লেবেল

শনিবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৩

উন্মুক্ত কবিতাগুচ্ছ-৮ ।। সুজিত রেছ-এর — তিনটি কবিতা।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 




উন্মুক্ত কবিতাগুচ্ছ-৮


সুজিত রেছ-এর তিনটি কবিতা 



১.

অনন্তমালা


এত ঢেউ এত ঢেউ ওঠে কেন?

শেষমেশ সেই তো বুদবুদ,

হয়ত কিছু কথাবালি হারাবে ঘর...

যাকে তুমি মিছে ভাবো কবিতার চর।


এত চাও এত চাও কেন?

শেষমেশ সেই তো চাটিল পা,

ভবনদী গহন গম্ভীর বেগে বয়...

ভেসে যায় সব শুধু নাভিমূল রয়।


এত কাছে এত কাছে কেন?

শেষমেশ সেই তো সাত ক্রোশ,

ধেয়ে আসে বিচ্ছেদ তরঙ্গ...

খাড়ি জুড়ে কাঁদে নিঃসঙ্গ।


এত গূহ্য এত গূঢ় কথা কেন?

শেষমেশ সেই তো কাপাস তুলো,

উড়ে যায় তত্ত্বীয় পোড়া ছাই...

ভাবগম্ভীর বয়ানে আদর্শ বিকাই।



২.

বানান


যে-অন্ধকার ঘরে তুমি বাস করছ 

তার কোনও দরজা নেই,

তাই ছাদ ফুঁড়ে নির্গমনের পথ নির্মাণের শক্তি           তোমাকেই অর্জন করতে হবে।

দুএকটি জানালা আছে,

ইশারা অবিরত,

আর দধীচি-গরাদ।কবেই    

তার মজ্জা শুকিয়ে গেছে।


এই রাত শুধু লিখে যায় অন্ধকারের বানান।

কবে আলো এসে 

তা যুক্তাক্ষরহীন উচ্চারণ করবে?

সেই আশা নিয়ে,

আমি ছোটো এক টাকার কয়েনের মতো

অপলক ক্ষুৎকাতর দৃষ্টিতে 

তাকিয়ে থাকি দুঃখের সানকিথালায়।


জানি,অন্ধকারের কোনও বানান হয় না।



৩.

সুতো


যত সুতো ছাড়ি জড়িয়ে ফেলো আষ্টেপৃষ্ঠে 

টানাপোড়েন চলে অনির্বাণ মোহে

উপোসের দিনলিপি থেকে

পোড়া মদনের নাভির গন্ধ বেরোয়

বুক পকেটে ঢুকে পড়ে মেঘ

বারিধারা অশ্রুত

জীর্ণ মাদুরের আত্মা,

 ছেদন গ্রন্থির চিৎকার 

শুনতে শুনতে বেতারদুপুর কাটে

মোহনাই যদি লক্ষ্য

তবে সিধে চলনই তো ছিল শ্রেয় ; 

বঙ্কুবিহারীর মতো কটাক্ষ নিক্ষেপের কী কারণ? 

চড়াই-উতরাইয়ে পদস্খলন অস্বাভাবিক নয়, 

সমতল করতলে কেন এই বিষমীভবন  ! 

1 টি মন্তব্য: