।। ডিসেম্বর সংখ্যা ।।
।। যিশু খ্রিষ্ট ও ২৫শে ডিসেম্বর - ৮।।
বিশ্বজিৎ রায়-এর কবিতা
১.
প্রভু , আপনাকে
আপনার সঙ্গে যে কতবার দেখা হয়েছে আমার কাউকে বলিনি কখনো
জানি, কেউ বিশ্বাস করবেনা, সবাই বলবে এ’সব মিথ্যা গল্প ---
কাউকে কি এসব জোর করে বিশ্বাস করানো যায়,আপনিই বলুন প্রভু ?
আমার বিশ্বাস আমারই থাক, আপনাকে আমি হারাতে চাইনা কভু …
সাইকেল চালানো শিখতে গিয়ে পড়ে গেছিলাম যেদিন নর্দমার কাদায়
আপনিই এসে তুলেছিলেন, মুছিয়ে দিয়েছিলেন ছড়ে যাওয়া পায়ের রক্ত,
হাসপাতালে সারারাত জেগে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন আমার অসুস্থ মাকে,
এসব কি আমি ভুলতে পারি, দুঃসময়ে বারবার কাছে পেয়েছি যাকে ?
আপনি না থাকলে আমার মাধ্যমিক পরীক্ষার টাকা কে জমা করতো?
চাকরীর ইন্টারভিউতে আমার মুখে কে জুগিয়েছিল সব সঠিক উত্তর ?
এ’সব অবিশ্বাস্য মনে হলেও সবই কঠিন সত্য আমার কাছে
আমি জানি, অসহায় মানুষরা আপনার ছোঁয়ায় কেমন করে বাঁচে
বারবার ভুল রাস্তা থেকে সরিয়ে এনে আপনিই বাঁচিয়েছেন আমায়
যেমন, অলৌকিক ভাবে একবার বাঁচিয়েছিলেন ভয়ংকর দুর্ঘটনা থেকে---
সব ক্ষেত্রেই আপনি ছিলেন পাশে, পথচারী, ডাক্তার, বন্ধু, নানান ছদ্মবেশে
এখনো থাকেন, তাই প্রতিদিন আপনাকে স্মরণ করি, নয় শুধু জন্মমাসে …
২.
পঁচিশ মানেই
পঁচিশ মানেই আকাশ জুড়ে অপার্থিব আলো
পঁচিশ মানেই সারা চরাচর উজ্জ্বল, জমকালো
পঁচিশ মানেই নিরন্ন মানুষের ভরপেট খাবার,
পঁচিশ মানেই আনন্দ, গ্রীস থেকে ডায়মন্ড হারবার
পঁচিশ আসে বারবার, নতুন খুশি নিয়ে আসে
নতুন করে জীবন জাগায় হলুদ মরা ঘাসে
সুর খুঁজে পায় রুক্ষ মাটি, স্রোত খুঁজে পায় নদী
আহা, সবার জীবনে এমন ঘটতো যদি
আমদের হৃদয়ে গাঁথা ডিসেম্বরের পঁচিশ
পঁচিশ থেকে বেড়ে ওঠে নবজীবনের শিষ
শিষ ফুটলে জন্ম নেয় আগামীর বেঁচে থাকার গান
যে গান আসলে প্রভু যীশুর আশীর্বাদী দান …

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন