রবি স্মরণে শ্রদ্ধাঞ্জলি - ১৩
তপনজ্যোতি মাজি
হৃদয়ে রাখি
[ এক ]
কখনও আগুন কখনও সীমাহীন নীলে সমর্পন
অনিবার্য হয়ে ওঠে।
তোমার সান্নিধ্য খুঁজি অক্ষর , সুর , উচ্চারণে।
পতাকা , ফেস্টুন , স্লোগান , সমাবেশ ছাড়া
নীরব বিপ্লব ঘটে যায় অন্তর্লোকে।
মানবিক হতে হয়।
সংবেদী হতে হয়।
হতে হয় বিশ্ব নাগরিক।
[ দুই ]
নিজেকে দেখার জন্যে দর্পন।
নিজেকে জানার জন্যে মন।
ভ্রমণের জন্যে অপার বিস্ময়।
নীরবতা কি আত্মোপলব্ধির প্রথম সোপান?
নক্ষত্রের কাছে এই সব জানতে ।
পাহাড়ের পদতলে দাঁড়িয়ে রেখেছি জিজ্ঞাসা।
সমুদ্রের নীলে খুঁজেছি উত্তর।
গীতবিতানের অক্ষরে অক্ষরে সব প্রশ্ন কি ভাবে যে
সংগীত হয়ে গেছে!
[ তিন ]
ভালবাসা তিলোত্তমা।
প্রেমের চূড়ান্ত মুহূর্ত নীরবতা।
নগ্ন নির্জনে ঘুরে বেড়ান ঈশ্বর ঈশ্বরী।
দেশপ্রেম সংকীর্ণতা নয়।
মাটি, জল , হওয়া ও আকাশ কি
চতুর্বেদ ?
বিভাজন নয় , সম্মিলন।
এই সব সত্যে সৌরদ্যুতি হীরক
খণ্ডের মতো নিষ্পলক জ্বলে।
শুধু মাথা নত হয় মানবতার কাছে।
দারিদ্র কি মানুষের নির্মম উদাসীনতা?
মনে হয় তোমার দীর্ঘ সাক্ষাৎকার প্রয়োজন ছিল।
মুখোমুখি তুমি ও মানুষ।
[ চার ]
স্বপ্নে অহর্নিশ তোমার মুখ।
প্রত্যয়ে তোমার কবিতা।
সংশয়ে তোমার প্রবন্ধ।
সংকটে তোমার সংলাপ।
নীরবতায় তোমার গান।
মনের মুক্তিতে দু -একবার শান্তিনিকেতন।
মংপু'র একতলা বাড়ি।
বৌদ্ধিক উৎকর্ষতার খোঁজে বার বার
'শেষের কবিতা'।
তোমার ছায়ার নিচে নির্জন আমিকে
রেখে আমাদের ছেঁড়াখোঁড়া জীবন।
[ পাঁচ ]
বহুদিন আগে এরকম নিদাঘ প্রহরে কার কণ্ঠে
শুনেছি ' বাঁশিওয়ালা ' ?
চোখ বন্ধ করে প্রার্থনার মতো কার উচ্চারণ
শুনি, ' অন্তর মম বিকশিত করে... '।
পশ্চিমের ঘরে কে গায় ' তোমার অসীমে প্রাণ মন লয়ে
যত দূরে আমি ধাই …'!
বিস্ময় ও মুগ্ধতা ঘিরে জীবনের নিত্য আবর্তন।
তুমি আছো বলে সমস্ত রুক্ষতায়
অনুভবে স্নান করে এ আমির অন্তর জন।
আরও পড়ুন 👇👇👇
https://wwwankurisha.blogspot.com/2021/05/ankurisha-emagazine-bengali-poem-in_2.html

🙏সকাল সকাল ভরিয়ে দিলেন প্রাণ...
উত্তরমুছুন