লেবেল

বৃহস্পতিবার, ১৮ নভেম্বর, ২০২১

ধারাবাহিক রহস্য উপন্যাস (পর্ব-৯)।। ট্রেকিংয়ের পথে রহস্য — অনন্যা দাশ।। Ankurisha ।। E.Magazine ।। Bengali poem in literature ।।

 






ধারাবাহিক রহস্য উপন্যাস (পর্ব-৯)

ট্রেকিংয়ের পথে রহস্য 

অনন্যা দাশ 



রক যখন হোটেলে এসে পৌঁছল তখন কিন্ত জিপ গাড়িটা উধাও। ওরা তিনজনে মিলে মনের সুখে পিজা খেতে খেতে সারাদিনের ঘটনাগুলো নিয়ে আলোচনা করতে লাগল।

সব শুনে রক বলল, “আসলে গ্রান্ট খুব লাজুক আর চাপা প্রকৃতির ছেলে ছিল। তাই ওর জীবনে যে কী ঘটছে কিছুই আমি বুঝতে পারিনি! তবে ওই কম্পানিটা এখানে কী করছে জানতে ইচ্ছে করছে।”

“আমার মনে হয় এই জায়গাটা তো সমুদ্রর ধারে তাই ওরা এখানে ওদের হোটেল, রিসোর্ট ইত্যাদি বানাতে চায়। কাল সকালে তো ওর সঙ্গে জলখাবার খেতে ডেকেছে তখন জিজ্ঞেস করে নেওয়া যাবে। আজ নাহয় তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়ি!”

রক ল্যাপটপ বার করতে করতে বলল, “তোরা ঘুমো, আমার একটু কাজ আছে। রোজ রাতে সাইটগুলোকে আপডেট করে তারপর শুই।”

“ও, কী সাইট?” 

“সে আছে অনেক – ব্লু হোয়েল বাঁচাও, ডলফিন বাঁচাও, নদী বাঁচাও, গাছ বাঁচাও ইত্যাদি ইত্যাদি। আমি আর গ্রান্ট মিলে চালাতাম। এখন তো সবই আমার ঘাড়ে। পৃথিবীটাকে সুন্দর করে তুলবে ভাবত। পশু, পাখি, প্রকৃতিকে বড্ড ভালোবাসত ছেলেটা। ও তালে গোলে বলা হয়নি আমি ফিরে গিয়ে কোকোকে খাবার, জল দিয়ে একটু হাঁটিয়ে নিয়ে আসলাম। প্যাট্রিকের বাড়িতে ছেড়ে আসব ভাবছিলাম কিন্তু ওর রুমমেটের আর নিজের মিলিয়ে ওদের ওখানে তিনখানা বেড়াল। তারা কোকোকে জ্বালিয়ে খায়! ফিরে গিয়ে ওকে নিজের কাছেই রাখব। ওর পরিবারের যা ব্যাবহার ওদের কাছে দেওয়ার কোন মানেই হয় না!”

“কোকো গ্রান্টের কুকুর বুঝি?”

“হ্যাঁ, পুঁচকে বিশন ফ্রিৎজ। আমার বাস্টার তো ছমাস আছে মারা গেল তারপর আর কুকুর নিইনি।”

ভজা শুয়ে পড়েছিল হঠাৎ কী মনে হতে ধড়মড় করে উঠে বসে বলল, “এই রক, ওই সব ওয়েবসাইটগুলো চালানোর জন্যে গ্রান্টের কোন শত্রু হয়ে যায়নি তো?”  

রক একটু ভেবে বলল, “দেখো ও যে অরিজিনাল কিছু দিত ওয়েবসাইটগুলোতে তা তো নয়। খবরে যা থাকত বেশির ভাগ সময় তাই দিত। যেমন কোথায় কে একটা তিমি মারল, বা কার বাড়িতে বিশ্রী অবস্থায় চল্লিশটা কুকুর, পাখি, গিনিপিগ ইত্যাদি পাওয়া গেছে আর সরকার থেকে সেগুলোকে নিয়ে গিয়ে কোন শেল্টারে রেখেছে। তাদের দেখাশোনা করার লোক দরকার এই সব আর কি। আর এই রকম সাইট তো আমাদের একার নয়, বহু আছে। তার জন্যে কাউকে খুন করতে চাওয়াটা একটু বাড়াবাড়ি হয়ে যায় না?”

“না, খুন হয়তো করতে চায়নি। কথাকাটাকাটি হয়েছে তারপর রাগের মাথায় ঠেলে দিয়েছে!”

“হুঁ, কিন্তু আলাস্কার যে ভাল্লুক মারল বা পৃথিবীর অন্য প্রান্তে যে একটা শুশুক মারল সে এতদূর আসবে ওকে খুঁজে বার করে ঝগড়া করতে? একটু অবিশ্বাস্ব্য মনে হচ্ছে না?”

“যাক এখন ঘুমোই। কালকে ওই সাইটগুলোকে খুঁটিয়ে দেখতে হবে। কার কিসে রাগ হতে পারে।”

“হ্যাঁ, তা দেখো। যদিও কেউ হুমকি দিলে ও নিশ্চয়ই আমাকে বলত। জানি না কী হয়েছিল। সব কেমন যেন তালগোল পাকিয়ে যাচ্ছে,” বলে সে ল্যাপটপে মন দিল।

সাতপাঁচ ভাবতে ভাবতে ভজা ঘুমিয়ে পড়ল।



চলবে...







কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন