পৌষ এল ঘরে -১২
হীরক বন্দ্যোপাধ্যায়
১.
সে কথা এখন নয়
সে কথা এখন নয় ,ছিল পাথর হয়ে উঠল
শালগ্রাম শিলা
আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে তাই সেই দৃশ্য ভাবি
নিজেকে বাড়ানো এত সোজা নয়
ফাল্গুনের দোল পূর্ণিমাতে
আকাশ জানলে একরকম আর তুমি জানলে
প্রথমেই ছুটে যাবে
ক্ষমতার অলিন্দে,হাতে উঠে আসবে সেলফোন
ফোন বেজেই চলবে
ধরবে না কেউ
একটা মানুষ কে মানুষ হতে কতটুকু আবেগ, কতটুকু সাহচর্য লাগে
তুমি জানতে চাইবে না কোনদিন
তখন আশপাশ বলতে বন্ধুরা
সব অশ্বথামা হত ইতি ...
একটা পিপড়েও জানে
আমি জীবিত মানুষকে স্পর্শ করি না
ময়দান রেসকোর্স হাইরাইজ পেরোতে পেরোতে
আমার সেই পুরোনো
কথামালা মনে পড়ছে আজ
মানুষ প্রেম, ভালবাসা ভুলে যায়
অপমান ভোলেনা কখনো ...
২.
বাবা
কাল বিকেলেও ঠিক ছিল না যে ঐ রাস্তা দিয়েই তোমাকে যেতে হবে
চারিদিকে অসংখ্য পাখি
বাড়ির সামনে এসে হর্ন দিচ্ছে একটা গাড়ি
ভুলে যাওয়া সহজ নয়,সমস্ত পুঙ্খানুপুঙ্খ
যখন যেখানে থাকি যে পথেই যাবো
নিজের বুকের ভেতর সেই ধক করে ওঠা...
আমি বললাম, ওদিকে যেওনা, মাঠ পেরোতে হবে, অপেক্ষা করছে কালসর্প
মাঝে মাঝে জিভ বের করে হিলহিল শব্দ করছে
তুমি সেই প্রথম কথার অবাধ্য হলে
আমি বললাম, ওদিকে যেওনা
বন পেরোতে হবে
অপেক্ষা করছে হিংস্র বাঘ আর তার চোখের তারায় জ্বলছে আগুন
বহু দিন খাবার পায়নি সে
অত মৌমাছি অত অত প্রজাতির প্রজাপতি
পথে ফুটে আছে ঘাসফুল ,সব আসলে ফাঁদ
মরীচিকা, তুমি শুনলেই না আমার কথা
বাবু বাবুই বাবা কথা শোনো
একবার যে যায় সেআর ফেরেনা বাবা...
আমার কন্ঠস্বর ভেঙে আসছে
তুমি নাছোড় শিশুর মতো বলছো তখনও
নদীর ওপার থেকে কেউ ডাকছে আমায়
ঢেউ য়ের তালে তালে নাচছে লহরী,কী ব্যাঞ্জনা
সমুদ্রনীল ঘাঘরা আর বাসন্তী ওড়নার
পিছু পিছু একবার আমিও গেছিলাম,উঠোনে
চারিদিকে সুপুরি।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন