লেবেল

শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬

। আগষ্ট সংখ্যা।। ।। কবিতা বিভাগ।। ।। বিষয় — স্বাধীনতা-৭।। খাঁচায় বন্দী স্বাধীনতা —মুক্তি দাশ।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 

      

।। আগষ্ট  সংখ্যা।। 

  ।। কবিতা বিভাগ।। 

 ।। বিষয় — স্বাধীনতা-৭।।



খাঁচায় বন্দী স্বাধীনতা 

মুক্তি দাশ


ঝাঁকে ঝাঁকে কত 
পাখি ডানা মেলে
         ভাসছে আকাশ-নীলে,
নিচেও তাদের 
ছায়াগুলো ছোটে
         মাঠে-ঘাটে, খালে-বিলে!

উসখুশ করে 
খাঁচায় বন্দী
         লালঠোঁট টিয়াপাখি।
খোকা “বলে তুই 
চুপচাপ কেন?
মনটা খারাপ নাকি?

ঠিক আছে, খুলছি 
খাঁচার আগল,
          যা তুই খেলবি খানিক।
সন্ধের আগে 
‘গুড বয়’ হয়ে
         ফিরবি তো, সোনা মানিক?”

শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬

। আগষ্ট সংখ্যা।। ।। কবিতা বিভাগ।। ।। বিষয় — স্বাধীনতা-৬।। স্বাধীনতা কে না চায় — প্রদীপ্ত সামন্ত।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 

      

।। আগষ্ট  সংখ্যা।। 

  ।। কবিতা বিভাগ।। 

 ।। বিষয় — স্বাধীনতা-৬।।



স্বাধীনতা কে না চায় 

প্রদীপ্ত সামন্ত 


স্বাধীনতা কে না চায় --

মুক্ত হাওয়া ,পরিচিত গন্ডি থেকে বেরিয়ে 

প্রাণভরে একটু গভীর নিঃশ্বাস ; 

মাছও জাল ছেড়ে জলে ফিরে যেতে চায়, 

পাখি খাঁচা ছেড়ে আকাশে - বন্দী ;

লোহার গরাদ ভেঙে বাইরে ... 


আবদ্ধ হবে বলে যে সংসার পেতেছিল 

সেই সংসারীও সংসার নামক বন্দি দশা থেকে বেরিয়ে এসে একটু অন্য ভাবে কাটাতে চায়; চাকুরিজীবী একঘেয়েমি কাটাতে 

ক'দিনের জন্য ঘুরে আসে --

মোদ্দাকথা স্বাধীনতা; স্ব অধীনতা- নিজের অধীনে থেকে ইচ্ছে খুশি মত কাটাতে প্রত্যেকেই চায়;

প্রত্যেকেই ভালোবাসে --উন্মুক্ত বিহঙ্গের

খোলা আকাশের বিচরণ.....




বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬

। আগষ্ট সংখ্যা।। ।। কবিতা বিভাগ।। ।। বিষয় — স্বাধীনতা-৫।। স্বাধীনতা —অনিন্দ্য পাল।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।


      

।। আগষ্ট  সংখ্যা।। 

  ।। কবিতা বিভাগ।। 

 ।। বিষয় — স্বাধীনতা-৫।।



স্বাধীনতা 

অনিন্দ্য পাল 


স্বাধীনতা শুধু একটা দিন নয়, পালনীয় 

স্বাধীনতা শুধু একটা তারিখ নয়, মাননীয়  

স্বাধীনতা শুধু এক গোছা রজনীগন্ধা ফুল নয়, দিলখুশ 

স্বাধীনতা শুধু চিরকুটে লেখা হাজার শব্দের বক্তৃতা নয়, স্মরণীয় 

 

স্বাধীনতা অঙ্কুরিত হয়নি ভোটবাক্সে পোঁতার জন্য

স্বাধীনতা এক ফোঁটা অমৃত যেটা হাত পেতে নয়, 

রক্ত দিয়ে আদায় করতে হয়, 

যে রক্তের প্রতি বিন্দুতে লেখা থাকে মায়ের নাম 

আর সেই রক্তে ভেজা মাটির উপরে 

আকাশের চোখে চোখ রেখে দাঁড়াতে পারার নামই স্বাধীনতা 

বন্দুক গুলি বেয়োনেট পেরিয়ে মায়ের কোলে 

                                            মাথা রাখার নামই স্বাধীনতা… 

বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬

।। আগষ্ট সংখ্যা।। ।। কবিতা বিভাগ।। ।। বিষয় — স্বাধীনতা-৪।। স্বাধীন হবো কবে - তীর্থঙ্কর সুমিত।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।


      

।। আগষ্ট  সংখ্যা।। 

  ।। কবিতা বিভাগ।। 

 ।। বিষয় — স্বাধীনতা-৪।।



স্বাধীন হবো কবে 

তীর্থঙ্কর সুমিত



স্বাধীন মানে স্বাধীনতা
আদৌ কি স্বাধীন 
বীর শহীদের স্বপ্নগুলো
আজও পরাধীন।

চোখের কোণে জল ঝরে যায়
রক্তে ভেজা শহর
গ্রামগুলো আজ মাটির খোঁজে 
শেকড় ছেঁড়ার বহর।

মায়ের আঁচল আজও ছেঁড়া
সুভাষ তোমার কোলে
ক্ষুদিরামের গলার ফাঁসে
স্বাধীনতা ঝোলে।

আজকে দেখো স্বাধীন দেশে 
অধীন আমরা সবে 
বলতে পারো ভারত মাতা
স্বাধীন হবো কবে?

মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬

। আগষ্ট সংখ্যা।। ।। কবিতা বিভাগ।। ।। বিষয় — স্বাধীনতা-৩।। স্বাধীনতা জানায়নি কোনদিন — দেবাশীষ সরখেল।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।


      

।। আগষ্ট  সংখ্যা।। 

  ।। কবিতা বিভাগ।। 

 ।। বিষয় — স্বাধীনতা-৩।।



স্বাধীনতা জানায়নি কোনদিন

 দেবাশীষ সরখেল 


পরাধীন মানুষ দেখতে কেমন তার কণ্ঠস্বর মিন মিনে না জলদগম্ভীর?

 সে যা ভাবে তা কি বলতে পারে?

 নাকি যা বলে তা শেখানো বুলি, তার ভাবনা নয় ।

 যারা রাজনীতির হাটে বিক্রি হয় রোজ,

 তারা  স্বাধীন না পরাধীন?


 স্বাধীনতা এসেছে

 এইসব প্রশ্নের উত্তর স্বাধীনতা স্পষ্টত জানায়নি কোনদিন। 

এইসব প্রশ্নের সামনে দাঁড়িয়ে সে শুধু মুচকি হেসেছে।

সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬

।। আগষ্ট সংখ্যা।। ।। কবিতা বিভাগ।। ।। বিষয় — স্বাধীনতা-২।। আমরা সবাই রাজা — দুরন্ত বিজলী।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।


      

।। আগষ্ট  সংখ্যা।। 

  ।। কবিতা বিভাগ।। 

 ।। বিষয় — স্বাধীনতা-২।।



আমরা সবাই রাজা

দুরন্ত বিজলী

স্বাধীনতা ১৯৪৭ সালের পনেরই আগস্ট আমরা অর্জন করলাম শহীদদের আত্মবলিদান, অনেক সংগ্ৰামের ফসল হিসেবে।
হ্যাঁ আমরা স্বাধীন। অকপটে বলে ফেলতে পারি
মনের সব কথা। এখন প্রশ্ন হচ্ছে সত্যি কি সব বলতে পারি ?
যেমন বলতে পারি না, এখনও ভারতে ভিক্ষুক ভিক্ষা করে। কিন্তু কেন ?
যেমন কোন কৃষক বলতে পারে না, তার ফসল ফলানোর খরচের চেয়ে উৎপাদিত ফসলের বাজারমূল্য , সরকারি মূল্য অনেক কম।
শিক্ষক শিক্ষা দিতে গিয়ে ছাত্রকে তার অভব্য আচরণের জন্য কড়া কথা বলতে ভয়। কারণ
তাঁর বিরুদ্ধে অভিভাবকদের আন্দোলন, এমনকি সেই শিক্ষককে মারধর, অবশেষে রাজনীতির মারপ্যাঁচে চাকরি খোয়া যেতেও পারে।
রাজনৈতিক নেতারাও ভয়ে ভয়ে থাকেন, ভোটের ভয়। আন্দোলনের মুখ ভোটের ফায়দার দিকে হলে সমর্থন করবেন, নাহলে নয়। নৈতিকতা চুলোয় যাক। ভোটে জেতাটাই মূল লক্ষ্য।
আর আমরা জনগণ, শ্রমজীবী মানুষ, পরিস্থিতির স্বীকার হয়ে ছেলেমেয়ে ও পরিবার পরিজনদের কথা ভেবে চুপচাপ খেটে যাই ।
আবার এদিকে বিজ্ঞানীরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে গবেষণার মাধ্যমে আমাদের সুস্থ্ জীবন দেবার চেষ্টা করছেন, তবু কিন্তু থেকে যায়, সব রোগী কি সব রকম সেবা পায় ?
আর সাহিত্য সংস্কৃতি জগতের মানুষেরা কেউ কেউ
ভাবছেন সভ্যতার অগ্ৰগতির কথা, আর কেউ কেউ ভাবছেন যেন তেন প্রকারেণ টাকা রোজগারের ধান্দা।
আমরা ভারতবাসীরাসীরা এখনও পুরোপুরি সুখি না।
সূক্ষ্ম পরাধীনতার স্রোত তলায় বয়ে চলেছে।
সেখান থেকে মুক্ত হবে কবে ?
যেদিন হবে , সেদিন হব 'আমরা সবাই রাজা এই রাজার রাজত্বে

রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬

। আজ থেকে অঙ্কুরীশা -র পাতায় শুরু হল... আগষ্ট সংখ্যা।। ।। কবিতা বিভাগ।। ।। বিষয় — স্বাধীনতা-১।। একমুঠো নরম রোদ —ফটিক চৌধুরী।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

      

।। আগষ্ট  সংখ্যা।। 

  ।। কবিতা বিভাগ।। 

 ।। বিষয় — স্বাধীনতা-১।।


একমুঠো নরম রোদ

ফটিক চৌধুরী

স্বাধীনতা—ভোরের জানালায় রাখা একমুঠো নরম রোদ,
যেখানে পাখিরা আকাশকে কোনও নাম না দিয়েই উড়ে যায়।
একটি শিশুর মুঠোয় সে কাগজের নৌকার মতো ভেসে থাকে,
আর নদী তাকে শেখায়—তীর মানেই শেষ নয়।

স্বাধীনতা কখনও পতাকার রঙে, কখনও মায়ের চোখের জলে,
কখনও অন্ধকার ঘরে হঠাৎ জ্বলে ওঠা একটি প্রদীপ।
যে মানুষ নিজের ভয়কে পেরিয়ে সত্যের দিকে হাঁটে,
তার পদতলে জন্ম নেয় অদৃশ্য সবুজ ঘাস।
স্বাধীনতা আসলে শুধু খোলা আকাশ নয় 
নিজের ভেতরের দরজাটি নিজেই খুলে দেওয়ার সাহস।

শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬

। জুলাই সংখ্যা।। ।। কবিতা বিভাগ।। ।। বিষয় — রথযাত্রা-১২।। ঠুঁটো— বিশ্বেশ্বর রায়।।Ankurisha।। E.Magazine.।।Bengali poem in literature।।

 



  ।। জুলাই সংখ্যা।। 

  ।। কবিতা বিভাগ।। 

 ।। বিষয় — রথযাত্রা-১২।।



  ঠুঁটো  

  বিশ্বেশ্বর রায়


জগন্নাথের রথ চলেছে গড়গড়িয়ে রাজপথ ধরে,

অগণিত জনগণ রশি ধরে টানে,

ঘর্ ঘর্ শব্দে ঘোরে চাকা,

উড়ছে ধুলোর মেঘ চাকার ঘর্ষণে।

আকাশ ছুঁয়েছে রথের কেতনগুলি।

দর্পিত কেতন শোভিত রথে চলেছেন তিনি

স্থবির, নিষ্কর্মা, ঠুঁটো---কল্পিত ঈশ্বর। 

রথাগ্রে স্বর্ণ-ঝাড়ু হাতে স্বয়ং রাজন

সাফ করে চলেছেন পথের ধূলিকণা, চূর্ণ প্রস্তর।

#

যে রশির টানে ঘোরে চাকা, ছোটে রথ

মানুষ পিষ্ট হয় সে চাকার নীচে চিরকাল। 

তবু তারা টেনে চলে প্রাণপণে যুগযুগান্ত ধরে।

তাদের বলিষ্ঠ হাতের আকর্ষণে 

ঘুরছে সভ্যতার চাকা, চলছে সমাজ-সংসার। 

শত শত সাম্রাজ্যের উত্থান-পতন

তাদেরই শ্রম আর ঘর্মের মূল্যে,

তবু তারা নিতান্ত অপাঙক্তেয়, তুচ্ছ, অসার,

শুধুমাত্র কায়িক শ্রমদাতা আর্থ-সামাজিক অবস্থানে,

ভোক্তা নয়, বিলাসী তো নয়ই।

                    

বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬

।। জুলাই সংখ্যা।। ।। কবিতা বিভাগ।। ।। বিষয় — রথযাত্রা-১১।। রথের মেলা —কার্ত্তিক মণ্ডল।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।




  ।। জুলাই সংখ্যা।। 

  ।। কবিতা বিভাগ।। 

 ।। বিষয় — রথযাত্রা-১১।।



রথের মেলা
 কার্ত্তিক মণ্ডল

হাসছে আকাশ ঝিলমিলিয়ে
আজকে সারা বেলা
কী সুন্দর লাগছে রে ভাই
ঘুরতে রথের মেলা। 

ঝাল মুড়ির ঠোঙা হাতে
বন্ধু ক'জন মিলে
গিয়ে ছিলাম রথ দেখতে
মহেশ তলার বিলে। 

আট থেকে আশিরা সব
আনন্দে আটখানা
ফুচকা পাপড় মণ্ডা মিঠাই
খাচ্ছে মিহিদানা। 

সত্যি কথা বলতে রে ভাই
মেলা মানে মিলন ক্ষেত্র
রঙবেরঙের  মানুষ দেখে
জুড়ায় আমার দু'নেত্র। 

বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬

।। জুলাই সংখ্যা।। ।। কবিতা বিভাগ।। ।। বিষয় — রথযাত্রা-১০।। রথ — মানস মুখোপাধ্যায়।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 



  ।। জুলাই সংখ্যা।। 

  ।। কবিতা বিভাগ।। 

 ।। বিষয় — রথযাত্রা-১০।।



রথ

  মানস মুখোপাধ্যায় 

রথ দেখা কলা বেচা নয়,

রথ দেখা ঘুগনি বেচা!

সেই কিশোরবেলার উন্মাদনা 

মাথায় পোকা নড়লে যা হয় ,

পাড়ার রথে বন্ধুদের নিয়ে ঘুগনি দোকান 

কিছু একটা করতে পারা ---

এই আনন্দটুকু আজো স্মৃতিরেখায় উজ্জ্বল 

বয়সটা গড়িয়ে গড়িয়ে আকাশের কাছাকাছি 

জানা নেই হঠাৎই ধুপ করে 

জ্বলে উঠতে পারি অগণিত তারাদের মাঝে 

তবু মন চায় রথের রশি ধরে টানতে 

যাতে অনেক খারাপের মাঝে 

ভালো কিছু হয়!!







মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬

।। জুলাই সংখ্যা।। ।। কবিতা বিভাগ।। ।। বিষয় — রথযাত্রা-৮।। আষাঢ়ে জগন্নাথ — মুক্তি দাশ।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।



  ।। জুলাই সংখ্যা।। 

  ।। কবিতা বিভাগ।। 

 ।। বিষয় — রথযাত্রা-৮।।



আষাঢ়ে জগন্নাথ

মুক্তি দাশ


দেবতারা সব প্রিয়দর্শন -
জানি সেই কথাটা্‌ই।
তোমরা যে বাবা কিসের দেবতা
মাথায় আসে না ছাই!
শ্রীজগন্নাথ, বলরাম আর
সুভদ্রা– তিনজনে,
এত বিদঘুটে কেন গো তোমরা
হলে তিন ভাইবোনে?
তোমাদের ছাড়া ভক্তকুলের
নয়নের মণি যে হারা!
অথচ কেমন কিম্ভূত সব
তোমাদের এই চেহারা!
প্রতি বছরেই ফিরে ফিরে মনে 
জাগে যে প্রশ্ন দুটো-
কেন তোমাদের পা-গুলো উধাও?
হাতগুলো কেন ঠুঁটো?
এর জবাবে যে আষাঢ়ে গল্প
বহু পুরাতন যা - সেই
শোনাতেই বুঝি আসো বারে বারে
ঠিক সে আষাঢ় মাসেই?

সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬

।। জুলাই সংখ্যা।। ।। কবিতা বিভাগ।। ।। বিষয় — রথযাত্রা-৭।। জয় জগন্নাথ — দীনেশ সরকার।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 



  ।। জুলাই সংখ্যা।। 

  ।। কবিতা বিভাগ।। 

 ।। বিষয় — রথযাত্রা-৭।।



জয় জগন্নাথ

দীনেশ সরকার

 

আষাঢ মাসে রথের মেলা

বছর ঘুরে আসে

খুকুর কাছে পয়াসা তো নেই

চোখের জলে ভাসে।

 

কী দিয়ে সে কিনবে বেলুন

কিংবা পাতার বাঁশি

কী করে খাবে পাঁপড় ভাজা

রথের মেলায় আসি।

 

বাবা যে তার পঙ্গু ঘরে

মা গিয়েছে কাজে

মায়ের কাছে চাইতে পয়সা

মরে সে যে লাজে।

 

মনমরা তাই খুকুমণি

বসে ঘরের কোণে

মনের ভিতর ‘জয় জগন্নাথ’

ধ্বনি শুধু শোনে।

 

কাজের শেষে খুকুর মা যে

ফিরলো ছূটে ছুটে

বললো, খুকু চল্‌ রে মেলায়

মজা নেবো লুটে।

 

খুকুর মুখে ফুটলো হাসি

মায়ের হাতটি ধরে

পৌঁছে গেল রথের মেলায়

হাতদুটি জোড় করে।

 

রথের রশি ধরতে খুকু

সচল হ’লো রথ

‘জয় জগ্ননাথ’ উঠলো ধ্বনি

পুরলো মনোরথ।


রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬

।। জুলাই সংখ্যা।। ।। কবিতা বিভাগ।। ।। বিষয় — রথযাত্রা-৬।। স্মৃতির ভেলায় রথের মেলা —জয়শ্রী সরকার।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।




।।  ।। জুলাই সংখ্যা।। 

।।  ।। কবিতা বিভাগ।। 

।। ।। বিষয় — রথযাত্রা-৬।।



স্মৃতির ভেলায় রথের মেলা 
জয়শ্রী সরকার

রথযাত্রা নামটা শুনেই পৌঁছে তো যাই ছোট্টবেলায়
বাবার কাছে বায়না ধরি, যাও না নিয়ে রথের মেলায়।
সেই সে দিনের সুখগুলো সব লেপটে থাকে মনের মাঝে
চাইলেও কী ভুলতে পারি? প্রশ্ন করি সকাল-সাঁঝে!

রথযাত্রার রহস্য কী --- সেটাই মাথায় ঢুকতো না যে
আনন্দটাই মুখ্য ছিল --- আর বাকি সব বৃথাই কাজে।      
ছুটি পেতাম একটি দিনের ঠিক দুপুরে পৌঁছে যেতাম  !                                     
জিলিপি আর পাঁপড় ভাজা মনের সুখে হামলে খেতাম !

রথটাকে তো টানবো বলে বায়না ধরি বাবার কাছে
ধমক যে খাই ঠিক তখনই ভীড়ের মাঝে হারাই পাছে !
নাগোরদোলায় আমার সাথে চড়তে হতো বাবাকেও
নাছোড়বান্দা আমি নাকি, ছাড়ছি না তো ধমকালেও!

বায়না করার আগেই বাবা কিনে দিত পালকি-পুতুল 
সাজবো বলে সঙ্গে দিত গলার হার আর কানের দুল।
বাবার হাতটা ধরে ধরেই আহ্লাদেতে কাটতো বেলা
মনের সুখে মজা লোটা --- এই না হলে রথের মেলা !

হঠাৎ দেখি মেঘের ঘটা --- বৃষ্টি নামে মুষলধারে
জল-কাদা আর ভীড়ের ঠেলায় দাঁড়াই গিয়ে শেডের ধারে।
ভাবতে গেলেই মন ছুটে যায় সেই সে দিনের রথের মেলায়
হাতড়ে বেড়াই আজকে শুধুই মধুর স্মৃতির এই অবেলায় !


সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬

।। জুলাই সংখ্যা।। ।। কবিতা বিভাগ।। ।। বিষয় — রথযাত্রা-৫।। দারুব্রহ্ম পুষ্প সাঁতরা।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 



।।   জুলাই সংখ্যা।। 

।।   কবিতা বিভাগ।। 

।।  বিষয় — রথযাত্রা-৫।।


দারুব্রহ্ম

পুষ্প সাঁতরা


তিন ভাই বোন যাত্রা করে
মহাধূমধাম
নেই কোন বিধি নিষেধ
জগন্নাথ নাম।
রথের দড়িতে টান পড়ে
ভক্তি রসের হাত
মানবতার বন্ধনে বাঁধা
জগতের নাথ।
হাত নেই পা নেই কান নেই
তবু গ্রহন চলন শ্রবণ
পুরুষোত্তম তুমি
ভক্তের একান্ত আপন।
তুমি নীলমাধব ধরা দাও
দারুব্রহ্ম ভগবান।
ভক্ত আর ভগবানের
মিলিত অমৃতগান।

রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২৬

। জুলাই সংখ্যা।। ।। কবিতা বিভাগ।। ।। বিষয় — রথযাত্রা-৪।। রথের মেলা — বিদ্যুৎ মিশ্র।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।



।।   জুলাই সংখ্যা।। 

।।   কবিতা বিভাগ।। 

।।  বিষয় — রথযাত্রা-৪।।



রথের মেলা

বিদ্যুৎ মিশ্র


মেঘলা আকাশ হুংকার দেয় খোকার মনে ভয়

এখন যদি বৃষ্টি আসে মনে খুব সংশয়।

রথের মেলা কী ভাবে সে যাবে তবে আজ

গোমড়া মুখে বসে খোকা ফেলে সকল কাজ।


বাপি বলেন সবুর করো বৃষ্টি এলে তাই

নতুন ছাতা বাড়ি আছে চিন্তা কিছুই নাই।

বাপির কথা শুনেই খোকার খুশি হলো মন

রথের মেলা ঘুরতে যাবে পূর্ণ হবে পণ।

শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬

।। জুলাই সংখ্যা।। ।। কবিতা বিভাগ।। ।। বিষয় — রথযাত্রা-৩।। দারুব্রহ্ম পুষ্প সাঁতরা।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।



।।   জুলাই সংখ্যা।। 

।।   কবিতা বিভাগ।। 

।।  বিষয় — রথযাত্রা-৩।।


দারুব্রহ্ম

পুষ্প সাঁতরা


তিন ভাই বোন যাত্রা করে
মহাধূমধাম
নেই কোন বিধি নিষেধ
জগন্নাথ নাম।
রথের দড়িতে টান পড়ে
ভক্তি রসের হাত
মানবতার বন্ধনে বাঁধা
জগতের নাথ।
হাত নেই পা নেই কান নেই
তবু গ্রহন চলন শ্রবণ
পুরুষোত্তম তুমি
ভক্তের একান্ত আপন।
তুমি নীলমাধব ধরা দাও
দারুব্রহ্ম ভগবান।
ভক্ত আর ভগবানের
মিলিত অমৃতগান।

শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬

।। জুলাই সংখ্যা।। ।। কবিতা বিভাগ।। ।। বিষয় — রথযাত্রা-২।। রথের গান মল্লিকা বিশ্বাস।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।



।।   জুলাই সংখ্যা।। 

।।   কবিতা বিভাগ।। 

।।  বিষয় — রথযাত্রা-২।।



রথের গান

মল্লিকা বিশ্বাস 

খোকন সোনার সাধ করেছে 
টানবে রথের দড়ি
দুই ধারে তে লোকের মেলা
ফেলবে পয়সা কড়ি 

পাড়ার সকল ছেলে মিলে
ঘুরবে সারা গাঁয়
মায়ের কোলের ছোট্টো খুকু
দেখতে যাবে তাই

রথের দড়ি টানবে সবাই 
গাইবে সবাই গান
সবার সুরে সুর মিলিয়ে 
বাজবে ঐক্যতান।

বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬

অঙ্কুরীশা-র পাতায় শুরু হল... ।। জুলাই সংখ্যা।। ।। কবিতা বিভাগ।। ।। বিষয় — রথযাত্রা-১।। আজকের কলমে — মিশে থাকে মুগ্ধতা —ফটিক চৌধুরী।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 


।।   জুলাই সংখ্যা।। 

।।   কবিতা বিভাগ।। 

।।  বিষয় — রথযাত্রা-১।।




মিশে থাকে মুগ্ধতা

ফটিক চৌধুরী

আকাশ আজ ঢেকেছে মেঘের আঁচলে
সেখানে চলছে নীল সাদা মেঘের খেলা
রথের চূড়ায় ওড়ে পতাকা
এসব দেখে বাতাসও মৃদু মন্দ বয়ে যায়। 

চাকার নিচে ওড়ে ধুলো
সারা গায়ে ছড়িয়ে পড়ে
হাজার হাতের টানে রথ এগিয়ে চলে
যেভাবে জীবনের টানে এগোয় জীবন। 

খিচুড়ির গন্ধে ম ম করছে রথতলা, পথঘাট
মহাপ্রসাদে মিশে থাকে মুগ্ধতা। 
রথের রশির এই টানে আছে
এক অনির্বচনীয় আনন্দ। 

শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬

।।জুন সংখ্যা।। ।। কবিতা বিভাগ।। ।। বিষয় — বিশ্ব পরিবেশ দিবস -১৭।। হিসেব নিকেশ — জীবন সরখেল।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।



।।জুন সংখ্যা।। 

।।   কবিতা বিভাগ।। 

।।  বিষয় — বিশ্ব পরিবেশ  দিবস -১৭।।



হিসেব নিকেশ 

জীবন সরখেল 


দিনরাত ঘাম শ্রমে নিষ্ঠায় সব্বাই
আজও বাড়িয়ে নিতে চায় সঞ্চয়...
হিসেব নিকেশের মিল গরমিলে
বারেবারে শুধু যেন হারিয়েই যায় 
লোভ আর প্রয়োজনের খেই...
সভ্যতা সবুজের সহযোগ ভুলে 
জলাভূমি নিধনের অবিমৃষ্যকারিতায় তাই
ভেনেজুয়েলারা আজও মাথা চাড়া দেয়!
আর কবে কতদিনে পাবো আমরা 
বুদ্ধিমানদের প্রকৃত বুদ্ধিমত্তার পরিচয়?
সদিচ্ছা আর সবুজ ভাবনার প্রয়োগেই
পৃথিবীতে আরও জারিত হোক 
সভ্যতায় আর প্রাণ মানবতার রসায়ন...

বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬

।।জুন সংখ্যা।। ।। কবিতা বিভাগ।। ।। বিষয় — বিশ্ব পরিবেশ দিবস -১৬।। শ্যামলিমাহীন শেষবেলায় — দীপক বেরা।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।



।।জুন সংখ্যা।। 

।।   কবিতা বিভাগ।। 

।।  বিষয় — বিশ্ব পরিবেশ  দিবস -১৬।।



শ্যামলিমাহীন শেষবেলায় 

দীপক বেরা 


বিস্তীর্ণ প্রান্তর জুড়ে ঝাপসা কুয়াশাবন্ধনী
বেরোবার কোথাও কোনো রাস্তা জানা নেই 
সব গূঢ়, সব গহন, কেমন যেন রহস্যময়...
এই ধরিত্রী যেন আবরণে আঁধার মেখেছে
অন্তরালে চলে গেছে কবে পূর্ণিমার আলো
দুষ্টু শিশুকাল, কম্পিত কৈশোর, সবুজ বনানী 
পুব আকাশের কোলে মুক্তোর মতো ভোর 
আর দিনাবসানে পশ্চিমের রক্তরাগ গোধূলি 
প্রাণের এইসব স্বপ্ন-কোলাহল থেকে বহুদূরে 
হারিয়ে যাচ্ছে জীবনের নন্দিত ইতিকাব্যকথা

এক হাতে ধরে আছি গোলাপের কুসুম 
অন্য হাতে মুখোশের আড়ালে ক্লিন্ন যান্ত্রিকতা
দুটি হাতের এই মৌলিক তফাৎটুকু বুঝতে
কত যুগ, কত শতাব্দী পেরিয়ে গেছে... 
শ্যামলিমাহীন শেষবেলার এই খণ্ডিত ছায়ায় 
আজ সবাই একত্রে শুধু একটি গাছ হতে চাই