দুঃসময়ের কবিতা -২
বিকাশ দাস
বিসর্জন
অশুভ নিধনে উদ্যত শক্তিময়ী জগৎ জননী দশ হাতে দুষ্টের দমন শিষ্টের পালন।
বরণ শেষে বিসর্জন মানে প্রকৃতির বেঁচেবর্তে থাকা নদ-নদী পুকুর দীঘিরও বিসর্জন!
জলের স্রোতে ভাসমান।সর্বাঙ্গ আষ্টেপৃষ্ঠে বাঁধা ফুলমালার আভরণ শ্বাসরুদ্ধ বাঁধন।
দুই
কাল ছিলে চোখ ধাঁধানো আলোর সজ্জায় আনন্দের ঢাক ঢোল কাঁসর
বাজনার আমোদে মজে আরতির অহংকারে।
আজ বরণ শেষ তোমার বিসর্জন দুঃখ বুকে ভাসছে অশ্রুসজল সাদর
প্রকৃতির প্রবাসে রকমারি সম্পর্কের অলংকারে।
তিন
শরতের নির্মেঘ আকাশ নীলসাদা হিমেল হাওয়ায়
দৃষ্টি-মাটিতে কাশফুলের দোলা শিউলির গন্ধমায়ায়।
যষ্ঠী থেকে দশমী মৃন্ময়ী প্রতিমার মঙ্গলময় ঋদ্ধছায়া
আনন্দময়ী জগৎময়ী মায়ের করুণাময়ী নিসর্গ কায়া।
ঠাকুর দালানে মণ্ডপে চোখ ধাঁধানো আলোক সজ্জা
সবার মনে প্রাণে গার্হস্থ্য ঘর অস্থির আত্মশরণ-মজ্জা
প্রতিমার বিসর্জন তলে। বিজয়ার কোলাকুলি চলে।
দিনরাত্রির অক্লান্ত পরিশ্রমে দেবী দুর্গা মৃন্ময়ী প্রতিমা
মহিষাসুর নিধনে উদ্যত জগৎ জননী শক্তিময়ী উমা
পাঁচদিন ঠাকুর দালানে মণ্ডপে মণ্ডপে আলোর অনন্য সজ্জা
অবর্ণনীয় দুঃখ ও অনির্বচনীয় উল্লাস মাঝে অনন্যতার মজ্জা।
অশ্রুসজল বর্ণনার বাঁধন।মুক্তশ্রমণ সর্ব কালের পূজিতা
দশমী বরণ শেষে পরিত্যক্ত। বিসর্জিত হিমালয় দুহিতা।
পাঁচ
চিরন্তন আকাশ, বায়ু, অগ্নি, জল,আর মাটির তত্ত্ব
মানব দেহে বোধন বিসর্জন নিরন্তর মায়ায় মত্ত।
সর্বত্রই ঈশ্বরের স্থিতি নিরাকার রূপে।তাই মৃন্ময়ী প্রতীক প্রতিমায়
প্রাণ প্রতিষ্ঠায় জাগিয়ে তুলি ঐশ্বরিক দৈহিকসত্ত্বা উপাসনার চেতনায়।
জন্ম-মৃত্যু সবটুকু ভবিতব্য নিয়তির সত্য।প্রকৃতির অনন্ত অখণ্ড বিধান
বিসর্জনেই উঠে আসে পুনর্জীবন।প্রকৃতির গৃহ-প্রাঙ্গণে ঈশ্বরের আহ্বান।
প্রনম্য সাকার রূপ বিসর্জন নিমগ্নে নিরাকার প্রবাহী অবশেষে
হৃদয় মননে ঈশ্বরের পুনরাগমন জল মাটির নির্মাল্য আশীষে।
ছয়
তোমার হাতে গড়া জীবন্ত মানুষ
দিনরাত্রি অহেতুক ধর্মের নামে তর্ক লাঠালাঠি মারামারি করে।
আমার হাতে গড়া তোমার মুখোশ
তারাই ভক্তিপ্রেম রসে প্রণাম ছুঁয়ে মাথা নুয়ে যাওয়া আসা করে।
আরও পড়ুন 👇👇
https://wwwankurisha.blogspot.com/2021/05/ankurisha-emagazine-bengali-poem-in_31.html
https://m.facebook.com/groups/973973753018192/permalink/1271330499949181/

বেশ বেশ বেশ বলেছেন
উত্তরমুছুনধন্যবাদ।
মুছুন