হেমন্তের সকাল -২৯
সুমনা রায়
১.
হেমন্ত ও একটি বিষাদ
ডাক্তার শেষ জবাব দিয়ে গেছে।
আত্মীয়— বন্ধুরা জেনে গেছে এ মারণ ব্যাধি।
আমিও জেনেছি এ অসুখ সারার নয়।
জানলায় গড়িয়ে পড়া রোদ ফিরে যাচ্ছে
অস্তগামী সূর্যের কাছে।
হেমন্তের শূন্য মাঠ,একাকী সন্ধ্যাতারা
তুমি বিষন্ন মুখে প্রদীপ সাজিয়েছ রুগ্ন তুলসীর তলায়।
দূর থেকে কানে আসছে সমবেত হরিধ্বনি।
নতুন ঠান্ডা পড়লেই চুলগুলো রোদে রেখে একমনে উল কাঁটায় বুনতে আমার প্রিয় নীল রঙের মাফলার।
তুমিও কি জেনে গেছো এ শীতে আমার আর ঠান্ডা লাগবে না।
২.
হেমন্ত ও সাজানো জ্বরের গল্প
একটু ঠাণ্ডা পড়লেই
আমি কেমন আদুরে হয়ে পড়ি।
তুমি যত্ন করে চাদর জড়িয়ে যাও।
ওইটুকুতে মন ভরে না।
আলতো করে খোলা রাখি মাথার জানলা।
ভোরের শিশিরে ডুবিয়ে রাখি পা।
ইচ্ছে করে খুলে রাখি জড়ানো চাদর।
সারাদিন গা-টা জ্বর জ্বর করে।
তুমি ত্রস্ত মুখে ছুটে আসো।
মাথায় রাখো শীতলপাটি হাত।
লীনতাপ ছড়িয়ে সব জ্বর নেমে নেমে যায় হৃদয়ের।
শুধু কড়া হাতে থার্মোমিটার আনলেই
ধরা পড়ে বুড়োর সব জারিজুরি।
খুব ভালো লাগলো পড়ে। কবিকে অভিনন্দন।
উত্তরমুছুন