গ্রীষ্মের দুপুর -৫
দিলীপ দাস
মনে পড়লে
অতীত জীবন এখন আর নেই ক্ষেত্রবিশেষে
যেমন তেমন ছড়ায় বিভোর নতুন বিশেষ্যে।।
অথচ সেই গ্রীষ্ম আছে, শীত-বর্ষা সব একই
তবু যেন কোথায় আবার সবকিছু আজ মেকি।
শীতের আমেজ পিঠে-পুলি, বর্ষার সুখ ইলিশ
শরতের ঐ কাশের ফুল, দুর্গা-অপুর জলুস।
হারিয়ে গেছে সব কিছুই যুগ জোয়াড়ের টানে
তাইতো এখন ঘুরি আমরা ওদেরই সন্ধানে।
ডাহুক-ডাকা দুপুর খোঁজে আজও গ্রীষ্মের কাল
গঙ্গা-পদ্মার সাঁতার-জল গয়না নৌকার পাল।
সাঁতার জলে তখন ছিল কয়েক ঘন্টার সুখ
তবু আবার ঘরে ফিরতেই শুকিয়ে যেত মুখ।
তারমধ্যেই নামিয়ে এনে গাছের নতুন তাল
তালশাঁসের ঐ সুখে হতাম আমরা বেসামাল।
আমরা ছিলাম কম-বেশি সবাই সেদিন দস্যি
আমাদের তো ছিল না আর এখনকার ঐ লস্যি।
তখন ছিল দুপুর-পাতের কাচকি মৌরলার
দ্বন্দ্ব-সমাস চিনি-পাতা দইয়ের সাথে কলার।
তখন ছিল এসি সব বট-পাকুড়ের ছায়ায়
এখন সেসব গাছই নেই সভ্যতার মায়ায়।
তাইতো এখন ট্রেকিংয়ে যায় পুরো পরিবার
গ্রীষ্ম এলেই পাহাড় চুড়ায় বরফে বারবার।
পাঁচ বছরের ছেলেও যায় , নয় বছরের মেয়ে
অবলীলায় উঠছে সবাই পাহাড়ের গা বেয়ে।
দাদু-দিদা কি আর করে এসির হাওয়ায় বাঁচে
পুরোনো দিন মনে পড়লে, তখন আবার কাশে।
কোনদিন মনে পড়লে আম-কাসুন্দীর সোয়াদ
হয়ত মাখে ওসব দিয়েই শাকের সাথে ভাত।
এমনি করেই গ্রীষ্ম আসে, চলেও যায় আবার
সময় পেলে আমরা খুঁজি নীল আকাশের ধার।


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন