লেবেল

বৃহস্পতিবার, ৭ জানুয়ারি, ২০২১

ধারাবাহিক রহস্য উপন্যাস (পর্ব-৬)।। নেপথ্য সংগীতের আড়ালে - অনন্যা দাশ

 

ধারাবাহিক রহস্য উপন্যাস (পর্ব-৬)   
নেপথ্য সংগীতের আড়ালে  
অনন্যা দাশ   


পরদিন সকালে হোটেল থেকে ঠিক করে দেওয়া ড্রাইভার আনন্দমোহন এসে হাজির। সে বাংলা বৌঝে, বলতেও পারে কিন্তু কথায় একটা টান আছে। “আমার বাবা বাঙালি কিন্তু আমি এখানে বড়ো হয়েছি বলে বাংলা চর্চা তেমন হয় না তাই সব ভুলতে বসেছি। আমি আপনাদের সব জায়গায় নিয়ে যাবো। সিটি প্যালেস। জন্তর-মন্তর। আমবার ফোর্ট সব জায়গায়।”
জিকো বলল, “নাহার গড়ে নিয়ে যাবে না? সোনার কেল্লার তে৷ ওখানেই শুটিং হয়েছিল। যেখানটায় কেল্লা দেখতে গিয়ে প্রোফেসার হাজরাকে ঠেলে ফেলে দেওয়া হয়।”
আনন্দমোহন মুখ কাঁচুমাচু করে বলল, “সেকি আমি জানি না! আমি তো তখন অনেক ছোট। আমার বাবা সোনারকেল্লার শুটিংয়ের খবর পেয়ে আমাকে দেখাতে নিয়ে গিয়েছিলেন। আমি তো তখন কিছুই বুঝি না। আমি ভাবছিলাম বুঝি বা সত্যি সত্যি উনি উপর থেকে পড়বেন। তারপর যখন সেটা হল না, ওনার গায়ে মুখে রঙ লাগিয়ে দেওয়া হল তখন আমার সে কি আপশোস! ছোটবেলায় খুব রক্তপিপাসু ছিলাম মনে হয়! যাই হোক দুঃখের বিষয় এই যে, নাহারগড় এখন আর খুব একটা ভাল জায়গা নেই। দিনেরবেলা তাও ঠিক আছে কিন্তু রাতেরবেলা যত সব গুণ্ডা বদমায়েশদের আড্ডা হয়ে যায় তাই ভয়ে কেউ ওদিকে যায় না। আপনারা চাইলে জয়গড় দেখতে পারেন। ওখানে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় কামানটা আছে।
মা শুনে বললেন, “হ্যাঁ, সেটাই ভালো।”
মামা আড়চোখে মার দিকে তাকিয়ে বললেন, “সিটি প্যালেসে আমার আরেকটা দরকার আছে। ওখানে কাজ করেন একজন তার সাথে কথা বলতে হবে।”
“তুই আবার কাকে চিনিস এখানে?” 
“না, ঠিক চিনি না। ওনার নাম হিম্মতলাল খুরানা। উনি সিটি প্যালেসে কাজ করেন। ওনার সাথে আমার একটু কথা আছে দরকারি।”
জিকো আর নিজেকে সামলাতে না পেরে বলে ফেলল, “ও হিম্মতলাল খুরানা বুঝি সিটি প্যালেসে কাজ করেন?”
মার তো শুনেই কান খাড়া!
“হ্যারে সাগর তুই বলিসনি তো আগে যে তোর এখানে কাজ আছে। সেই জন্যে কাল বিকেলে চুপিচুপি পালিয়েছিলি!”
“এই জন্যেই তো বেচারা বলেনি, তোমার চিৎকারের ভয়ে”, বাবা ফোড়ন কাটলেন।
“ওর কাজ তো সব ভয়ানক ভয়ানক লোকদের নিয়ে! আমরা সবাই মিলে বিপদে পড়বো!”
“না, না, বিপদে পড়বার কিছু নেই। এই কেসের পালের গোদা শুধু দামি দামি মণিমাণিক্য পাথর চুরি করে। আমাদের কাছে সে সব কিছুতো নেই তাই আমাদের কিসের ভয়। এটা কিন্তু অফিসের কাজ। তুই মিছিমিছি ভয় পাঁবি তাই তোকে কিছু বলিনি। তাছাড়া বাণীব্রত সেনের ভাই প্রিয়ব্রতর সঙ্গেও দেখা করতে হবে। 
মা, “হ্যাঁ, আমিই বুঝি শুধু ভয় পাই?” বলে চুপ করে গেলেন। 
সিটি প্যালেসের জায়গাটা খুব ঘিঞ্জি। সিটি প্যালেসের সামনেই আবার জন্তর-মন্তর। আনন্দমোহন বলল, “এখানে পার্কিং খুব সমস্যা। ওই দিকে গিয়ে গাড়িটা রাখতে হবে। আপনারা সিটি প্যালেস, জন্তর-মন্তর দুটোই দেখা হয়ে গেলে আমার মোবাইলে একটা ফোন করে নেবেন। আর আপনার চেনা লোক যখন আছে সিটি প্যালেসে তখন ওনাকে বলবেন আপনাদের ঘুরিয়ে দিতে, তাহলে আর আলাদা করে গাইড নিতে হবে না।”
সিটি প্যালেসে ছবি তুলতে হলে ক্যামেরার জন্যে আলাদা করে পয়সা দিতে হয়। তাই দেওয়া হল।
বিশাল বড় আর কারুকার্য করা রাজ প্রাসাদের দরজা দিয়ে মিউজিয়াম চত্তরে ঢুকে দেখা গেল ভিতরে প্রচুর বিদেশী টুরিস্ট।
মিউজিয়ামের অফিসে গিয়ে হিন্মতলাল খুরানার নাম করতে উনি বেরিয়ে এলেন। রোগা মতন চশমা চোখে তদ্রলোক। ওদের দেখে যেন একটু অবাক হয়েই বললেন, “আপনারা আমার সাথে দেখা করতে চান? কিন্তু কেন?”
মামা এগিয়ে গেলেন, “আমার নাম সাগর দত্ত। শেঠ ঝভর আপনাকে কিছু বলেননি?”
“না, ওর সঙ্গে আমার কথা হয়নি। আমি গতকাল একটা বিয়ে নিয়ে একটু ব্যস্ত ছিলাম। ও আমার মোবাইলে কল করেছিল দেখেছি কিন্তু আমার আর ওকে ফোন করা হয়নি। আপনি কুন্দনলালকে চেনেন বুঝি? আপনারা সিটি প্যালেস দেখতে চান?
“হ্যাঁ, মানে…”
“সেটা কোন সমস্যাই নয়। সুরেশকে দিয়ে দিচ্ছি আপনাদের সাথে, সব বুঝিয়ে দেবে।” বলে “সুরেশ, এই সুরেশ” করে হাঁক দিলেন।
ওনার ডাক শুনে একটা রোগাপটকা ছেলে এসে হাজির হল। তার বয়স আন্দাজ যোলো কি সতেরো হবে।
“হাঁ সাবজি?”
“এনাদের একটু ঘুরিয়ে দেখিয়ে দাও ।”
“হাঁ সাব!” বলে ছেলেটা ওদের দিকে ফিরে একগাল হেসে বললো, “পধারো ম্হারে দেশ”, তারপর ওদের সঙ্গে নিয়ে চলল। 'পধারো মৃহারে দেশ” অর্থাৎ 'আমার জায়গায় তোমাকে স্বাগত জানাচ্ছি’-রাজস্থান ট্যুরিজিমের লোগো এটা। ঘুরে ঘুরে বেশ সব কিছুই দেখাল ওদের। জয়পুরের রাজপুত রাজাদের অস্ত্রাগারের বিপুল অস্ত্রশস্ত্র, বন্দুক, মণিমুক্তখচিত তরবারি, ছোরা, ঢাল আরো কত কি! তাদের পোশাকআসাক অন্য ব্যবহারের জিনিসও রয়েছে। সোয়াই মাধো সিংহের জামা এতটাই বড় যে তাতে প্রায় আটজন পূর্ণবয়স্ক লোক ঢুকে যেতে পারে। তবে ক্যামেরার জন্যে বাড়তি টাকা দিয়েও দেখা গেল মিউজিয়ামের ভিতর ছবি তোলা বারণ! শুধু বাইরেটায় ছবি তোলা যায়। তাতে অখিলবাবু বেশ মুশড়েই পড়েছিলেন। শেষমেষ গঙ্গাজল নিয়ে যাওয়ার বিশাল দুটি পাত্র গঙ্গাজলিগুলোর সাথে ছবি তুলতে পেরে ওনার মন শান্ত হল। ১৯০২ খ্রিঃ সপ্তম এডুয়ার্ডের রাজ্যাভিষেক সমারোহতে যোগদান করতে যাওয়ার সময় মহারাজা সৌওয়াই মাধো সিংহ ওই বিশাল পাত্রগুলিতে গঙ্গাজল সাথে করে নিয়ে ইংল্যাণ্ড গিয়েছিলেন যাতে ম্লেচ্ছদের দেশের জল খেতে না হয়! চোদ্দো হাজীর রৌপ্য মুদ্রা দিয়ে তৈরি প্রতিটি রুপোর পাত্রের ওজন প্রায় ৩৪৫ কেজি! সুরেশের মুখে গঙ্গাজলি পা্রগুলোর বৃত্তান্ত শুনে অখিলবাবু বলে উঠলেন :
“গঙ্গাজলি , গঙ্গাজলি,
গঙ্গাজল বওয়ার থলি
থলিতো নয় বিশাল সরা
সরাও নয় যেন বিশাল জালা
মাধ সিংহের গলায় মালা
জাহাজে করে বিদেশ গেছেন
সরা জালা ছয় সঙ্গে নিলেন
রাজা রাঙডাদের ব্যাপার ভাই
যা ইচ্ছা করেছেন তাই!
অখিলবাবুর ওই রকম বিদঘুটে কবিতা শুনে জিকো-কেকা লুকিয়ে লুকিয়ে খিকখিক করে হাসতে লাগল। ওনার ওই রকম উত্তট কবিতা শুনে শুনে ওদের অভ্যাস হয়ে গেছে, তাও মাঝে মাঝে নিজেদেরকে সামলাতে পারে না । মা অবশ্য ওদের ওই কাণ্ড দেখে আড়ালে ওদের বকা দিলেন, “ছিঃ জিকো কেকা! কি বিশ্রী স্বভাব হচ্ছে তোমাদের দিনকে দিন?”
ওখানে দুজন লোক পুতুল নাচ দেখাচ্ছিল, জিকো সেটার ভিডিও করল। রাজস্থানী পোশীক পরা প্রহ্রীদের সাথেও ছবি তোলা হল। চন্দ্রমহলটাকে দেখে চেনা যাচ্ছিল। অনেক সিনেমাতেই ওটা দেখা যায়। সব দেখা হয়ে যেতে হিন্মতলাল খুরানার অফিসে ফিরতে দেখা গেল ওনার মুখ কালো।
“আপনি আগে তো বলেননি যে আপনি ধূর্জটিকে জেল থেকে ছাড়াতে এসেছেন!”
“আপনি সুযোগ দিলেন কোথায়?” মামা হালকা হেসে বললেন।
“এটা আমার অফিস। এখানে কথা বলা যাবে না। আপনারা রাতে আমার বাড়িতে আসুন,” বলে নিজেদের ভিসিটিং কার্ডের পিছনে ঠিকানা লিখে মামার দিকে এগিয়ে দিলেন।
ওনার কাছে বিদায় নিয়ে জন্তর মন্তরের প্রাচীন কিন্তু অবিশ্বাস্য সব জ্যামিতির গণনা দেখে একটা হোটেলে দুপুরের খাবার হিসেবে প্রায় চোদ্দোটা আইটেমের ভেজ থালি খেয়ে ওরা আম্বের প্যালেস আর ফোর্টের দিকে এগিয়ে চলল। সিটি প্যালেসের মতন আম্বের ফোর্টেও প্রচুর বিদেশী। শীলাদেবীর মন্দির, দুর্ধর্ষ শীশমহলসহ কেল্লা দেখে হাতির পিঠে চড়ে বেরতে বেরতে বিকেল হয়ে গেল। 
রাতে ওদের মার বন্ধু প্রমিলামাসির বাড়িতে খাওয়ার নিমন্ত্রণ। মা-বাবাকে প্রমিলামাসির বাড়িতে নামিয়ে গাড়ি করে আনন্দমোহন ওদের হিন্মতলাল খুরানা, অজিত পাঠক আর রাজেশ্বর ঝার বাড়ি নিয়ে গেল পর পর। সবার সাথে দেখা হয়ে গেলে প্রমিলামাসির বাড়ি গিয়ে ডিনার খাওয়া হবে সেই রকমই পরিকল্পনা।
প্রথমে অজিত পাঠকের বাড়িতে যাওয়া হল। উনি পেশায় ডাক্তার ছিমছাম গোছানো বসবার ঘর। অজিত পাঠকের পসার ভালই মনে হয়। ওনাকে শেঠজি বলে রেখেছিলেন তাই উনি মোটামুটি ভাল ব্যবহারই করলেন। ওনার স্ত্রী আর মেয়ে কোথাও বেরিয়েছে বললেন।
“কুন্দনের ডাক্তার আমি অনেক দিন থেকে। সেই সুত্রেই ওর সাথে আলাপ আর এখন তো৷ আলাপটা বন্ধুত্বে পরিণত হয়ে গেছে?”
“ও। তা উনি যখন মণিটা কাউকে দেখান তখনই কি আপনাকে ডাকেন?” 
“হ্যাঁ কেউ ওয়ান অন ওয়ান দেখতে না চাইলে ডাকে বইকি! আর সেদিন তো হিম্মতও ছিল।”
“দেখুন আমি মণিটা অনেকবার দেখেছি তাই ওটাকে হাতে নিয়ে দেখবার কোন আগ্রহ ছিল না তাই আমি হাতে নিও নি। ধূর্জটি বই লিখবে বলে ওটাকে কাচের বাইরে বার করে ছবি তুলছিল। আমি আর হিম্মত এমনি কথা বলছিলাম। ওর মার কি একটা অসুবিধা হচ্ছে সেঁটা নিয়ে বলছিল আমায়। অন্যরা কি করছিল আমি খেয়াল করিনি। কুন্দবনের ফোনটা বেজেছিল জানি কারণ ওর রিং টোন "সারে জাহাঁসে আচ্ছা” টিউনটা। আমি ওকে মাঝে মাঝে খেপাই যে ও দেশাত্মবোধ দেখাতে কোন দিন না আবার 'জনগণ মন'কে রিংটোন করে বসে আর তাহলে ওর ওখানে গেলেই আমাদের সর্বক্ষণ দাঁড়িয়েই থাকতে হবে! ওর আসলে প্রচুর ফোন আসে। যা বলছিলাম, কুন্দন ফোন নিয়ে বেরিয়ে গেল। তার পরেই ঝপ করে আলো নিভে গেল। সবাই হই হই করে উঠল। আলোটা এসে গেল মিনিট খানেকের মধ্যেই, কিন্তু ততক্ষণে গৌরবমণি হাওয়া!”
আরো কিছুক্ষণ কথা বলে মামা অজিত পাঠকের কাছে বিদায় নিলেন।
হিম্মতলাল খুরানা একটা আ্যাপার্টমেন্ট কমগ্নেক্সের পাঁচতলায় থাকেন। লিফ্ট নাকি কয়েকদিন হল খারাপ হয়ে পড়ে আছে
তাই ওদের হেটে উপরে উঠতে হল।
অখিলবাবু বললেন, “যাক বাবা, ওই বিশাল চোদ্দোপদের থালি খাওয়ার পর থেকেই ভাবছিলাম যে পেট এত ভরে গেছে
যে বৌদির বন্ধুর বাড়িতে খাবো কি করে। আম্বের প্যালেসের ঘোরাঘুরিতে যা হজম হয়নি এই পাঁচতলা চড়ে সব হজম হয়ে
গেল। এখন কব্জি ডুবিয়ে খেতে পারব!”

এতক্ষণে কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছেন মিস্টার খুরানা। বললেন, “বুঝতেই তো পারছেন কাজের জায়গায় ব্যক্তিগত কথা
বললে লোকে হাজার রকম কথা বলবে তাই আপনাদের এখানে আসতে বললাম। আশাকরি আপনাদের অসুবিধা হয়নি। আমার আবার ফোনটার চার্জ গেছে তাই আপনি ফোন করলেও ধরতে পারতাম না।”
“না, অসুবিধা হয়নি। সাথে গাড়ি আছে আর ড্রাইভার স্থানীয় লোক তাই ও রাস্তাঘাট চেনে।”
“এবার বলুন কি প্রশ্ন করতে চান। তবে এটা আগেই বলে দেওয়া ভাল যে ধূর্জটির প্রতি আমার কৌন সহানুভূতি নেই।”
“সারা বিকেল তো এটা সেটা নিয়ে গল্প হল। তারপর ধূর্জটির আর তর সইছে না দেখে কুন্দন আমাদের সবাইকে ওর
ডিসপ্লে চেম্বারে নিয়ে গেল। আপনারা দেখেছেন মর্ণিটাকে?”
“না, আমাদের সেই সৌভাগ্য হয়নি।”
“হ্যাঁ, কুন্দন মনে হয় ভয়ে এখন ওটাকে ব্যাক্ষের লকারে নিয়ে গিয়ে তুলেছে। যাইহোক, কাচের মধ্যে ভারি সুন্দর দেখাচ্ছিল গৌরবমণিটাকে কিন্তু ধূর্জটি বলল ছবি নাকি ভালো উঠছে না তাই কুন্দন ওটাকে বার করে ওর হাতে দিল। এই সময় ওর ফোন আসল, কুন্দন বাইরে গেল আর আলো চলে গেল। তারপরই মণি নেই। নাটক শুরু। পুলিশ এল, সার্চ হল আর ধূর্জটি জেলের ভিতরে, গল্প শেষ।”
“আচ্ছা আপনি কি এই বাড়িতে একা থাকেন?”
“না, না, আমার মা থাকেন তবে মাসখানেক হল মা ভাইয়ের বাড়িতে গিয়ে রয়েছেন।”
“ও। তা আপনার মার কি রকম বয়স হবে?”
“এই প্রায় আশি বিরাশি তো হবেই। তবে সেই তুলনায় খুব ফিট। এখানে থাকলে মা-ই রান্না করেন। কাজের লোকের
হাতের রান্না মার ভাল লাগে না! এখন ভাইয়ের, বাড়িতে গিয়েও তাই করছেন।”
“আচ্ছা অজিতবাবু কি আপনাদেরও ফ্যামিলি ডাক্তার?”
“না, আমরা এখানকার পুরনো বাসিন্দা। আমাদের ডাক্তার রমেশ সিংভি। তাছাড়া আমার ভাইও ডাক্তার।”
“ও! আচ্ছা যখন ফোন আসে আর আলো যায় তখন আপনি কি করছিলেন?”
“আমরা সবাই মণিটাকে হাতে নিয়ে নিয়ে দেখছিলাম।
“সবাই?”
“যা, বার হয়েছিল ধূর্জটির জন্যে কিন্ত আমরা সবাই নিয়ে দেখছিলাম। তবে যখন আলোটা যায় তখন ওটা ঠিক কার
হাতে ছিল মনে নেই। আমি তথাগতকে কি একটা বলতে গিয়ে ছিলাম কম্পিউটার নিয়ে। ছোকরার বেশ জ্ঞান ওই সব ব্যাপারে।”
বাইরে বেরিয়ে গাড়িতে বসে মামা বললেন, “দুনের মধ্যে একজন মিথ্যা কথা বলছে। খুব সম্ভব পাঠক। খুরানার মা
এখন এখানে নেই, তাঁর স্বাস্থ ভাল আর পাঠক ওদের পরিবারের ডাক্তারও নয়, তাঁছাড়া ওঁর ভাই ডাক্তার তাই পাঠকের
সাথে মার শরীর নিয়ে কথা বলার তো৷ দরকার নেই।”
কেকা বলল, “হ্যাঁ, মিস্টার খুরানার মোবাইলে চার্জ নেই তাই সাজানো মিথ্যাটার কথা ওনাকে আগে বলতে পারেননি
মিস্টার পাঠক।” 

'“ঠিক বলেছিস। দেখা যাক, রাজেশ্বর ঝা কি বলেন।”



চলবে...



----------------------------------------------------------------------------------------
প্রকাশিত এই ধারাবাহিক রহস্য উপন্যাসটি প্রতি শুক্রবার অঙ্কুরীশা-র পাতায় ক্লিক করে পড়ুন ও পড়ান। 

মতামত জানান। 
লাইক করুন। 

ankurishapatrika@gmail. com

--------------------------------------------------------------------------------                            

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন