লেবেল

শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২০

নির্বাচিত ছড়াগুচ্ছ।। উৎপলকান্তি বড়ুয়া



হালুম হুলুম

হালুম হুলুম আসছেরে বাঘ
দেখনারে দেখ চেয়ে,
ওরে বাপরে, বলে সবাই
পালাচ্ছে ভয় পেয়ে।

পালায় মহিষ শেয়াল হাতি
হরিণ গাধা ঘোড়ার নাতি
অমনি বানর লাফিয়ে পালায়
গাছ লতা ডাল বেয়ে।

ভালুক ভয়ে পায়না তো কূল
কোথায় লুকোয়-কিসে!
পালায় বিড়াল খরগোস ইঁদুর
পায় না বুঝি দিশে।

বাঘ মামা কয়- শোনো
ভয় পেয়ো না কোনো
আমরা সবাই এক পাড়াতেই
থাকবো মিলে মিশে।



টিং টিং টিং

টিং টিং টিং হাতটি ধরে
হুলোর সাথে ন্যাংটি
সারাটাদিন ঘুরে বেড়ায়
ঢ্যাং ঢ্যাং ঢ্যাং ঢ্যাংটি!

ন্যাংটি হুলো হঠাৎ করে
হুঁচোঁট খেয়ে উল্টে পড়ে
খিল খিল খিল হেসে ওঠে
ঘরের কুনো ব্যাঙটি।





  ছোট্টটি নই আমি

চশমা রঙিন পরি আমি
হাতে নতুন ঘড়ি,
জন্মদিনে মামার দেয়া 
কাঠের ঘোড়ায় চড়ি।

পরম প্রিয় সুখের হাটে
সবুজ খোলা বাগান মাঠে
ঘাসের ফড়িং ধরি আমি 
ঘাসের ফড়িং ধরি।

ইচ্ছে রঙের পাল উড়িয়ে
ভিড়াই খুশির তরী,
রঙ তুলিতে আঁকি আমি
লাল সাদা নীল পরি।

লিখতে পারি অ আ এ ঐ
আমি এখন ছোট্টটি নই 
ক্লাস ওয়ানে পড়ি আমি
ক্লাস ওয়ানে পড়ি।



   খুকুর হাসি


পড়ার ঘরে শব্দ আছে
খোকার সবুজ সাথী,
মিষ্টি হাসির শব্দে আছে
খুশির মাতামাতি।

নতুন ভোরের শব্দ আছে
পাখির গানে গানে,
ফুলের শোভায় শব্দ আছে
পরম আহ্বানে।

গাছের পাতার শব্দখানি
হাওয়ার বুকে দোলে
দুপুর বেলার শব্দ আছে
শুয়ে নিঝুম কোলে।

ছন্দ তালের শব্দ আছে
সকলখানে জুড়ে,
গানের কথার শব্দ আছে
জড়িয়ে মোহন সুরে।

কান্না চোখের শব্দ আছে
কষ্টে রাঙা তালে,
খুকুর হাসির শব্দ আছে
টোল পড়া দুই গালে।




 মা বলেছে 

ফুল বাগানে ফুল ফুটেছে
গাইছে পাখি ডালে,
পাতার বুকে মিষ্টি হাওয়া
নাচছে তালে তালে।

আপন সুরে ছলাৎ ছলাৎ
বইছে নদীর ধারা,
দূর আকাশে দিচ্ছে উঁকি
সাঁঝ আকাশের তারা।

হাসছে কী যে নরোম কচি
মাঠের সবুজ ঘাস,
জল টলটল পুকুর জলে
ভাসছে পাতি হাঁস।

জানলা দিয়েই এই না সকল
সুখের আলো মাখি,
একলা-একা আমি এখন
ঘরের ভেতর থাকি।

মা বলেছে থাকবে না ঠিক
এই করোনা'র কাল,
আঁধার ঘুচে আসবে আলোর
দুরন্ত সকাল।







নির্বাচিত কবিদের কবিতাগুচ্ছ।। রেবেকা ইসলাম




 একান্ত পদাবলী

শহরের ভাঙাচোরা রাজপথগুলো সবসময়
ধীরে ধীরে চলে,নতজানু হয়ে
বার্ধক্যের জড়তায় জবুথবু হয়ে,
ঝিরি ঝিরি সন্ধ্যা নামে পথের বাঁকে,
স্বপ্নগুলোকে অনেক আগেই বিক্রি করে দিয়েছি
নামমাত্র মূল্যে, কিছু কিছু মূল্য ছাড়াই
ওই পথের কোন এক ফেরিওয়ালার কাছে,
আজকাল চলে যাওয়া প্রলম্বিত সময়কে মাপার
দীর্ঘ আকুতি কুড়ে কুড়ে খায়,
রাতের কপাট খুলে ভেতরে ঢুকতেই দীর্ঘ নীরবতা
সব পাখি ঘরে ফেরে ডানা ঝাপটিয়ে,
শুধু ফিরলে না তুমি গালিবের কবিতা হয়ে,
রাগ বাগেশ্রীর মোহময় সুরে ভিজে
এস নদীর হাত ধরে আবার পালিয়ে যা‌ই
ভুভুজেলা বাঁশির সুরে মৌনী হয়ে
ভোরের কুন্ঠিত আঁচল শিশিরে ডুবিয়ে।



 আমি ঘুমাতে চললাম অনন্তকাল

এখন আমার সমস্ত অবসাদ জেগে আছে
দেহের প্রতিটি শিরায় শিরায়, রন্ধ্রে রন্ধ্রে
আমি ঘুমাতে চলেছি অনাদিকাল,
ওই যে দূরের গাখোলা পাহাড়
কেঁদে কেঁদে পরিশ্রান্ত,
যাবতীয় ব্যর্থতা,যন্ত্রণা,লাঞ্ছনা,ক্ষোভ 
যার বুকে জমে জমে
শক্ত পাথর হয়ে গেছে,
যার সাথে আকাশের ছিল নয়ানাভিরাম প্রেম
বাতাসের‌ও ছিল খুব সখ্য, মাখামাখি,
সেই গল্প পড়েছিলাম সারা দুপুর,
জানালা খুলতেই অপরাহ্ন শেষ হয়ে গেল
সন্ধ্যাও চলে গেল পরিযায়ী পাখির দলের সাথে
এল রাত কালো বিনুনি গেঁথে,
আমি ঘুমাতে চললাম অনন্তকাল।



  আমাকে একা ফেলে

পড়ি মরি করে দ্রুত দৌড়ে এসেও
অহংকারী ট্রেনটাকে ধরা গেল না,
সে চলে গেল , হ্যাঁ সে চলে গেল
দাম্ভিকতার ধূলিকণা ছড়িয়ে
অবহেলার হুইসেল বাজাতে বাজাতে,
অবজ্ঞার ধূসর ঝাণ্ডা উড়িয়ে
কালো মিশমিশে ধোঁয়ার কুণ্ডলি পাকিয়ে,
আমাকে ব্যঙ্গ করে,উপহাসের অট্টহাসি হেসে।
আমার মুষ্ঠিবদ্ধ আঙুলগুলো শিথিল হয়ে এল
নিঃশ্বাস প্রশ্বাসে ক্রমাগত ওঠা নামা,
উষ্ণ গরম, ওতে চৈত্রমাসের উত্তাপ
বুকের মরুভূমিতে সারি সারি যন্ত্রণার ক্যাকটাস,
দুচোখে হতাশার টুকরো টুকরো মেঘ
একটা সময় ট্রেনটা রেখায় রূপ নিল
তারপর ছোট্ট একটি বিন্দু হয়ে মিলিয়ে গেল
আমাকে একা ফেলে 
এই জং ধরা জংশনে।



  বেণী খোলার দিন

প্রতিদিন কোন উপসংহারে না টেনেই 
আয়োজিত নাটকের সমাপ্তি ঘটে
শামুকের মতো গুটিয়ে যায় সোনাঝুরি সন্ধ্যা,
ব্যালকনিতে তখন‌ও লেগে থাকে বিকেলের ছায়া
গোধূলির ঝাঁঝালো স্পর্শ,
খালি গয়নার বাক্সে খেলা করে বাতাসের বুদবুদ,
আজকাল খুব বেশি দেখি সেই বেণী খোলার দিন
স্বপ্নের ভেতর দিয়ে, কিংবা বাস্তবে,
থানকুনি পাতার গন্ধে বিভোর হ‌ওয়া দুপুরে
তামাটে রোদেরা লুকোচুরি খেলে,
ধানিরঙ জমিনে শুয়ে যায় মাঠ
পাহাড়ের গোপনীয়তায় ধস নামে,
আহত ভাষা গড়াগড়ি খায় পথের ধুলোয়
ধুলোয় ধূসরিত বাক্য বাতাসে ওড়ে,
আজকাল বড় বেশি মনে পড়ে, বড় বেশি
সেই বেণী খোলার দিন।



  জরাগ্রস্ত সময়

যখন প্রবল বাতাসের আন্দোলনেও
তাড়িত হয় না রোদজ্বলা মন,
নিস্তরঙ্গ হয়ে থাকে বুকের পুকুর,
তখন চিলেকোঠায় শুয়ে যায়
ভাবলেশহীন গোটা আকাশপুরী,
পর্দা ঠেলে সজোরে প্রবেশ করে
টুকরো টুকরো হলদে রোদের আঁকিবুঁকি,
শুকিয়ে যাওয়া ভ্রুক্ষেপহীন চোখে
আঁচল ছড়ায় নিস্তব্ধতার কবিতা,
চর্তুদিকে কাঁটাতারের বেড়ার প্রদর্শনী
তারই মধ্যে থমকে যাওয়া দেহ,
এক পা এগোলে দু'পা পিছিয়ে পড়ে
ঘাসের হিজিবিজিতে আটকে যায় পা
সহসাই গ্রাস করে ফেলে দেহটাকে
এই অলিখিত জরাগ্রস্ত সময়।




পার্থেনিয়ামের ইতিহাস (পর্ব-২) ।। শঙ্কর তালুকদার



বহিরাগত জীববৈচিত্র : দেশীয় জীববৈচিত্রসমূহ এবং আমাদের সামগ্রীক পরিবেশ বিনষ্টকারী উদ্ভিদ;


                      



                      পার্থেনিয়ামের  ইতিহাস (পর্ব-২)
                           শঙ্কর তালুকদার 




পার্থেনিয়ামতের বৈজ্ঞানিক শ্রেণিবিন্যাস

রাজ্য : উদ্ভিদ রাজ্য ( Plantae)  

বিভাগ : এনজিওস্পার্ম( Angeosperm)

শ্রেনী : দ্বিবীজপত্রী(Eudicots)

ক্রম :এ্যাস্টেরিডস (Asterids)

শাখা : এ্যাস্টেরালেস(Asterales)

পরিবার : এ্যাস্টেরাসি(Asteraceae)

মহাজাতি/গন : পার্থেনিয়াম( Parthenium)

প্রজাতি : পি. হিস্টেরোফরাস( P. histerophorus)

দ্বিপদী নাম : পার্থেনিয়াম
হিস্টেরোফোরাস ( Parthenium histerophorus)

প্রথম বর্ণনা করেন : ক্যারোলাস লিনিয়াস, ১৭৫৩ ( Carolus Linneaeus, 1753

পার্থেনিয়াম নামটি গ্রীক শব্দ (পার্থেনোস) থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ "কুমারী," বা পার্থেনিয়ন, একটি গাছের প্রাচীন নাম।

এই বিষাক্ত আগাছা এক ধরনের রাসায়নিক পদার্থ নিঃসরণ করে যা কীটপতঙ্গ ও ফসল উভয়ের ক্ষতি করে। পার্থেনিয়াম আগাছা জমিতে থাকলে ফসলের উৎপাদন প্রায় ৪০ শতাংশ কমে যায়। পার্থেনিয়ামের রেণু বাতাসে মিশে ধান, ছোলা, সর্ষে, গম, টম্যাটো, লঙ্কা ও বেগুন গাছে ব্যাপক ক্ষতি করে। এই গাছ থেকে এক ধরনের রাসায়নিক পদার্থ নিঃসরণের ফলে ডাল জাতীয় গাছের নাইট্রোজেন তৈরিতে সহায়তাকারী ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস হয়ে যায়।





অনেকটা হাইব্রিড ধনেপাতার মতো দেখতে লাগে এর পাতা আমার কাছে। ঝাঁকড়া ঝোঁপালো ধরণের গাছ। ভারতে এটা গাজর ঘাস নামে পরিচিত , গাজরের পাতার মতো পাতা বলে ।

 

   গাছ পরিচিতি

অনেকটা ধনে গাছের মতো দেখতে ঝোপের মতো হয়ে থাকে। পাতা সবুজ এবং ফুল গুলি সাদা। এগুলো একধরনের বিষাক্ত আগাছা।
এতক্ষণে নিশ্চয় চেনা গিয়েছে আগাছাটিকে?

পার্থেনিয়াম, এটি একটি বর্ষজীবী বীরুৎ জাতীয় উদ্ভিদ। 





আগেই  উল্লেখ হয়েছে যে,এর বিজ্ঞানসম্মত নাম পার্থেনিয়াম হিস্টেরোফেরাস। পার্থেনিয়ামে রয়েছে পার্থেনিন নামক ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান এবং এক ধরনের টক্সিন বা বিষ। যা ভীষণ ক্ষতিকর। তবে আগাছাটি জন্মসূত্রে সূর্যমুখী পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। আরও একটু চেনা যাক।

উদ্ভিদটি সাধারণত উচ্চতায় ১ থেকে ১.৫ মিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। নির্দিষ্ট বয়সে ফুল ফোটে।

একটি গাছ বাঁচে তিন থেকে চার মাস। এ সময়েই তিনবার ফুল ও বীজ হয়।
 গোলাকার, সাদা, আঠালো এবং পিচ্ছিল হয়ে থাকে এর ফুল। 

পার্থেনিয়ামের একটি গাছ থেকে প্রায় ২৫ হাজার বীজের জন্ম হয়। স্থানীয় ভাবে একে গাজর ঘাসও বলে। বৈজ্ঞানিক নাম ‘পার্থেনিয়াম হিস্টেরোফোরাস’।




ধনে পাতার গাছের মতো দেখতে ছোট ছোট সাদা ফুলে ভর্তি এই গাছটি। পার্থেনিয়াম শাখা বিস্তারের মাধ্যমে গম্বুজ আকৃতির অথবা ঝোপ আকারের হয়। পাতা শাখাযুক্ত ত্রিভুজের মতো। নির্দিষ্ট বয়সে ফুল ফোটে। 

পার্থেনিয়ামের একটি গাছ ৫ থেকে ২৫ হাজার বীজ উৎপাদনে সক্ষম। এই বীজ এতই ছোট যে গবাদি পশুর গোবর, গাড়ির চাকার কাদামাটি, পথচারীদের জুতোর তলার কাদামাটি, সেচের জল ও বাতাসের সঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে। চন্দ্রমল্লিকার পাতার মতো পার্থেনিয়ামের পাতার কিনারা গভীরভাবে খণ্ডিত। কাণ্ড হালকা রোমশ।

 পুষ্পমঞ্জরীর রঙ সাদা। তাতে অসংখ্য ছোট ছোট ফুল থাকে। এই ফুলের রেণু বাতাসের মাধ্যমে সহজেই দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এবং মানব দেহে চর্মরোগ (ডার্মাটাইটিস), জ্বর, হাঁপানি ও ব্রঙ্কাইটিসের মতো রোগ সৃষ্টি করে।





নির্বাচিত ছড়াগুচ্ছ।। স্বপন কুমার রায়





    সবাই স্বপ্ন আঁকে

এই টিনা তুই পড়িস কিসে?
ওয়ানে।
ভালোবেসে দিলাম তোকে
নলেন গুড়ের মোয়া নে।

এই নীলু তুই পড়িস কিসে?
টু-তে।
পারবি কি তুই দৌড়ে গিয়ে
আকাশটাকে ছুঁতে?

এই রিমি তুই পড়িস কিসে?
থ্রি-তে।
ঠকেই যাবি, নিস যদি তুই
কোন জিনিস ফ্রি-তে।

এই পিকু তুই পড়িস কিসে?
ফোরে।
বল দেখি কি স্বপ্ন দেখিস
একলা ঘুমের ঘোরে?

কাকে ভালোবাসিস তোরা?
মাকে।
এই বয়সে মাকেই ঘিরে
স্বপ্ন সবাই আঁকে।
       

ভেবে যাই

পাখি,
গাছে গাছে উড়ে যায়
ছায়া রোদ্দুরে যায়
কত দেশ ঘুরে যায়
ভাবি তাই মনে।

মেঘ,
কত ছবি এঁকে যায়
নানা রঙ মেখে যায়
আমাকে সে ডেকে যায়
আকাশের কোণে।

চাঁদ,
সারারাত ছুটে যায়
কত তারা জুটে যায়
আকাশেতে উঠে যায়
আয় আয় ডাকি।

আমি,
ভেবে ভেবে ঘেমে যাই
ফাঁকা মাঠে নেমে যাই
কাছে পেয়ে থেমে যাই
মেঘ চাঁদ পাখি।
     


একটা ছবি

আকাশে এখন রঙিন মেঘের দল
পুবে-পশ্চিমে করে ছুটোছুটি খেলা
একটু আগেই নেমেছে বৃষ্টি ঢল
তাই দেখা যায় রংধনুকের মেলা!

শেষ বিকেলের সূর্যটা মেঘে ঢাকা
খেলতে খেলতে তাকিয়েছি ঐদিকে
আকাশে যা ছিল সাত রঙ দিয়ে আঁকা
সেই রংধনু হয়ে আসে ধীরে ফিকে।

ভরে আছে খালে লাল শালুকের ফুল
হাঁসগুলো চরে শালুক পাতার ফাঁকে
তিনটে খুকি সে বাঁধেনি মাথার চুল
এ ছবিগুলোর কে বলো খবর রাখে!

রংধনু মেঘ বৃষ্টিকে ভালবাসি
ইঞ্জিন-ভ্যানে যেতে যেতে আমি দেখি
ছবিগুলো যেই সাজিয়েছি পাশাপাশি
তাকিয়ে দেখি সে একটাই ছবি, একী!
            

এই ছড়াটা এগিয়ে চলে

এই ছড়াটা বোশেখ মাসের
কাঁচা-মিঠে আমের
নিঝুম দুপুর দখিন হাওয়া
স্বপ্ন-মোড়া খামের।
ভোরের বেলা সবার আগে
আম কুড়োনোর সুখ
এই ছড়াটার স্মৃতির ঢেউয়ে
উথলে ওঠে বুক।

এই ছড়াটা বোশেখ মাসের
স্বপ্ন-রঙিন ছবির
গান কবিতা সুরের তালে
আপন-ভোলা কবির।
জোসনা রাতে মিষ্টি হাওয়া
মাঠ পেরিয়ে আসা
এই ছড়াটার ছন্দে তালে
সুখ-সাগরে ভাসা।

এই ছড়াটা বোশেখ মাসের
উছল নদীর ঢেউ
নৌকা চড়ে দোল খেতে কি
তোমরা যাবে কেউ?
ওইতো ওঠে ঢেউয়ের মাথায়
আবার নামে নীচে
এই ছড়াটা এগিয়ে চলে
তাকায় না তো পিছে!
      

কে বলো দাম দিচ্ছে

আমার কিন্তু ভাল্লাগে না
যা বলো তাই বলতে
ইচ্ছে আমার হয় না মোটেই
তোমার মতো চলতে।

এটা করো না ওটা করো না
সারাটা দিন বলবে
সেসব যদি না শুনি ব্যস
কানটা ধরে মলবে।

দুধ-ভাত ফল খেতেই হবে
খাওয়ার জন্যে ধরবে
ইচ্ছে আমার নেই যে খাওয়ার
তবুও জোর করবে!

তোমরা যারা বড়রা সব
পাও না দেখতে পষ্ট
এই আমাদের মনের মধ্যে
বাড়ছে কতই কষ্ট।

আমরা এখন ছোট বলে
কে বলো দাম দিচ্ছে
একবারও কই বলো না, কর
যা খুশি তোর ইচ্ছে!





      


নির্বাচিত ছড়াগুচ্ছ।। শাহীন খান




  ছোটাছুটি

আকাশ কাঁদে অঝোর ধারায়
 নাচছে কোলা ব্যাঙ
গান জুড়েছে হেড়ে গলায়
 গ্যাঙর গ্যাঙর গ্যাঙ 
শুনে সে গান পাগল হলো
 রুই  মাগুর আর পুঁটি 
নদীর জলে তাই তো তারা 
করছে ছোটাছুটি। 



  মেঘবালিকা

বৃষ্টি ঝরে  মিষ্টি সুরে
 মেঘবালিকা ওড়ে
চারদিকেতে অহর্নিশি
 খুশি মনে  ঘোরে। 
রূপের চমক দেখায় কি যে
 কালো বদন তার
আকাশ তাকে ভালোবেসে
 গলায় পরায় হার
খুশি হয়ে নাচতে থাকে
 রুমঝুমাঝুমঝুম  
আষাঢ় মাসে দৌড়ে পালায়
 তাহার চোখের ঘুম। 



 সৃজনের মেজ মামা 

সৃজনের মেজ মামা 
হারাধন হালদার
পাট্টি সে নয়  ছোট
ইয়া বড় মালদার। 
তাতে হলো কি?
বজ্জাত কিপটে 
খায় না তো সিপটে
ছিঃ ব্যাটা ছিঃ।  

সৃজনের মামা
পরে ছেঁড়া জামা। 



 আকাশ জুড়ে 

আকাশ জুড়ে রংয়ের খেলা 
রং ভেসে যায় সারাবেলা
সূর্য ছড়ায় রোদ
আহা কি আমোদ। 
নেই কো মেঘের আনাগোনা 
পাখি করে আলোচনা 
ধরে তারা সুর
কি যে সুমধুর! 



 ভাল্লাগে না 

ভাল্লাগে না বন্দি ঘরে 
ইচ্ছে করে সন্ধি করে
যাই হারিয়ে দূর 
হাওয়ায় ভেসে  
মেঘের দেশে 
যাই চলে যাই নিরুদ্দেশে
ভাবনা করি চুর। 

মা যদি হও রাজি
তোমার খোকা বিনা দ্বিধায় 
ধরবে জীবন বাজী।