লেবেল

বুধবার, ১৩ মে, ২০২০

নির্বাচিত কবিদের কবিতাগুচ্ছ



লক্ষ্মীকান্ত মণ্ডল




 ---------------------- 
লক্ষ্মীকান্ত মণ্ডল 
-----------------------
      

       




স্বীকারোক্তি অথবা তিলফুলের মালা



১০


অবকাশহীনের কাছে ফাঁকামাঠ ।  নীলনকশার সাথে প্রজাতির উড়ানেরা ডেকে আনে রোদ । যদিও দুপাশে আকাশমনির  পাহারায় গলে যায় শিৎকারের সুর  - বেদনার বেনাবনে বাসা বাঁধে চঞ্চল চড়ুই  - কে জানত,  শিকড়ের ফাঁকে বাজে বিষন্ন চন্দ্রবোড়ার শিস ।   ভয় নেই , আঁকাবাঁকা সে নিভৃত বাতাস ।  এখানেই  ঘর ছায় সুঠাম পুরুষ ।

থাকে না বিরতি আর।  যাবার পথ ডুবে যায় দখিনা পরশে । বক ভাসে রোদকলায়  -  ক্ষতের কিনারায় সে নীল - শেখা হলো অবগাহন, চেনা হলো বাতাসের রং । হেঁটে যায় তার বউ - আমি কলঙ্ক তার ,  বিরতির কথা না ভেবেই  দৌড় দেই আবার খরা  অথবা বৃষ্টির গানের ছায়ার ভিতর ...

১১.


ধানে ফুল এসেছে । রেণুর গন্ধে মেতে উঠছে কদমতলা।  দাদুকে  বলতেই তিনি বলেছিলেন ধান গোল হল । আর তখনই একঝাঁক বাতাস ধুইয়ে দিয়েছিল তার গা । গামছা দিয়ে মুছতে মুছতে বুক ভরে নিশ্বাস নিলেন তিনি । যতবার দেখি ততবারই তিনি উজ্জ্বল । তার চোখে আমার আলোক,  অন্ধত্ব ঘুঁচিয়ে দেয় পালকের মতো - পৃথিবীময় ।

অথচ আমার হৃদয়—বাজনা তোলে  গোল গোল রমনীর চলাফেরায় ।   যেন ঝাঁক ঝাঁক পাখির আনন্দ ওড়ার সাথে ঠোঁটে নেয় আলোক । তারা একই দেহ। আমার নষ্ট চোখ -  এই শীতসমূহ ! কী আছে গাছের কিনারে ? কীর্তনীয়া সকলেই হাঁটতে হাঁটতে  গান গায়  -  এই উত্তরাধিকার  ফিরে এসো । আমি ফিরে যাই— পাঁপড়ির মতো কী সুন্দর আভায়  -


১২.


সাপটা উঠে এসেছিল মজা খাল থেকে । এক্কেবারে মোরাম রাস্তায় সটান বাতাস খেতে ।  ওপারে ধানক্ষেত -  রাত্রি ভ্রমণে ভুলে গিয়েছিল বিষের কথা  -  তখন আমি একদল মানুষের সাথে ভীরু ।  ইউক্যালিপটাসের বাতাস খেতে খেতে সুলিসের জল বেরিয়ে যাবার কথা ভুলে গেছি ।  যখন—তখন সাবধানতায় ডেকে বেড়াচ্ছি দঙ্গল দঙ্গল উচ্ছৃঙ্খল  ছেলেদের ।

বেরিয়ে আসে রমলা । আমি তার শরীরের দিকে তাকিয়েছি ।  অথচ কয়েকটা বিড়ি টানতে টানতে ছুটে এসেছে তারা । সকলেই বুকের নিচে সুইয়ে রাখে বন্ধু অথবা শত্রু  -  ভেঙে ফ্যালে সমস্ত মদের গেলাস  - টর্চ জ্বেলে অন্ধকার কাটতে কাটতে ভালবেসে ফেলে সাপের সাক্ষাৎ  -   স্বভাবতই , আমি তাদের  দেখেই সাহস সঞ্চয় করি।




১৩.


ঘরটা ভেঙে দিল নিবারণ ।  আর থাকা যায় না  সাপ পিঁপড়ে মাকড়সা আরশোলার সাথে ,  শুতে গেলে তো কথাই নেই ,  চামড়া কাটে রক্ত চোষে  -  তবু দক্ষিণের খোলা মন্দিরার বুকে হাত দিয়ে  ভুলে যেতে হয় নিশাচর যাতায়াত । পথের ধুলো ঢুকে ,  একটা অসুখ হয়ে  - দেয়ালের ফাটলের কাছে একদল মানুষের কথা বলছি   - অধিক মানুষ ।  থাকেন মাটির ভিতর  -

মশারি দুলছে । খোলা হয়নি এখনও  - চারপাশের পঙ্গপাল উড়ে পালাচ্ছে  নিজের শবযাত্রায়  -     বাতসের কোন সঙ্কট নেই  - ভিতরে কাঁথা কাপড় আর শরীরের গন্ধ গুলো ঘুরপাক খায় ,  সূর্যের তাপে গুটিয়ে নিতে থাকে শালুকের পাঁপড়ি ।   নয়নজুলির   আত্মবিক্রয়ে চোখেমুখে  নিভন্ত উনুন     - রাস্তা মাপার লোকজন ফিতে বের করে মাপতে থাকে পঞ্চাশ ফুট একশ ফুট  দেড়শ ফুট  -


১৪.


খড় মিলতে দেখছি । পুকুরপাড়ে তখনও ভেজা রোদ ।  তার ছায়ার কতকগুলি ঢেউ  ;   মাছ লাফ দিচ্ছে সেই ঢেউয়ের সাথে  - সাথে ভেজা শাড়িও  - জড়িয়ে যাচ্ছে পায়ে  - প্রতি পদক্ষেপে ।  কোমরে পাক দেওয়া  আঁচলের সাথে জড়িয়ে আছে  উষ্ণতা ।  তাপ বাড়ে শরীরে  -   সেই পথে পড়ে আছে কত না ভাঙা ডালপালা , ছটপট করে বাতাসের ছোঁয়ায়  , ঘুরে দাঁড়ায় পড়ে থাকা ঘাসজমি  -

বাইরে বেরিয়ে দেখি ,  শুধু সে ই জল শুকিয়ে বেড়ায়  যে নির্জন । দীর্ঘশ্বাস ফেলেও অনুমান করা যাবে না  তারা ছড়িয়ে আছে পুকুরের কিনারা পর্যন্ত ।  তবু টের পাই ছড়ানো ছিটানো খড়কুটোর মধ্যে  জড়িয়ে আছে সন্ধ্যা কালিন ঝড়  -   তার থেকে বেরিয়ে আসা  গুঞ্জনের মধ্যে  অন্তঃশ্রাবী এক স্যাঁতস্যাঁতে আয়না  ভর করে আছে ।

১৫.


কিছু না বলাটাই থাকুক ।  শেষমেশ পাতা ঝরে পড়ল  মাথার উপর । গতকাল কিছু ধুলো ঝেড়েছি  -   বেরিয়ে যাওয়া বাতাস কে বুকের মাঝে চেপে রেখেছি খালপাড়ের কাছে । সেও আগের রাতের দৈহিক ধকল চেপে জল দিয়েছে এ্যলোভেরায় - আর অগনন স্যাম্পুর ফেনা ভেসে আসে  তারই নাগালের ছায়াগাছ থেকে । আসলে নিশ্চিত সব  - সে আমার প্রেমিকা নয়।

ছাপ ছাপ রোদ্দুর আর টালি ছাওয়া ঘরগুলোর সাথে  দীর্ঘ ছায়া নেমে আসে জলের কাছে । সারাদিন তাদের আশ্রয়ে কাছে বেলফুলের কুঁড়ি দুলে  - বাঁশঝাড়ে বাতাসে চলাচল শোনা যায়  - আর আমি ভাবছি কলতান  -   দিগন্ত থেকে উড়ে বকরাশি । বুকের মাঝে ফেরাতে পারব না সুখ ও স্বপ্নে লেখা হেঁটে যাওয়ার উন্মুক্ত  উচ্ছ্বাস ।   


       

১৬.


গান বাজছে । আমি তার সুর অবহেলা করতে পারি না।  এই মুহূর্তে স্নানে ভেজানো দুপুরের কাছে  ছুঁয়ে দেয় লতাপাতা । তাদের সুগন্ধেও সুর বাজে ।  তারই চাহিদা মতো ধরে রাখছে ঝরা বিকেলের  রোদ্দুর ৷  শালিকের একা থাকার সংস্কারে  সে চলাচল । সমস্ত চৌকাঠ নিয়ে আমি  এখনও বুঝতে পারি না সে কোন সুর পছন্দ করে  - কোন সুরে প্রহরের কাছে আলাপ চায়  -

একলা হই আমি ।  তবুও সে স্থির থাকে । আমি দেখি আমাদের আত্মার মাঝে উড়ে যায় কাক ।  ঠোঁটের উপর  বাজে ঝরাপাতা ।  নিঃশব্দের  দুটি ডানা দুদিকে উড়ে গেলে আকাশের সীমানা ফুঁড়ে  ফাঁকা ধুলো পথে ক্ষরণের দাগ রয়ে যায়  । সেই বিস্তৃত দিগন্তে তাকে আমি অন্তরা বলেই  জানতাম ।


১৭.


ফুলের পাপড়িতে আঙুল ছোঁয়াচ্ছে মানিক ।  আমি তার সকালগুলোর নীল কুয়াশার সাথে পরিচিত হতে  আলপথ ভেঙে নিটোল পাতা  খুঁজেছিলাম। দানাদানা জলের সাথে ভিজে গিয়েছিল দুই হাত । কত বাৎসরিক মেঘ উড়ে গিয়েছে বিকেলের মাঠ থেকে - থামেনি তেষ্টার আগ্রহ । এত প্রকট গোড়ালি ফাটায় বেড়ে গিয়েছে  হননের শরীর  - জ্বর বাড়ে কোমলতায়  -

ধরা যাক বছর শেষ । তার মানে আকাশের পরিধি বেড়ে যায়  -  কালী মণ্ডপ খালের সিক্ত বাসভূমি থেকে পলি চলে যায় ছায়াহীন স্থির দৃশ্যে  -   গামছা কাঁধে কালো শরীরে  নিঝুম নয়ানজুলি  ভাবতে গিয়ে শালুকপানায় জড়িয়ে যায় সাপ , জড়িয়ে থাকতে চায়  অপ্রকাশিত স্যাঁতস্যাঁতে  খাদ  -  এই উষ্ণতাটুকু  ছড়িয়ে যেতে চায় দিগন্ত ।


১৮.


গোবিন্দ দাদু হাঁটছেন । তার নিশ্বাসের শব্দের সাথে লাঠি ঠুকবার শব্দ মিশে যাচ্ছে  বাতাসে । কোনো বিপরীত কাজ নেই  - সাদা ফতুয়ার সাথে সাদা ধুতির খুঁট গায়ে  একে একে ছায়ার নিচে এগিয়ে যাচ্ছে  আরও দীর্ঘদিন  -  পাশাপাশি দুই অবিবেচক ও অবিশ্বাসী অপত্যের   ভিটেগড়ার  উৎসব দেখছে আকাশ ।  কাশগুচ্ছের থেকে দূরত্ব  বাড়ছে অনেক  -

খবর শোনা যায় । আস্ত পুটলির ভেতর থেকে বেরিয়ে আসে শাড়ির লাল পাড় । রেডিও থেকে ছুটে আসা গানে সম্ভ্রান্ত গায়কের তীব্রতাগুলি খুব কাছেই শীতার্ত  -  কাঁটাবাঁশের গায়ে জড়িয়ে থাকা চিতিসাপের গায়ে মরা পাখির পালক ,  ভিন্নতা শেখানো  রাজনীতি ছাড়িয়েও কিভাবে  টিকে আছে  সেই বাড়ি  - জবাপাতার আড়ালে তার শত শত রেখা ।




১৯.


ভরদুপুরে পা ছড়িয়ে বসে আছে মেয়েটি । তার কথার দিকে তাকতেই দূরত্বটা বেড়ে গেল হঠাৎ ।   ফাঁকা ডালের রিপুতে একচল্লিশ ডিগ্রি তাপ  , আমি কচুপাতার নিচে কিছু বিষ পোকার আলাপ দেখছি । বেঁচে আছে তারা আমার নিরীহ চোখের ফাটল নিয়ে  - দরজার দিকে  সে তীব্র আলো  - ভেদ করে  রাধা কোম্পানির শাড়ি ,  এগিয়ে যায় সুতোর গন্ধ  -  নতুন পুরান দেশজ মূল্যবানে ।

আমার টান অনেক দিনের । সঠিক বলতে পারব না কবে বীজ কুড়িয়ে ছিলাম । এ ধরায় সবই তো কুড়িয়ে পাওয়া চোদ্দ আনা ,   অথচ তা নিয়েই যত আমিত্ব ফলানো । বাতাস অবশ্যই নাড়াতে পারবে গর্ভাশয় ।    যতই গরম পড়ুক যতই শ্রীকৃষ্ণ বস্ত্রালয় চৈত্র সেল দিক  আমি ঝোপের দিকে তাকিয়ে থাকব  -   আর পাখিরা ঝটপট করবে ।


২০.


তুলো উড়ছে । রাশি রাশি শিমুল ।  আজ সায়ন্তিকা বলেছিল তার ঘরে একটা তুলোগাছ আছে  - তার তুলো দিয়ে তার মা বালিশ বানায়  -  কাল রাতেই কিছু ফল কুড়িয়েছে  - যেগুলো কুড়োতে পারেনি উড়ছে সেগুলোই   - শীত লাগা সকালে সূর্যের গায়ে এঁকে  দিচ্ছে মেঘ  ,  চশমায় বিঁধছে,  বোতামে বিঁধছে    - ছাড়াতে ছাড়াতে  মনে হচ্ছে আজ আবার কালবৈশাখী হোক ।

এভাবেও হয় ।  যেতে  আসতে শিমুলের সারির দিকে তাকিয়ে আনমনা হতে হয়  -   তখন কিছু পতাকা ওড়ে  - তখন কিছু  মিছিলও যায়  - যদিও তার কোন বক্তব্য থাকে না , বালিসে তুলো ভরার মতো দলভারি করতে হয়  - তার নিচে এই বৈশাখেও হাফ হাঁটু জল ,   ঘোলা কাদা আর  বস্তা ভরা প্রতিশ্রুতি ভাসিয়ে রাখতে চায়  - এখন সূর্যালোক ভাসবে কিনা জানে না  কেউ।


২১.

বাঁকটা ঘুরলাম ।  খোকনের দু-নম্বর বউটা সাইকেলের পেছনে উঠল  ।  হাতে দা আর ঘামগন্ধের শাড়ি - তাও শাড়িটা কোমরে পেঁচানো ,  ধান কাটতে গেলে যেরকম পরতে হয় আর কি ।  টায় টায় দুপুর  - চোখ গেল পাখির তৃষ্ণা বেড়েই চলছে ।  ইট বের করা রাস্তায় শুধু ধাক্কা , হাত পা থেকে ছড়িয়ে পড়ছে বুকে  -  থৈ থৈ কাঁপনে সাঁতার কাটতে কাটতে মিলন  ডুব দেয়  - পারে না ,  চিৎসাঁতারে ভাসতে থাকে ।

ধানের গন্ধ আসে । যদিও দুজনেরই শরীরে সেই  আবেশ ।  দেরি হয়নি কিছুই  ; উনুন জ্বলবে ভাত ফুটবে বরদা মধ্যপাড়ায় । কিছু ডালপালায় তখনো দ্বৈরথ ,  তখনো বিছানা ভাগাভাগির খড়কুটো - ছায়ায়  ছায়ায় তেরছা চোখের শাসানির  অন্ধকার প্রতীক্ষা ।  তারমাঝেই  ধান কেটে নিতে হবে  - গুছিয়ে নিতে হবে মাঠের মাঝে জড়ো করা দুপুরের রোদ।


২২.

ঝড়ের কাছে বসেছি কয়েক ঘন্টা । শুধু ধুলো মাখছি ,  ঝুড়ি ঝুড়ি ঝরা পাতা আমার উপর দিয়ে উড়ে যায় ।  মেঘের দিকে তাকচ্ছি । স্তরে স্তরে মেঘ গুড়ি ছাড়ছে  - জমিয়ে বসছে  । ধান ঝাড়তে ঝাড়তে কমলের গামছা ওড়ে যাচ্ছে  - শাড়ির আঁচল গায়ে লাগছে । পুকুরের জলের উপর পড়ছে শুকনো শিরীস  ফুল । সারাদিনের ঘাম জুড়িয়ে ফুলে উঠছে সারা শরীরের  চুলের গোড়া ।

কারও একটা পটচালা দরকার ।  এবার মাথা না গুঁজলে ভিজতে হবে পুরোপুরি ।  মেঘের ওড়াওড়ি দেখে এতক্ষণ জোর দিয়ে বলছিলাম বৃষ্টি হবে না ।  কিন্ত আমাকে মিথ্যা প্রমান করাই সকলের লক্ষ্য হলে আমার কিছুই করার থাকে না ।  এত বরফ মেশানো ফোঁটা যে জুবুথুবু হয়ে বসতেই হল বিকেলের দোকানে  -  ডাকলাম দু -তিনজনকে । সেও এল ভিজতে ভিজতে পূর্বদিক থেকে     - কেন যে আমরা পঞ্চমীতে  উড়ে  গিয়েছিলাম -     

২৩.
ছায়া কাঁপছে ।  মানুষটি এঁকেবেঁকে আসছেন তার পেছনে আলোর রেখা । কতকগুলো গাছের ছায়া কতকগুলো দোকানের ছায়া পেরিয়ে তিনি এগোচ্ছেন অন্ধকার ছাড়িয়ে । তারপর ধুলো ওড়ে । যে মশা ডানা ঝাপটাতে ঝাপটাতে তার দিকে ছুঁড়ে দিচ্ছে মসৃণ হুল  তার পথে  ঢেউ খেলানো  আলাপ । তার পথে মনি ঝোপে ঝাড়ে শুতে শুতে মেয়ের সংসারের কথা ভাবে । ভাবে তার ভাত ফোটানোর দুঃখ  -  পাতা পোড়ানোর  বুকটা হা করে খোলা থাকে  -

বাতাস কেন উড়ে বেড়াচ্ছ ।  পাগলের মতো ডালে  বসে স্বপ্ন । কিছুই তো দেওয়া হলো না । ফুলগুলো ঝরে পড়ছে  মাটির কঠিনে ।  কোন গাছের নিচে  সাপ । বিষাদ বুনছে  নিশ্বাস । এক টুকরো জামগাছের নিচে  ঝিমঝিম  ছায়া ।  দুলছে হাওয়ার  দুঃখগুলো । এছাড়া এলেখায় কীইবা দেওয়ার আছে আমার  -


২৪.

বাঁশি তুমি দুলছ  । অথচ সে তো একটি উষর প্রাণ ।   আর হাড়ের ভেতরে বিষ নেচে উঠছে। তাদের কথা আমি বলতে পারি না ভয়ে ।  জানি এমন নয় জীবন । চন্দন দাদুরা স্থির । একমাত্র সাইকেল আর বিশ্বাসের স্বাধীনতার দলটি  গিলে খাচ্ছে  সততার দেয়াল লিখন।   তারা বেদম পোড়াচ্ছে আমাকে। কারও ইচ্ছে হলেই  আলপথে তরঙ্গ দিয়ে যায়  গরলের ।

ধমনি ছিঁড়ে যাচ্ছে খুব । সত্যি কথাটা হলো  - বড়  অবিশ্বাস গ্রাস করছে সুরে  -   কাছে কাছেই একলা একলা ছায়া । ঘোলাজলের দিঘিতে সাপ খেকো মাছের নাচন ।   বড় সাবধানে নামতে হয়  - বসন ভাসছে ভাসুক - আমার কোন শিকার নেই - তোমার ইচ্ছে হলে যেতে পারো - সে এক গভীর খাদক ।


২৫.

তুমি তো সাপ নাচাও । অথচ কেউ তোমাকে বেদেনী বলেনি কখনও  -  তোমার ঝাঁপিতে অনেক শিকার । বিশ্বাস করো হে সুর - তোমার ভোরে ভাসে বেলফুল । দরজা দিয়ে বেরিয়ে আসা সঙ্গমের গন্ধটা কেমন জ্যৈষ্ঠের খাল হয়ে যায়  । তারপর শুকনো বোলমুখ - কপাট খোলা থাকে  দখিনা বাতাসের অপেক্ষায় ,   তখন হাঁস ভেসে আসে ।

ঘুঙুর  বাজে না আর । ঝাঁপিতে শুকনো খড় ।  খটখটে হাড়ের সাথে  ঘাট অবদি জলের দাগ  -   চলে গেছে কেউ  । সেখানে তুমি স্থির  ।  পাড়ায় পাড়ায় তোমার গর্ভপাত বটিকা - তোমার গোপন আয়ের মাঝরাত ।  ঘন অন্ধকারে শোনে ঢেউ পেরনো চিৎকার । পালাতে পালাতে তুমি ভুলে গেছ সব  -  নাম ;  তোমার বদ্বীপ,  তোমার আঁচল । 

৬টি মন্তব্য:

  1. স্তবকে স্তবকে ভিন্ন ভিন্ন স্বাদ ! ভিন্ন ভিন্ন মাত্রা ! আনন্দ ! সুখ ! পাঠ ! অনুভব ! ডুব ডুব ডুব ! অতল ! অরূপ রতন ! 👏 (মধুসূদন দরিপা । বাঁকুড়া )

    উত্তরমুছুন
  2. প্রতিটি কবিতাই বেশ অনুভবী, বার্তাবহ। বেশ ভালো লাগলো। প্রিয় কবিবরকে আমার আন্তরিক ভালোবাসা ও অনেক শুভেচ্ছা। ভালো থাকুন সতত..., শুভ বিকেল।

    উত্তরমুছুন