১.
জনতা কার্ফু
মায়াবী রোদে করোনা ভাইরাস ভাঙার ফানুস
আতঙ্কে ঘরে বন্দী মানুষ,
তাকে পুড়িয়ে মারে
আর কিছু পথিক সাহস, সময় ভর করে, শুধু তার পিছনে চলে
সারা বিশ্ব জুড়ে মৃত্যুর স্রোত,
কান্নার হাহাকার ভাসে
গা ঘষছে গোল ঘড়ির সঙ্গে - আজকের সূর্য
গা ভর্তি কফ, সারা গায়ে তাপমাত্রা বাড়ে, শরীর লেগে জিউল গাছের আঠার মতন
স্বেচ্ছাচারী ভাইরাস দমনে
মানুষ নিজস্ব সচেতনতা গড়ে
বাল্মিকী হয়ে দেশের দরদে
আজ জনতা কার্ফু জারি ।
২.
শুনশান
যতদূর চোখ যায় গ্রাম - শহরে
জনমানবশূন্য শুনশান নীরবতায়
বিশ্বাস বা আতঙ্কে গোলঘড়ি ঘোরে
সংকল্প বড্ড বেশি প্রাত্যহিকতায়।
চুপচাপ গৃহবন্দী বাঁচার ক্রমমুক্তি
সবটুকু নিশ্বাস শুষে নেবার অপেক্ষায়
ভয়ংকর মহামারি বৈজ্ঞানিক শব্দ যুক্তি
সংস্কার সারি সারি,যদিও রক্ষা পায়।
পৃথিবীর ভারসাম্য নষ্ট করি আমরা
সারা দেশে ছবি আঁকা শুনশান চেহারা ।
৩.
সাঁতার কাটছি
যেতে যেতে এক - একবার পিছন ফিরে তাকাই
পথে - বিপথে বিচার বিশ্লেষণ চাই
ভাইরাস জোট ছিঁড়ে ফেলতে মুহূর্তে সময় লাগবে
প্রভুর পায়ের কাছে প্রার্থনা রাখবে।
সাধের পৃথিবী নিস্তব্ধতায় দিন - রাত
আকাশ চিড়, ক্ষেত - ফাটা, মানুষের বাঁচার স্বাদ
সর্বনাশা বিষ আজ পৃথিবীর সিংহাসনে
অজস্র সেনাবাহিনী সুযোগে ঢুকে শরীর -মনে।
যাত্রী আমি, শ্রমিক তুমি পাশাপাশি আছি
রাতদুপুরে মৃত্যুজলে সবাই সাঁতার কাটছি ।
৪.
ঈশ্বর সাধনায়
টুকরো টুকরো সূর্যকিরণ আমাকে স্পর্শ করে
নদীর জলে, রঙিন কাচের টুকরো গুলোর ছায়ার মধ্য দিয়ে
গভীর পলিতে আমি একটি মন খুঁজি
নদীতে শীতল থাকে
ঝরা পাতার ঘূর্ণিতে মার্চ মাসে সাঁতার কাটছে
মানুষের সব শ্রম উড়ে যায় ভাইরাস চিত্রে
অজস্র ভালোবাসা নৈঃশব্দ্যে করে সহসা অট্টহাসি
আঁকা বাতাসের বর্ণমালাতে
ভাবনার চিত্রশৈলী উড়ে যায়
নদীর ঢেউয়ের উপহাস, শান্ত রাষ্ট্র , দেশ,, বিশ্বে অশান্ত মহামারীর ছবি
অনেকটা মানুষ খুনির আদলে
মৃত্যুর গণিত নিয়ে এক চরম সংশয়
এই ঘূর্ণিঝড়ে রঙিন কাচের ছায়া
নদীর জলে নেই, আর বিদেশীদের জন্য ভালোবাসা
মুহূর্তে সারা বিশ্ব খানখান হয়ে যায়
অজানা ভাইরাস প্রতিটি মানুষের শরীর ছুঁয়ে
দেশি - বিদেশি মানুষের শরীরে।
এই অপবিত্র ভাইরাস, ছড়িয়ে ছড়িয়ে ঘোরে
মুক্তির মিছিলে শান্তির স্তুতি
ভাঙাচোরা সূর্যালোকেও ছড়িয়ে রয়েছে মৃত্যু
এর পথ নেই, শেষ কোথায়?
গৃহবন্দী গোটা বিশ্বের ঘরে ঘরে।
মানুষ আজ অসহায়
পবিত্র শরীরে আমি ঈশ্বর সাধনায়।
৫.
-মায়াবী জ্যোৎস্না
বিকেলের উদাস হাওয়ায় মরুভূমির লাল ধূলো
স্মৃতির মতো উড়ে যায় ধীরে শান্ত আকাশে
অশ্রুপাতের গান সূর্যের দিকে
আমার গলার খুব কাছে বেজে ওঠে বাতাসে।
উটের গ্রীবায় বাজে কতশত ঘন্টা ধ্বনি
কঠিনতা ভয়ংকর নিস্তব্ধতায় এই শব্দ
সন্ধ্যার দুই কালো ডানা নেমে আসে অভিশপ্ত ঝড় হয়ে
মাথার উপরে মায়াবী চাঁদ, লাবন্য ভরা গন্ধে।
এই নিঃশব্দ জ্যোৎস্নায় পড়ে থাকে
গোবি মরুভূমির ওপর দুঃস্বপ্নের আগুনের শিখায়
আহত ফণার মতো শব্দ ছড়ায় আঘাত
কাঁদে আর মুক্তি চায় মায়াবী আলোর রেখায়।
প্রণাম
আজ এই দুঃসময়ে কী যেন এক অমঙ্গলের ভয়
আমি যখন আতঙ্কে গৃহবন্দী, তুমি তখন লড়াইয়ের ময়দানে
আমি বিশ্বাস করি তুমি ঈশ্বররূপে মানুষ
জীবন যুদ্ধের মুখোমুখি তুমি, সাহস আছে প্রাণে।
মৃত্যুর ভয় সবাইকে টেনে নিয়ে যায় ঘরে
আমি ঈশ্বর দেখিনি দেখেছি তোমাকে
প্রতিটি বিষভরা শরীরে মুছে দিচ্ছো যন্ত্রণা
তবুও কারা যেন হিংস্র গর্জনে ছিঁড়ে ফেলে চাবুকে।
তোমার সুখের সংসার ভয়ে ভয়ে দিন কাটায়
দিন- রাত সমান তোমার চোখে মুখে
নানান জিজ্ঞাসা পরিবার আর মনে
অফুরন্ত প্রণাম তোমায়, দু'হাতে দেশের মানচিত্র বুকে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন