এই সময়ের গল্প
অনিকেত দত্ত
বীর ক্ষুদিরাম
"ক্ষুদিরাম" তোমার সেই রক্ত মাখানো দেহ আজও থরথর করে কাঁপে, একটি সুতোর উপরে। এবং সেই সুতো দিয়ে আবার তৈরি হয় ভারত মাতার পরনের শাড়ি। এবং সেই সুতো দিয়ে তৈরি হয় সম্মান আড়াল করা নারী। তুমি কি ভেবেছিলে কোনদিনও সেই সুতো তোমাকে রক্ত মাখা হিমাঙ্কদেহে পরিণত করবে? এবং তুমি কি ভেবেছিলে যে নাড়ি থেকে উৎপত্তি, সেই নাড়ি ও একদিন ছিড়বে? ক্ষুদিরাম তুমিও কি ভেবেছিলে কোনদিন মাতৃ স্নেহের কোল ছিন্ন করে, একদিন ভারত মাতার কোলে সজ্জা নিবে? তুমি কি ভেবেছিলে একদিন যে সুতো জড়ানো বস্ত্র জন্মের পর জড়িয়ে ধরবে এবং সেই সুতো নাকি তোমায় হিমাঙ্ক দেহে পরিণত করবে? তুমি তো সবার থেকে অন্যরকম, এবং অন্যতম আর সেই হল তুমি, যে নিজের সংসার ও পরিবারকে রক্ষা করার জন্য দেহে রক্তবস্ত্র পড়োনি। তুমি রক্তবস্ত্র পড়েছ তথা মাতৃগর্ভ দেশের পরিবারদের রক্ষা করতে। আজ তো তোমার চোখের আগুন মোমবাতির আগুনে পরিণত হয়েছে। এবং সেই আগুন, আগুন নয়! সেটা হলো ইংরেজদের অত্যাচারের হাত থেকে রক্ষা করার আগুন। এবং তুমি তো মানুষ নও, তুমি হলে মাতৃগর্ভ দেশের রক্ষা দেবতা। কিন্তু- শুধু তুমি বিপ্লবী নও, "সেও বিপ্লবী যে তোমায় জন্ম দিয়েছে" এই দেশে। এবং সেও একদিন তোমার মত নাড়ির বাঁধন ত্যাগ করে, তোমায় ভারতমাতার কোলে তুলে দিয়েছে। তুমি যে স্বাধীন ভারতবর্ষের স্বপ্নের আকাশ বাস্তবে দেখতে চেয়েছিলে, এবং সেই বাস্তবের আকাশ আজ স্বাধীন তো ঠিকই। কিন্তু সেই ভারতবর্ষ, আজ সবথেকে বড়ো পরাধীন। এবং সেই ভারতবর্ষ, "আজ বিশাল ক্লান্ত, সে যে নিজের মধ্যে অত্যাচারে অত্যাচারিত হয়ে যাচ্ছে প্রতি নিহত। তুমি কি জানো? "সেই ভারতবর্ষ আজ শিকল বন্দি অবস্থাতে জর্জরিত।"
আজ তো আমার দেশ, এক বিষাক্ত রাজনৈতিক গ্যাসে দমবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে, এবং তার চোখ দিয়ে অজস্র গঙ্গা স্রোতের মতো অশ্রু নির্গত হচ্ছে। এই বিষাক্ত গ্যাসে দমবদ্ধ ভাবে বিসর্জন হচ্ছে বহু মানুষের।
তোমরাতো ক্ষুদিরাম সেই দেশ দেখতে চাওনি। হিংসার আগুন জ্বলছে দাও দাও করে । আর এই আগুনে একটু একটু করে পুড়ছে আমার ভারতবর্ষ। জানোতো ক্ষুদিরাম ইংরেজ অত্যাচারী শাসক, দেশ ত্যাগ করেছে তো ঠিকই। কিন্তু তারা খুব চতুর, তারা হিংসার বীজ ভরে দিয়েছে প্রত্যেক ভারতবাসীর শরীরে। তুমিতো ক্ষুদিরাম যুবসমাজের শিরায় শিরায় জাগিয়ে তোল বিপ্লবীর আগুন। কিন্তু "সেই আগুন আজ ভীত, আজ স্বার্থপরতা, আজ নিজের রক্ষায় মগ্ন রয়েছে। তোমরা তো বলেছিলে বিপ্লবী হয়ে জন্ম নেয় না। আর দেশরক্ষার জন্য বিপ্লবী হয়ে উঠতে হয়। এবং আরো বলেছিলে ঘরে ঘরে আছে বিপ্লবী। এবং সেই বিপ্লবীরা আমার থেকেও শক্তিশালী। কিন্তু আজ তো সবাই নিজ-নিজের মধ্যে অত্যাচারী হয়ে উঠছে কেন? আর "এটাও জানি একদিন হিংসার আগুন নিভে যাবে, এক সত্য সাগরের সুনামিতে"। আবার যদি কোনদিন জন্ম নিলে তোমরা, জন্মনিও এই দেশের মাতৃগর্ভেতে। তোমাদের যে খুব দরকার, হিংসা অত্যাচারীর বীজ থেকে দেশ পরিবারকে মুক্ত করতে। "তুমি অমর বীর রহ", এবং "তুমি অমর বীর রবে", "এই আগুন জ্বলা নবীন যুব সমাজের বক্ষতে"।
"একবার বিদায় দে মা ঘুরে আসি,
হাসি হাসি পড়বো ফাঁসি,
দেখবে জগৎবাসী"।
আরও পড়ুন 👇👇
https://wwwankurisha.blogspot.com/2021/03/ankurisha-emagazine-bengali-poem-in_86.html

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন