পায়ের পোশাকরবীন বণিকবুনো–গন্ধ শরীর। পায়ের পোশাকে আয়ু।প্রবল ঘামের নিশি ঝোপের মানবতা।এসো অগ্নি। তোমার পোশাকে ডাকি সত্য।অমায়িক প্রশ্রয়— পেয়েছে শব্দহীন কাদামাটিএসো ধ্যান। জন্মহীন শালিখের ডাক।এসব নিখুঁত শিল্প শুয়ে থাকে ভিক্ষুর চুলে।ধ্রুব— এক অসম্ভব গায়ে লেগে আছেদীর্ঘকাল।
মারো
মৃণালকান্তি দাশ
মারো প্রতিবাদ যারা করে
মারো যারা সত্যের পাশে
মারো মুখ বুজে যারা মরে
মারো যারা নেই সন্ত্রাসে
মারো গীতবিতানের দেশ
মারো আগুনের অক্ষর
মারো স্বপ্নের অবশেষ
মারো ব্রাত্যজনের স্বর
মারো চারপাশে যত রঙ
মারো বোনের টাটকা লাশ
মারো কুলিকামিনের শ্রম
মারো অর্জিত বিশ্বাস
মারো আয়নায় পড়ে ছায়া
মারো আয়নায় পড়ে ছায়া।
সুখ-দুঃখ ও শোকে
রঞ্জন ভট্টাচার্য:
এ কেমন সকাল এলো
শুধু মৃত্যুর কোলাহল !
এ কোন্ সকাল এলো
যেন জ্বলছে যে অনল।
কি কোন্ দুপুর এলো
চারদিকে হাহাকার !
দাবদাহ নেই তাতেও যেন
সব পুড়ে ছারখার।
কেমন বিকেল দেখো
নেই মৃদু সমীরণ !
শুধু শুনি গেল গেল
আর চাপা গুঞ্জন!
এলো গোধূলির চাঁদের আলো
নেই তো স্নিগ্ধ মায়া!
পিছু ডাকে যেন যমদূত আর
সেজে মৃত্যু কায়া।
তবু আমরা থাকবো বেঁচে
এই পৃথিবীর বুকে,
মানুষ হয়ে মানুষের পাশে
সুখ দুঃখ ও শোকে।
চৈত্রসেল
সুমিত্র দত্ত রায়
গতবছর চৈত্রসেলে হঠাতই -
ঘাড়ে হাত রেখে কেউ কিছু বললো,
একজন ছুটে এসে আমার দখল নিলো,
আমি নাকি বিক্রি হয়ে গেলাম।
একেই না বলে সেল...
এবছর চিত্রটা একদমই ভিন্ন,
আমি বসে আছি একদমই একা ঘরে,
টিভিতে নিউজ চ্যানেলে আনন্দ,
অসংখ্য মৃতের হদিশ পৃথিবী জুড়ে,
চৈত্রসেলে মৃত্যু মিছিল...
ভীড়ের অভাব আজও নেই,
শুধু ওরা ভুলে গেছে কাঁধে হাত রাখা,
আমি কিন্তু সেই পশরাই রয়ে গেছি,
ভাবছি বসে, কে আবার দখল নিলো?
যাবার সময় কি হলো...
নববর্ষ
গৌরী পাল
নববর্ষের নতুন প্রভাতে
মনটা যেন যায় ভরে,
নতুনের দরজা খুলে
দেখবো জগৎ নয়ন ভরে।
নতুনের পথে দিলাম পা
দুঃখ পেছনে ফেলে,
সত্য মিথ্যা ভালো মন্দ
সবই আছে জীবন ভরে।
এসো আমরা হাত মিলাই
শত্রুতা ভুলে আজ বন্ধু করি,
মনের সাথে মন মেলাই
ভালোবাসায় জীবন ধন্য করি।
বারবার ফিরে এসেছে
প্রতিটি বছর নতুন করে,
পয়লা বৈশাখে সবার জীবন
আনন্দে উঠুক ভরে।
মনে পড়ে
অমলেন্দুবিকাশ জানা
মাটির দেওয়াল, খড়ে-ছাওয়া ঘর
পেয়ারা-তলায় ঘনছায়া
দূরে তেঁতুলের বন
পেছনে পুকুর,কাঠের গুঁড়ির ঘাট
পুবে মাঠ উধাও হয়েছে প্রান্তরে
ঐখানে নববর্ষের হোত আগমণ।
ঢেঁকিতে বানানো মুড়ি-ছাতু
লালী গাইয়ের দুধ
সাথে খেজুরের গুড়ে
নববর্ষ হোত উদযাপন!
মায়ের ডাকের জাদু
মাঠময় না-বাঁধন শব্দের বাতাস
কবুতরের অলস আলাপ
আর সেই কিশোরীর রূপ
মিশে যেতো ছন্দে একাকারে
অবিশ্বাস্য সমধুর রূপকথা যেন!
সেই স্মৃতি ম্রিয়মান নয় জেনে
মৃতিভয় কেমন বন্দী করে মন,
জেনে গেছি।একাকীত্ব কাকে বলে
হাড়ে তার নির্মম কষ্টের খোদাই!
মারী তার এনেছে মড়কী বান্ধব
ক্ষয় যার ক্ষতি থেকে বেশি!
এ শতক একবিংশ দুই দশকেই
তুরী ভেরী দুন্দুভি শব্দেই তার
বিজয়ঘোষণে বলে জয়ী আমি
মৃত্যুর কাণ্ডারী আমি কালগ্রাসী!
ভয়াতুর শক্তিমান আর্ত চিৎকারে
ভুলে গেছে নববর্ষ,যা আছে নিকটে,
রাত্রি পোহালেই শুধু, তবু
মনের অনন্ত রাত্রিকালে ডুবে
দীর্ঘশ্বাসগুলি যেন বলে দেয়, সেই
নববর্ষ নেই,আছে অন্তিমবর্ষ শুধু
এ-বিশ্বের মানুষের অস্তিবোধে!
কথা বলো মানুষের সঙ্গে
তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
মনের জানালা খুলে কখনও বা ডেকে নিই একখণ্ড মেঘ
বলি 'একা বসে আছি,দু'দন্ড সময় দাও, গল্প করি এসো
কত কথা জমে আছে একলা মগজ জন্ম দেয় অজস্র ভাবনা '
মেঘের কি সময় থাকে?তার আছে কত কাজ
আকাশের এ-কোন ও- কোন ঘুরে নিয়মিত টহলদারি তার
বিশ্বের মানুষ আজ খরাক্লান্ত,
তার তদারকি করে
জল দেবে, ছায়া দেবে, স্নিগ্ধতায় ভরাবে সবাইকে
জানালার কাছে এসে হাসিমুখে বলে গেল
'যাও কবি মানুষের কাছে যাও,
যা কিছু কথা সব মানুষের সঙ্গে হোক '।
আঁধারে আলো
বানেশ্বর দাস
অদ্ভুত আঁধার এক এসেছে পৃথিবীতে।
যে আঁধারে সব পথ পথে আছে পড়ে।
সে পথে নেই কোনো মানুষের ছায়া।
সেথায় খেলা করে শুধু অশরীরী কায়া!
তবুও দেখো---
প্রতিদিনের পুব আকাশে প্রথম সূর্য ওঠে,
মাঝআকাশে পদতলে ছায়া এসে পড়ে।
কামরাঙা মেঘ ভেসে বেড়ায় দিনান্তের কোলে,
সন্ধ্যা বেলায় তুলসী তলায় মঙ্গল দীপ জ্বলে।
নিঝুম রাতে তারারা কথা কয় পরস্পরে,
চৈত্রের শেষ রাতঘুমে নববর্ষের স্বপ্ন দেখে।
তাইতো বছরের প্রথম আলো সারা আকাশ ভরিয়ে বলে--
একদিন নয় একদিন ঝড় থেমে যাবে।
আবার আকাশ ভরবে নীলে।
আবার পৃথিবী শান্ত হবে।
আকাল একদিন ইতিহাস হবে।
আবার মানুষ পথে নামবে,
পাশে আসবে, কথা বলবে,
হাসবে, ভালোবাসবে।
ঘামে ভিজে আছে
ভক্ত গোপাল ভট্টাচার্য
ভাঙাচোরা রাস্তায় ওঠবোস করেছি
লোকাল ট্রেনে যাতায়াত করি
আমার শরীরের ঘামে ভিজে আছে
জীবনটা মন্থন করে দেখেছি, উঠে আসে বিষ
আর অমৃত ওদের ...।
কি সুন্দর দায়িত্ব পালন করি প্রতি মুহুর্তে
অবসাদে ভরে আসে চোখ
সব ফেলে যাবো বলে প্রস্তুত হয়েছি
আমাদের একান্ত বাঁচা হলো পাপ ।
শুধু জেনে রেখো , আমার কিছু বিশ্বস বেঁচে...
ভেলকিবাজীতে এখন মুগ্ধ হয়ে আছি ,
গ্রামের রাস্তায় ধুলোয় গড়াগড়ি যাওয়া
আজও স্মৃতিতে খিদিরপুর ব্যাং দোয়ার জঙ্গল
ডাকে আমায়, খেলবি আয়
বর্তমান ডিজিট্যাল জীবনের কথা ভাবি
বেঁচে- থাকা গন্ধের উজান ভাটি
চলতে ফিরতে বিষ - কাঁটার খোঁচা খাচ্ছি ।
সময় আসে যায়
অশোককুমার লাটুয়া
মনখারাপ চৈতালির বীণায়
বসন্তের শেষ সুর ।
বিদায় জানায় তাকে
একলা বৈশাখী রোদ্দুর ।
অপেক্ষায় দিন গোনে
বৃষ্টি আর বিষন্ন প্রেমিক ।
বুকের ভিতরে
খাল - বিল - ডোবা
নদী ও আনত সমুদ্দুর ।
আশ্রয়
সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়
টেলিফোনটা অনেকক্ষণ বেজে বেজে থেমে গেল।
তুমি কি আছো জেগে? আমি এখনও অপেক্ষায়
নিঝুম গভীর রাতে দাঁড়িয়ে করিডোরে
এখন ও কি শুনতে পাও গানের রিংটোন?
বেজে বেজে থেমে গেছে, থেমে যায় এভাবেই সব কিছু
ভালো আর লাগে না পৃথিবীর এত আয়োজন
উড়ে যায় শব্দরা রাতের আকাশে
শুধু তুমি আর তোমাতেই থেমে যায় যতিচিহ্ন
আমি তো দিয়েছি ডুব এলোকেশী ওই চুলে
চিবুক আর আঙুল ছুঁয়ে যায় ঋতুবতী প্রেম
কবিতার উঠোনে আসি, ধুলো ঝাড়ি রোজকার
খুঁজে খুঁজে ফিরি একা। বড়ো একা এই সময়।
সারাটা দিনের শেষে শিশিরের হাত ধরে
তুমি এলে, চলে গেলে, শুভ রাত্রি বলে
কত কথা জমে থাকে রাতের গভীরে
কাকে আর বলি বলো, তুমিই তো আশ্রয়।
পাথুরে স্বপ্ন
বিমল মণ্ডল
শতাব্দীর গড়নে অদ্ভুত আলোর জ্যোতি
আকাশ নিজেই পথ হারায়
বাতাস জপমালা জপে নিজস্ব বয়ানে
একটা ক্ষীণ আলোর শিখা
আবাসভূমির আসে পাশে
গতবছরের স্মৃতির স্মরণ
আজ ঢেউ খেলে খেলে সাগরে
মৃত্যুর পশরা উঠে আসে
অদ্ভুত ঢঙে
চারদিক অন্ধকারে
প্রতিটি হৃদয়ে
চিরন্তন পাথুরে স্বপ্ন।
বিন্নি ধানের খই
বিকাশ চন্দ
ফিরে আসার জায়গায় ফিরে আসতে হয় পরিবর্ত পথে
যা কিছু অভব্য অচেনা দাঙ্গাবাজ স্পষ্ট নমনীয় তবু
শুনশান পথ ঘাট হঠাৎ মজে যায় কৃষ্ণ খোল করতাল
প্রসন্ন কথারা হাসি মুখ অনর্গল ঈশ্বর কথা কয়
চুপচাপ ঘন্টা ধ্বনি মোম বাতি গলে যায় নির্বিকার প্রহর
হঠাৎই অদল বদল মুখেও মুখোশে অচেনা অসুখ আখর।
#
কপাল ফেরে পরমানন্দে সব মুখে ক্লিষ্ট যীশুর মলিন হাসি
থিতু হীন ত্রিপল ঘরে ঘর বার জানে কি সদ্য শিশু
যে কথাগুলো কথায় অকথায় নেই অবাক মৌণস্বর
প্রেরিত ভাষারা শূন্য বুকে প্রেমময় প্রতীক পতাকা তাই
বাতাসে নড়লো গাছের পাতারা চঞ্চল হলো শ্বাসের শব্দে
বেঘোরে রাতের চিহ্ন ফেলে গেছে বাঘ নীরব বিষ্ময়ে।
#
বিষাক্ত হয় রাত দিনের ঘৃণা মনোময় ভাষা ও ভাষণে
যে মাটিতে জন্মের কথা সেখানেই জন্মান্তর বিবাদ
হাত নাও নাও হৃদপিণ্ড গিলে খাও সমূহ অভিলাষ
সমস্ত উদার ভাবনায় জল পড়া আর পাতা ঝরার শব্দ
অন্ধকার মায়ের কোরক থেকে পূর্ণাঙ্গ প্রজাপতি নই
কোন পথে গেলে কুড়োবা পয়সা আর বিন্নি ধানের খই।
পুজো
গৌতম রায়
পুজো পুজো পুজো আসছে চারিদিক আলোকিত করে
সারা বছর থাকি মোরা তোমার অপেক্ষাতে!
শুভ শক্তির প্রতীক তুমি অশুভ শক্তির বিনাশ তুমি
দাঁড়িয়ে আছ মূর্তি রূপে কয়েক শত বছর ধরে
প্রাণ প্রতিষ্ঠা করি আমরা তোমার মূর্তিতে!
ভক্তি ভরে পূজা করি ফল পাবো ভেবে
তোমার কাছে করি আসা অনেক কিছু চাওয়া-পাওয়া
সবকিছু খুঁজে বেড়াই তোমার ভেতরে!
দুর্বল মানুষ আমরা খুঁজে বেড়াই তোমার করুণা
পুজো করি পবিত্র মনে সব কিছু নিয়ম মেনে
এভাবেই চলতে থাকে তোমার পুজো বারে বারে
কয়েক শত বছর ধরে আছো এভাবে জগৎজুড়ে!!
কবিতা আসলে কি
মনোজ ভৌমিক
অনুভূতি মাপতে মাপতে...
ভাবনার গভীরে সন্তরণ করে শব্দগুলি।
ওরা প্রতিনিয়ত হাত-পা ছুঁড়তে থাকে হৃদ সমুদ্রে...
কবিতা সামনে আসে...ওকে সাজাই।
প্রতিদিন কবিতাকে পাই কোথা!
অক্ষরগুলো কেন শব্দ খোঁজে অযথা!!
কবিতাকে দেখার মতো আজ পাঠক থাকে না,
তবুও কবিদের কলম থামে না!!
লিখতে থাকে অজস্র কবিতা.....
পাঠক কেন বুঝেও বুঝতে চায় না,
মানুষের হৃদয় মরলেও কবিতা,
আর বাঁচলেও কবিতা!
সত্যি কথা বলতে,পাঠক থাকুক আর নাই বা থাকুক,
মনুষ্য হৃদয়ের এক একটি অনুরণনই কবিতা।
নেই নেই কিছু নেই
সজল বসু রায়
নেই নেই কিছু নেই
তবুও তো কিছু আছে
ধর্মের চুলচেরা বিশ্লেষণে
একবুক সংশয় আছে
উল্লাস আর আনন্দ মাঝে
আছে এক নতুন জীবন আছে
নেই নেই কিছু নেই
তবুওতো কিছু আছে
ছাড়পত্রে ভেসেআসা
গোপন প্রেমের রং আছে
এক ভীষণ রকমের সুখের চাদর আছে
আছে ভালবাসার সংগ্রাম আছে
ওই ফুটপাতে বেঁচে থাকা
মানুষগুলোর প্রেম আছে
সমাজের প্রতি পদে পদে
আছে লড়াই আর আবেগ আছে
নেই নেই কিছু নেই
তবুওতো কিছু আছে
কিছুটা বিশ্বাস আর অনূভব আছে
ছন্দ সুরের আকাশ আছে
উল্লাস আর মানবতার সংগ্রামে
ফিরে দেখার ইচ্ছে আছে
নেই নেই কিছু নেই
তবুওতো কিছু আছে ।।
কথোপকথন
অঞ্জন ভট্টাচার্য
নমস্কার!
প্রতি নমস্কারের আশা করবেন না।
কেন?
সৌজন্য শিখিনি।
এ কেমন কথা!
ভুল বললাম?
সভ্য সমাজে বাস করছেন, অথচ সৌজন্য দেখাবেন না!
বেশ বললেন বটে। আচ্ছা, গাছের সাথে সৌজন্য দেখিয়েছেন কখনও?
মানে?
গাছ যে ফুল দেয় ফল দেয় ছায়া দেয় বাতাস দেয়। সেই গাছকে কিছু দিয়েছেন কোনদিন? একটু জল একটু সার বা একটু যত্ন? দেননি, বরং ভোগ করেছেন শুধু। আর সুযোগ পেলেই তার শরীরে আঘাত করেছেন - কখনও কুঠারের কখনও বা করাতের। চড়া দামে বেঁচেছেন বা কিনেছেন কাঠ, বাহারি আসবাবে ভরিয়েছেন ঘর।
নদীকে কখনও দিয়েছেন কিছু তার অকৃত্রিম দানের বিনিময়ে? তা ও দেননি। বরং আবর্জনায় ভরেছেন তার বুক, কেড়েছেন তার নাব্যতা। নদীর প্রয়োজনে নয়, নিজের প্রয়োজনে তুলেছেন বালি দিনের আলোয় বা রাতের অন্ধকারে। গড়েছেন সাধের ইমারত।
আচ্ছা পাগল আপনি!
ঠিক বলেছেন মশাই। গাছ নদী আকাশ সবাই পাগল, তাই শুধু দিয়ে সৌজন্য পাবার আশা না করেই। আমিও নাহয়...।
থাক থাক আর জ্ঞান শুনতে চাই না।
আচ্ছা বেশ! আসুন তবে। দেঁতো হাসি হেসে থাকুন সভ্য সমাজে, চেটেপুটে খান আর সৌজন্যের কাঠি দিয়ে দাঁত খোঁচান।
হলনা আর শেষ কাঁদাটা *
( ভুতুম )
তোমার প্রেমের মুক্তি দিতে, পালিয়ে এলাম অনেক দূরে
ভুলতে চাওয়া সবই স্মৃতি, আসছে ভেসে হাওয়ার সুরে
আগল দিতে হাওয়ার প্রলাপ, পাতাল ঘরে বাস বেঁধেছি
হঠাৎ করেই পড়লো মনে, একটু আগেই শেষ কেঁদেছি
পাতাল ঘরে রুদ্ধ হাওয়া, তোমার স্মৃতি আর আনেনা
শত্রু এখন প্রতিধ্বনি, হাজার নিষেধ বাগ মানেনা
তোমার প্রেমের মুক্তি দিতে, শেষ কাঁদা টা কাঁদব এবার
জলের চিঠি যায়না পড়া ,দায় নেই তাই জবাব দেওয়ার
ইচ্ছা ভীষণ, একবারটি পাতাল থেকে উঠবো আমি
হাওয়ার কাছে খবর নিয়েই, নিচেই আবার যাবো নামি
সয়ম্বরে বিকিয়েছিলে, সুখ সাগরে ভাসবে বলে
হলনা আর শেষ কাঁদাটা , মাথা রেখে তোমার কোলে।
সাধ .....,
লেখনী পঞ্চাধ্যায়ী
সাত সমুদ্র পেরিয়ে যখন ভিটে - মাটি পর ,
ব্যস্ততা সব সাঙ্গ হলে, অলস - অবসর ।
সেদিন যখন স্মৃতির ভিড়ে মনের ঘরে একা,
নতুন করে পেলাম আবার ছেলেবেলার দেখা।
যখন স্বার্থ সুখের আলিঙ্গনে অর্থবৃত্তে থাকা,
শৈশবের ওই ঝাপসা ছবি জলরংতে আঁকা,
শূন্য হৃদয় ভরার আশায় আঁকড়ে ধরি বুকে ,
দু চোখ জুড়ে নৌকো ভাসে নোনা জলের সুখে ।
ঝাঁ-চকচকে জীবন পেয়েও, তাল কাটা সব ছন্দ।
আজও সেই মেঠো পথ বৃষ্টি ভেজা,সোঁদা মাটির গন্ধ।
যেথায় ভোরের বেলায় নামতা পড়া,দশ দু গুনে কুড়ি
চাঁদের দেশে চরকা কাটে সাদা চুলের বুড়ি।
হয়তো সেথায় রাজকণ্যে রাতের রূপকথায়
সোনার কাঠির ছোঁয়ায় আজও ঘুমের দেশে যায়।
আবার যদি পাই ফিরে সেই জোনাক - জ্বলা বাড়ি,
কয়লা-পোড়া আলোর শহর তোর সাথে হোক আড়ি।
শীর্ণ শরীর , ক্লান্ত মনে জিয়ন নদীর তীরে,
অনেকটা পথ ফিরতে হবে শিকড় - বাকড় ছিঁড়ে।
হে প্রেমিক
স্বরূপ কুমার মাইতি
হে প্রেমিক,
ভালোবাসায় সাঁকো গড়তে পারো নি-
দিন ফুরালে
একপাড় ঘিরে রেখেছো তাই দেবদাস মনে,
উদাসী হাওয়ায় তরুছায়া ঘেঁষে
তোমায় দেখি ,
রোজ জলে ভিজতে
মাইগ্রেন এর যন্ত্রণায়
খুঁজে বেড়াতে মুক্তো মনের ঝিনুক,
হে প্রেমিক,
সময় এগোয় অনুসন্ধিৎসায়
ব্যর্থ সিক্ত মন শুধুই যে ছটপট করে
ঝিনুক খোলকের ছড়ানো যন্ত্রণায় |
মারো প্রতিবাদ যারা করে
মারো যারা সত্যের পাশে
মারো মুখ বুজে যারা মরে
মারো যারা নেই সন্ত্রাসে
মারো গীতবিতানের দেশ
মারো আগুনের অক্ষর
মারো স্বপ্নের অবশেষ
মারো ব্রাত্যজনের স্বর
মারো চারপাশে যত রঙ
মারো বোনের টাটকা লাশ
মারো কুলিকামিনের শ্রম
মারো অর্জিত বিশ্বাস
মারো আয়নায় পড়ে ছায়া
মারো আয়নায় পড়ে ছায়া।
সুখ-দুঃখ ও শোকে
রঞ্জন ভট্টাচার্য:
এ কেমন সকাল এলো
শুধু মৃত্যুর কোলাহল !
এ কোন্ সকাল এলো
যেন জ্বলছে যে অনল।
কি কোন্ দুপুর এলো
চারদিকে হাহাকার !
দাবদাহ নেই তাতেও যেন
সব পুড়ে ছারখার।
কেমন বিকেল দেখো
নেই মৃদু সমীরণ !
শুধু শুনি গেল গেল
আর চাপা গুঞ্জন!
এলো গোধূলির চাঁদের আলো
নেই তো স্নিগ্ধ মায়া!
পিছু ডাকে যেন যমদূত আর
সেজে মৃত্যু কায়া।
তবু আমরা থাকবো বেঁচে
এই পৃথিবীর বুকে,
মানুষ হয়ে মানুষের পাশে
সুখ দুঃখ ও শোকে।
চৈত্রসেল
সুমিত্র দত্ত রায়
গতবছর চৈত্রসেলে হঠাতই -
ঘাড়ে হাত রেখে কেউ কিছু বললো,
একজন ছুটে এসে আমার দখল নিলো,
আমি নাকি বিক্রি হয়ে গেলাম।
একেই না বলে সেল...
এবছর চিত্রটা একদমই ভিন্ন,
আমি বসে আছি একদমই একা ঘরে,
টিভিতে নিউজ চ্যানেলে আনন্দ,
অসংখ্য মৃতের হদিশ পৃথিবী জুড়ে,
চৈত্রসেলে মৃত্যু মিছিল...
ভীড়ের অভাব আজও নেই,
শুধু ওরা ভুলে গেছে কাঁধে হাত রাখা,
আমি কিন্তু সেই পশরাই রয়ে গেছি,
ভাবছি বসে, কে আবার দখল নিলো?
যাবার সময় কি হলো...
নববর্ষ
গৌরী পাল
নববর্ষের নতুন প্রভাতে
মনটা যেন যায় ভরে,
নতুনের দরজা খুলে
দেখবো জগৎ নয়ন ভরে।
নতুনের পথে দিলাম পা
দুঃখ পেছনে ফেলে,
সত্য মিথ্যা ভালো মন্দ
সবই আছে জীবন ভরে।
এসো আমরা হাত মিলাই
শত্রুতা ভুলে আজ বন্ধু করি,
মনের সাথে মন মেলাই
ভালোবাসায় জীবন ধন্য করি।
বারবার ফিরে এসেছে
প্রতিটি বছর নতুন করে,
পয়লা বৈশাখে সবার জীবন
আনন্দে উঠুক ভরে।
মনে পড়ে
অমলেন্দুবিকাশ জানা
মাটির দেওয়াল, খড়ে-ছাওয়া ঘর
পেয়ারা-তলায় ঘনছায়া
দূরে তেঁতুলের বন
পেছনে পুকুর,কাঠের গুঁড়ির ঘাট
পুবে মাঠ উধাও হয়েছে প্রান্তরে
ঐখানে নববর্ষের হোত আগমণ।
ঢেঁকিতে বানানো মুড়ি-ছাতু
লালী গাইয়ের দুধ
সাথে খেজুরের গুড়ে
নববর্ষ হোত উদযাপন!
মায়ের ডাকের জাদু
মাঠময় না-বাঁধন শব্দের বাতাস
কবুতরের অলস আলাপ
আর সেই কিশোরীর রূপ
মিশে যেতো ছন্দে একাকারে
অবিশ্বাস্য সমধুর রূপকথা যেন!
সেই স্মৃতি ম্রিয়মান নয় জেনে
মৃতিভয় কেমন বন্দী করে মন,
জেনে গেছি।একাকীত্ব কাকে বলে
হাড়ে তার নির্মম কষ্টের খোদাই!
মারী তার এনেছে মড়কী বান্ধব
ক্ষয় যার ক্ষতি থেকে বেশি!
এ শতক একবিংশ দুই দশকেই
তুরী ভেরী দুন্দুভি শব্দেই তার
বিজয়ঘোষণে বলে জয়ী আমি
মৃত্যুর কাণ্ডারী আমি কালগ্রাসী!
ভয়াতুর শক্তিমান আর্ত চিৎকারে
ভুলে গেছে নববর্ষ,যা আছে নিকটে,
রাত্রি পোহালেই শুধু, তবু
মনের অনন্ত রাত্রিকালে ডুবে
দীর্ঘশ্বাসগুলি যেন বলে দেয়, সেই
নববর্ষ নেই,আছে অন্তিমবর্ষ শুধু
এ-বিশ্বের মানুষের অস্তিবোধে!
কথা বলো মানুষের সঙ্গে
তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
মনের জানালা খুলে কখনও বা ডেকে নিই একখণ্ড মেঘ
বলি 'একা বসে আছি,দু'দন্ড সময় দাও, গল্প করি এসো
কত কথা জমে আছে একলা মগজ জন্ম দেয় অজস্র ভাবনা '
মেঘের কি সময় থাকে?তার আছে কত কাজ
আকাশের এ-কোন ও- কোন ঘুরে নিয়মিত টহলদারি তার
বিশ্বের মানুষ আজ খরাক্লান্ত,
তার তদারকি করে
জল দেবে, ছায়া দেবে, স্নিগ্ধতায় ভরাবে সবাইকে
জানালার কাছে এসে হাসিমুখে বলে গেল
'যাও কবি মানুষের কাছে যাও,
যা কিছু কথা সব মানুষের সঙ্গে হোক '।
আঁধারে আলো
বানেশ্বর দাস
অদ্ভুত আঁধার এক এসেছে পৃথিবীতে।
যে আঁধারে সব পথ পথে আছে পড়ে।
সে পথে নেই কোনো মানুষের ছায়া।
সেথায় খেলা করে শুধু অশরীরী কায়া!
তবুও দেখো---
প্রতিদিনের পুব আকাশে প্রথম সূর্য ওঠে,
মাঝআকাশে পদতলে ছায়া এসে পড়ে।
কামরাঙা মেঘ ভেসে বেড়ায় দিনান্তের কোলে,
সন্ধ্যা বেলায় তুলসী তলায় মঙ্গল দীপ জ্বলে।
নিঝুম রাতে তারারা কথা কয় পরস্পরে,
চৈত্রের শেষ রাতঘুমে নববর্ষের স্বপ্ন দেখে।
তাইতো বছরের প্রথম আলো সারা আকাশ ভরিয়ে বলে--
একদিন নয় একদিন ঝড় থেমে যাবে।
আবার আকাশ ভরবে নীলে।
আবার পৃথিবী শান্ত হবে।
আকাল একদিন ইতিহাস হবে।
আবার মানুষ পথে নামবে,
পাশে আসবে, কথা বলবে,
হাসবে, ভালোবাসবে।
ঘামে ভিজে আছে
ভক্ত গোপাল ভট্টাচার্য
ভাঙাচোরা রাস্তায় ওঠবোস করেছি
লোকাল ট্রেনে যাতায়াত করি
আমার শরীরের ঘামে ভিজে আছে
জীবনটা মন্থন করে দেখেছি, উঠে আসে বিষ
আর অমৃত ওদের ...।
কি সুন্দর দায়িত্ব পালন করি প্রতি মুহুর্তে
অবসাদে ভরে আসে চোখ
সব ফেলে যাবো বলে প্রস্তুত হয়েছি
আমাদের একান্ত বাঁচা হলো পাপ ।
শুধু জেনে রেখো , আমার কিছু বিশ্বস বেঁচে...
ভেলকিবাজীতে এখন মুগ্ধ হয়ে আছি ,
গ্রামের রাস্তায় ধুলোয় গড়াগড়ি যাওয়া
আজও স্মৃতিতে খিদিরপুর ব্যাং দোয়ার জঙ্গল
ডাকে আমায়, খেলবি আয়
বর্তমান ডিজিট্যাল জীবনের কথা ভাবি
বেঁচে- থাকা গন্ধের উজান ভাটি
চলতে ফিরতে বিষ - কাঁটার খোঁচা খাচ্ছি ।
সময় আসে যায়
অশোককুমার লাটুয়া
মনখারাপ চৈতালির বীণায়
বসন্তের শেষ সুর ।
বিদায় জানায় তাকে
একলা বৈশাখী রোদ্দুর ।
অপেক্ষায় দিন গোনে
বৃষ্টি আর বিষন্ন প্রেমিক ।
বুকের ভিতরে
খাল - বিল - ডোবা
নদী ও আনত সমুদ্দুর ।
আশ্রয়
সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়
টেলিফোনটা অনেকক্ষণ বেজে বেজে থেমে গেল।
তুমি কি আছো জেগে? আমি এখনও অপেক্ষায়
নিঝুম গভীর রাতে দাঁড়িয়ে করিডোরে
এখন ও কি শুনতে পাও গানের রিংটোন?
বেজে বেজে থেমে গেছে, থেমে যায় এভাবেই সব কিছু
ভালো আর লাগে না পৃথিবীর এত আয়োজন
উড়ে যায় শব্দরা রাতের আকাশে
শুধু তুমি আর তোমাতেই থেমে যায় যতিচিহ্ন
আমি তো দিয়েছি ডুব এলোকেশী ওই চুলে
চিবুক আর আঙুল ছুঁয়ে যায় ঋতুবতী প্রেম
কবিতার উঠোনে আসি, ধুলো ঝাড়ি রোজকার
খুঁজে খুঁজে ফিরি একা। বড়ো একা এই সময়।
সারাটা দিনের শেষে শিশিরের হাত ধরে
তুমি এলে, চলে গেলে, শুভ রাত্রি বলে
কত কথা জমে থাকে রাতের গভীরে
কাকে আর বলি বলো, তুমিই তো আশ্রয়।
পাথুরে স্বপ্ন
বিমল মণ্ডল
শতাব্দীর গড়নে অদ্ভুত আলোর জ্যোতি
আকাশ নিজেই পথ হারায়
বাতাস জপমালা জপে নিজস্ব বয়ানে
একটা ক্ষীণ আলোর শিখা
আবাসভূমির আসে পাশে
গতবছরের স্মৃতির স্মরণ
আজ ঢেউ খেলে খেলে সাগরে
মৃত্যুর পশরা উঠে আসে
অদ্ভুত ঢঙে
চারদিক অন্ধকারে
প্রতিটি হৃদয়ে
চিরন্তন পাথুরে স্বপ্ন।
বিন্নি ধানের খই
বিকাশ চন্দ
ফিরে আসার জায়গায় ফিরে আসতে হয় পরিবর্ত পথে
যা কিছু অভব্য অচেনা দাঙ্গাবাজ স্পষ্ট নমনীয় তবু
শুনশান পথ ঘাট হঠাৎ মজে যায় কৃষ্ণ খোল করতাল
প্রসন্ন কথারা হাসি মুখ অনর্গল ঈশ্বর কথা কয়
চুপচাপ ঘন্টা ধ্বনি মোম বাতি গলে যায় নির্বিকার প্রহর
হঠাৎই অদল বদল মুখেও মুখোশে অচেনা অসুখ আখর।
#
কপাল ফেরে পরমানন্দে সব মুখে ক্লিষ্ট যীশুর মলিন হাসি
থিতু হীন ত্রিপল ঘরে ঘর বার জানে কি সদ্য শিশু
যে কথাগুলো কথায় অকথায় নেই অবাক মৌণস্বর
প্রেরিত ভাষারা শূন্য বুকে প্রেমময় প্রতীক পতাকা তাই
বাতাসে নড়লো গাছের পাতারা চঞ্চল হলো শ্বাসের শব্দে
বেঘোরে রাতের চিহ্ন ফেলে গেছে বাঘ নীরব বিষ্ময়ে।
#
বিষাক্ত হয় রাত দিনের ঘৃণা মনোময় ভাষা ও ভাষণে
যে মাটিতে জন্মের কথা সেখানেই জন্মান্তর বিবাদ
হাত নাও নাও হৃদপিণ্ড গিলে খাও সমূহ অভিলাষ
সমস্ত উদার ভাবনায় জল পড়া আর পাতা ঝরার শব্দ
অন্ধকার মায়ের কোরক থেকে পূর্ণাঙ্গ প্রজাপতি নই
কোন পথে গেলে কুড়োবা পয়সা আর বিন্নি ধানের খই।
পুজো
গৌতম রায়
পুজো পুজো পুজো আসছে চারিদিক আলোকিত করে
সারা বছর থাকি মোরা তোমার অপেক্ষাতে!
শুভ শক্তির প্রতীক তুমি অশুভ শক্তির বিনাশ তুমি
দাঁড়িয়ে আছ মূর্তি রূপে কয়েক শত বছর ধরে
প্রাণ প্রতিষ্ঠা করি আমরা তোমার মূর্তিতে!
ভক্তি ভরে পূজা করি ফল পাবো ভেবে
তোমার কাছে করি আসা অনেক কিছু চাওয়া-পাওয়া
সবকিছু খুঁজে বেড়াই তোমার ভেতরে!
দুর্বল মানুষ আমরা খুঁজে বেড়াই তোমার করুণা
পুজো করি পবিত্র মনে সব কিছু নিয়ম মেনে
এভাবেই চলতে থাকে তোমার পুজো বারে বারে
কয়েক শত বছর ধরে আছো এভাবে জগৎজুড়ে!!
কবিতা আসলে কি
মনোজ ভৌমিক
অনুভূতি মাপতে মাপতে...
ভাবনার গভীরে সন্তরণ করে শব্দগুলি।
ওরা প্রতিনিয়ত হাত-পা ছুঁড়তে থাকে হৃদ সমুদ্রে...
কবিতা সামনে আসে...ওকে সাজাই।
প্রতিদিন কবিতাকে পাই কোথা!
অক্ষরগুলো কেন শব্দ খোঁজে অযথা!!
কবিতাকে দেখার মতো আজ পাঠক থাকে না,
তবুও কবিদের কলম থামে না!!
লিখতে থাকে অজস্র কবিতা.....
পাঠক কেন বুঝেও বুঝতে চায় না,
মানুষের হৃদয় মরলেও কবিতা,
আর বাঁচলেও কবিতা!
সত্যি কথা বলতে,পাঠক থাকুক আর নাই বা থাকুক,
মনুষ্য হৃদয়ের এক একটি অনুরণনই কবিতা।
কথা দাও -আসবে আবার
মিতালী গায়েন
পত্রঝরা চৈত্রের কন্ঠে
বর্ষ-বিদায়ের সুর,
সেদিন ফাল্গুনে-
নব যৌবনের দূত হয়ে,
আমার দক্ষিণের জানালা দিয়ে
ভোরের আলোয়-
তুমি একমুঠো পলাশ দিয়েছিলে "বসন্ত"।
আমার অলস ক্লান্ত দুপুরে
দিয়েছিলে কৃষ্ণচূড়া।
আমার বিষাদের অট্টালিকা সাজাতে
বকুল ফুলের মালা।
আমার প্রৌঢ়ত্বের আঁচল উড়িয়েছিল
তোমার কাঁপনতোলা ফাল্গুনী হাওয়া।
ওগো ঋতুরাজ বসন্ত!!
তোমার একতারার লয়ে -
আমার যে ঘরছাড়ার ডাক,
কাজ-খোয়ানোর সুর,
নিরুদ্দেশের পেছনে
ছোটার পাগলামি।
আমিও আমার একটি অশ্রুবিন্দু
তোমাকে দিলাম-
বেদনার সাগর থেকে,
ফুলের বাগান সিঞ্চন করে নিও।
একফালি হৃদয়ভূমি
শুধু তোমাকেই দিলাম -
আরও পলাশ-
আরও শিমুল -বকুল
আরও কৃষ্ণচূড়া-
সারি সারি রোপন করতে পারো।
তুমি তো ঋতুশ্রেষ্ঠ!!
তুমি ইচ্ছে করলেই অনায়াসে
প্রভাতে কিংবা সন্ধ্যায়
কিছু আধো-ভাঙা শব্দের অনুরাগে
ভৈরবী, ইমন
আমায় শুনিয়ে যেও।
ওগো মনভোলানো বসন্ত!!
যাওয়ার বেলায় শুধু একটিবার,
শুধু শেষবারের মতো
কথা দিয়ে যাও-
আসবে আবার -বাসবে ভালো,
শুধু প্রাচুর্যকেই দিয়ে ফেলো না
সব প্রেম- সব রঙ,
আমার দুঃসময়ে-
আমার বিষন্ন বিলাসিতায়-
তুমি আর একটা নতুন
আবির রঙের বসন্ত
হেলায় উপহার দেবে-বলে যাও,
সেই চাওয়ায় --
আমার দৃষ্টি প্রসারিত থাকবে
দিগন্তের শেষ প্রান্তে-
আশাই জীবন, অপেক্ষাই জীবন।।
নেই নেই কিছু নেই
সজল বসু রায়
নেই নেই কিছু নেই
তবুও তো কিছু আছে
ধর্মের চুলচেরা বিশ্লেষণে
একবুক সংশয় আছে
উল্লাস আর আনন্দ মাঝে
আছে এক নতুন জীবন আছে
নেই নেই কিছু নেই
তবুওতো কিছু আছে
ছাড়পত্রে ভেসেআসা
গোপন প্রেমের রং আছে
এক ভীষণ রকমের সুখের চাদর আছে
আছে ভালবাসার সংগ্রাম আছে
ওই ফুটপাতে বেঁচে থাকা
মানুষগুলোর প্রেম আছে
সমাজের প্রতি পদে পদে
আছে লড়াই আর আবেগ আছে
নেই নেই কিছু নেই
তবুওতো কিছু আছে
কিছুটা বিশ্বাস আর অনূভব আছে
ছন্দ সুরের আকাশ আছে
উল্লাস আর মানবতার সংগ্রামে
ফিরে দেখার ইচ্ছে আছে
নেই নেই কিছু নেই
তবুওতো কিছু আছে ।।
কথোপকথন
অঞ্জন ভট্টাচার্য
নমস্কার!
প্রতি নমস্কারের আশা করবেন না।
কেন?
সৌজন্য শিখিনি।
এ কেমন কথা!
ভুল বললাম?
সভ্য সমাজে বাস করছেন, অথচ সৌজন্য দেখাবেন না!
বেশ বললেন বটে। আচ্ছা, গাছের সাথে সৌজন্য দেখিয়েছেন কখনও?
মানে?
গাছ যে ফুল দেয় ফল দেয় ছায়া দেয় বাতাস দেয়। সেই গাছকে কিছু দিয়েছেন কোনদিন? একটু জল একটু সার বা একটু যত্ন? দেননি, বরং ভোগ করেছেন শুধু। আর সুযোগ পেলেই তার শরীরে আঘাত করেছেন - কখনও কুঠারের কখনও বা করাতের। চড়া দামে বেঁচেছেন বা কিনেছেন কাঠ, বাহারি আসবাবে ভরিয়েছেন ঘর।
নদীকে কখনও দিয়েছেন কিছু তার অকৃত্রিম দানের বিনিময়ে? তা ও দেননি। বরং আবর্জনায় ভরেছেন তার বুক, কেড়েছেন তার নাব্যতা। নদীর প্রয়োজনে নয়, নিজের প্রয়োজনে তুলেছেন বালি দিনের আলোয় বা রাতের অন্ধকারে। গড়েছেন সাধের ইমারত।
আচ্ছা পাগল আপনি!
ঠিক বলেছেন মশাই। গাছ নদী আকাশ সবাই পাগল, তাই শুধু দিয়ে সৌজন্য পাবার আশা না করেই। আমিও নাহয়...।
থাক থাক আর জ্ঞান শুনতে চাই না।
আচ্ছা বেশ! আসুন তবে। দেঁতো হাসি হেসে থাকুন সভ্য সমাজে, চেটেপুটে খান আর সৌজন্যের কাঠি দিয়ে দাঁত খোঁচান।
হলনা আর শেষ কাঁদাটা *
( ভুতুম )
তোমার প্রেমের মুক্তি দিতে, পালিয়ে এলাম অনেক দূরে
ভুলতে চাওয়া সবই স্মৃতি, আসছে ভেসে হাওয়ার সুরে
আগল দিতে হাওয়ার প্রলাপ, পাতাল ঘরে বাস বেঁধেছি
হঠাৎ করেই পড়লো মনে, একটু আগেই শেষ কেঁদেছি
পাতাল ঘরে রুদ্ধ হাওয়া, তোমার স্মৃতি আর আনেনা
শত্রু এখন প্রতিধ্বনি, হাজার নিষেধ বাগ মানেনা
তোমার প্রেমের মুক্তি দিতে, শেষ কাঁদা টা কাঁদব এবার
জলের চিঠি যায়না পড়া ,দায় নেই তাই জবাব দেওয়ার
ইচ্ছা ভীষণ, একবারটি পাতাল থেকে উঠবো আমি
হাওয়ার কাছে খবর নিয়েই, নিচেই আবার যাবো নামি
সয়ম্বরে বিকিয়েছিলে, সুখ সাগরে ভাসবে বলে
হলনা আর শেষ কাঁদাটা , মাথা রেখে তোমার কোলে।
সাধ .....,
লেখনী পঞ্চাধ্যায়ী
সাত সমুদ্র পেরিয়ে যখন ভিটে - মাটি পর ,
ব্যস্ততা সব সাঙ্গ হলে, অলস - অবসর ।
সেদিন যখন স্মৃতির ভিড়ে মনের ঘরে একা,
নতুন করে পেলাম আবার ছেলেবেলার দেখা।
যখন স্বার্থ সুখের আলিঙ্গনে অর্থবৃত্তে থাকা,
শৈশবের ওই ঝাপসা ছবি জলরংতে আঁকা,
শূন্য হৃদয় ভরার আশায় আঁকড়ে ধরি বুকে ,
দু চোখ জুড়ে নৌকো ভাসে নোনা জলের সুখে ।
ঝাঁ-চকচকে জীবন পেয়েও, তাল কাটা সব ছন্দ।
আজও সেই মেঠো পথ বৃষ্টি ভেজা,সোঁদা মাটির গন্ধ।
যেথায় ভোরের বেলায় নামতা পড়া,দশ দু গুনে কুড়ি
চাঁদের দেশে চরকা কাটে সাদা চুলের বুড়ি।
হয়তো সেথায় রাজকণ্যে রাতের রূপকথায়
সোনার কাঠির ছোঁয়ায় আজও ঘুমের দেশে যায়।
আবার যদি পাই ফিরে সেই জোনাক - জ্বলা বাড়ি,
কয়লা-পোড়া আলোর শহর তোর সাথে হোক আড়ি।
শীর্ণ শরীর , ক্লান্ত মনে জিয়ন নদীর তীরে,
অনেকটা পথ ফিরতে হবে শিকড় - বাকড় ছিঁড়ে।
হে প্রেমিক
স্বরূপ কুমার মাইতি
হে প্রেমিক,
ভালোবাসায় সাঁকো গড়তে পারো নি-
দিন ফুরালে
একপাড় ঘিরে রেখেছো তাই দেবদাস মনে,
উদাসী হাওয়ায় তরুছায়া ঘেঁষে
তোমায় দেখি ,
রোজ জলে ভিজতে
মাইগ্রেন এর যন্ত্রণায়
খুঁজে বেড়াতে মুক্তো মনের ঝিনুক,
হে প্রেমিক,
সময় এগোয় অনুসন্ধিৎসায়
ব্যর্থ সিক্ত মন শুধুই যে ছটপট করে
ঝিনুক খোলকের ছড়ানো যন্ত্রণায় |
।।শুভ নববর্ষ।।
দেবপ্রসাদ জানা
যে বর্ষ জন্মায় নিজেই
সময়ের বাঁক ধরে ডাল পালা ছড়ায় নিজেই।
সে দুঃখ জানে না, সুখ মানে না,ভয় নেই
অসুখও নেই।
তার শরীর জুড়ে সহস্র সৃঙ্গার।
সে সিঁথিতে সিঁদুর পরে।
আলতা লাগায় পায়ে।
জন্মেই সে যুবতী, শিশিরস্নাত ভোরবসন্তের ফুল।
একটা বর্ষের আয়ু মাত্র একটি বছর।
তাই তোর অত্যাশ্চর্য অনন্যতায় প্রজন্মকে প্রজন্ম পার করে দ্বিধাহীন।
একটা বছরের প্রান তন্ময় নারীর মতো ভালোবেসে
কত শত জীবন তুমি প্রতিভাত করো,
আলোকিত করো।
যতই জীবনের স্তব্ধতা আসুক
পৃথিবী অসুস্থ হোক।
কুয়াশা যদি পীড়িত করেও বার বার
তুমি এসো নতুন রূপে প্রতিবার।
শুভ নববর্ষ।।
১৪২৭ : চাওয়া
ঋত্বিক ঠাকুর
ঘুম ভাঙতেই দেখলাম, দরজায় কুলুপ তুলে পালিয়েছে আলো।
বন্দি আমি, একলা আমি, অহংকার কোথায় পালালো?
#
হাজার মাইল পায়ে পায়ে পাড়ি দিচ্ছে আমারই আত্মীয় প্রিয় দেশ
এ অসুখ সেরে যাবে, থেকে যাবে
ভুবনমানব অনিঃশেষ
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন