মানবতাবাদী কবিতা—১২
বিচ্যুতি
স্ব প ন কু মা র না গ
প্রতিদিন যে মানুষটাকে
শূন্য থালা হাতে ফুটপাতের পাশে দেখি
বিবস্ত্র শরীরে,তার মনে কোনো লজ্জা নেই
যে মানুষটি হাড়ভাঙা শ্রমের বিনিময়ে
মাঠের কাদায় লেপ্টে থেকে নবান্নের গন্ধ শোঁকে,
তার মনে সঙ্কোচ,কোনো দাগ ফ্যালে না
যে দেহপসারিনী,
সন্তানের মুখে অন্ন তুলে দিতে
বুকে পাথর চাপিয়ে পেটের রসদ খোঁজে,
লজ্জা তার কাছে নিছকই একটি শব্দমাত্র
ঐশ্বর্য,সমাজের এক স্বীকৃত অহংকার
দারিদ্রের ঘামভেজা রক্তের বিনিময়ে
যাদের খামার উপচে পড়ে,বিবেকহীন চাতুর্য্যে
লজ্জাও তার কাছে নতজানু হয়,নীরবে...
ক্ষয়িষ্ণু সমাজ,
নির্লজ্জ শাসনব্যবস্থা,
নিষ্ঠুর প্রশাসক...
অবক্ষয়ী বাস্তবের এক কুৎসিত প্রতিচ্ছবি
যার গলায় মাল্যদান করে আত্মতৃপ্ত হয়
মেরুদণ্ডহীন সমাজের নপুংসক কুশীলবেরা...
লজ্জা তাদেরই,
যারা বে-আব্রু হয়ে,অন্যায়ের বশংবদ হয়...

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন