উন্মুক্ত কবিতাগুচ্ছ —২৯
অশোক ব্যানার্জী -র পাঁচটি কবিতা
১.
তখন বাজে সন্ধ্যা ছ'টা বোধহয়
তখন বাজে সন্ধ্যা ছ'টা বোধহয়
ঘুমিয়ে পড়েছিলাম দুপুর বেলায়,
শরীরটা একটু অসুস্থ ছিল আমার
ঘুম ভাঙ্গলো হাল্কা ঝ'ড়ো হাওয়ায় !
তাকিয়ে দেখি বৃষ্টি পড়ছে বেশ
গাছেরা সব দুলছে আনন্দে তে
বারান্দায় বসলাম এসে আমি
আমার মনটাও উঠলো এবার মেতে ।
হাল্কা বাতাস বইছে একটু জোরে
বৃষ্টি পড়ছে রিমঝিমিয়ে গাছে,
গাছেরা আজ আনন্দে মাতোয়ারা
ওদের খুশি আমার মনেও আছে ।
আকাশ জুড়ে মেঘের আনাগোনা
কোথায় যেন বাজ পড়লো দূরে
বসে আছি একলা বারান্দাতে
গাইছে হৃদয় মেঘমল্লার সুরে !
দহন শেষে বৃষ্টি এসে আজ
জুড়িয়ে দিল শরীর,মন, প্রাণ
রাস্তা ঘাটও ভেজা, গাছের ডালে
শুনতে পেলাম একটা পাখির গান ।
কুলোয় ফেরার আগে আনন্দে তে
মনের সুখে গান ধরেছে পাখি
হাল্কা ঠাণ্ডা হাল্কা সুখের স্পর্শে
বুজে এলো আমার দুটো আঁখি ।
২.
শাশ্বত সত্য
কালের নিয়মে জীবন চক্রের
শুরু এবং শেষ; সৃষ্টি, স্থিতি,বিনাশ,
এ যেন এক অমোঘ অবিসংবাদিত
পরিনতি ।
যার এতটুকুও বিচ্যুতি নেই কোথাও ।
এটা এক শৃঙ্খলিত শাশ্বত সত্য !
শুভ শক্তি যখন বিচলিত
পশু শক্তির উৎকট আস্ফালনে,
যখন শিব শক্তির প্রবল জাগরণ
একান্ত কাম্য,
তখনও জীবন চক্রের
এতটুকুও বিচ্যুতি নেই কোথাও !
এটাই শাশ্বত সত্য ।
ভাগ্য বলে কিছু আছে কি কোথাও ?
মানুষই তো নিজের ভাগ্যের জন্য দায়ী
তার কৃত কর্মের মাধ্যমে ।
কর্মই ভাগ্যের ফলস্বরূপ
চিরদিন, চিরকাল ।
এর অন্যথা হয় না কোনো দিন।
যেমন অন্যথা হয়না জীবন চক্রের।
এটাই তো শাশ্বত সত্য ।
৩.
আমার এই কারবার
কত লিখি ছড়া আর
কত লিখি পদ্য ?
স্টক তো ফুরিয়ে এলো
বলছি তা অদ্য ।
ক্রমাগত লিখে চলি
আগুপিছু না ভেবে
যদি কিছু ভুল হয়
ঠিক করে কে দেবে ?
ছড়া আর পদ্য
সহজ তো নয় লেখা,
লিখলেই হবে নাকি
আসল তো পড়ে দেখা ।
পড়ছ যে তোমরা
ভালো লাগে সব্বার ?
কসরত করে তাই
লিখি আমি প্রতিবার ।
তবু পড়ি দোটানায়
লিখে লিখে ক্লান্ত,
আমিও যে কবি, এই
ধারণাটা ভ্রান্ত ।
আরশোলারও ইচ্ছে
পাখি হয়ে ওড়বার
সেই কথা ভেবে বুঝি
আমার এই কারবার !
৪.
আমার প্রথম কবিতা এবং•••
আমি যে কখনো কবিতা লিখবো
ভাবিনিতো কোনো কালে,
হঠাৎ কি হলো একদিন আমি
লিখলাম ফাঁকতালে ।
দু'লাইন লিখে বারে বারে পড়ি
কবিতা হচ্ছে নাকি ?
পাতে দেয়া যাবে? পড়বে সবাই?
ভাবি আর চুপ থাকি ।
প্রথম কবিতা লিখেছিলাম আমি -
পাখি উড়ে যায় আকাশে
উড়ে যেতে যেতে বারে বারে দেখি
ডানা ঝাপটায় বাতাসে ।
মিল পেয়ে গেছি, মনের আনন্দে
লিখে চলি আমি আরো,
আকাশেতে পাখি ডিগবাজি খায় ,
সাথে আরো গোটা বারো !
তেরো খানা পাখি ডানা ঝাপটিয়ে
আকাশে বেড়াচ্ছে উড়ে
তাই নিয়ে আমি কবিতা লিখছি
বসিয়া নিজের ঘরে ।
আহা কি আনন্দ কবিতা লিখছি
মিলেও যাচ্ছে শেষে
উৎসাহ পেয়ে আরো লিখি আমি
মনে মনে উঠি হেসে ।
যত লিখে যাই তত মিল পাই
আনন্দে আত্মহারা
এই ভাবে হল প্রথম আমার
কবিতা লেখা সারা ।
তারপর থেকেই আমার দেখি
উৎসাহ গেছে বেড়ে
তখন থেকেই কবিতা লিখছি
রোজ রোজ তেড়ে ফুঁড়ে !
কবিতাগুলো হচ্ছে কেমন
লাগছে কি কারো ভালো ?
ভালো না লাগুক তবু লিখে চলি
এ আমার কি যে হলো !
থামতে গিয়েও থামতে পারি না
উসখুস করে মন
এ যেন আমাকে পেতেই হবে
অমূল্য গুপ্তধন !
৫.
বয়সের ভুলে
যদ্দুর জানি আমার
বয়স হলো আশি প্লাস
সব কিছু ভুলে যাওয়া
এখন তো অভ্যাস ।
সেই রোগে ভুগে ভুগে
আমি আজ ক্লান্ত,
এত নাজেহাল হবো
কে বা আর জানত !
ভোরবেলা উঠে রোজ
ব্রাশ করা অভ্যেস,
মাঝে মাঝে তাও দেখি
ভুলে যাই আমি বেশ ।
করেছি,না করিনি,
দ্বন্দ আর ভ্রান্তি !
ব্রাশ করে অবশেষে
তবে মনে শান্তি ।
তক্ষুনি গিন্নী
তেড়ে এসে বল্লে,
"পর পর দু'বার
ব্রাশ আজ করলে !"
মনে তাই খচ্ খচ্
খরচটা হলো বলে,
দেখি তো এবারে পেস্ট
কতদিন আর চলে ।
সেই দিন ব্রেকফাস্ট
করতেই গেছি ভুলে !
গিন্নী তো রেগে কাই,
"ব্রেকফাস্টে লুচি খেলে
মনে নেই কিছু তার ?
এতো লুচি খেও না কো
বলেছিলাম বার বার ।
গোটা বারো লুচি আর
আলু দিয়ে ছেঁচকি
খেয়ে তুমি তিনবার
তুলে ছিলে হেঁচকি !
তবু তুমি গেছো ভুলে ?
আবার চাইছো খেতে ?
তোমার এ ব্যবহার
অদ্ভুত লাগে বটে ।
সব কিছু ভুলে যাও!
ভোলো,নাকি ন্যাকামি ?
তুমি যাও সব ভুলে
সামলাতে আছি আমি !"
হঠাৎ একটু থেমে
ভেবে বলে গিন্নী,
"আহা,আজ তোমাকেতো
ব্রেকফাস্টই দি'নি ।
তোমার ভাগের লুচি
ঢাকা ছিল রান্না ঘরে
খেলাম তো সেই লুচি
আমি আজ ভুল করে!
তাই ভাবি একি হলো?
বলছি তো স্পস্ট,
জল খাবার খেতে আজ
কেন এতো কষ্ট !

প্রতিটি কবিতাই খুব সুন্দর। অনন্য সৃজন। মুগ্ধতা রেখে গেলাম কবি।
উত্তরমুছুন