ধারাবাহিক প্রেমের উপন্যাস (পর্ব--১৪)
... এবং ইরাবতির প্রেম
গৌতম আচার্য
ইরাবতি পৌঁছে গেলে কি হবে, সত্যেন এর যাওয়ার রাস্তা তো বন্ধ হয়ে গেছে।। ঘুর পথে যাচ্ছে তারা এখন।। সত্যেন কি বলবে ভেবে পাচ্ছে না।। এদিকে ইরাবতি প্রশ্ন করেই চলেছে, কতো সময় লাগবে আসতে? আমি এখানে এই ভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে অস্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছি।। এখানে প্রচুর চেনাজানা লোক আছে, কি সব তুমি বলছো- বলো কতোক্ষণ লাগবে?.....
সত্যেন বিট্টুকে বললো, বিট্টু জারা তেজ চালাও, বহুৎ লেট হো গায়া, একেলা রোড পর উসকি প্রব্লেম হো রাহি হ্যায়।। বিট্টু তাকালো সত্যেন এর দিকে।। বললো, স্যার ইয়ে বাইপাস নেহি হ্যায়।। ইসসে তেজ ছুটেগা তো অ্যাক্সিডেন্ট হো যায়েগী।।
কিচ্ছু ভুল বলেনি বিট্টু।। শহরের ভিতরের রাস্তা তেমন চওড়া নয়।। তার মধ্যে হেঁটে চলা মানুষের ভিড়ের পাশাপাশি সাইকেল, স্কুটি, রিক্সা, বাস, গাড়ি সব কিছুর সমাহারে এ্যকেবারেই একাকার অবস্থা।। উপরি, তাদের মতোই পথ বদল করা গাড়ির ভীড়।। সত্যেন এর মনের ভেতরের স্পিডোমিটার যতো দ্রুত চলুক, শহরের রাস্তা বেশ মন্থর।। আবার ফোন এসে গেলো ইরাবতির কাছ থেকে।।
-- হ্যালো, কি হলো? সত্যি বলতো তুমি এখন কোথায়?
-- আরে মিথ্যা কেন বলবো? এখানে রাস্তায় একটি অ্যাকসিডেন্ট হয়েছে, লোকজন অবরোধ করেছে।। গাড়ি ঘুর পথে যাচ্ছে।। পাঁচ মিনিটের পথ এখন পনেরো মিনিট হয়ে গেছে।।
-- আমি কিন্তু আর দাঁড়াতে পারছি না এভাবে।।
-- আরে আমি কি করবো বলো?
-- আমিই বা কি করবো? চতুর্দিকে চেনা লোকজন।।
-- আমি হেল্পলেস্।। কাছাকাছি এসে গেছি।। লোক, জ্যাম্, রিক্সা.... এর বেশি স্পীড্ তোলা সম্ভব নয়।।
-- আমি তাহলে ফিরে যাচ্ছি।।
-- অবুঝ হয়ো না।। দিস্ ইজ্ এ্যান্ড অ্যাক্সিডেন্ট।।
বলতে বলতে গাড়ি ঢুকে পড়েছে পাহাড়পুর মোড়ে।। সত্যেন খুঁজছে নির্দিষ্ট জায়গায়।। না দেখা যাচ্ছে না ইরাবতিকে।। তার কি ইরাবতিকে চিনতে ভুল হচ্ছে? ইরাবতি কি সত্যি ফিরে গেছে? অনুসন্ধানী উৎসুক দৃষ্টি নিয়ে আবার ভালো করে খোঁজে সত্যেন।। হ্যাঁ ঐ তো ইরাবতি মনে হচ্ছে।। বাস স্ট্যান্ডের গায়ে একটি দোকানের পাশে পাটিয়ালা আর কুর্তা পড়ে দাঁড়িয়ে আছে ইরাবতি।। সত্যেন নিশ্চিত।। তাড়াতাড়ি গাড়ি থেকে নেমে হাত উঁচু করে সত্যেন।। চিৎকার করে ওঠে, ইরাবতি.... ইরা.... এ্যাই.... এদিকে.....।। এই দেখতে পেলো ইরাবতি।। গম্ভীর মুখ নিয়ে এগিয়ে এসে সোজা গাড়ির ভিতরে চলে এলো ইরাবতি।। একবার তাকালো সত্যেন এর দিকে।। তারপর মৃদু হেসে বলে উঠলো, আর পাঁচ মিনিট যদি তুমি দেরি করতে আমি ঠিক ফিরে যেতাম।।
অপ্রস্তুতে পড়ে গেছে সত্যেন।। কি বলবে ভেবে পাচ্ছে না সে।। পুলিশের হাতে ধরা পড়া আসামীর মতো সে বলে ওঠে, এখান থেকে পাঁচ ছয় মিনিট আগে রাস্তায় অ্যাক্সিডেন্ট হয়েছে... লোকজন জড়ো হয়ে রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে।। আমি তো এখানকার কিছু চিনি না।। বিট্টু লোকাল ছেলে, ও কি সব রাস্তা দিয়ে গাড়ি ঘুরিয়ে শহরের মাঝখান দিয়ে নিয়ে এলো।। দেরি তো হবেই।। ড্রাইভার সিট থেকে বিট্টু বলে উঠলো, "ক্যা করেগা ম্যাডাম, বাইপাস বন্ধ কর দিয়া।। হামনে গাড়ি ঘুমাকে আন্দার সে কদমতলা বাস ষ্ট্যান্ড, দুর্গাবাড়ি হোকে আয়া।। নেহিতো আভি ভি নেহি আ সেকতে থে"।।
ইরাবতি চোখ বড়ো করে তাকায় সত্যেন এর দিকে।। সত্যেন অসহায় ভাবে বলে ওঠে, আমি মিথ্যা বলি নি।। সত্যেন তাকিয়ে থাকে ইরাবতির দিকে।। ইরাবতি বলে ওঠে, "চোপ্ আর একটি কথা শুনতে চাই না।। লেট্ ইজ্ লেট্"।। তারপর অতর্কিতে লাফিয়ে সত্যেনের প্রায় কোলের উপরে উঠে এসে বলে, "হাদা রাম একটি"।। সত্যেন বিট্টুর লুকিং গ্লাসের দিকে তাকায়।। না বিট্টু দেখছে না।। চেপে ধরে ইরাবতির ডান হাতটি।। মূহুর্তে তার গোটা শরীরে শিহরন অনুভব করে।। অস্ফুট স্বরে সত্যেন বলে ওঠে, "ইউ আর রিয়্যালি চার্মিং এ্যান্ড বিউটিফুল"।।
গাড়ি এগিয়ে চলেছে।। একে একে দোমোহনী, ময়না গুড়ি, লাটাগুড়ি, গরুমারা অভয়ারণ্যের গেট পেরিয়ে চালসা চলে এলো।। সত্যেন বিট্টু কে নির্দেশ দিলো, বিট্টু হাম সব লোগ্ কো চাই- নাস্তা চাহিয়ে।। বিট্টু গাড়ি খানিকটা এগিয়ে একটি দোকানের সামনে দাঁড় করালো।। বেশ বড়ো এবং পরিস্কার পরিচ্ছন্ন দোকানটি।। মিষ্টি, পরোটা আর চা পাওয়া যায়।। সেখানে বসে সকলে একসঙ্গে পরোটা, মিষ্টি এবং চা খেয়ে আবার গাড়ি স্টার্ট দিলো।। বাঁয়ে মালবাজারের রাস্তা চলে গেছে।। বিট্টু ডানদিকের রাস্তায় ঢুকে পড়েছে।। প্রায় চলে এসেছে নাগরাকাটা।।
চলবে...

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন