লেবেল

বৃহস্পতিবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০২১

শুধু কবিতায়... পৌষ এল ঘরে -২৮।। দিশারী মুখোপাধ্যায়।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 





পৌষ এল ঘরে -২৮

দিশারী মুখোপাধ্যায় 


.প্রস্তাবনা 


যত কথা আজ পর্যন্ত জমা আছে,রোপনে করলে রেশনলাইন ফাঁকা হয়ে যাবে 
নদী যে অভিমান উপচে দুকূল ভাসিয়ে দেয়, নিরুপায়।এতো কান্না সারাবছর 
ধরে জমিয়ে রাখা অসম্ভব।শুনিয়ে বুক খালি করার মতো মাঝিও আজকাল পায় না 

মনোবিদের কাছে যাই, ফিস দিয়ে কথা শুনাই 
জমা কথা ফাঁকা হলে কাউন্সেলিং সম্পন্ন হয় 
কেউ কেউ তো কুড়িয়ে নিয়ে যায় শুকনো পাতা 
জ্বালানি হবার জন্য সেগুলো তো তৈরি হয়েই থাকে 

ঘন মেঘে ঢাকা আকাশের গায়ে চুলের মতো একটু ফাটল আছে।সেখান দিয়ে 
প্লাবনের গতিতে ঢুকছে আলো।একমাত্র আলো দিয়ে তৈরি পোশাকই বিবস্ত্রতা ঢাকতে পারে 
চলো অমরাবতীর মাঠে ,গল্প করি।গল্পের বীজ থেকে জন্মাবে বোটানিক্যাল গার্ডেনের বটগাছ। 






২.
গোলাপজল 


গোলাপজল তৈরি আছে। স্নান করবেন নূরজাহান।আর 
ভারত সম্রাট জাহাঙ্গির তাঁর কাপড়চোপড় হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে 
আছেন অদূরে। করোনা ভাইরাসের দাপটে তাঁর কোষাগার 
শূন্য।গোলাম, বাঁদী সব ছেড়ে চলে গেছে।আমিরি বলতে 
আর কিছুই নেই।শুধু এই আতরে-জাহাঙ্গিরিটুকু আছে।
আছে বেগম সাহেবার জন্য।সম্রাট তাঁর একমাত্র গোলাম।

বাড়িতে একাধিক হারেম ছিল,আপনারা জানেন।সেসব 
এখন ফাঁকা।কিছু কঙ্কাল পাওয়া যাবে খুঁজলে। আলো ,
রোশনাই, যাকিছু ছিল এখন নেই।দুবেলা দুমুঠো ভাতই 
জোটে না ঠিকঠাক।

গোলাপজল তো একটা স্বপ্ন।সেটা থাকবে না কেন?
টিকিয়ে রেখেছেন অতি কষ্টে।তবে হ্যাঁ, সেটা নূরজাহান 
নাকি আনারকলি, কার জন্য,তা নিয়ে সম্রাট মুখ খোলেন না।
চতুর্দিকে একসঙ্গে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদে একাধিক স্নানঘর।











৫টি মন্তব্য: