।।আলোর উৎসব--২৬।।
তপনজ্যোতি মাজি-র কবিতা
আলো
[এক]
ক্রমশ তলিয়ে যেতে যেতে মানুষটি প্রাণপণ
আলো ধরতে চাইছে দুহাতে।
আলো কি তমসার বিপরীত?
গান ভাসছে আবহে।
শ্যামা মায়ের পায়ের তলায় দেখে যা রে আলোর
নাচন।
কেমন বিমুঢ় লাগে তার।
অন্ধকার ও আলো কি সমার্থক? নাকি দেবীতত্ত্বের দুরুহ রূপক।
তার মনে হয় আলো অনিঃশেষ। অন্তর্গত বোধ।
অন্ধকারের মধ্যে তার বিমূর্ত প্রকাশ।
এই সব ভাবতে ভাবতে মানুষটা দেখতে পায়
তার সামনে দাঁড়িয়ে আছেন আলোকিত এক
শরীর।
যীশু নাকি রবীন্দ্রনাথ!
নাকি শরীরউত্তীর্ণ জ্যোতির্ময় বোধ!
[দুই]
আলো ঈশ্বরী।
আলো প্রেমিকা।
অক্ষরের সিঁড়ি ভাঙতে ভাঙতে মর্মলোকে
উদার অভ্যুদয়।
মা শব্দে কেঁপে উঠে ভুবন। বসুন্ধরার গর্ভে ঘুমিয়ে
আছে অযুত প্রাণ। জাগো, জেগে ওঠো।
কে জাগায়?
সে কি ঈশ্বরী?
সে কি প্রেম ?
নাকি আরও এক বিশুদ্ধ বিস্ময়!
আলোর ঝর্নাতলায় স্নান সমাপন হলে দর্পণের
সামনে দাঁড়িয়ে মুহূর্ত কালের জন্যে নশ্বর আমি
হয়ে ওঠে চিরকালীন আমি।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন