শুভ্রাশ্রী মাইতি
--------------------------------
শু ভ্রা শ্রী মা ই তি
--------------------------------
অনুভব
আমি যখন চুপটি করে বসি,
অনুভব এসে বসে আমার বুকের
বাম পাশটিতে নীরবে।
মায়া জড়ানো উষ্ণ হাতে পরম আত্মীয়তার আশ্বাস।
তেল-সাবান হাতে আমি নামি তার গভীর মায়াপুকুরে।
দলা পাকানো একরাশ আবেগ
পানকৌড়ি হয়ে বারবার ডুব দেয় টুপটুপ করে।
নরম আবেশে নিজেকে হারাতে হারাতে
আমি ভেজা গায়ে চুপচাপ শুয়ে পড়ি
তার পেতে রাখা স্মৃতি গন্ধমাখা আঁচলে।
স্বামী-স্ত্রী
শিল আর নোড়ার গোপন রসায়নে
স্বামী-স্ত্রীর গভীর সম্পর্কের হাতছানি।
সারাদিন ঠুকঠাক, ঘষাঘষি আর মারামারি।
তবু দুজনে এক না হলে,
বাটা মশলার আদরগন্ধী স্বাদে ভেসে যায় না
গেরস্তের ঘর-দোর-উঠান।
বিষয়
বাবার মৃত্যুর পর শ্রাদ্ধ-শান্তি অবধি
অপেক্ষা করা গেল না কিছুতেই।
বিষয়ের বিষ বলে কথা!
মা বিনা প্রতিবাদে সই করে চলেছেন ভাগাভাগির দলিলে।
তিন ভাই বোনের যার যেখানে যেমন দরকার।
পুরানো বেলজিয়াম কাটগ্লাসের আয়নার বিবর্ণ বুকে
মার কুন্ঠিত প্রতিবিম্বের তিনটে টুকরো গুঁড়ো গুঁড়ো হয়ে
ক্রমশঃ হারিয়ে যাচ্ছে অন্ধকারের ত্রিসীমানায়।
বাঁশিওয়ালা
মাথা উঁচু করে হেঁটে চলেছেন ডঃ কারচাক।
নির্ভীক,স্মিত মুখে গান-গল্পের স্বচ্ছ ফোয়ারা।
পেছনে তাঁর অনাথ আশ্রমের শিশু-কিশোরের দীর্ঘ মিছিল।
গন্তব্য নাৎসী বাহিনীর কুখ্যাত গ্যাসচেম্বার।
দূর থেকে ভেসে আসছে দইওয়ালার মন কেমন করা ডাক।
সুধা এসে হাতছানি দেয় তাদের।
সকলের মুখে হাসি-গান,চোখে অজানাকে জানার আশ্চর্য আনন্দ।
হাঁটতে হাঁটতে ডঃ কারচাক কখন যেন বাঁশিওয়ালা হয়ে গেছেন।
হ্যামলিনের সেই বাঁশিওয়ালা।
হাতে যার বাঁশির বদলে শুধু ডাকঘরের পান্ডুলিপি ধরা।
আশীর্বাদ
রাতচরা পাখিটা আবার ডেকে উঠল বিশ্রী সুরে।
শেষবারের মতো ভাঙাচোরা বাড়িটার উঠোনে
এসে দাঁড়ালাম আমি।
সন্ধ্যায় প্রমোটারের হাতে চাবিটা তুলে দিয়েছি কাঁপা হাতে।
বুকের গভীরে শেকড় ছেঁড়ার যন্ত্রণাটা বড় দগদগে।
আলতো হাওয়ায় কাঠচাঁপা গাছ থেকে কয়েকটা সুগন্ধী ফুল খসে পড়ল মাথায়।
গাছটা মা নিজের হাতে লাগিয়েছিলেন বড় যত্ন করে।
বয়ে আসা ঠান্ডা শিরশিরে হাওয়াটা খবর দিল
কোথাও যেন বৃষ্টি হচ্ছে খুব।
লেখা পাঠান
bimalmondalpoet@gmail.com


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন