তোমার প্রতি
বিমল মণ্ডল
তোমার হৃদয় প্রাসাদে নাই বা দিলে ঠাঁই
ঈশ্বর প্রেরিত আমি জেনে রেখো তাই
ভালোবাসি ঈশ্বর মুখে বলো না আর
মুখের কথাতে প্রত্যাশা থাকে বিশ্বাস আমার
স্বপ্নপূরণ ইচ্ছেটাই যদি আমার আর না থাকে
কেন বা সমাজ কেন ভালোবাসা বলতে পারো আমাকে?
ঘাত-প্রতিঘাত , দুঃখ বেদনা ভালোবাসারই অঙ্গ
নিজের কথা ভেবে আমার স্বপ্ন করলে ভঙ্গ
মূল্যবোধ আর মানবিকতা বুলি আওড়াও মুখে
ভালোবাসতে না পারলে থাকবে না তুমি সুখে
কথার ভীড়ে চাপিয়ে দিও না নিজের দোষটাকে
সবার সাথে মিলিয়ে দিয়ে ফিরালে আমাকে
তুমি যদি পারো আমি পারবো না মোটে
আমার বিবেক যতটুকু ততটা দেবো তোমাকে
ভেবোনা আর ঈশ্বর যদি এভাবে চায়
তোমার প্রতি ভালোবাসা যেন ঈশ্বর দেয়।
এবং স্রোতে
বিমল মণ্ডল
তোমার কথার ঘূর্ণি স্রোতে
চারপাশে নেমেছে রাত্রি
নির্জনে বিলাপের সময়
আলাপে তুমি মেতে
তুমি ক্ষমাহীন ভাঁজ সম্ভার
হারিয়ে আমার পূর্ণ প্রাণ
বিপুল বিস্ময়ে তোমার হাতে হাত রাখি
হঠাৎ সরে আসি
চারদিকে ধূ ধূ বালুরাশি
একমাত্র নিয়তি সম্বল
চোরাবালিতে আটকে
ভেসে যাই
এবং স্রোতে।
আয়না এবং তুমি
বিমল মণ্ডল
সমস্ত রাত্রি আমার সংকট
সমস্ত দিন আরো ভয়ংকর
সমস্ত প্রতিশ্রুতি আনে অন্ধকার
তোমার ইচ্ছেহীন ভালোবাসা
আমার হৃদয়ে বাঁধে
তোমার শরীরের মাঝখানে অক্ষর আখরে
লিখেছি আমার ভবিষ্যৎ
তোমার হৃদয়ে এঁকে
মনের আয়নার চারপাশে কত ছবি
তবুও আশারমান ভেসে ওঠে
আয়নায় এবং তুমি
আমার জন্মান্তরবাদ
বিমল মণ্ডল
আমার স্বাধীনতা নেই
আমার শরীর ঘিরে তোমাদের উন্মাদনা
পাতা, ফুল, ফল এমন কি আমার শরীরকেও ভোগে লাগাও
সময়ের অনুপাতে মায়ায় ঘিরে রই
রোদ বৃষ্টিতে আশ্রয় পাও
আমি অনন্ত মনের অধিকারী
আমি তোমাদের সাথে থাকি
তবুও তোমাদের স্বাধীনতা আছে
কিন্তু আমার নেই
নেই আমার জন্মান্তরবাদ
আমি আজও তোমাদের প্রাণের আশা করি
আমার বৃত্তের মাঝে
ফিরিয়ে দাও আমার জন্মান্তরবাদ ।
প্রথম পরিচয়
বিমল মণ্ডল
এমনও হয়
প্রতিটি সম্পর্কে মজা কিংবা আবদার কিংবা ভালোবাসার
যদিও আপন আর আপনার নেই
পর অনেকটাই আপনার
মানসিকতা এলোমেলো
স্থীর - ধীর হৃদয়ে অনুভূতির পরশ
চাওয়া পাওয়ার বিশ্বাস জোরালো হয়
নিজের থেকে প্রেম আসে দুটো সম্পর্কে
তখন বন্ধুত্তের দেওয়াল আর থাকে না
চিরকালের হয়ে ওঠে
এই পরিচিত সম্পর্ক ।
বাঁচিয়ে রাখা
বিমল মণ্ডল
সব মানুষই নাম চায়
তাই প্রতিটি সভার গুণগান
স্থান , কাল ভেদে মুখেমুখে রচিত হয়
আবার এক সভার বিপরীতে আর একসভার কুকথা আলোচনা
নিজেকে টিকিয়ে রাখতে
প্রতিটি মুখের আদল পরিবর্তন হয়
না-জানা প্রসংশা যেন তাড়িয়ে বেড়ায়
যাদের নিজের বোধগুলো হারিয়ে যায়
তারা সমাজে উঁচু মাথায় বসে
ভালো মন্দের বিচার আর হয় না
কতটা নাম বাঁচিয়ে চলা যায়।
তুমি আছো মানসপটে
বিমল মণ্ডল
দূর আকাশে কাহার পানে
তাকিয়ে আছো কিসের টানে?
কাদি বসে হেথায় একা
তোমার জন্য অভিমানে।
জানি জানি তুমি আমার
আছো বসে মানসপটে
স্রোতের মতো সহজ পথে
এসো মোর আঙিনাতে।
আমার ভুল অনেক বেশি
সেটা তুমি ভালোই জানো
তবে কেন কিসের কারণ
অন্তরে তে বজ্র হানো?
পাল্টে দাও
বিমল মণ্ডল
আর কতদিন
এভাবে জীবন নিয়ে চলবে?
তোমার ধৈর্য
তোমার সরলতা
শেষ প্রান্তে ঠেকেছে
তুমি পাল্টে দাও
ছোট্ট একটা তুক করে
ভেতর আর বাইর পাল্টে দাও
নিয়মিত আর অনিয়মিত কঠিন মানুষ
কত রকম শিস দিয়ে চলে যায়
গ্রাম - শহর ঘিরে চাপা ছায়া
বাতাসে ঘুরে বেড়ায় উপহাস্য
তবু তুমি সরবে না
তোমার নিজের জায়গা ছেড়ে
তোমাকে পারতেই হবে
না হলে সামনে- পেছনে মৃত্যু হাতছানি দেবে
যেখানে সব টেনে নেবে
হারিয়ে যাবে তোমার বিবেক বোধ
তাই বলি তুমি পাল্টে দাও
নতুন আলোতে শুরু করো সবকিছু
তুমি হাতবাড়ও
তুমি সবার হাত পাবে
আসলে পাল্টে দিতে হবে সবার জীবন।
অসহায় আজ আকাশ চেয়ে
বিমল মণ্ডল
অসহায় শিশু আকাশ দেখে
সারাদিন রোদে শুয়ে শুয়ে
খিদে সে রেখেছে পেটে মেখে
সূর্য শরীরে আঁকে কাছে গিয়ে
ফাঁকা বারান্দায় লেগেছে জোছনা
নিরব নিথর অসহায় শরীর ঘিরে
অভাবী মায়ের চোখে জল মানে না
চাঁদ কপালে চুমু খেয়ে জড়িয়ে ধরে।
যদি শোনো আমার কথা
বিমল মণ্ডল
শোনো না দাদা।
এসো না কাছে রেখো না
তোমার ডালে
ভালোবাসা নেবে? আদর নেবে? শুনবে আমার কথা?
ভয় পেয়োনা পাবে সব আমায় কাছে রাখলে
কথা দেবে?ভাগ করে নেবে সুখ - দুঃখের ব্যাথা?
চেয়ে দেখো দূরে তোমার চেয়ে আছে ওরা অনেক কষ্টে
হঠাৎ ঝড়ে সব সৃষ্টি ওদের পড়েছে ভীষণ ফাঁদে
তোমারও সৃষ্টির ফল পাবে যা আছে অদৃষ্টে
মাটি, গাছ, আকাশ সব হারিয়ে একা একা কাঁদে
কথা দাও এদের মতো যেন থাকে তোমার মন
ফুল দেবে, ফল দেবে রাখবে ধরে শুধু বুকে
শুনবে কথা? বলো না আমায় তুমি না আমার প্রিয়জন?
কথা দিলাম থাকবো পাশে থাকবে তুমি সুখে।
: ব্যস্ততা কি ভাবে থামে
বিমল মণ্ডল
মেঘলা আকাশ
তবুও অনেক ব্যস্ততা মেঘের
সূর্য ওঠার আগেই মাটিতে জল খেলা করে
ঘাস, গাছ আর মাঠের ব্যস্ততা
স্বপ্নের ভেতর হাঁটে
সূর্যের আস্ফালন সকালে সব ব্যস্ততা কমিয়ে দেয়
শুধু একটু ব্যস্ততার স্বপ্নে
অনেকগুলো জীবন হারয়ে যায়।
উপলব্ধি এমনও হয়
বিমল মণ্ডল
কতটা শ্রম দিলে একটা ভালো সৃষ্টি হয়
কত উপাদান দিলে তা মজবুত হয়
আমি এখন বুঝলাম
যেখানে ইট, বালি, সিমেন্ট ঘেঁটে একটা বাসস্থান তৈরি হয়
আমার টাকা, মন, পরিচিতি এসব আশার বাণীতে জাগে
দিন রাত খেঁটে
সখের বাড়ি হয়
নিরুৎসাহিত রাতে ভয়ংকর চেনা দস্যুরা
সমস্ত সৃষ্টি ভেঙে তছনছ হয়ে যায়।
অক্ষয় হোক
বিমল মণ্ডল
আমি যা
তাই সর্বদাই
আমার সামনে পেছনে
নিষ্ঠুর ভালোবাসা
শৈশব , কৈশোরে মায়ের উপচে পড়া ভালোবাসা
যা আমার শরীরে আজও ছড়িয়ে
যৌবনে মিশে যায় সমুদ্রের গভীরে
নিতান্ত অসহায় ভাবে পথিমধ্যে একা একা ঘুরি
প্রবল হাওয়ায় স্মৃতি গুলো এলোমেলো
সহসা বাতাস নিয়ে যায় টেনে
তোমার প্রেমের কোলে
ভয়াবহ ভয় সরিয়ে
হৃদয়ের এককোনায় বসালে
তোমারও মনে সংশয়
পিতৃত্বের দাবিদার ভেবে
অবশেষে সময় গোড়ায়
মন থেকে সংশয় সরায়
সম্পূর্ণ করলে বুকে টেনে
পুত্রের সম্মান দিলে
আমার হৃদয়ে বাবার সম্মান
এযেন জন্মান্তরবাদের সংকেত
কথা নয় শুধু
প্রতিটি কাজ
তোমার আমার প্রতি
অক্ষয় হোক।
রেখো হৃদয় মাঝে
বিমল মণ্ডল
পরিচয় শুরুতে কেউ কেউ আবেগ ঢালে
কথায় কথায় সংকল্প জাগায়
নিজের একান্তে রেখে
ভাবি সহজ সরল মানে
বুকের গভীরে নতুন প্রীতির সংকেত
আমিও শুদ্ধস্বরে চৈতন্যের কথা বলি
যা যা শ্রুত তার সবই স্মৃতিধার্য করি
এসো হে প্রণম্য
যেখানে বেঁধেছি ঘর তারই পাশে রাখি এ প্রণাম
এভাবে তোমারও বয়স বাড়ে
দিনে দিনে আমিও তোমার হৃদয়ে গভীর শিকড় ছড়াই
তোমার দু'চোখে জল
কথা রাখার উজ্জীবিত আবেশে
আমাকে রাখো হৃদয়ের মাঝে।
সময় চিনিয়ে দেয়
বিমল মণ্ডল
সময়কে মানুষ ভয় পায়
জেনে কিংবা না জেনে
মানুষ মানুষের সাথে মিশতেও ভয় পায়
মানুষের সহজ ও কঠিন ব্যবহারে
চাওয়া পাওয়ার প্রতিশ্রুতি
সেকেন্ড, মিনিট, ঘন্টায়
মানুষের কথা বিষময়ও হয়
টগবগিয়ে কাছেরও হয়
সুযোগ পেলে ধারালো অস্ত্রে
ক্ষত করে দেয় মানুষই
আবার গভীর ভাবে হৃদয়ে ভালোবাসা জাগায়
পাহাড় - পর্বত ইমারত বানানোর গল্প মানুষ বলে বেড়ায়
আর একজন মানুষের কাছে
বিশ্বাস ও অবিশ্বাস সময় বলে দেয়
চিনিয়েদেয় পরিচিত ও অপরিচিত মানুষকে
সময় আর মানুষ সর্বদা ভয় নিয়ে আসে।
প্রতিবন্ধকতা
বিমল মণ্ডল
খোলা মনে ভাবুন বসে
হারানো স্মৃতি আপন ভেবে
সপ্রসঙ্গ তুলি ধরি
ব্যাকুলিত হৃদয়ে প্রকাশ করি
আবেগের স্রোতে হারায়নি
আশার আশ্রয়ে বাঁচতে চেয়েছিলাম
আমার জানা নেই
আপনার অতীত
জানা নেই ইতিহাস
তবু্ও ভালোবাসার তীব্র বাসনা বুকে
সুগভীর লোভে এগিয়ে যাই
হঠাৎ আঁধার আসে নেমে
সমস্ত ভাবনা অন্ধকারে ঢেকে যায়
প্রতিবন্ধকতা ঘিরে ফেলে
নিরাশার অন্ধকারে
আমি অসম্ভব ভয় পেয়ে
ভালোবাসাহীন বুকে
আমি আমার স্মৃতি নি
বুঝবে সেদিন
বিমল মণ্ডল
অনেক কথা শৈশবের স্মৃতিতে ধরা
সেই মাটির দেওয়াল আর কাদা ভরা গ্রাম পথ
যেখানে আমার মা তুলসীতলাতে অনন্ত সুখী প্রদীপ জ্বালে
বাবার হাতের শাসন এখনো শরীর জুড়ে
নিয়মিত অভাব ছিলো আতঙ্কে
আমার শরীর মজ্জায় দুঃখ আজও লেগে
তাই আজ মন ভালোবাসা খোঁজে
ভালোবাসার নীড়ে তখন অন্ধকার আসে
সব যন্ত্রণা সহজে পরস্পর ভাগাভাগি করি
প্রেমের হৃদয় দিলে আবার অনেকটাই নিলে কেড়ে
আমার স্মৃতি ফিরে পাই তোমায় যখন ঘিরে
আমার মনে সেই আসনটি তোমায় দিলাম তুলে
অযথা বিরক্ত সুর তোমার গলায় ভাসে
বলবো না আর কিছুই তোমায়
যেদিন তুমি আসবে ফিরে
বুঝবে সেদিন আমার ভালোবাসা ।
চিরন্তন
বিমল মণ্ডল
টুকরো টুকরো ভাবনা
এলোমেলো হয়ে বিষসমুদ্রে
অনন্ত ভবিষ্যত হৃদয় শূণ্যপুরে
হটাৎ দমকা হাওয়ায় শরীরে আবেশ আসে
সুখমণ্ডলের কিছুটা ছিঁটে
আনন্দের অনুভব আনে
আমি নতুন আলোর দিশা পেয়ে স্বপ্নতে বিভোর
কি জানি কি মনে হয়
এ প্রাপ্তি কী চিরন্তন?
তবুও একটা আশ্রয় দেয় চিরন্তন ভালোবাসা।
সমাজ এবং তুমি
বিমল মণ্ডল
পঙ্কিলতায় পূর্ণ সমাজ
সেখানে ভালো মন্দের ঠাঁই নেই
আত্মসুখে সবাই বিভোর
মৌখিকতা ডানে বামে
ভালোবাসা রৈখিক চিত্র
একার মধ্যে হয়না সমাজ
ঠিক -বেঠিকের প্রশ্ন ঘোরে
আত্মমগ্ন সমাজ ঘিরে
তোমায় সবাই নিন্দে করে
তোমার ভাবনা সমাজ জুড়ে
সুন্দর পরিবেশ হবে বলে
লক্ষ কোটি মানুষে সমাজ
তুমিও সমাজেরই একজন
তোমার শিক্ষা , অসীম অধ্যাবসায় তোমাকে টানে
তুমি সহস্র বিপদ ভুলে
সমাজকে করেছো বন্ধু
আজ সমাজ তোমার
তুমিও সমাজের।
: অতীত কিছুটা
বিমল মণ্ডল
আকাশ জুড়ে সন্ধ্যা বেলায় মেঘ করেছে আজ
ছোট্ট বেলার সেই আকাশ , বাতাস,কাটাকুটি কাদায়
খেলতে খেলতে হারিয়ে যেতাম
অঝোর বৃষ্টির ধারায়
মা সেদিন দিত না খেতে
অভুক্ত সারাদিন থাকতাম
দেশ বিদেশে ঘুরে ঘুরে
পাখিদের কথা ভাবতাম
সুখ দুঃখের চিহ্ন আমার ছিলো শরীরে আঁকা
আজ আমি শুধু একা
বসে ভাবি অতীত কিছুটা ।
এছাড়া কিছুই নেই
বিমল মণ্ডল
দুঃখ আমার জন্মগত ভাষা
এই ভাষা ঘিরে রাখে শরীর
কান্না ছাড়া আমি শুনি না কিছু
এ আমার জন্মভূমির অধিকার
চারদিকে দুর্বৃত্তদের ভীড়
ওরা কেড়েছে আমার ভালোবাসার আশ্রয়
ঝলসে দিয়েছে আমার ভবিষ্যতের শরীর
আমি আজ স্থির অবিচল
আমার দুচোখ বেয়ে গড়িয়ে আসে করুণার জল
এই অনুভবের অধিক কোনো ভাবনা নেই
তোমার দেওয়া সান্ত্বনা
বর্ষা শেষে জ্যোৎস্নায় প্লাবিত
সেদিনও কেঁদেছি আমি
তোমার হাত ধরে
দুঃখ আর কান্না ছাড়া
কিছুই নেই আমার।
আত্নিকটানে
বিমল মণ্ডল
কতগুলো সহানুভূতি আমার সন্তানের মধ্যে
কতটা আদরমাখা শরীর ঘিরে
আমার নিজের সৃষ্টি কষ্টের রক্তে
জৈবিক চেতনা ভবিষ্যৎ মেনে
তোমার ভাবনায় আমার প্রভেদ
আমার সমূহ স্বাদ বর্তমান ঘিরে
যা ভবিষ্যতে তোমাকে ঘিরে বাঁচার অনুভূতি
তোমার রক্তের দাগ নেই আমার শরীরে
আমার শরীরে তোমার সুক্ষ্ম আত্মিক যোগ
আজীবন তোমার রক্ত আমার শরীরে প্রবাহিত হবে
দীর্ঘ আত্মিকটানে
অমূল্য সম্পদ তোমার সন্তান স্নেহে ।
সমস্ত ভালোবাসা আজ
বিমল মণ্ডল
প্রথম ভালোবাসার স্মৃতি মনেপড়ে আজ
মনেপড়ে কাদাময় সন্ধ্যার গ্রাম
গুল্মের প্রভাতে আমি আজ অস্থির
ভালোবাসা বড়ো কাঙাল
আয়নায় সত্যের প্রকাশ
কীভাবে তোমায় বোঝাই
আমিই সত্য
আর তুমি তার সমস্ত কারণ
বহ্নি হয়ে অধিক সম্মত
ভালোবাসা গলে, ধাতু গলে, ঋতু গলে
তবুও তোমার মন গলেনি আজ
সমস্ত প্রবনতা তোমার
আর আমার শরীরী মনের দাস
সমস্ত ভালোবাসা আজ
তোমার দুয়ারে দ্বন্দ্ব , অনুপ্রাস।
রূপান্তর
বিমল মণ্ডল
এখানে ঘুময়ে আছে এক নদী মরে গেছে সব স্মৃতি
বাতাসে উড়ছে উলুঝুলু খেজুরের শুকনো ডালে ডালে
শ্রাবণে আকাশটা নুয়ে শুয়ে অঝোরে জল ঢালে
গ্রামের সেই নদী খরস্রোতে হয়েছে আজ ইতি।
তবু কত কিছু ভাসে মাঝিদের দাঁড়ে শিরার লবণ জাগে
মেঘ উড়ে যায় দূরে ঘুরে মন ভাসে না আর
নিঃসঙ্গ মাটির তলে এখনো ঘুমিয়ে বারবার
তার শরীরে কীটের উৎসব আর গাছেদের রূপান্তরের আগে।
কথার ভেতর কথা
বিমল মণ্ডল
বিশৃঙ্খল বোধ আমাদের মনে বাসা বাঁধে
প্রতিটি কথার ভাঁজে ভাঁজে দুর্গম রহস্য
জাগতিক নিয়মে পক্ষে বিপক্ষের আচরণ
সহজ - কঠিন এই বোধ সর্বকালের
নিজের দোষ অপরের কাঁধে
কথার অন্তরালে বিশ্বাস - অবিশ্বাসের প্রশ্ন
কথার মধ্যে কত কথা
সব খোঁজার মাঝে
শুধু ধ্বনি হয়ে আসে
কথাগুলোর মধ্যে আপন - পর বিভেদের প্রেমাবেগের তীব্রতা
নতুন কথার মাঝে আর এক নতুন কথা।
প্রথম পরিচয়
বিমল মণ্ডল
এমনও হয়
প্রতিটি সম্পর্কে মজা কিংবা আবদার কিংবা ভালোবাসার
যদিও আপন আর আপনার নেই
পর অনেকটাই আপনার
মানসিকতা এলোমেলো
স্থীর - ধীর হৃদয়ে অনুভূতির পরশ
চাওয়া পাওয়ার বিশ্বাস জোরালো হয়
নিজের থেকে প্রেম আসে দুটো সম্পর্কে
তখন বন্ধুত্তের দেওয়াল আর থাকে না
চিরকালের হয়ে ওঠে
এই পরিচিত সম্পর্ক ।
এমন মানুষ
বিমল মণ্ডল
সত্যি যদি মানুষের ভীড়ে
পেতাম এমন মানুষ
রাখতাম আমি হৃদয়ের ঘরে
চাঁদকে রুটি ভাবা
বড়োলোকদের কাজ
অভাব যাদের চিরকাল
শরীরে নেই সাজ
যাদের জন্য মন কাঁদে
এমন মানুষ কই
এদের মাঝে তোমায় আমি
রাখবো বেঁধে তাই।
নিঃসত্ত্ব
বিমল মণ্ডল
হঠাৎ রেগে যেওনা
চুপচাপ শুনো
মন আরো সময়ে দাও
অনেক আলোচনা বাকি
সময়ের সাথেই ঠিক থাকো
রেগে যাওয়া মানে
নিজের দৈহিক আর মননে
বিকলাঙ্গসার
তোমার এই রাগ বিকলাঙ্গ করা নয়
বিকলাঙ্গ সারানো
রেগে যেওনা
চুপচাপ শুনো।
সংশয় নয়
বিমল মণ্ডল
অতীতকে সামনে রেখে
বর্তমানে পথচলা
ভবিষ্যতের কথা ভেবে
সময়ের সাথে কথা বলা
জন্ম, মৃত্যু, জীবন
বেঁচে থাকার সংশয়
হিংসা যখন ছড়ায়
তখন সে একা হয়
এই পৃথিবী বলয়ে
মিশে না সবাই
জটিলতা ছেড়ে এসো
পরস্পর হাত মেলাই।
অকর্মন্য লোকেরা বড়ো লাফায়
বিমল মণ্ডল
আজ কাল অকর্মন্য লোকেরা বড়ো লাফায়
হেঁড়ে গলায় সর্বদা যেন পৃথিবী কাঁপায়
যখন কথার মধ্যে গুরুত্বহীন হয়ে পড়ে
তখন আরও চিৎকার বেশি মাত্রায় বাড়ে
অর্ধেক আকাশ তারা যেন নিয়েছিল ধরে
আসলে জ্ঞান বুদ্ধির প্রশংসা বেশি করে
ভয়ের চোটে জগৎ যখন হাঁপায়
আজকাল অকর্মন্য লোকেরা বড়ো লাফায়।
পরম পুরুষ
বিমল মণ্ডল
কৈশোরে বাবার স্নেহতে ডুবেছি
সে যেন অতলান্ত মহাসাগর
সমস্ত বাক্য যোগ যৌবনে
পথে পথে পাথেয় করেছে
অভাব বাবার সংসার ঘিরে
অনন্তকাল আসীন
পাহাড় - পর্বত কষ্ট নিয়ে দিয়েছে আমায় শিক্ষা
আমার নাস্তকতা বাবাকে ঘিরে
ঈশ্বর ঘিরে জল্পনা আর হয় না
আমার পরম পুরুষ
শুধু আমার বাবা
এখনোও আমার নতুন উঠানে
আজও বাবার আদরের ঘ্রাণ আসে।
মাথা উঁচু করে বাঁচা
বিমল মণ্ডল
যত ঝড়, জল আসুক
মাথার উপর দিয়ে
তবু্ও মাথা উঁচু করে বাঁচতে হবে
পিছন ফিরে তাকালে দেখি যারা সাথে এসেছিলো
কেউ নেই আর
শুধু সামনে অহংকার ঝড়
নদী, সমুদ্র পেরিয়ে যেই পাড়ে উঠলাম
তখনই কালো মেঘ করে ঝড় সামনে দাঁড়ায়
ভয়ের কুন্ঠা না রেখে
আমি সন্তর্পণে হেঁটে যাই
ঝড় থামে
আবার সারা পথে মানুষের কান্নার ঝড় আসে
লাল হয়ে গেছে সারা গ্রামের মাটি
মায়েরা কাঁদছে
সব ঝড় থেমে যাবে
শুধু মাথা উঁচু করে বাঁচা
এটাই শেষ শ্লোগান হবে।
দৃষ্টি
বিমল মণ্ডল
অযথা প্রতিশ্রুতি দিও না
সত্য সান্ত্বনা দিও
তোমার পাহাড় - পর্বত জ্ঞান
হাস্যকর হয়ে ওঠো না
অনেক বাকি এই ভান্ডার পূরণ হতে
ঠান্ডা হাওয়ায় নিয়ম মেনে চলো
না হলে ঠান্ডা লেগে যাবে
তবে অযাথা শরীরে অসুখ ডাকো না
জেনে বুঝে দেখে চলো
নিজের বিছানো জালে
আটকে যাবে পরে
অযথা প্রতিশ্রুতি দিও না
সত্য সান্ত্বনা দিও ।
অদ্ভুত দেশ
বিমল মণ্ডল
এক অদ্ভুত ভাবে বেঁচে থাকা
অর্থাৎ যেখানে দাঁড়িয়ে আছি
সেখানে সেকেন্ড, মিনিট, ঘন্টার হিসেবে
শুধু দাঁড়ানোর জন্য দাঁড়ানো নয়
তাই প্রাণপনে চেষ্টা করা
আসলে বেঁচে থাকার সূত্র জন্ম বিচার করা
তা আজও অজানা
সর্বত্র কানে কানে শুনতে পাওয়া যায়
লক্ষ লক্ষ সাধারণ মানুষের ভীড়ে কয়েকজন অসাধারণ মানুষ ছদ্মবেশে ভয়ংকর শাসানিতে ধ্বংস ডেকে আনে
সব পথ বন্ধ
শুধু দাঁড়িয়ে থাকা
নিরপেক্ষ হয়ে
আমরা নিরুপায়
আমাদের মাথার উপরে ছাদ নেই আর
অদ্ভুত দেশে
অদ্ভুত ভাবে আমাদের বেঁচে থাকা।
গ্রীষ্ম ঘাতক
বিমল মণ্ডল
নিষ্ঠুর সূর্যের তাপ
স্বার্থপর এই মেঘ
উদ্ভিদ আর প্রাণীদের হাহাকার
খরতাপে মেনে নিচ্ছে নিজের মতো
মানুষের জয়গান আর হয় না
কতটা তেষ্টার আয়োজন
এই গ্রীষ্ম তা জানে
মানুষের শরীরে অসংখ্য পোড়ার দাগ
নতুন চারাগাছ পুড়ে খাক
সমস্ত প্রাণীকূল
আকাশের দিকে তাকিয়ে
কেবল জলচায়
নিষ্ঠুর গ্রীষ্ম ঘাতক
শাস্তি দেয় চরম রৌদ্র তাপে।
মানুষ হওয়া
বিমল মণ্ডল
প্রতিদিন মানুষ
মানুষ হওয়ার স্বপ্ন দেখে
কিন্তু মানুষ হতে গেলে
নিজেকে মানুষ হয়ে উঠতে হবে
আসলে মানুষে মানুষে রেষারেষি করে
বড়োরা ছোটদের মানুষ হতে বলে
কিংবা একজন মানুষ আর একজন মানুষকে
এভাবে মানুষ মানুষকে ভয় করে
আবার উভয়ই সান্নিধ্যে আসে
মানুষ দেখলে হাত বাড়ায়
আবার মানুষ দেখলে ভয়ে লুকায়
তাহলে মানুষ বলে
হাত বাড়াবো কি করে?
প্রদীপ
বিমল মণ্ডল
অমাবস্যার মধ্যরাতে
ঘুটঘুটে অন্ধকারে
এবড়োখেবড়ো পথে হাঁটা
হোঁচট খাওয়া , নিশানা হারানো
সবই আমার দুর্বলতার কারণে
কতগুলো অমাবস্যা আমার জীবনে
তবে পূর্ণিমা আর আসেনি
হঠাৎ হাঁটতে হাঁটতে অন্ধকারের মধ্যে হাতদুটো চেপে ধরলো
আর ছোট্ট একটা প্রদীপ জ্বালিয়ে
আমার ভবিষ্যৎ হয়ে উঠলো
সারা গাঁ জুড়ে আনন্দধারায় ভেসে যায়
স্থির ধীর হয়ে দাঁড়িয়ে আমি
প্রদীপ ধরে পথের দিশা দেখি আজ
যা সারা বিশ্ব আজ
প্রদীপ জ্বালিয়ে
ধরে বিশ্বের কাছে।
ধারণা
বিমল মণ্ডল
মানুষের সম্পর্কে মানুষের ধারণা যদি একবার খারাপ হয়
তাহলে সেই ধারণা প্রতি মুহূর্তে মানুষকে চেপে ধরে
আসলে বিশ্বাস যদি না জন্মায় একজনের সাথে আর একজনের
তখন হৃদয় টুকরো টুকরো হয়
মানুষের ধারনার সাথে গভীরতার ধারণা বোধ থাকলে
তবেই মানুষ মানুষের সম্পর্ক হয়তো বা টিকে থাকে
সব মানুষের ভীড়ে মিলালে মিলে না তা
যে মানুষ ধারণা নিয়ে ভালোবাসে
সে মানুষের ধারণায় কি ভালোবাসা পালটায়?
আমার ধারণার সাথে তোমারও স্বপ্ন হবে
ঠিক আমার মতো।
মনঃকষ্ট
বিমল মণ্ডল
কতটা কাছে এলে
মন পাগল হয়
কতটা ভালোবাসলে
দুঃখ বাড়ে
কতটা আপন হলে
বুক পুড়ে
তাহলে কি বৃষ্টি না এলে
মেঘ কি মুখ ঘুরিয়ে নেবে অন্য পথে?
বাতাস না এলে
তবে কি ফুলের গন্ধ ছড়াবে না কোনোদিন?
আসলে এই সমাজ উত্তর জানে না বলে নিরুত্তর থাকে
সমাচ্ছন্ন অস্ফুট সুরে গান ধরি
আর মনঃকষ্ট গভীরতার দিকে হাঁটা দিতে দিতে একসময়
নিস্প্রভ ভালোবাসার জীবনযাপন।
মাটি আঁকড়ে পড়ে থাকা
বিমল মণ্ডল
আমি এখনোও মাটি আঁকড়ে
কবে এই মাটিতে চাষ করবো বলতে পারেন?
কতজন শক্ত -পোক্ত পায়ে এই মাটিকে মাড়িয়ে যায়
কেউ মাটির রঙ দেখে বিদ্রুপ করে।
কেউবা গন্ধ শোঁকে
আপনি কথা দিয়েছেন
আমার এই মাটিকে চাষের উপযোগী করে তুলবেন
আসলে আদৌ মাটিটা উপযোগী তো?
এ প্রশ্ন এলে
আপনি এড়িয়ে যান
আর বলেন "চাষ যোগ্য করবেন।"
আমি আনন্দিত ও আপ্লুত হই
তাই সেই মাটি আজও আমি আঁকড়ে
কবে আপনি চাষযোগ্য করবেন সেই আশায়
এজন্মেও বসে ।
সাহিত্য বাসরের ইতিকথা
বিমল মণ্ডল
প্রতিটি সাহিত্য বাসরে যে যাঁর চেনাজানা কবি থাকে
যাঁরা সময়ের পরে গেলেও আগে ডাক পায়
আগে গেলেও আগে ডাক পায় কবিতা পড়ার
তখন আমারও কিছুই বলতে পারিনা
যাঁরা নিজেদের শুধু বড়ো ভাবে
তাঁদের মন আর কয়েকজনের মতো সহজ সরল নয়
নিজেদের স্বার্থের জন্যে এভাবে আর কয়েকজন কে অপমান করে
আমরা সেখানে ঝগড়া করতে পারিনা
নিজেদের মধ্যে যখন ওরা কবিতার আলাপ চারিতা করে
তখন মনে ওরাই একমাত্র কবি
সেখানে আমরা অংশ গ্রহণ করতে পারিনা
আসলে শিক্ষিত কবি সমাজে
এমনও হয় এখনো কবি সভাতে।
নাম
বিমল মণ্ডল
নাম চেয়েছিলে
তাই আজ নাম পেলে
সেটা দুই রকম ভাবে
একঃপদাধিকার ব্যক্তির আড়ালে মুখোশ রেখে
দুইঃমুখটাকে বেঁকিয়ে কৃতিত্বের আশায়
আসলে এসব ক্ষনিকের সুখের আশা মাত্র
তোমার নিজের পরিচয় নিজেই না জেনে
দিনগুলো রাতের মতো অন্ধকার এনেছো
আর পালাবার উপায় নেই
তোমার কর্মজালে নিজেই ধরা পড়েছো
কথায় বলে" যেমন কর্ম তেমন ফল "
এটাই তোমার আসল নাম।
মহান নয় বেহাল নেতা
বিমল মণ্ডল
যারা সারাদিন ঘোরে
এ গলি ও গলি করে
তাদের আপাদমস্তক তাবিদারি করা
নিজেকে সাবাস! সাবাস! বাহবা জানায়
গতকাল যে মিত্র ছিলো তাদের
এসবে সে শত্রু হয়ে যায়
আসলে সে সোজা কথার ধার ধারে না যে
কয়েকজনের আলোচনায় বেপরোয়া হয় তারা
সাত-পাঁচ না ভেবে
পাড়ায় পাড়ায় ঘুরেবেড়ায়
আকাশ ছোঁয়া গল্প বলে বলে
বিপদসীমার নীচে নেমে ক্ষেপিয়ে তোলে সে
আসল নেতা দাঁড়িয়ে হাসে
কাঁধে বন্দুক রেখে
নেতা নয়, নেতার মতো বেহাল নেতা হয়ে
ভবিষ্যতে মৃত্যু তাদের বারবার ডাকে।
মনটা আজ আর ভালো নেই
বিমল মণ্ডল
সারাটি দিন ঝড়, জল,প্রমুখ বাতাসের ভেতর কেটে গেলো
রোদ, মেঘের খেলা সেরে
আকাশ প্রেমিক হয়ে উঠে
পাখিরা অবুঝ প্রেমে উড়ে উড়ে বেড়ায়
অযথা কাটাছেঁড়া কথা আমার মনে বাজে
আমার সরলতায় , আমার বিশ্বাসে সংশয় আসে
একটু একটু করে চারদিকে বেঠিক তত্ত্ব ছড়িয়ে পড়ে
মানুষের স্বতন্ত্র ধারাগুলো পচে পচে যায়
ধারালো অস্ত্রের মতো আমার শরীরে আঘাত লাগে
ক্লান্তিতে চোখে মিথ্যার জল
শুধু সারাটি দিন মন খুঁজে বেড়িয়েছে
আমার সততার প্রশ্ন
আর বোকামির কিছু বিশ্বাস
মনটা আজ আর ভালো নেই।
তুমি আছো মানসপটে
বিমল মণ্ডল
দূর আকাশে কাহার পানে
তাকিয়ে আছো কিসের টানে?
কাদি বসে হেথায় একা
তোমার জন্য অভিমানে।
জানি জানি তুমি আমার
আছো বসে মানসপটে
স্রোতের মতো সহজ পথে
এসো মোর আঙিনাতে।
আমার ভুল অনেক বেশি
সেটা তুমি ভালোই জানো
তবে কেন কিসের কারণ
অন্তরে তে বজ্র হানো?
পাল্টে দাও
বিমল মণ্ডল
আর কতদিন
এভাবে জীবন নিয়ে চলবে?
তোমার ধৈর্য
তোমার সরলতা
শেষ প্রান্তে ঠেকেছে
তুমি পাল্টে দাও
ছোট্ট একটা তুক করে
ভেতর আর বাইর পাল্টে দাও
নিয়মিত আর অনিয়মিত কঠিন মানুষ
কত রকম শিস দিয়ে চলে যায়
গ্রাম - শহর ঘিরে চাপা ছায়া
বাতাসে ঘুরে বেড়ায় উপহাস্য
তবু তুমি সরবে না
তোমার নিজের জায়গা ছেড়ে
তোমাকে পারতেই হবে
না হলে সামনে- পেছনে মৃত্যু হাতছানি দেবে
যেখানে সব টেনে নেবে
হারিয়ে যাবে তোমার বিবেক বোধ
তাই বলি তুমি পাল্টে দাও
নতুন আলোতে শুরু করো সবকিছু
তুমি হাতবাড়ও
তুমি সবার হাত পাবে
আসলে পাল্টে দিতে হবে সবার জীবন।
নামটা বাঁচিয়ে রাখা
বিমল মণ্ডল
সব মানুষই নাম চায়
তাই প্রতিটি সভার গুণগান
স্থান , কাল ভেদে মুখেমুখে রচিত হয়
আবার এক সভার বিপরীতে আর একসভার কুকথা আলোচনা
নিজেকে টিকিয়ে রাখতে
প্রতিটি মুখের আদল পরিবর্তন হয়
না-জানা প্রসংশা যেন তাড়িয়ে বেড়ায়
যাদের নিজের বোধগুলো হারিয়ে যায়
তারা সমাজে উঁচু মাথায় বসে
ভালো মন্দের বিচার আর হয় না
কতটা নাম বাঁচিয়ে চলা যায়
তার সংকেত প্রতিটি মানুষের মনে পরিচয় মেলে।
পিতৃসত্য
বিমল মণ্ডল
দীর্ঘ কথা
নিয়মিত সন্তান স্নেহ
অভাব বাজে নির্দিষ্ট শরীরে
বাবা ও মায়ের স্মৃতি অবিকল তোমার চোখেমুখে
আমার চেতনায় দুঃখ
তবুও তোমার আশ্রয়ে আমি
কতগুলো ঝড় আমায় পেরিয়ে চলেছে
সন্তর্পণে হেঁটে যাই
তোমার দু'চোখে ভালোবাসা ঝরে
আমার হৃদয়ে বাজে
রক্তের শরীর আমার তবুও তোমার রক্ত নেই
সব রক্ত তোমার আমার
পিতৃসত্যের আসল পরিচয়ে
তোমার আমৃত্যু অবধি
আমি তোমার পাশে
চিরকাল এমনই কথা যেন থাকে।
বাঁচার গান
বিমল মণ্ডল
কত ঝড়ে যায় সব উড়ে
শুকনো পাতার মতো মৃত্যু ঘুরে
দিকে দিকে মানুষ ধরেছে বাঁচার গান
স্বদেশের কাছে নেই তাদের টান।
এসো ঝড়,তুমি এসে নিয়ে যাও সব
আর দেখতে পারিনা মৃত্যুর শব
ভারতমাতার বুকের ভেতর জেগে ওঠে শোক
দিক দিগন্তে আজ এই আনন্দে নবজন্ম হোক
চারদিকে আজ অসহায়
নতুন করে ধরো
বাঁচার গান।
যদি শোনো আমার কথা
বিমল মণ্ডল
শোনো না দাদা।এসো না কাছে রেখো না তোমার ডালে
ভালোবাসা নেবে? আদর নেবে? শুনবে আমার কথা?
ভয় পেয়োনা পাবে সব আমায় কাছে রাখলে
কথা দেবে?ভাগ করে নেবে সুখ - দুঃখের ব্যাথা?
চেয়ে দেখো দূরে তোমার চেয়ে আছে ওরা অনেক কষ্টে
হঠাৎ ঝড়ে সব সৃষ্টি ওদের পড়েছে ভীষণ ফাঁদে
তোমারও সৃষ্টির ফল পাবে যা আছে অদৃষ্টে
মাটি, গাছ, আকাশ সব হারিয়ে একা একা কাঁদে
কথা দাও এদের মতো যেন থাকে তোমার মন
ফুল দেবে, ফল দেবে রাখবে ধরে শুধু বুকে
শুনবে কথা? বলো না আমায় তুমি না আমার প্রিয়জন?
কথা দিলাম থাকবো পাশে থাকবে তুমি সুখে।
অসহায় আজ আকাশ চেয়ে
বিমল মণ্ডল
অসহায় শিশু আকাশ দেখে
সারাদিন রোদে শুয়ে শুয়ে
খিদে সে রেখেছে পেটে মেখে
সূর্য শরীরে আঁকে কাছে গিয়ে
ফাঁকা বারান্দায় লেগেছে জোছনা
নিরব নিথর অসহায় শরীর ঘিরে
অভাবী মায়ের চোখে জল মানে না
চাঁদ কপালে চুমু খেয়ে জড়িয়ে ধরে।
ব্যস্ততা কি ভাবে থামে
বিমল মণ্ডল
মেঘলা আকাশ
তবুও অনেক ব্যস্ততা মেঘের
সূর্য ওঠার আগেই মাটিতে জল খেলা করে
ঘাস, গাছ আর মাঠের ব্যস্ততা
স্বপ্নের ভেতর হাঁটে
সূর্যের আস্ফালন সকালে সব ব্যস্ততা কমিয়ে দেয়
শুধু একটু ব্যস্ততার স্বপ্নে
অনেকগুলো জীবন হারয়ে যায়।
উপলব্ধি এমনও হয়
বিমল মণ্ডল
কতটা শ্রম দিলে একটা ভালো সৃষ্টি হয়
কত উপাদান দিলে তা মজবুত হয়
আমি এখন বুঝলাম
যেখানে ইট, বালি, সিমেন্ট ঘেঁটে একটা বাসস্থান তৈরি হয়
আমার টাকা, মন, পরিচিতি এসব আশার বাণীতে জাগে
দিন রাত খেঁটে
সখের বাড়ি হয়
নিরুৎসাহিত রাতে ভয়ংকর চেনা দস্যুরা
সমস্ত সৃষ্টি ভেঙে তছনছ হয়ে যায়
: অক্ষয় হোক
বিমল মণ্ডল
আমি যা
তাই সর্বদাই
আমার সামনে পেছনে
নিষ্ঠুর ভালোবাসা
শৈশব , কৈশোরে মায়ের উপচে পড়া ভালোবাসা
যা আমার শরীরে আজও ছড়িয়ে
যৌবনে মিশে যায় সমুদ্রের গভীরে
নিতান্ত অসহায় ভাবে পথিমধ্যে একা একা ঘুরি
প্রবল হাওয়ায় স্মৃতি গুলো এলোমেলো
সহসা বাতাস নিয়ে যায় টেনে
তোমার প্রেমের কোলে
ভয়াবহ ভয় সরিয়ে
হৃদয়ের এককোনায় বসালে
তোমারও মনে সংশয়
পিতৃত্বের দাবিদার ভেবে
অবশেষে সময় গোড়ায়
মন থেকে সংশয় সরায়
সম্পূর্ণ করলে বুকে টেনে
পুত্রের সম্মান দিলে
আমার হৃদয়ে বাবার সম্মান
এযেন জন্মান্তরবাদের সংকেত
কথা নয় শুধু
প্রতিটি কাজ
তোমার আমার প্রতি
অক্ষয় হোক।
রেখো হৃদয় মাঝে
বিমল মণ্ডল
পরিচয় শুরুতে কেউ কেউ আবেগ ঢালে
কথায় কথায় সংকল্প জাগায়
নিজের একান্তে রেখে
ভাবি সহজ সরল মানে
বুকের গভীরে নতুন প্রীতির সংকেত
আমিও শুদ্ধস্বরে চৈতন্যের কথা বলি
যা যা শ্রুত তার সবই স্মৃতিধার্য করি
এসো হে প্রণম্য
যেখানে বেঁধেছি ঘর তারই পাশে রাখি এ প্রণাম
এভাবে তোমারও বয়স বাড়ে
দিনে দিনে আমিও তোমার হৃদয়ে
গভীর শিকড় ছড়াই
তোমার দু'চোখে জল
কথা রাখার উজ্জীবিত আবেশে
আমাকে রাখো হৃদয়ের মাঝে।
সময় চিনিয়ে দেয় কে কি কতটা
বিমল মণ্ডল
সময়কে মানুষ ভয় পায়
জেনে কিংবা না জেনে
মানুষ মানুষের সাথে মিশতেও ভয় পায়
মানুষের সহজ ও কঠিন ব্যবহারে
চাওয়া পাওয়ার প্রতিশ্রুতি
সেকেন্ড, মিনিট, ঘন্টায়
মানুষের কথা বিষময়ও হয়
টগবগিয়ে কাছেরও হয়
সুযোগ পেলে ধারালো অস্ত্রে
ক্ষত করে দেয় মানুষই
আবার গভীর ভাবে হৃদয়ে ভালোবাসা জাগায়
পাহাড় - পর্বত ইমারত বানানোর গল্প মানুষ বলে বেড়ায়
আর একজন মানুষের কাছে
বিশ্বাস ও অবিশ্বাস সময় বলে দেয়
চিনিয়েদেয় পরিচিত ও অপরিচিত মানুষকে
সময় আর মানুষ সর্বদা ভয় নিয়ে আসে।
সাবধানের গল্প
বিমল মণ্ডল
আমরা সাবধান হই
কিন্তু অসাবধানে পথে চলি
শুধু বলি আমরা খুব সাবধানী
তাই হোঁচট খাই খানিকটা
আসলে সাবধান হওয়া আর অসাবধানে বোমারু হওয়া
নাকি সমাজের চিত্র
যদি সুন্দর সমাজ আসে পাশে
সাবধান থাকে না কেউ তাতে
চিৎকারে প্রসংশা ছড়ায়
সাবধানে সবাই
সাবধানী সত্যিই আমরা বলেই
পদে পদে এতো হোঁচট খাই।
পিতা
বিমল মণ্ডল
শরীরে রক্তের গন্ধ শোঁকে কি কেউ?
পূর্বজন্ম কি বলে?
এমন প্রশ্ন আমার ছোট্ট মাথায় বাসা বাঁধে
কেননা আমি তো একেই পথিক
মহাভারতে কর্ণ তাঁরও বাবা ছিলো
তাহলে তাঁর পরিচয় সূতপুত্র কেন?
শুধু জন্ম দিলেই বাবা হওয়া যায়?
এ উত্তর নেই তোমার কাছে?
শুধু নিজের কামনায় জন্ম বলে তা নিজেরই?
ভালোবাসার মূল্য নেই?
তাহলে কেন সমাজ?
কেন বা এতো পরিশ্রম?
কেন এতো লেখালেখি?
অপরাধী আমি যদি হই
তুমি কেন নই?
তোমার দেওয়া এই স্নেহ আমার শরীর ঘিরে
সত্যিই যদি স্বপ্নটুকু পূরণ করো তুমি
আজীবন পিতার আসন পাবে
আমায় তুমি ঘিরে।
অসীমতা
বিমল মণ্ডল
আকাশের সুবিস্তীর্ণ দৃশ্যপথে মেঘ
অনেক গভীর আশা নিয়ে হাঁটা
এলো এক জীবনে অজানা নিঃশব্দ আবেগ
বাতাসের সাথে বিস্তৃত অসীমতায়
রাতের অন্ধকারে অন্য ক্যানভাসে
সব প্রেমাবেগ আতঙ্কে বাতাসে ছিঁড়ে যায়
শুনতে ভালো মুখের অমৃতবাণী
বৃষ্টি হয়ে জানায় সে কথা
অভাবী স্নেহ চলে দূর অভিমানী।
শিশুবীজ
বিমল মণ্ডল
সারারাত জেগে বিছানায় শুয়ে
বুকের ভেতর কথা জমে
তীব্র বৃষ্টি আর অনন্ত চাঁদের আলোয়
ঝাঁঝরা হয়ে যাচ্ছে আমার মন
অতল জলে ভেসে যায় বেদনার শব্দ
কান পেতে শুনি ক্ষনিকের ভালোবাসার গান
তোমাকে স্পর্শ করার লোভে
জেগে থাকি সারারাত বিছানায়
আহ্বালাদে তুমি শিশুর বীজ বুনছো
ভাবাবেগে অন্ধ হয়ে
বিশুদ্ধ স্নেহের আশায় থাকি।
: আদর্শ বন্ধন
বিমল মণ্ডল
বয়সের সাথে সাথে
সংসারের থেকে প্রকৃতির টান বেশি
মায়ায় ঘেরা নিজের বাসনা ছেড়ে পিছুটান আসে
পরিবারের সাথে ঘটে কত ঘটনার সাক্ষী
দিনের আলো নেভার শেষে ফিরে আসার জাগতিক শক্তির টান
একটু শান্তির আশায় প্রকৃতির খোলা হাওয়ায় মন ভাসিয়ে দেই
আত্মভোলা বন্ধনের স্বপ্ন দেখি
সততা , নিষ্ঠাবান এ সবই আমার আদর্শ
পরিবার আর প্রকৃতিই শুধু মায়ার বন্ধন
এই পরিচয়েই হলে
তোমার আমার আদর্শ বন্ধন।
বেশ আছি
বিমল মণ্ডল
ছোটো গ্রাম
কয়েকটি মাটির দেওয়াল
ময়লা দুর্গন্ধ ধুলাবালি
কয়েকটি ফুল গাছ পুকুর পাড়ে
সুগন্ধি ফুল নয় তবে প্রজাপতি আর মৌমাছি উড়ে বেড়ায়
ওরা সময় ধরে আসে
ওদের বেশ সময় জ্ঞান
এ পাড়া ও পাড়ায় কয়েক বাউন্ডুলে ছেলেরা ঘুরে বেড়ায়
যাদের চাল চুলো কিছুই নেই
আমার ছিল
আশা ছিল
ভালোবাসা ছিলো
মা ছিলো
বাবাও ছিলো
আজ সারাটা ঘর জুড়ে
আমি একা
মা নেই
বাবা নেই
আশা নেই
ভালোবাসাও নেই
পুরো পৃথিবী আমার ঘরে আজ
আমি যাইনি পৃথিবীর কাছে
তাই আমি বেশ আছি
সত্যিই ! আমি বেশ আছি।
: আমি তোমায় পেয়ে
বিমল মণ্ডল
আমি ঈশ্বর দেখিনি
আমি দেখেছি আমার মা কে
আমি ঈশ্বরের ভালোবাসা পাইনি
শুধু পেয়েছি ঈশ্বরের দেওয়া মানসিক যন্ত্রণা
আমি দেখেছি আমার চারপাশে ছদ্মবেশী মানুষদের
দেখেছি তাদের চলা - কথাবলা
তাদের নানান ভাবভঙ্গি
দেখিনি ঈশ্বরের দেওয়া ভাত
যেখানে মা তার অভাবী থালায় একমুঠো ভাত সারা পৃথিবীতে ছড়ায়
যেখানে অর্ধেক পেট ভরে না
দেখেছি মায়ের ছেঁড়া লজ্জাবস্ত্রটুকু
যা দারিদ্র্য মানচিত্র আঁকে
আজ আমার মা নেই কাছে আমার
ঈশ্বরও আমার থেকে দূরে
সহসা বুকের মধ্যে নতুন আশ্রয় জাগে
খুঁজে পাই নতুন পরিচয়
শুধু তোমায় পেয়ে।
সবই মানা যায় না
বিমল মণ্ডল
অযথা মিথ্যার ভাইর্যাল ছড়িয়ে
বাকযুদ্ধের পরিবেশে
অসম্ভব ভাষার খেলা
সত্য সম্ভ্রম হারিয়ে বিকলাঙ্গ
শিক্ষারমান বোবা হয়
অসংখ্য শিক্ষানীতি নীতিকথায় হাঁটে
দশ জনের মাঝে একজনই
গর্জে উঠে
সবাই নাকি বুদ্ধিজীবি মাথা নিচু করে
প্রতিবাদ আর সম্ভ্রম নিয়ে একাই যুদ্ধ করে
কেউ বা ভয়ে, কেউ বা চামচে, দালালি হয়ে থাকে
একজনেরই কন্ঠ শুধু সারা সভায় ঘোরে
চিৎকারে বলে শুধু -
"সব মানা যায় না এমন করে"।
মূহুর্তে সবাই ঝাঁপিয়ে পড়ে প্রতিবাদের সুখে ।
: ঈশ্বর যা চায়
বিমল মণ্ডল
কত সময় কেটে যায়
তবুও অপেক্ষায় হায়
কি করে বলি আমি
আমার কাছে তুমি দামি
বৃথা চিন্তা শুধু মনে
ঈশ্বর তা সব জানে
ইচ্ছে করে তোমার ঘরে
চিরকাল আমায় রাখবে ধরে
আমি তোমার নই প্রিয়জন
তবুও তোমার জন্য আছে মন
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন