কবিতায় বর্তমান সময় —১২
ফ্যাসাদ
দুরন্ত বিজলী
আমি ভীষণ ফ্যাসাদে পড়ে গেছি।
রবিঠাকুরের মাস থেকে এত দহন শুরু হয়েছে যে আমাদের সবজি বাগান পুড়িয়ে দিচ্ছে।
তার উপর ইঁদুরের উপদ্রবে আখগাছগুলি নিহত মানুষের মতো শুয়ে আছে। বাঁচার জন্য ছুটে গেলাম কৃষি গবেষকদের কাছে। তাঁদের পরামর্শ মতো চেষ্টা করতে লাগলাম। কিন্তু দহনজ্বালায় পুড়ে যায় কীটনাশকের গুণাগুণ। তাই ইঁদুর কেটেই চলে আর বেগুন গাছে পোকা একেবারে মরে না, ঘুণধরা সমাজের মতো বিব্রত করে। এত অত্যাচারেও মুষড়ে পড়িনা। প্রতিদিন সকালে জলসেচ করি। বরষার কোমল আবির্ভাবের আশায় রবিঠাকুরের গান গাই। দুঃখ বেশি উথলে উঠলে কাজী নজরুলের বিরহবেদনাগীতির গমক হৃদয় উদ্বেলিত করে। তখন বৃষ্টি নয়, চোখের জলে নদী হয়।
বর্ষা, এভাবে কষ্ট দিতে নেই গো!
তুমি এলে প্রেমের প্রদীপ জ্বলে,
তুমি এলে পৃথিবী মা হতে পারে।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন