আজকের কবিতা
সেন্টু রঞ্জন চক্রবর্তী
১.
শান্তির ললিতবানী
শান্তির ললিতবানী
আজ আমাদের শোনাবার নাই কেউ,
অক্ষমতা বেড়েছে সবার
তারি স্পষ্ট আভাস পাই বারবার
পৃথিবীতে ডেকেছে জোয়ার প্রলয়ঙ্করী ঢেউ।
মৃত্যুর ছাড়পত্র হাতে
মারণব্যাধি দাঁড়িয়ে আছে আঙিনায়,
শেষ যাত্রার রথ
চোখের পলকে
হুইসেল দিয়ে কারে যেন
দ্রুত নিয়ে যায়।
বেলা শেষ হবার আগে
পশ্চিমে দেখা যায় অস্তরাগ,
ঘরে ও বাইরে সর্বত্র
শোকের স্তোক শুধু শুনি
নির্মম আতঙ্কে সবাই ঘুমহীন সজাগ।
এখন কঠিন সময়
পৃথিবীতে এসেছে নেমে,
কান্ডারী বলে কিছু নাই
যারে তুমি বানিয়েছো দেবতা
সেও অক্ষম সবটাই
সর্বত্র প্রাণের উচ্ছাস গেছে থেমে।
সকল মেরুতে আজ শুধু
হাহাকার ক্রন্দন আহা! জারি,
সব কিছুই এতক্ষন ছিলো যার
সেও এখন সব হারার দলে
সকল রেখা গেছে বিন্দুতে মিশে
চোখের নিমিশে দেখি অবক্ষয় তাহারই।
তোমাদের ভগবান আজ কই
যারে পেতে ভেঙ্গেছ সবকিছু ?
লাশের পাহাড় ডিঙ্গিয়ে লাগিয়েছিলে
স্বর্গের মই,
মূর্খের মতো
পুতুল ও পাথরে মাথা করেছিলে নিচু।
কি পেলে ?
সব কি গেছে জলে?
মানুষেরে পিছু ফেলে শূন্য হয় ফল,
অতৃপ্ত বাসনা যত
চোখে মনে অবিরত
কারে যেন খুঁজে ফিরে ক্লান্ত বিহব্বল।
২.
মানুষের বিরুদ্ধে মানুষ
মানুষের বিরুদ্ধে মানুষের
এমন নির্মমতা ভাবতেও অবাক লাগে,
মাঝে মাঝে মনে হয়
কালের স্রোতে আমরা হয়তো
হিংস্র প্রাণীতে রূপান্তরিত হয়ে গেছি।
নিরপরাধ শিশুরা যখন
মাতাপিতার লাশের পাশে বসে কাঁদে,
তখনও কি
আমাদের বিবেক তাড়িত হয় না ?
অসহায় এ অবুঝদের কি দিয়ে সান্ত্বনা দেবে?
কারো কাছে কি আছে কোনো ভাষা?
ক্ষুধার্ত এ শিশুর মুখে
এক টুকরো রুটি
কে দেবে বলো ?
কে নেবে তাদের আগামীর দায়ভার ?
এ মাটির বুকে
আর কত মাটি চাপা দেবে লাশ ?
মাটির পরতে পরতে শোকের কাঁদন
একবার কান পেতে শুনে নাও
স্বজন হারানোর এই কষ্ট
কি করে মাটি ধারণ করে চলেছে।
এতো মৃত্যু!
এতো ক্ষয়!
এতো বিপর্যয়!
ঘড়ির কাটার মতো ঘুরে
তোমার দিকেও তাকাবে সহসাই,
তোমার পালা যখন আসবে
সেক্ষণে আমাদের খুশি হবার কিছু নেই,
কিন্তু
এ অপমৃত্যু দিয়ে তোমাদের কাজ কি?
তোমরা যারা যুদ্ধবাজ
তোমাদের এমন নিষ্ঠুরতাকে আমি
অন্তর থেকে ঘৃণা করি,
অপেক্ষায় দিন গুনি
তোমাদেরও অভিশপ্ত দিন আসন্ন
এবং
তোমাদের পতন ও দরজায় কড়া নাড়ছে।


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন