ধারাবাহিক নাট্যকাব্য (শেষ পর্ব)
সুখ শিকার
নির্ঝর মুখোপাধ্যায়
পুরুষ--
তার আগে ,
কথা দিতে হবে
পেয়ে গেলে সুখ
তুমি চলে যাবে
কত কাজ বাকি
থাকবো একাকি
মহা সুখে আমি
কাটাবো বাকি জীবন
আমি আর আমার এ বন
নারী—
যদি আমি ওকে পাই একবার
চলে যাব আমি ফিরবো না আর
পুরুষ—
নিয়ে যাও একে
থাকো বেঁচে সুখে
আমি থাকি বনে একা
একা একা একা
সুখে বেঁচে থাকা
আমার স্বপ্ন দেখা
সুখ—
(পুরুষের হাত ছাড়িয়ে নেবার চেষ্টা করে )
না না না
তোমরা বুঝছো না
যা চাইছো তা
তোমাদের দেওয়া
আমার কর্ম না
(সুখ হাত ছাড়িয়ে পালাবার প্রাণপণ চেষ্টা করে। পুরুষ নারী দুজনেই তাকে আটকাবার চেষ্টা করে। শুরু হয় ধ্বস্তা ধ্বস্তি।)
ছেড়ে দাও কিছু পাবে না আমাতে
নারী—
কোনোমতে আর দেব না পালাতে
( ধ্বস্তা ধ্বস্তি করতে করতে অসাবধানে সুখের বুকে ছুরি ঢুকে যায়। নারী পুরুষ দুজনেই হাহকার করে ওঠে। সুখ বুকে গিঁথে থাকা ছুরিটা ধরে কাতরাতে কাতারাতে বসে পড়ে)
সুখ—
একটা প্রশ্ন, শুধু একটা প্রশ্ন
তোমায় করতে পারি ?
শুধু একটা প্রশ্ন---
(কথা শেষ না করতে পেরে সুখ মাটিতে লুটিয়ে পড়ে মারা যায় )
পুরুষ—
হায় ভগবান কি করলে তুমি এটা ?
নারী—
আমি তো মারিনি আমি তো চাইনি
হাতে ছিল ছুরি বুঝতে পারিনি
বেহুঁশ ছিলাম একটি পলক
বুকে গিঁথে গেল ছুরির ফলক ।
যার পিছু ছুটি সারাটা জীবন
তাকে কাছে পেয়ে কি হল এমন
অন্বেষণের এই সমাপন
নিশ্চিত করে অধঃপতন
পুরুষ—
সুখ তো এখন নিহত তোমার হাতে
নারী—
এটা তো একটা দুর্ঘটনা
যেন মনে হয় আগে থেকে জানা
মহাকালের এক আদিম রচনা
চরিত্রগুলো চেনা
পুরুষ—
সুখ তো এখন মৃত
মাটি খুঁড়ে তাকে কবরে শোয়াবে
তবে হবে শেষকৃত্য
নারী—
সুখকে কবরে দেবে ?
সেটা কি সঠিক হবে ?
ভালো করে দেখ ভেবে
পুরুষ—
তবে কি করতে চাও ?
নারী—
সুখের শরীর ছাই দিয়ে ঢেকে দাও
এরপর কোনো অজানা পথিক
এই পথ দিয়ে গেলে
ছাই চাপা সুখ পড়ে আছে
যেই দেখবে চক্ষু মেলে
হয়তো কিছু শিখলে শিখতে পারে।
সুখের সমাধি হলে
তার সাথে এই গোটা অধ্যায়
তারও ঠাঁই হবে কবরে
পুরুষ—
এমনটা করো তবে
নারী—
তোমার কি হবে ?
এ বনেই তুমি থাকবে চিরোটা কাল ?
পুরুষ—
জানিনা তাহলে আমার কি হবে হাল
চোখের সামনে যা কিছু ঘটলো
অন্ধকারের পরদা উঠলো
এর পর আর এখানে থাকার
ইচ্ছেটা গেছে মরে
কিন্তু এ বন ছেড়ে
জানিনা এখনো, বাঁচবো কেমন করে
তুমি কি আমায় ছেড়ে যাবে চিরতরে ?
নারী—
সারাটা জীবন ছুটেই চলেছি শুধু
এখন তো সুখ মরে গেছে তাই
জীবনটা মরু ধু ধু ।
ছোটা ছাড়া কিছু আর তো পারি না করতে
সুখ না থাকুক চাই তবু শুধু ছুটতে
জানি না এখনো বাকি আছে কি কি জানতে
যদি তুমি চাও
আসলেও পারো আসতে
( দীর্ঘ নীরবতা। পুরুষটি ভীষণ ইতস্তত করে। নারীটি মাটি থেকে একমুঠো ছাই তুলে পুরুষটির দিকে এগোয় )
পুরুষ—
কি করছো তুমি, নিয়ে এক মুঠো ছাই ?
নারী—
এ ছাই তোমার বুকেতে মাখাতে চাই
( পুরুষ পেছিয়ে যায় )
ভয় পেয়োনাকো দেখো এ ছাইএর জাদু
( পুরুষের বুকে ছাই মাখিয়ে দেয়। মুহূর্তে পুরুষের মুখ খুশিতে ভরে ওঠে। দু হাত বুকের মধ্যে চেপে ধরে যেন কাঙ্ক্ষিত কাউকে বুকে জড়িয়ে আছে। আবেশে পুরুষের চোখ বুজে আসে। নারীর মুখে হাসি ফুটে ওঠে। )
বুকের মধ্যে পেয়েছো কাকে ?
পুরুষ—
চির কামানার মেঘ কন্যাকে
নারী—
আমার সঙ্গে হাঁটবে কিছুটা নাকি ?
একলা হাঁটতে ভালো লাগছে না
কত পথ আছে বাকি
পুরুষ—
তোমার সঙ্গে ছুটে পারবো না
যদি ধীরে হাঁটো
‘না’ করব না
( নারীর হাত ধরে পুরুষ ধীরে ধীরে বেরিয়ে যায়। কিছুক্ষণ নীরবতা। সুখ মাটি থেকে উঠে দাঁড়ায়। হাসে। )
সুখ—
মরিনি আমি
মৃত্যু আমার নেই
আজকের রাতে
আমার ভূমিকা
শেষ হলো এভাবেই
সবাই আমাকে যেভাবেই চায়
আমি নামি এই এক ভুমিকায়
মানুষের মন এ চক্রিকায়
চিরকাল ঘুরে যায়
আগামী কালও এই সন্ধ্যায়
দেখবেন এই একই অধ্যায়
নারী ও পুরুষ দুই ভূমিকায়
পালটাবে শুধু নট
আবার মরবো আবার বাঁচবো
একই সংলাপ সকলে বলবো
বদল হবে না পট।
--------------------------------------------------------------------------------
এই 'সুখ শিকার' সম্পূর্ণ নাট্যকাব্যটি পড়ার জন্য অঙ্কুরীশা-র পাতা ক্লিক করুন। পড়ুন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে।
আরও পড়ুন👇👇👇
https://wwwankurisha.blogspot.com/2021/01/blog-post_5.html
https://wwwankurisha.blogspot.com/2021/01/blog-post_54.html
https://wwwankurisha.blogspot.com/2021/01/blog-post_20.html
https://wwwankurisha.blogspot.com/2021/01/blog-post_27.html
https://wwwankurisha.blogspot.com/2021/02/blog-post_2.html

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন