লেবেল

রবিবার, ২১ মে, ২০২৩

উন্মুক্ত কবিতাগুচ্ছ —২৯ ।। অশোক ব্যানার্জী -র পাঁচটি কবিতা।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 






উন্মুক্ত কবিতাগুচ্ছ —২৯



অশোক ব্যানার্জী  -র  পাঁচটি কবিতা 


১.

তখন বাজে সন্ধ্যা ছ'টা বোধহয়


তখন বাজে সন্ধ্যা ছ'টা বোধহয়

ঘুমিয়ে পড়েছিলাম দুপুর বেলায়,

শরীরটা একটু অসুস্থ ছিল আমার

ঘুম ভাঙ্গলো হাল্কা ঝ'ড়ো হাওয়ায় !

তাকিয়ে দেখি বৃষ্টি পড়ছে বেশ

গাছেরা সব দুলছে আনন্দে তে

বারান্দায় বসলাম এসে আমি

আমার মনটাও উঠলো এবার মেতে ।

হাল্কা বাতাস বইছে একটু জোরে

বৃষ্টি পড়ছে রিমঝিমিয়ে গাছে,

গাছেরা আজ আনন্দে মাতোয়ারা

ওদের খুশি আমার মনেও আছে ।

আকাশ জুড়ে মেঘের আনাগোনা

কোথায় যেন বাজ পড়লো দূরে

বসে আছি একলা বারান্দাতে

গাইছে হৃদয় মেঘমল্লার সুরে !

দহন শেষে বৃষ্টি এসে আজ

জুড়িয়ে দিল শরীর,মন, প্রাণ

রাস্তা ঘাটও ভেজা, গাছের ডালে

শুনতে পেলাম একটা পাখির গান ।

কুলোয় ফেরার আগে আনন্দে তে

মনের সুখে গান ধরেছে পাখি

হাল্কা ঠাণ্ডা হাল্কা সুখের স্পর্শে 

বুজে এলো আমার দুটো আঁখি ।






২.

 শাশ্বত সত্য


কালের নিয়মে জীবন চক্রের

শুরু এবং শেষ; সৃষ্টি, স্থিতি,বিনাশ,

এ যেন এক অমোঘ অবিসংবাদিত 

পরিনতি ।

যার এতটুকুও বিচ্যুতি নেই কোথাও ।

এটা এক শৃঙ্খলিত শাশ্বত সত্য !



শুভ শক্তি যখন বিচলিত

পশু শক্তির উৎকট আস্ফালনে,

যখন শিব শক্তির প্রবল জাগরণ

একান্ত কাম্য,

তখনও জীবন চক্রের

এতটুকুও বিচ্যুতি নেই কোথাও !

এটাই শাশ্বত সত্য ।



ভাগ্য বলে কিছু আছে কি কোথাও ?

মানুষই তো নিজের ভাগ্যের জন্য দায়ী

তার কৃত কর্মের মাধ্যমে ।

কর্মই ভাগ্যের ফলস্বরূপ

চিরদিন, চিরকাল ।

এর অন্যথা হয় না কোনো দিন।

যেমন অন্যথা হয়না জীবন চক্রের।

এটাই তো শাশ্বত সত্য ।



৩.

আমার এই কারবার


কত লিখি ছড়া আর

কত লিখি পদ্য ?

স্টক তো ফুরিয়ে এলো

বলছি তা অদ্য ।

ক্রমাগত লিখে চলি

আগুপিছু না ভেবে

যদি কিছু ভুল হয়

ঠিক করে কে দেবে ?

ছড়া আর পদ্য

সহজ তো নয় লেখা,

লিখলেই হবে নাকি

আসল তো পড়ে দেখা ।

পড়ছ যে তোমরা

ভালো লাগে সব্বার ?

কসরত করে তাই

লিখি আমি প্রতিবার ।

তবু পড়ি দোটানায়

লিখে লিখে ক্লান্ত,

আমিও যে কবি, এই

ধারণাটা ভ্রান্ত ।

আরশোলারও ইচ্ছে

পাখি হয়ে ওড়বার

সেই কথা ভেবে বুঝি

আমার এই কারবার !




৪.

আমার প্রথম কবিতা এবং•••


আমি যে কখনো কবিতা লিখবো

ভাবিনিতো কোনো কালে,

হঠাৎ কি হলো একদিন আমি

লিখলাম ফাঁকতালে ।

দু'লাইন লিখে বারে বারে পড়ি

কবিতা হচ্ছে নাকি ?

পাতে দেয়া যাবে? পড়বে সবাই?

ভাবি আর চুপ থাকি ।

প্রথম কবিতা লিখেছিলাম আমি -

পাখি উড়ে যায় আকাশে

উড়ে যেতে যেতে বারে বারে দেখি

ডানা ঝাপটায় বাতাসে ।

মিল পেয়ে গেছি, মনের আনন্দে

লিখে চলি আমি আরো,

আকাশেতে পাখি ডিগবাজি খায় ,

সাথে আরো গোটা বারো !

তেরো খানা পাখি ডানা ঝাপটিয়ে

আকাশে বেড়াচ্ছে উড়ে

তাই নিয়ে আমি কবিতা লিখছি

বসিয়া নিজের ঘরে ।

আহা কি আনন্দ কবিতা লিখছি

মিলেও যাচ্ছে শেষে

উৎসাহ পেয়ে আরো লিখি আমি

মনে মনে উঠি হেসে ।

যত লিখে যাই তত মিল পাই

আনন্দে আত্মহারা

এই ভাবে হল প্রথম আমার

কবিতা লেখা সারা ।

তারপর থেকেই আমার দেখি

উৎসাহ গেছে বেড়ে

তখন থেকেই কবিতা লিখছি

রোজ রোজ তেড়ে ফুঁড়ে !

কবিতাগুলো হচ্ছে কেমন

লাগছে কি কারো ভালো ?

ভালো না লাগুক তবু লিখে চলি

এ আমার কি যে হলো !

থামতে গিয়েও থামতে পারি না

উসখুস করে মন

এ যেন আমাকে পেতেই হবে

অমূল্য গুপ্তধন !




৫.

 বয়সের ভুলে


যদ্দুর জানি আমার

বয়স হলো আশি প্লাস

সব কিছু ভুলে যাওয়া

এখন তো অভ‌্যাস ।

সেই রোগে ভুগে ভুগে

আমি আজ ক্লান্ত,

এত নাজেহাল হবো

কে বা আর জানত !

ভোরবেলা উঠে রোজ

ব্রাশ করা অভ্যেস,

মাঝে মাঝে তাও দেখি

ভুলে যাই আমি বেশ ।

করেছি,না করিনি,

দ্বন্দ আর ভ্রান্তি !

ব্রাশ করে অবশেষে

তবে মনে শান্তি ।

তক্ষুনি গিন্নী

তেড়ে এসে বল্লে,

"পর পর দু'বার

ব্রাশ আজ করলে !"

মনে তাই খচ্ খচ্

খরচটা হলো বলে,

দেখি তো এবারে পেস্ট

কতদিন আর চলে ।

সেই দিন ব্রেকফাস্ট

করতেই গেছি ভুলে !

গিন্নী তো রেগে কাই,

"ব্রেকফাস্টে লুচি খেলে

মনে নেই কিছু তার ?

এতো লুচি খেও না কো

বলেছিলাম বার বার ।

গোটা বারো লুচি আর

আলু দিয়ে ছেঁচকি

খেয়ে তুমি তিনবার

তুলে ছিলে হেঁচকি !

তবু তুমি গেছো ভুলে ?

আবার চাইছো খেতে ?

তোমার এ ব্যবহার

অদ্ভুত লাগে বটে ।

সব কিছু ভুলে যাও!

ভোলো,নাকি ন্যাকামি ?

তুমি যাও সব ভুলে

সামলাতে আছি আমি !"

হঠাৎ একটু থেমে

ভেবে বলে গিন্নী,

"আহা,আজ তোমাকেতো

ব্রেকফাস্টই  দি'নি ।

তোমার ভাগের লুচি

ঢাকা ছিল রান্না ঘরে

খেলাম তো সেই লুচি

আমি আজ ভুল করে!

তাই ভাবি একি হলো?

বলছি তো স্পস্ট,

জল খাবার খেতে আজ

কেন এতো কষ্ট  !


1 টি মন্তব্য:

  1. প্রতিটি কবিতাই খুব সুন্দর। অনন্য সৃজন। মুগ্ধতা রেখে গেলাম কবি।

    উত্তরমুছুন