বন্ধন
বিমল মণ্ডল
আমরা সবাই কত বন্ধনে যুক্ত হই
যা জন্মাবার সাথেসাথে শরীরে মিশে যায়
কি সম্বোধনে কতটা পুরুষ , লিঙ্গের প্রয়োগ
কতটা পর- আপন বিশেষণ
এসব বয়সের সঙ্গে আসে
একটা গাছের সাথে যদি চিরকালীন বন্ধন তৈরি হয়
তাহলে মানুষের সাথে নয় কেন?
এই পৃথিবীতে ভালোবাসার কথা বলি
সত্যি কি তা করি?
আমরা আপন রক্তের কথা ভাবি
তা কি রক্তের দাম পাই?
কত প্রশ্ন বন্ধন কে ঘিরে
এসব প্রশ্নের উত্তর দাতা আমরা নিজেরাই
আসুন আমার আপনার সম্পর্ক হোক নিবিড় বন্ধন
যে বন্ধনে চাওয়া নেই
শুধুই এক হৃদয় ভালোবাসা।
কথারাখা
বিমল মণ্ডল
প্রথম অনুভূতি মোচড় দেয়
শব্দ জোটের মুখপত্রে
অনবরত ঢেউ ছলাৎ ছলাৎ করে হৃদয়ে অনুরনন হয়
শব্দগুচ্ছের জটিল ক্যানভাসে
পদের নিগুঢ় সমারোহে আন্তরিকতার প্রেমজ রস
তোমার আমার হৃদয় যাপন শুরু
শব্দ -বাক্য ধারায়
ভালোবাসাহীন চাঙড় সরিয়ে
পুরনো স্মৃতির তেষ্টা মেটালে
রাত -দিনের ব্যবধান ঘুচিয়ে
নতুন আলোর দিশা দিলে
বাঁচার উচ্ছ্বাসে শব্দ তরঙ্গের বিপুল ধারায়
আনন্দের শাঁখ বাজাই।
নীরবতার কাব্য
বিমল মণ্ডল
কোলাহল হীন নীরব সময়
সারি সারি কবরগৃহ জোছনা মাখানো শরীর
বাড়ির উত্তরে খিরিশ গাছটায় কয়েকটা পাখি আর আকাশের চাঁদ
নিজ মহিমায় দেখছে মানুষের হিংসা - লোভকে
যা মিশে যায় সরাসরি মাটিতে
আর মাটি তাকে নিয়ে যায় অন্য এক জগতে
তা হলো এক নিরন্তর সাধনার কবিতা
যেখানে লেখা হয় নীরবে
এখানে নেই কোনো বিবাদ
নেই কোনো আচার আচরণ
সেখানে নীরবতা হাল্কা বাতাসে শরীর ঘুমায়
আর চাঁদের আলোয় লেখা হয় কাব্য,
আর থাকেনা সেখানে প্রিয়ার প্রেমের স্তব- স্তুতি ভোগের কাহিনী
কেবলমাত্র কবিতা লিখে যাই শুধু জোছনার কালিতে
তারাদের হাসি খুশি আকাশ নীলের মহিমায়
ঘোষনা হয় সত্য তা যেন অস্তিত্বের শেষ দৃশ্যাবলী
যদি তুমি সত্যকে বুঝতে চাও, আর চিনতে চাও তাহলে কাব্যগুলো নিবিড় পাঠ করো
কবিতা সত্য, স্বাধীন , স্তুতিহীন
শুধুই সত্য সুন্দরের পাতা ঝরায়
কবিতা জীবন - আমার সত্যের নিরবচ্ছিন্ন হৃদয় গাঁথা
কেবলমাত্র কবরগুলো অন্ধকারে হারাচ্ছে
সেখানে পাখি আর চাঁদ দেখিনি
তবুও তুমি আমি হাঁটছি
হাজার হাজার সুনসান নীরবতা কবিতায়।
কবরগুলো মিশে যায় জমিনে সমান
মৌমাছি আসে ফিরে গভীর অন্ধকারে
ঠিক কবিতায় ছন্দ,তাল,লয়ে
খুলে যাক সকল কপাট
যা মৃতদের আড়ালে নীরবতার কাব্য শেষ অস্তিত্বে আজও বেঁচে ।
ঘুরে দাঁড়ানো
বিমল মণ্ডল
সমস্ত বিশ্বাস তোমাকে ঘিরে
কিছুটা স্মৃতির ছায়া ফেলে
হাঁটতে হাঁটতে তোমার শরীরে মিশে গেলাম
কতটা ঘুরে দাঁড়াতে হবে
তুমি নিজের করে শেখাবে
যে স্রোতে নদী সমুদ্রে মেশে
সে স্রোতে আমি তোমার হৃদয়ে
তোমার মনের সাথে মিলন সাগরে ভেসে যাই
একটু একটু করে ভালোবাসার মন্ত্রে জড়ালে
সেই হৃদয়ে টেনে নিলে
তোমার মতো করে
আমাকে দিলে সন্তানসম অধিকার।
আদেশ
বিমল মণ্ডল
পূর্নিমার আলো ছিঁড়ে ছিঁড়ে পড়ে,
না জানি কেমন করে!
প্রতিবাদের তীক্ষ্ণ বোধ জলাশয়ে।
অমাবস্যার তপবনে নিরবধি
অসহায় ভাবে কাঁদি,
সংকল্প হীনতায় বিকিয়েছি জীবন।
কল্পনাহীন জীবনে,
ছেঁড়া এক নক্সিকাঁথায় শুয়ে,
নতুন করে অনুভব করি-
শূন্যতাময় জীবনে ,
আদরমাখা এক আদেশের আহ্বান।
নতুন করে পূর্ণিমার আবেশে,
আমি তোমার আদেশে পেয়েছি ,
জীবনভোর ভালোবাসার -
এও এক কাহিনি কথাই...
নিমন্ত্রণ
বিমল মণ্ডল
উঠানের উপান্তে বসে
মানুষ নামের রঙ তুলিতে
সীমাহীন কয়েকটি গানের কলি
বাস্তবের সহানুভূতি পায়
কিছু স্মৃতিকথা ক্ষয়িষ্ণু বাতাসে
আমার মনের খোলা দুপুরে
তোমাকে চিনতে চেয়েছি
মনের তুলিতে চিরন্তন কঠিন অতুল গৌরব
তোমার মনের পবিত্র হৃদয়ে
অন্তহীন ভালোবাসার পাই অন্যন্য নিমন্ত্রণ ।
চুপকথা গ্রাম
বিমল মণ্ডল
দূর আকাশের নীচে খোলা রাস্তায়
সম্ভ্রমহীন হয়ে চাঁদ শুয়ে
কতগুলো নামহীন পাখি
আনন্দে আরাম করে
পাড়ার ছেলেরা অর্থহীন ভাবে কথা বলে
রাগে, অভিমানে চাঁদ আপন সুরে
নিরুদ্দেশ হয়
কয়েকটি তারা চাঁদ সেজে
চুপকথা গ্রামে ঘুমের মধ্যে রাখে।
ছায়া শরীর
বিমল মণ্ডল
ক্রমাগত হাঁটছে এক সৌখিনগোছের লোক
আকাশে জানালা - কপাট
আনন্দে গান ধরে
কয়েকটি নিঃসঙ্গ চিল বুড়োবটতলায় এসে বসে
লোকটা মাঝেমধ্যে আড়চোখে কি সব দেখে
পায়ে পায়ে হাঁটে
আরো কত লোক পেছনে আছে
মাঝে- মাঝে কথায় সুগন্ধি ছড়ায়,
মাঝে- মাঝে আগুনের গোলার মতো রুদ্ধশ্বাস ফেলে
স্নেহ নেই,মমতা নেই
মুখে নেই হাঁসি
তবুও সারা রাস্তা জুড়ে
ব্যস্ততা আর কোলহলে
সৌখিনগোছের লোকটির
ছায়া সারা শরীরে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন