ধারাবাহিক ভ্রমণ কথা (পর্ব- ৯)
পৃথিবীর উল্টো পিঠ
বিশ্বেশ্বর রায়
এখানকার কাঠবিড়ালীগুলো আমাদের দেশের কাঠবিড়ালীর তুলনায় অনেকটাই বড়৷ তবে তাদের পিঠে রামের করস্পর্শ পড়েনি বলে পিঠে কালো রেখাগুলো নেই৷ কিন্তু তাদের হাবভাবে, আচরণে অভিন্ন ছবি৷ শালিখগুলো একটু আলাদা৷ প্রায় কালচে-ধূসর বর্ণের৷ চড়ুই এবং কাক একই—চেহারায় এবং আচরনেও৷
আজ একটু অন্যদিকে ঘুরতে বেরিয়েছিলাম চারজনে মিলে৷ 'কানেক্টিকাট স্কুল অফ ল'-এর দিকে যাবার পথের দু'ধারে সবই ব্যক্তিগত বাড়ি৷ বাড়িগুলো যেন পটে আঁকা ছবি৷ প্রত্যেকটি বাড়ির সামনে ফুলের বাগান—জমির আয়তন অনুযায়ী কোনোটা বড়, কোনোটা একটু ছোট৷ বারান্দায় টবে এবং সিলিং থেকে ঝোলানো ছোট ছোট টবে নানা রঙের ফুলের বাহারি দৃশ্য৷ এদিকের রাস্তাঘাটেও লোকজন প্রায় দেখাই যায় না৷ তবে কয়েকটি বাড়ির সামনে ছোট ছোট বাচ্চার দল খেলাধূলায় রত৷ তাদের পাশের রাস্তার ফুটপাত ধরে যখন হেঁটে যাচ্ছিলাম তখন তারা খেলা থামিয়ে চুপচাপ আমাদের দিকে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল৷ হয়তো ভিনদেশী মানুষ দেখে৷ কোনো হুল্লোড়, চিৎকার, চেঁচামেচি বা ঝগড়াঝাঁটি নেই, শুধু তাদের অনুচ্চ কলকাকলির সুমধুর ধ্বনি৷
ল' স্কুলের স্থাপত্যও অপূর্ব সুন্দর৷ তবে ক্যাম্পাসে ছাত্রছাত্রী বা অন্য লোকজনও প্রায় নেই৷ কদাচিৎ দু'একজন লোক এদিক-ওদিক যাতায়াত করছে বা চুপচাপ কোনো বেঞ্চে বসে আছে৷ চারিদিকে নানা ধরণের বড় বড় সারিবদ্ধ দণ্ডায়মান গাছ সুন্দর করে ছাঁটা৷ বেশির ভাগই ঝাউ এবং আমাদের দেশের বকুল, আম, জাম, তমাল বা গাব জাতীয় ঝাঁকড়া ডালপালায় পাতাভর্তি গাছ৷ নাম ম্যাপল্ ট্রি৷ গাছের নীচে নীচে কাঠের চেয়ার-বেঞ্চ পাতা৷ ছাত্র-ছাত্রীরা সেখানে ব্রেকফাস্ট, লাঞ্চ বা টিফিন সারে৷ একেবারে মুক্ত আকাশের নীচে৷ ওইরকম একটি দেবিল-চেয়ারে আমরা কিছুক্ষণ বসলাম৷ চারিদিকে নিস্তব্ধ প্রশান্তি৷ শুধু সামনের রাস্তা ধরে আধো আলো-অন্ধকারে নিঃশব্দে ছুটে চলেছে নানা ধরণের সুদৃশ্য সৌন্দর্য।
বিশ্বেশ্বর রায়: আর কাদা প্যাচপেচে ব্যাপারটা তো কোথাও নেই৷ ফলে নিশ্চিন্তে বাইরে ঘোরাঘুরি করতে বিশেষ মুশকিলে পড়তে হয় না৷ তবে আকাশে মেঘের ঘনঘটা দেখে পরদিন আমাদের বেড়াতে যাওয়ার পরিকল্পনা মুলতুবি করতে হল৷ ঠিক হৎ আগামী কাল আবহাওয়া ভালো হলে আমরা ডাউন টাউনে ঘুরতে যাব৷
আরও পড়ুন 👇👇
https://wwwankurisha.blogspot.com/2021/05/ankurisha-emagazine-bengali-poem-in_4.html

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন