প্রতিদিন বিভাগে
অণুগল্প —১৫
একটি গল্পের মুসাবিদা
সুধাংশুরঞ্জন সাহা
সকাল হতে না হতেই রোজ বাবা ছেলেকে ফোন করে। ছেলে বাবার ফোন পেয়েই পড়াশোনাতে মনযোগ দেয়।মা মরা ছেলে।। ছেলের ভালোর জন্য কলকাতার বাইরে পড়াশোনার জন্য রেখে দিয়ে আসে।কিন্তু বাবা মাঝে মাঝে বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে ছেলেকে ফোন করতে ভুলে যায়। ছেলে মানসিক যন্ত্রণা ও কষ্ট পায়।
বাবার ফোন না পেলে ছেলে অরিত্র নিজেই বাবাকে ফোন করে জিজ্ঞাসা করে,বাবা তোমার শরীর ভালো তো? তোমার ফোন না পেলে চিন্তায় পড়ে যাই। অরিত্রর নতুন মা, সুমিতা খুব ভালো মনের মানুষ। অরিত্রকে খুব ভালোবাসে। প্রতিদিন সকালে অরিত্রর খবর শোনার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতে থাকে।
অরিত্রর বাবা, সুমিতাভ একটি মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা। অফিসের কাজের চাপে অনেক দিন বেড়াতে যাওয়া হয়নি। তাই, সুমিতাকে বলেছে সপ্তাহ খানেকের জন্য কালিম্পং বেড়াতে নিয়ে যাবে। সুমিতা খুব খুশি। কারণ অরিত্রর স্কুলও দেখা হবে, আবার অরিত্রকে সঙ্গে নিয়ে বেড়ানোও যাবে।
এদিকে বর্ষা আসতে একটু দেরিই আছে। এই ফাঁকে বেশ সুন্দর করে বেড়ানো হয়ে যাবে। অরিত্র এই খবর জেনে খুব উত্তেজিত। বাবা-মার সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে কী কী দেখবে গুগল ঘেঁটে ঘেঁটে তার একটা লিস্ট তৈরি করতে ব্যস্ত। এবার ছুটিটা বেশ মজাতেই কাটবে। যথাসময়ে দমদম থেকে ফ্লাইটে বাগডোগরা এয়ারপোর্ট এবং সেখান থেকে গাড়িতে সোজা কালিম্পং পৌঁছে যায়। হোটেলে ঢুকেই অরিত্রকে ফোন। অরিত্র আমরা হোটেলে পৌঁছে গেছি। তুমি রেডি হয়ে থাক। বিকেলেই তোমাকে নিয়ে আসব। কাল থেকে তো তোমার স্কুল ছুটি। কোনো সমস্যা নেই। কাল সকালেই শুরু হবে আমাদের ভ্রমণ। অরিত্র রেডিই ছিল ব্যাগ গুছিয়ে নিয়ে। বাবার ফোন পেতেই তার আনন্দ দেখে কে! সব বন্ধুদের বাই বাই করে হস্টেল সুপারের কার্যালয়ে বাবা-মার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতে থাকে। অরিত্র মনে মনে ঠিক করে রেখেছে কালিম্পং নিয়ে একটা চমকপ্রদ বড় গল্প লিখবে। সেই গল্পের মূল চরিত্র হবে ওর নতুন মা,সুমিতা।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন