লেবেল

বৃহস্পতিবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২১

ধারাবাহিক রহস্য উপন্যাস (পর্ব-১০)।।ট্রেকিংয়ের পথে রহস্য - অনন্যা দাশ।। Ankurisha ।। E.Magazine ।। Bengali poem in literature ।।

 




ধারাবাহিক রহস্য উপন্যাস (পর্ব-১০)



ট্রেকিংয়ের পথে রহস্য 

অনন্যা দাশ 



মাঝরাতে দুমদুম করে করে দরজা ধাক্কাতে ওদের ঘুম ভাঙ্গল। ভজাই ঘুম চোখে উঠে গিয়ে দরজা খুলল। আসলে প্রথমে ঘরের ফোনটা বেজেছিল কিন্তু ওরা কেউ ধরেনি।

দরজা খুলতে একজন লোক হাঁউমাঁউ করে বলল, “আপনাদের ঘুম ভাঙ্গানোর জন্যে দুঃখিত। আমি এখানকার নাইট ম্যানেজার। আমি প্রথমে আপনাদের ফোন করেছিলাম কিন্তু আপনারা ধরলেন না তাই বাধ্য হয়ে আমাকে আসতে হল। পার্কিং লটে আপনাদের গাড়িটার অ্যালার্মটা ক্রমাগত বাজছে। ওটা প্লিজ বন্ধ করুন!”

“উফ কী যন্ত্রণা! আচ্ছা চলুন যাচ্ছি কিন্তু অ্যালার্ম অন হল কী করে? এমনি এমনি তো বাজার কথা নয়!” ভজা গাড়ির চাবি নিয়ে লোকটার সঙ্গে যেতে যেতে বলল।

ম্যানেজার লোকটা বলল, “আমার সঙ্গে কাইলও ছিল। সে সিগারেট খেতে বাইরে গিয়েছিল। তখন দেখে দুজন লোক একটা গাড়ির দরজা খোলার চেষ্টা করছে, মানে হাতল ধরে টানাটানি করছে। ও ভেবেছিল ওদেরই গাড়ি তাই কিছু বলেনি, ওমা সেই মুহূর্তে গাড়িটা ট্যাঁ টোঁ করতে শুরু করল। কাইল তখন চিৎকার করে ওদের বলল, “এই অ্যালার্ম বন্ধ করো, সবাই ঘুমোচ্ছে!” তাই শুনে লোক দুটো পালাল! তখন কাইলের খেয়াল হয় যে লোকদুটো আসলে চোর! তারপর ও গাড়ির নম্বরটা নিয়ে আমার কাছে আসে আর আমি চেক করে দেখি গাড়িটা আপনাদের!”

“হুঁ, কী যে চলছে বুঝি না বাপু! আমার পুরনো ধরধরে গাড়িতে চুরি করার মতন কিছুই তো নেই!”

চাবি দিয়ে দরজা খুলে অ্যালার্মটা বন্ধ করল ভজা। ঘড়িতে তখন রাত তিনটে বাজে।

ঘরে ফিরে এসে দেখল অঙ্কন আর রকও জেগে বসে আছে। তাকে সব বলতে সে বলল, “এই জায়গাটাই ভূতুড়ে! সব গন্ডগোলের ডিপো এখানেই!”

রক বলল, “নির্ঘাত আমাকে যারা ফলো করছিল সেই লোকগুলো!” 

ভজা অবশ্য ওকে বিশাল বপু আর তার রোগা বন্ধুর কথা কিছু বলল না। শুধু শুধু ভয় দেখিয়ে তো লাভ নেই। অঙ্কন আর রক একটু পরেই ঘুমিয়ে পড়ল কিন্তু ভজার আর ঘুম এল না। ঘন্টা দুই পরে সে উঠে পড়ে স্নান সেরে নিচে গিয়ে গাড়িটাকে দেখে টেখে তিন কাপ কফি নিয়ে এল। গাড়ির ড্রাইভারের দরজায় হাতলের চারদিকে আঁচড়ের দাগ!

কফি নিয়ে ঘরে ফিরে সে অঙ্কন আর রককে ঘুম থেকে তুলে বলল, “কফি এনেছি বন্ধুগণ! উঠে পড়ো। আজ প্রচুর কাজ। সকালে ব্রেকফাস্ট করে বেরিয়ে যেতে হবে। মানে এখন বেরিয়ে পড়লে ভালো হত দুঘন্টায় কলেজে পৌঁছে যেতাম কিন্তু আরো কিছু জানতে পারার সুযোগটা ছাড়তে ইচ্ছে করছে না!”



চলবে...



এই ধারাবাহিক রহস্য উপন্যাসটি প্রতি শুক্রবার অঙ্কুরীশা-র  পাতায় প্রকাশিত হয়।আপনারা  অঙ্কুরীশা-র পাতা ক্লিক করে পড়ুন।সম্পূর্ণ  বিনে পয়সায়।সাথে থাকুন।ভালো থাকুন।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন