়ে আছে
অর্থহীন ভাবে আমি স্পর্শ করে যাই
খিলখিল করে হেসে বলে - আছি বেঁচে।
অনুতপ্ত অনুভবে জ্যোৎস্নার হাসি দেখি
কবিতার হৃদয়ে তার শৈল্পিক চেতনা আঁকি।
৭.
বাড়াবাড়ি নয়, কড়াকড়ি
বাড়াবাড়ি নয়, কড়াকড়ি
সবার বেলা নয়
বিত্তশালীরা ঘুরে বেড়ায়
এটাই নিয়ম হয়।
গরীব কৃষক, মজুর সবাই
ভিন রাজ্যে রয়
লকডাউন চলছে দেখে
সবার শরীরে ভয়।
বাস,ট্রেন সব বন্ধ দেখে
চিন্তা আসে মনে
নানান হায়রানের শিকার হয়ে
হাঁটা পথে বাড়ির টানে।
শিশু কোলে মেয়েরা হাঁটে
পুরুষদের মাথায় ব্যাগ
দোকানপাট সবই বন্ধ দেখে
মাথায় চড়ে রাগ।
সোজা এসে হাসপাতালে
সবাইকে নিয়ে ঢোকে
একে একে পরীক্ষা করে
বাড়ির দিকে ঝোঁকে।
বাড়াবাড়ি নয়, কড়াকড়ি
গরীবের বেলায় হয়
চার দিকে কতশত প্রচার
অনেকে অভুক্ত রয়।
৮.
ছড়াক্কা
দিশেহারা
হাহাকার ভরা এ কোন বসন্ত, যেন গো অন্ধকারা
দিকে দিকে হাহাকার
পাখিরা বলছে বারবার
মহাপ্রলয় যে আসছে
বাতাসে যে তা ভাসছে
বিশ্বজুড়ে শূন্যতার ডাক, সবাই যে আজ দিশেহারা ।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন