আবু রাইহান
--------------------------------------
আ বু রা ই হা ন
---------------------------------------
এক মায়াময় আলোর প্রতীক্ষা
আমার প্রিয়জনদের অশ্রুপাত
এখন আর আমাকে বিগলিত করেনা
এক অদ্ভূত স্তব্ধতার বোধের ভেতর
এখন আমি বাস করি
আর চারপাশের নিবিড় অন্ধকারের ভেতর
নিজেকে খুঁজে বেড়াই
আমার জন্য আর অপেক্ষা করে কি লাভ
আমি ভবিষ্যতের ডাক শুনতে পাচ্ছি
যে ভবিষ্যৎ কালো অন্ধকারে ঢাকা
আমার চারপাশে অন্ধকার জগতের জীবরা
সারাক্ষণ সতর্ক নজরদারি চালাচ্ছে
আর অনুভব করছি সরীসৃপদের হিসহিস স্বর
আমি বিস্ময়ে অবাক হয়ে দেখছি
তারা কিন্তু আমাকে ছোবল মারছে না
হয়তো জেনেছে এইসব জৈব-বিষ
আমি জারিত করতে সক্ষম
আমার প্রিয় নারীদের স্বার্থপর অবহেলা
আমার মধ্যে তৈরি করেছে এই ইমিউনিটি
তবুও আমি সারাক্ষণ এক মায়াময় আলোর
প্রতীক্ষায় থাকি
প্রিয় ভালোবাসা পাওয়ার আশায়
হৃদয়কে বিশুদ্ধ রাখি!
নিঃশেষ হতে চাই প্রকাশ্যে
প্রিয় মুখগুলি বড়ই ব্যস্ত
তাহাদের কোন ক্লান্তি নাই
কোন এক আশার কুহকে
তাহারা কেবল সারাক্ষণ ঘোরে
আমার ক্লান্ত হৃদয় তখন
প্রেম থেকে অপ্রেমে ফেরে
তাহাদের এই সর্বনেশে খেলা
আমাকে নষ্ট করে হিম সন্ধেবেলা
রিতু তোমার শিল্পময় শরীর
আমার কিবা প্রয়োজন?
এই পৃথিবীর উপবনে তোমার
বুকের গন্ধ ছাড়া সব ব্যর্থ আয়োজন!
তোমার শরীরী রেখাচিত্রের ভাষ্যে
আমি নিঃশেষ হতে চাই প্রকাশ্যে!
ভেতরের কাদা আবহমান
তোমার আকাশ জুড়ে মেঘ করেছে
আমার আকাশ ঝরায় অসময়ে বৃষ্টি
ধোঁয়াশা আর কুয়াশায় ঢাকা চারপাশ
বিষন্ন দিনে হায় আবছায়া দূরদৃষ্টি!
বাইরে বৃষ্টি হলে ভেতর কাদা হয় না
ভেতরের কাদা আবহমান
প্রিয় বৃষ্টির আশায় অপেক্ষামান
ভেতরে আসলে তেমন করে
কোনোদিনই বৃষ্টি হয় না!
অথচ অনন্ত আকাশ জুড়ে এই পৃথিবীর
কোথাও না কোথাও অহরহ বৃষ্টি পড়ে!
একটি নিষ্পাপ মুখ
সারাক্ষণ ভাবনায় জারিত রাখে
একটি নিষ্পাপ মুখ
দিন রাত্রির প্রহর জুড়ে বয়ে যায়
নিরবচ্ছিন্ন সুখ!
অদৃশ্য জীবাণুর ভয়ে ওষ্ঠাগত
সচল শহরের জান
আবারও স্বপ্নের ভোর হবে,
হয়তো ঝরে যাবে
বেশ কিছু মানুষের প্রাণ!
চিরকাল এভাবেই তো পৃথিবী এগোয়,
হাতে নিয়ে ক্ষমতালোভীদের জয়ের নিশান!
তাইতো মৃত্যু উপত্যকা জুড়ে হত্যাকারীরাই
চায় পরিত্রাতার সম্মান!
সৌভাগ্যের রজনীর অপেক্ষায় হে আমার প্রিয়তমা
তবুও ধ্বংসকারীদের জন্য হৃদয়ে লিখে রেখেছি ক্ষমা!
প্রিয় মহাকাব্যের মলাট
দূরে বন্দরের মায়াবী আলোয় শুনি
অভিমানী রাত্রি কথা
অন্ধকার ঘন হলে গাছেরা হারিয়ে ফেলে
সবুজাভ নিজস্বতা!
গোধূলি নামলে কেন যে আমাকে জড়িয়ে ধরে
অদ্ভুত বিষণ্নতা
দিনশেষের ম্লান আলো দিগন্তে ছড়িয়ে গেলে
চারিদিকে অলৌকিক রহস্যময়তা!
রোদনে সিক্ত তোমার হৃদয়,
জানে অন্তর্যামী
নিবিড় তন্ময়তা ভেঙে
এখন আমি অতলান্তগামী
হে আমার সদা মুখর সান্ধ্য নদী জল
তুমিই আমার সৌভাগ্যের ললাট,
প্রিয় মহাকাব্যের মলাট!
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন