কাজী নজরুল ইসলামের জন্মবার্ষিকীতে কবিতায় শ্রদ্ধার্ঘ্য
মলয় কুমার মাঝি
মহা প্রলয়ের নব সৃষ্টি
সেই উজ্জ্বল নক্ষত্রের মুখ ; বলিষ্ঠ হাতের পাঞ্জায় রণ হুঙ্কার রচনা;অমর-অব্যয়,চিরন্ত ।
দিকে-দিকে তোমার সুমধুর বিদ্রোহী ভাষার প্রতিধ্বনি,
আজও জল উচ্ছ্বাস ছাপিয়ে ;কীনাড় এসে আছঁড়ে পরে,অসহায় নর-নারীর ব্যথিত বুকের আর্তনাদ,মানব জীবনের অমূল্য সম্পদ -জয় গান, হৃদয় বক্ষে শত-শত জমানো স্রোতের,গর্জনে-গর্জনে যুবজারের কলমের ভাষা মাল্য,
বিশ্ব কেঁপে উঠেছিলো,আজও সেই তিমির রাত্রি,মাতৃ মন্ত্রে দীক্ষিত,এক-একটা শব্দে,এক -একটা ঢেউয়ে,এক-একটা রক্ত বিন্দুতে, তুলির মৃত রোম গুচ্ছো
নতুনে বেঁচে উঠেছে,ফুলকিতে আঁকা হয়েছে ছবি,
তোমার ঋণ কি করে শোধিবো!হে, মহাপ্রাণ কত বার ইংরেজ শাসকের যদু গৃহে বন্দী হলেন,পিঠের মাংস পেশি চাবুকের নোখে তুলে নিলো,ভাঙ্গলো মেরু দণ্ড;অসহ্য যন্ত্রনা,তোমায় কি রাখতে পেরে ছিলো বেঁধে!
তোমার লেখায় ঘুমন্ত শিশুর ঘুম ভাঙ্গিয়ে,পরাধীনতার গ্লানি মুক্তির আন্দোলনে; এক-একজন সৈনিক জন্ম নিলো, ভারত মাতার শত কোটি সন্তান হলো দীক্ষিত,
সাম্রাজ্যবাদ,অত্যাচারিত,শোষন-
বিরুদ্ধে,গর্জে উঠলো।ছিলো না কোন ভেদা-ভেদ,বড় কষ্ট লাগে,আসলে কি স্বাধীনতা পেলাম!
এখন একটা প্রয়োজন হয়ে পরেছে,মহাবিপ্লব বিদ্রোহীর জ্বলন্ত মশাল আর একটা যুদ্ধো স্বাধীনতা,আজও বুঝি না এপার-বাংলা,বাংলা ওপার-
তোমার অসীম জ্ঞানের ভাণ্ডারে সাজিয়ে দিয়েছো,এই বিশ্ব জননী বাংলাকে ,সূর্য উঠার সঙ্গে;সূর্য ডোবার পরেও, হে মহা বিদ্রোহী বিপ্লব কবি,সৃষ্টির অলীক ঝর্ণায়-তোমাকে,বাঁচিয়ে রাখবো।
সমাধী তোমাকে কেড়ে নিয়ে যেতে পারি নি! বুকের ভিতর পাঁজরের ভাঁজে লুকিয়ে রেখেছি-রাখবে,
ঐ নিষ্ঠুর ঐশ্বরিক শক্তি,আমার শরীরের শেষ রক্ত বিন্দু মাটির সঙ্গে মিশেও কথা বলবে-তুমি মনের মহা-প্রাণ, এগিয়ে চলার উদ্যম,
তোমার কথা-সুর,তাল-ছন্দ,শ্বাস-প্রশ্বা
তোমার সৃষ্টি, ধরত্রীর বুকে এক নব প্রেরনা,জন্ম লগ্নের তাজা উদিয়মান জ্বলন্ত আগ্নি কুণ্ড,চলন্ত জীবনের পথে বিদ্রোহী,মহাপ্রলয়ের নব সৃষ্টির মহাকাব্যের যুগান্তকারী সন্ন্যাসী...


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন