লেবেল

বৃহস্পতিবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২১

আজ থেকে প্রকাশিত হল— ধারাবাহিক উপন্যাস (পর্ব-১)।। ছায়া-ছায়া অন্ধকারের আড়ালে — অনন্যা দাশ।। Ankurisha ।।E.Magazine ।।Bengali poem in literature ।।

 




আজ থেকে প্রকাশিত হল—


ধারাবাহিক উপন্যাস (পর্ব-১)

ছায়া-ছায়া অন্ধকারের আড়ালে

নন্যা দাশ




পলাশদাই আমাকে প্রথম ডাঃ মিত্রর কথা বলেছিল। পলাশদার সঙ্গে কিছুদিন হল আলাপ হয়েছে তখন। আমাদেরই কলেজে মাইক্রোবায়োলজি ডিপার্টমেন্টের একটা ল্যাবে পোস্ট ডক সে। এদিক ওদিক এর ওর বাড়িতে জন্মদিন পুজো ইত্যাদি অনুষ্ঠানে দেখে হয়। আমার মনটা যে আজকাল একটু খারাপ যাচ্ছে সেটা পলাশদা কী করে জানি না বুঝতে পেরেছিল। (এখানে বলে রাখা ভালো আগে আমি ওকে পলাশদা বলতাম এখন আর বলি না, সেটার কারণটা পরে বলছি।)। যাই হোক ওই যা বলছিলাম, আমার মন খারাপের ব্যাপারটা ওই বুঝে ফেলল। আসলে অন্যরা সবাই নিজেদের চাকরি, সংসার, ছেলেমেয়েদের সমস্যা নিয়ে এতটাই ব্যস্ত যে অন্য কার কী হচ্ছে সেই নিয়ে কেউ আর মাথা ঘামায় না। তাই আমার মন খারাপটা আর কেউ দেখতে পায়নি। আচ্ছা মনটা খারাপ হবে নাই বা কেন? বাবা, মা, আত্মীয়স্বজন সবাইকে ছেড়ে এই দূর দেশে অর্থাৎ মার্কিন মুলুকে পি এইচ ডি করতে এসেছি উচ্চাকাঙ্ক্ষার ঠেলায়! তা চলছিল সবই ঠিকঠাক, অনেক কাজও হয়ে গিয়েছিল আর একটা বছর হলে হয়তো পি এইচ ডি হয়েও যেত তা চার বছরের মাথায় আমার বস, মানে যার কাছে পি এইচ ডি করতে এসেছিলাম তিনি হঠাৎ দুম করে হৃদযন্ত্র বিকল হয়ে মারা গেলেন! ভদ্রলোক ভালোই ছিলেন, পুণ্যবানও বটে, তাই রোগটোগ হয়ে ভুগতে টুগতে হল না। রাতে ঘুমোতে গেলেন, সকালে আর উঠলেন না। ম্যাসিভ হার্ট অ্যাট্যাক! তা ওনাকে কবর টবর দেওয়া হল। ঘটা করে ফিউনারাল, সেলিব্রশান অফ লাইফ ইত্যাদি হল যদিও তাতে আমাদের কোন লাভ হল না। কলেজ থেকে আমাদের, মানে ওনার ল্যাবের সব পি এইচ ডি স্টুডেন্টদের এর ওর তার ল্যাবে ঢুকিয়ে দেওয়া হল। একেবারে লটারির মতন। আমার লটারি ভাগ্য বরাবরই খুব খারাপ, তাই এবারেও তাই হল। বেকি, সারা, টম আর আমি চারজনে আলাদা আলাদা ল্যাবে গিয়ে ঢুকলাম। ওদের কথা ঠিক জানি না কিন্তু আমি যার ল্যাবে এসে পড়েছি তার চিং চুং গোছের কী একটা নাম আছে বটে কিন্তু সে নিজেকে রজার বলে পরিচয় দিতে পছন্দ করে।  সাংঘাতিক লোক সে! দিন নেই রাত নেই সবাইকে তার ল্যাবে কাজ করে যেতে হবে! কোন কিছুতেই সন্তুষ্ট হয় না সে! স্টাইপেন্ডটা দিয়ে সে যেন কিনে ফেলেছে আমাদের! সে আমার চার বছর ধরে করা কাজটাকে ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে দিয়ে আবার প্রথম থেকে ওর দেওয়া প্রোজেক্টে কাজ শুরু করতে বাধ্য করল। সেই থেকেই আমার মনটা খারাপ হয়ে গেছে। আরও চার-পাঁচ বছর এই ভয়ঙ্কর রজার লোকটার ল্যাবেই আমাকে থাকতে হবে ভেবে ভেবে।      





চলবে...






আরও পড়ুন👇👇👇



https://wwwankurisha.blogspot.com/2021/04/ankurisha-emagazine-bengali-poem-in_58.html


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন