লেবেল

বুধবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২০

কবিতাগুচ্ছ ও অনুগল্প

অনুগল্প 



পরিচয় 
বিমল মণ্ডল 

হঠাৎ  একটা  অজানা ফোন আসে অনির্বাণের কাছে । ফোনটা তুলতেই একটা  মোটা   গোলায় জিজ্ঞাসা  করছেন  "তুমি কি করো? " "তুমি কোথায় থাকো?"

অনির্বাণ  একটু সময় নিলো। তারপর  ঠিকঠাক  প্রশ্নের উত্তর  দেতে লাগলো । 
কিছুতেই মেলাতে  পারছে না গলাটিকে। সমানে ভদ্রলোকটি তাকে জেরা করতে লাগলো । অনির্বাণ একটু  জল খায়। তারপর  ঊনার পরিচয়  জানতে গেলেই পেছন থেকে  কে যেন বলেন "ঊনি তোমার বাবা।"


১২/১/২০২০





ইচ্ছাশক্তি
- বিমল মণ্ডল

অনন্ত ইচ্ছা
রাতের বিছানায় শুয়ে
বিরতি অনুভব করে
বাক্   সিদ্ধ প্রেমের ডাক
কি ভাবে পৌঁছে যায়
ইচ্ছা শক্তির কাছে।






 তুমি নিলে  মন
বিমল মণ্ডল 

দিন আর রাতে মনে পড়ে
প্রেমের  প্রদীপ  চেয়ে আছে মনের ভেতর 
শীতলতা  অনুভবে

সুমিষ্ট  ভালোবাসা  জড়ালাম গায়ে
আদরের ঘ্রাণে ধুয়ে নিতে চাই শরীর 
সেদনের সেই প্রথম  প্রেমের  আবেশে 
সংসার ফেলে 
নতুন করে বাঁচতে চাই জীবন 
তুমি নিলে মন কেড়ে

বসন্তের  এই দিনে চেয়ে থাকি তোমাকে
এসো এই মনে তোমার ছোঁয়া
পাবো চিরকাল  ভেবে।

১৫/১/২০২০





ভালোবাসার স্বাদ 
বিমল মণ্ডল 

একটা  যুগলপ্রেমের  আহ্বানে
 অস্থির মনে কুহু কুহু ঘূর্ণি  ওঠে 
অভিমানে  ভাঙ্গে নি ভালোবাসবার
তোমার ঠোঁটে  চুম্বনের  গান
চুম্বনের অবসান  হয় গোধূলিতে
শরীরী ছায়া ঘিরে হেঁটে হেঁটে বহুদূর পথ
পাশাপাশি  থাকবার শপথ 
তোমার ভাবনার সাথে মিশে যায় অনুভব 
বয়সের সাথে সাথে  বীজ বুনো 
বাতাসে ভাসে উর্বর রেণু
কাম শৃঙ্গার মাখা  ঘ্রাণ 
চুপিচুপি  বলে যায়
ভালোবাসি  ভালোবাসি 
তোমার চোখে নির্ঝর জলস্রোত 
এঁকে  দিলে সময়ের আচ্ছন্ন বুঁদ
ঝেড়ে ফেলো তোমার অতীত  যৌবন 
হৃদয়ে  এখন অগ্নিতরঙ্গ আমার 
শরীরে  স্বাদ পাই বয়ঃসন্ধিকাল

তুমি নিলে তোমার চুড়ান্ত  ভালোবাসার স্বাদ । 




১৫/১/২০২০





 প্রথম  পাঠে
বিমল মণ্ডল 

চারটি  রাত
কেটেছে  পরিচয়ের  শিখায়
ছড়িয়ে  আগুন  তোমার শরীরে 
একটা  ভয় উপেক্ষা করে 
বয়সের সিঁড়ি  ভেঙে পৌঁছে নারী প্রেমে
সাজানো  গোছানো  কামনার স্রোতে শরীরে 
সেই শরীরে  আজও  ক্লান্তির ছাপ নেই 
অতল গহ্বরে ডুব দিলে আবার 

স্তরে স্তরে  জমা  কামনার বিষ
উগরে দিলে আমার শরীরে 

স্নান করি তোমার শরীরী  জলে 
যে জলে তুমিও স্নান করো

শুরু  হোক প্রথম  পাঠ
তোমার -আমার শরীরী ভাঁজে। 




১৫/০১/২০২০





স্থায়ীভাবে  
বিমল মণ্ডল 

 অসংখ্য শব্দের  ভেতর 
টেলিফোন  ভবনে গোধূলি বেলায়
মুখোমুখি  শরীরী স্রোতের  খেলা 
বুকের  মধ্যে দেখেছিলে গভীর রাত্রিযোগ
তোমার চাওয়া  আকাশ ছোঁয়া 
লাইটহাউসের নীচে ভেবেছি অনুভবে

সন্ধ্যা হয় ঘোর
নতুন জন্মের  পথে 
পাবো স্থায়ীভাবে... 




১৫/০১/২০২০






কলকাতায়, সারাদিন 
বিমল মণ্ডল 

 কুয়াশা মাখা ভোর ঘেঁটে  
কলকাতার  পথে পথে 
এঁকেছি প্রেমের  সঞ্চার 
দুপুর  রোদের ব্যস্ততায় 
কেটেছে  কলেজস্ট্রিট  বই বাগান
ক্রমাগত  রোদ সরে যায়
চারদিক কোলাহল  ফেলে 
তোমার আহ্বানে  
প্রেম জাগে দেহ মনে

কলকাতায়, সারাদিন  । 


১৫/০১/২০২০





ছবিতে 
বিমল  মণ্ডল 

শানবাঁধানো  পার্কে 
মুখোমুখি  তুমি আর আমি
মধ্যে  জলাশয়  দু'চোখ জুড়ায়
তোমার চোখ এখন  রহস্যময় 
আমার শরীরী ছবিতে

তোমার হাতে সময় কম
তবুও  চেয়ে 
আমার বুকের  দিকে

হঠাৎ  আলুথালু  বেশে 
জেগে  ওঠে বলি-
"মৃত্যুর  পরে মালা দিও একখানা আমার ছবিতে।"




১৫/০১/২০২০




নির্মাণ 
বিমল মণ্ডল 


আমি জানতে চাই -একটা সম্পর্কের নির্মাণ 
আমাকে শব্দমালার রাস্তা  দেখাও- দেশে, প্রবাসে
একেই হৃদয়ের  অঙ্গীকার 
দুটি বিপরীত  মনে
তবুও  শব্দ যাপন 
সমস্ত অভিমান  ভুলে 
তুলে নিতে দাও অক্ষর 
হাওয়ায়  সিঁড়ি  দিয়ে উঠে যেতে দাও শূন্যের  দিকে
কুঁড়িয়ে নিতে দাও  বর্ণমালা 

যতক্ষণ না দুটি  হৃদয়  এক হয়।



১৬/০১/২০২০




আলোড়ন 
বিমল মণ্ডল 

সমকামী  আহ্বান এবং পরস্পর  প্রেমে পড়া দুটি পুরুষ 
বিনিদ্র, ঘোরের ভেতর শুক্রাণু র খোঁজে 
আর এক আনাড়ি পুরুষ অপেক্ষায় কয়েক ঘণ্টা 
হৃৎকম্পনে শব্দ  গড়ে কামের ঝিনুকমালা
ঘিরে রাখে তোমার নিভৃত  আবাস
ফুলপ্যান্টের ভিতরে ঢোকা ষড়যন্ত্রী যেন
দীর্ঘ  ভারী চুম্বনে আলোড়িত 
সমকামী দুটি  পুরুষের মুচমুচে  শব্দে ।




দায়ভার 
বিমল  মণ্ডল 

কল্পনা রাজ্যের ঘোর
আদর্শ পরিচয়ের  অভিভাবক 
জোরপূর্বক  প্রেমচ্যুত
সংকোচ -অসংকোচের প্রশ্ন চিহ্ন 
বহুব্রীহির  বন্ধনের  স্বাদ 

দায়ভার  থেকে  যাবে
একদিন  তোমার -আমার। 




১৭/১/২০২০




এই যে শুনো
বিমল মণ্ডল 


-এই যে শুনো , দাদাভাই 
-ভালোবাসবে যেমন চাই
-একটু বেশি স্নেহের আবেশ
-দাদার সম্মান  পাবে বেশ
-না বা হলাম নিজের ভাই
-তৈরী করো নিজের তাই
-কি দাদা রাজি  তো  এবার?
-দ্বিমত থাকলে বলো আবার
-ভালোবাসা কম পাবে না
-জোর করে বলছি না

-আচ্ছা আমি ভেবে  দেখি
-করো না আমার সাথে চালাকি 
-ভাইয়ের আদর দেবো তোমায়

-রইলো না আর সংশয়  দাদা
-সারা জীবন  থাকবে বাঁধা 
-তোমার আমার চাওয়ার  মাঝে 
-কেউ কি তোমার  আরো আছে?

-সত্যি করে বলছি ভাই
-কাছে যদি থাকো তাই
-তোমার চাওয়া  মিটাবোই
-ডাকলে তোমার  আসাচাই 

-এতোক্ষণে ভয় জোড়ালো 
-দাদার আদর পেলে ভালো 
- যৌবনেরই স্মৃতি  ভুলে
-তোমার কথা মনে এলে
-সারা শরীর  জড়িয়ে  তাই
-শুধু তোমাকে নিজের করে চাই। 






১৭/০১/২০২০
-





কিছু কিছু সম্পর্ক 
বিমল মণ্ডল 

কিছু কিছু সম্পর্ক পায়েসের মতো 
আমার পেটে পায়েস 
সহ্য হয় না জেনেও  যেমন খাই
তেমনই এই সম্পর্কগুলোর কাছে গেলে
আঘাত পাবো জেনেও যাই

জানোই যখন , তবে কেন যাও? 

তা জানি না! 

তবে যাই বলেই বোধ হয় 
কু মন্তব্যের  মধ্যেও মাছ - ভাত সম্পর্কে 

কয়েক দিনে আত্মিক বন্ধনে 
বেশ জোড়া  লাগে। 




১৭/০১/২০২০






অধিকার 
বিমল  মণ্ডল 

ভালোবাসা  কোনো তরল পদার্থ  নয়
যেখানে অধিকার  আসে
তোমার ইচ্ছে যদি 
আমার ইচ্ছে  হয়
সমঝোতা  শুধুই  মনযাপন

অধিকার যেখানে ভোগ্যপণ্য 


চাওয়া  পাওয়ার  সীমানা  ধরে। 




১৭/০১/২০২০







 বলয়
বিমল মণ্ডল 

প্রকৃতি  আর সময়ের সম্পৃক্ত  সম্পর্কগুলো 
আবরণীর ভিতর  দিয়ে বড়ো  হতে থাকে 
আর আমরা
গুটি গুটি এগুতে থাকি
সূর্য বলয়ের দিকে।




১৭/০১/২০২০






 শরীরী প্রেম
বিমল মণ্ডল 


কতটা  সময় দিলে
কতটা  কাম
হিসেবে  মিলছে  কি আর
তোমার দেওয়া প্রেমের  ভার
কামনা কি মানে অফিস , কর্ম জীবন? 
দেহ চায় তোমার শরীরী ঠিকানা
বিলিয়ে দেয়েছো তা অনেক  আগে
তবুও  যতটুকু  আছে
শুষে  নিতে চাই প্রাণভরে 

কথারচ্ছলে কেটে গেছে  অনেক  সময় 
শুভেচ্ছা  নয় 
শুধু চাই এই মুহূর্তে 
তোমার শরীরের  পড়ে থাকা 
কামরস।







 সংশয় 
বিমল মণ্ডল 

কি আর বলবো বলো
দরজাটা  একটু  খোলো
কামার্ত শরীরে  শুধু 
দিয়ে যাও তরল মধু 
পাচ্ছি না আর  তোমায় ছাড়া
তোমাহীন আমার শরীর হারা।

তবুও  সংশয়  বোধ  হয় 
উতলা  আজ আমার  মন ।






 মনের বাসনা
বিমল মণ্ডল 


তোমার প্রতিটি  জিজ্ঞাসার পরই
শুরু  হয় আমার দেহে আলোড়ন 

প্রতিটি বিশেষণে তোমার ছদ্মবেশে  ভিড়
প্রতিটি বিশেষ্যও তোমারই কামনা 
প্রতিটি  ক্রিয়া প্রতিক্রিয়াও তুমি
প্রতিটি সর্বনামেও তুমি

তোমার জন্য লিখছি কবিতা 
তোমার প্রতিটি  ব্যাকরণের  জবাব

মিথ্যার ভাষণে পদক্রম নেমে আসে
অথচ 
তুমি আমার কাছে নেই।






স্বার্থপর
বিমল মণ্ডল 


কৌশল আলপনা 
নিজেকে  চিনতে জানা
নক্সা  বড়ির কারুকার্য 
বাসনার অনন্তপ্রাণ
কামনার তীব্রতা 
নিজেকে সামলায় 

পরস্পর  বোধ প্রেম ভালোবাসায়
কৃপাণ  মণ 
চেতনায়  স্বার্থপরতা।







 প্রেমিক 
বিমল মণ্ডল 

ব্যাকরণ  মেনে প্রেমে
জানি তোমার আকুলতা 
সময় সৈকতে  রতি 
তোমার বীর্যারোহণে
আপ্লুত  কোমল দেহ

রাতের শেষে বুকের উপর 
কত না আনন্দে  তুমি
অথচ কি ভাবে  আনন্দ আসে
প্রেমিক হয়ে বুঝলেনা আর।







হৃদয় বড়ো করো
বিমল মণ্ডল 

মোবাইলে  কত ছবি
আনন্দে পাখি গান গায়
তোমার জীবনরসে
সিক্ত হলো  মন
তোমার প্রিয় স্মৃতিতে 
আমি ধরেছি হাল

প্রতিদিন, প্রতিরাতে 
পেয়েছি তোমার দেহ স্বাদ 

হৃদয়  দিয়ে ভাবো একবার 
তুমি চিরকাল হলে আমার।








কামনার কুয়াশা 
বিমল মণ্ডল 

তোমার চোখে কামনার কুয়াশা 
অশ্রুতে তেজ
কী কথা আর বলবে তুমি
তোমাতেই শেষ 

শেষ  নয় শুরু  সবে
চাওয়া -পাওয়া অনেক আছে
আমায় তুমি চাও প্রিয় 
হৃদয়ে  যে আমার পদ্য আছে 

ওষ্ঠেতে চুমু সারা
হারিয়ে শরীর  তোমার বিছানায় 
ভুলবে না জানি আমি
দেহ আমার কবিতার কামনায়। 




১৯/০১/২০২০




 দুটি  মন
বিমল মণ্ডল 

দুটি  মন অন্য কথা বলে
দু'জন দু'জন কে অন্যভাবে  চেনে
কাছে এলে যেমন ভালোলাগা 
তোমার কাছে অন্যভাবে  মানে। 



পুরুষ নারী, পুরুষ - পুরুষ  প্রেমে
বয়স এখন  তোমার কাছে যেন
স্তন ঝুলে  তোমার মুখেরপর 
সুযোগে তুমি ঢালছো যেন- তেন। 

রোজনামচায় তোমার অফিস 
অতীত ভুলে ভবিষ্যতে যাও
কৌশলে কেড়ে নাও মন
একটি মনে আর একটা  মন চাও। 



১৯/০১/২০২০






চুম্বন 
বিমল মণ্ডল 

পাতার অক্ষরগুলি রেখা
রেখার তরঙ্গে চলো তুমি
মুখের সামনে কত কিছু
একটি  চুম্বনে কিছু বলি

নিস্তব্ধতা  চুম্বন  ঠোঁটে 
খল চিত্র ভেসে ওঠে
ফুটে উঠেছে শত অক্ষরে
জেগে আছি  চুম্বনের তরে। 




১৯/০১/২০২০






পথ ক্রমশ 
বিমল মণ্ডল 

কতদিন  পরে মুক্তির  উল্লাস
পরিবার পরিহার
অগাধ ব্যথা বুকে  বাজে
আপাদমস্তক  প্রেমের বাণী যৌবনের  ক্যানভাসে মরীচিকা 
 আকাশে সূর্য  বিদায় জানায়

তবুও  পথ ক্রমশ... 
খুঁজে  পাই  প্রেম মন্ত্র
বয়স  আর মানেনা কামরস
হারানো  যৌবনরস 
তোমার স্নিগ্ধতায়। 




১৯/০১/২০২০





আধুনিক 
বিমল মণ্ডল 

একটা বিচ্ছিন্ন  হৃদয়  যখন  তোমার পাশে
কোথায় চলে যাও পুরুষ  হয়ে
গোটা  শরীরের মানে 
তোমার জানা নেই

আমি  রাত্রির বন্ধনে
সারা শরীর ভিজে থাকে
আধুনিক কৃষিজ প্রেমে। 




১৯/০১/২০২০






অনুকবিতা 

১.

হুস করে  তুই কোথায় যাস
আকুল মন চিবিয়ে  খাস। 

২.
একটা বীজের জন্ম দেবে
বৃক্ষ  হয়ে ঘিরে রবে। 

৩.
সমস্ত মন কেড়ে নিলে
কামরসে তৃপ্তি দিলে।

৪.
কথাগুলো  ভালো বলো
বয়সে  প্রেমরোগে  ডুবালে।



২০/০১/২০২০






 আমাদের সম্পর্ক 
বিমল মণ্ডল 

একটা  মানুষ  যখন আর একটা  মানুষের  কাছে
তাঁর  জন্য ঘর, শোয়ার খাট
যেখানে দুটি  মানুষ  মনের কথা বলেন
আছে থাকবে একই মনে,একই হৃদয়ে 

মানুষটির শান্তি  চায় আর একজন 
কাছাকাছি  থাকে দীর্ঘ দিন-রাতের

যে দুটো  মানুষ সংসার বাগান শূন্য  রেখে
নতুন করে সম্পর্ক  বাঁচায়

শুধু  মন দুটো  চায় বলে। 



২০/১/২০২০





দাদা
বিমল মণ্ডল 

তোমার শরীরে এখন প্রাণের  কথা
জটিলতার  পোষাকও নেই
একটা  কষ্ট জ্বলে রাত্রিদিন 
হাল্কা  কাঁচের  আয়নায়  দেখি 
তোমার  শরীরে ব্যথার  দাগ

যে শরীর  মাঠে সোনা ফলিয়েছে
সে শরীরে  অসহায়  আঁকা 
তোমাকে  জানতে চাই আর জানাতে চাই
 হঠাৎ  হাল্কা  বাতাসে 
আমার চারদিকে  দাদার সুমধুর ঘ্রাণ । 


২০/১/২০২০




অশুভের  মৃত্যু 
বিমল মণ্ডল 

প্রতিটি  কণ্ঠস্বর  
একটা  শক্তি 
শূন্যতার  নির্জন  গলিতে
লুপ্ত  হয়ে যায়

তুমি তোমার হৃদয়ে সুর তোলো
তোমার স্মৃতির পরিত্যক্ত  ছাই
আমার অন্তিম শয়নে 
অশুভের  মৃত্যুর  সাথে  সাথেই

জেগে ওঠে  নতুন ধ্বনি ।






অনুগল্প 
---------------- 

ছবি
বিমল মণ্ডল 

"এবার তুমি তোমার  ছবি দেবে বলে তুমি দিলে না কেন? সময় তো ছিলো  ছবিটি  খুব দরকার  ছিলো "-প্রশ্নটি স্নেহের ভাইকে দাদার। 

"- শুনো  দাদা একটা গুরুত্বপূর্ণ  কথা আছে তোমার সাথে। "
-না না সামান্য জিনিসটাই মনে করে দিতে পারো না। তাহলে ভালোবাসা   থাকবে কি করে?
-তুমি পারলে? আমাকে এই ভাবে বলতে। যাইহোক  তুমি শোনো -অনুপদার ভাই অনুপদাকে রাস্তার ধারে বলেছিলো যে"তোমার একটা  ছবি তুলবো? দেবে ছবি তুলতে?
সঙ্গে সঙ্গেই  অনুপদা ছবি তুলে দিয়ে বলল "কি করবে এই ছবি?
সহজ সরল একটা  মন নিয়ে বলে " তুমি যখন  কাছে থাকবে না, তখন  এই ছবিটি  প্রাণ ভরে  দেখবো।"

-তাই তো আমার ছবি পাঠাই নি। ভয়ের সুরে করুনঘন গলায় ধীরে ধীরে  ভাই দাদাকে বললো "আমায় একটা  ছবি দেবে?ঠিক আমার দাদার মতো  করে "।

দাদা নির্বাক। 



সোজা হয়ে  দাঁড়াও
বিমল মণ্ডল 

তোমার বুকের  কাছে ঠোঁট নিয়ে ঝুঁকে 
এমন কাঠিন্যে ,কী সৌন্দর্য ছড়িয়ে  শরীরে 
তোমার অশেষ  করুণা 
আমার সর্বস্ব নিয়ে দু'হাতে আরো জড়িয়ে
ব্যবধান  মিশে যায় পবিত্র  ভালোবাসা
তুমি যদি না থাকো আমিও  ক্ষমতা  হারাই
তোমাকে তোষামোদ করে  সমস্ত দিন রাত কাটে

তবুও  তোমার শরীর পাথুরে  অন্ধকার 
তোমার সুন্দর  মুখশ্রী আকাশ তারায় হাতছানি  দেয়
যে ভাবে বাজাও আর বাঁকাও 
সেভাবে  দাঁড়াই

তবুও  প্রয়োজনীয়তার সময় স্টেশনে কঠোর ভাবে সোজা  হয়ে দাঁড়াও। 




২১/০১/২০২০






পার্কে  মুখোমুখি 
বিমল  মণ্ডল 

সামনে ট্যাক্সি গ্যারেজ , পিছনে  বনানী, ডাইনে ইতিহাসের জলাশয়, বামে  ভীড় লোকালয় 
আর মুখোমুখি অফুরান জিজ্ঞাসায় ক্লান্ত করো 

তোমার সমস্ত চাওয়া  
সহজে মেনে নেওয়া 
এ জীবনে  আর কোনো  পথ নেই
পরিচয়  শুধু  একটাই 
আশ্চর্য  আদেশে পার্কে মুখোমুখি 
 তুমি আর আমি। 



২১/০১/২০২০





তোমাকে চিনেছি সেদিন 
বিমল মণ্ডল 

সামান্য ফোনে আলাপ
অর্ধেক  কথা আয়নার এপাশে আর অর্ধেক  ওপাশে
চিনতে চিনতে তোমার আমার সম্পর্ক গড়ে
বুঝতে  চেয়েছি কিন্তু  বুঝতে দাওনি  সে দিন
শুনতে চেয়েও  শোনাও নি সেদিন

একটা  অজানা  অবহেলা  শরীর শব্দ  আঁকা 
শব্দের ভিতরে  তুমি থেকে গেলে  বিবাহবিহীন

 অর্ধেক  বিশ্বাস নিয়ে 
কত সহজে সহজ  কথা বলো

ভিড়ের মাঝে  ঠিক সেদিন  তোমাকে বুঝেছিলাম।



২১/০১/২০২০ 



গোপনীয়তা
বিমল মণ্ডল 

কথা বলতে বলতে ফুটপাত ধরে হাঁটি
দূরে পাখিরা আড়চোখে  দেখে 
সূর্য  তখন  ক্লান্তি গায়ে মেখে
আমি তখন  আমার ভালোলাগার কথা বলি
হেঁটে  চলি ডানে-বামে,সামনে -পেছনে
কত প্রশ্ন  তোমাকে করি

তুমি রেগে অস্থির ,প্রেসার নামে ওঠে
তোমার সমস্ত বিশ্বাস -মাখা গোপনীয়তা 
আমার শরীরে  ঢেলে যাও। 




২১/০১/২০২০




স্বাদ 
বিমল মণ্ডল 

দিনের  শেষে  সন্ধ্যা  নামে বেশ
রাতের মাঝে  দেখছি আমি তোমার ছদ্মবেশ 
চাঁদের আলোয় চুম্বন রস স্তনে
তোমার পরশে শরীর  শান্ত এ জীবনে। 

জেনে-বুঝে তুমি এলে আমার ঘরে
রাতের বিছানা কাঁদে ঘোরতর প্রেম জ্বরে 
উলঙ্গ শরীর ঘিরে করো আর্তনাদ 
পরম সুখানুভবে পাই তোমারই  স্বাদ ।




প্রেম বর্ষণ 
বিমল মণ্ডল 

এগিয়ে চলেছো তুমি
এগিয়ে চলেছি আমি

যতটা  স্বপ্নের  ঘরে
তুমি দেখছো 
আমি দেখছি 
 ভালোবাসার  দাগ


তুমি বুক ভরে শ্বাস  নিতে চাইছো
সেই শ্বাসে উঠে আসছে
আমার নরম মাংসের গন্ধ

হাতদুটোকে পাখির  ডানা করে 
সারা শরীরে কামনায় ডুবে 
টের পাই আমি 
তোমার শরীরের কোণে কোণে 
প্রেম বর্ষণ। 




২২/০১/২০২



স্নেহ
বিমল মণ্ডল 

জ্যোৎস্না মাখানো  মেঘ।হলদি নদী স্তব্ধতায় একা। কিছুদূরে স্নেহরেখা জেগে ওঠে। বিন্দু বিন্দু শরীরে। তোমার আর তোমাদের হাত উর্ধাকাশে অঞ্জলি  দেয়
দিগন্তে নদীতে  মিলে গড়ে তোলা বর্ণহীন  স্নেহের ঝিনুক
তারই মধ্যে  আমাদের কথা
পাখিরা সুদূর  আকাশে স্নেহময়  আশা

স্নেহের  কাছে মৃত্যু  হারায় নিজ যৌবন  ঘিরে। 



২২/০১/২০২০

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন