প্রতিদিন বিভাগে
অণুগল্প—১২
উৎসর্গ
রঞ্জন ভট্টাচার্য
অকালে মা মারা যাওয়ায় বাবা পরিতোষ বাবু ছেলেকে কলকাতার বাইরে একটি বোর্ডিং এ রেখে মানুষ করার জন্য সেখানে ভর্তি করাল। তা সত্ত্বেও রুটিন মাফিক বাবা ছেলে রঞ্জুকে ফোন করে তার ভালো মন্দ খোঁজ নিতেন ।সেইসাথে পড়া শুনার ও দিকে বিশেষভাবে নজর দিতে বলতেন ।
কিন্তু মাঝেমধ্যে নিজের বন্ধুদের সাথে গল্প গুজবে এমনভাবে লিপ্ত হয়ে পড়তেন যে নিজের ছেলে কি করছে তা বেমালুম ভুলে যেতেন।
ওদিকে বাবার ফোন না পেয়ে রঞ্জুর খুব মন খারাপ করত। অকালে মা হারানোর যে ব্যথা বেদনা ও সহ্য করতে পারত না তাই বিমর্ষ হয়ে ঘরের এক কোণে ডুকরে ডুকরে কেঁদে উঠতো আর ভাবতো "যার মা নেই তার পৃথিবীতে কেউ নেই, সে যেন নিঃসঙ্গ একজন যা কোন এক অজানা অপরাধের ভাগ তাকে চিরদিন বয়ে নিয়ে যেতে হবে ।"
এমনি করেই ভাবতে ভাবতে কখনো সারাদিন চলে যেতো ওর অজান্তে । খাওয়া দাওয়া কখন যে ভুলে যেত, পড়াশোনা ও তথৈবচ কিন্তু বাবার ফোন পেলেই তার মনটা আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে যেত যেন পৃথিবীতে হারাবার কিছু নেই মা হারালেও তার তো বাবা আছে।
সে ভাবতো অনেকেই তো অনাথ হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে নিঃসঙ্গ এক পথিকের মত কিন্তু তার বাবা আছে তাই জীবনে ভেঙে পড়লে চলবে না তাকে পড়াশোনা শেষ করে বাবার পাশেই দাঁড়াতে হবে আর সেই ভাবনা বশত কিছুদিনের মধ্যেই সে যেন এক নিঃসঙ্গ মানসিকতার কঠোর বাস্তব থেকে বেরিয়ে এসে সমাজ জীবনে সচেতন যুবক হয়ে ঘুরে দাঁড়ালো এবং নিজের জীবনকে এক উন্নত থেকে উন্নততর পর্যায়ে নিয়ে এসে বাবার সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে মা বাপ হারা অনাথ শিশুদের পাশে দাঁড়িয়ে নিজের জীবনকে উৎসর্গ করতেও পিছপা হলো না ।
ছেলের এহেন আচরণ দেখে বাবা নিজেকে গর্বিত মনে করল সেই সঙ্গে ছেলেকে আশীর্বাদ করলো যেন এভাবেই সে সমাজের বুকে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।

কিছু বলার নেই
উত্তরমুছুন