এই সময়ের কবিতা
কবির কাঞ্চন
১.
ব্যাঙের ধোকা
আষাঢ় এলে বৃষ্টি মিলে
সবুজবনে জাগে প্রাণ
বৃষ্টি পড়ে টাপুরটুপুর
পাখির কন্ঠে মধুর গান।
আষাঢ় মাসে হাওয়ায় ভাসে
ব্যাঙের ঘ্যাঙর ঘ্যাং
সেই সুরকে ধরতে গিয়ে
ভাঙলো খোকার ঠ্যাং।
ঠ্যাঙের ব্যথা তুচ্ছ করে
ছুটছে আবার খোকা
ব্যাঙের কাছে এসেই খেলো
সোনা ব্যাঙের ধোকা।
২.
দুষ্ট ছেলে
আম বাগানে জাম বাগানে
ফুল বাগানে কে রে?
আমি দুষ্ট ছেলে রে।
মগডালের ঐ আমটি পেড়ে
আমায় এনে দে
আমার আছে মিষ্টি লিচু
নিলে ক'টা নে।
ওরে দুষ্ট ছেলে রে।
এই ডালে ঐ ডালে
ঝোপে ঝাড়ে বাঁশে
লাফিয়ে চলে কে রে?
আমি দুষ্ট ছেলে রে।
মগডালের ঐ পাখির বাসার
ডিমটি আমায় দে
আমার আছে মুরগীর ডিম
নিলে ক'টা নে।
ওরে দুষ্ট ছেলে রে।
৩.
সোনাব্যাঙ
বৃষ্টি এলে জলের ধারে
ডাকিস কেন এতো
কাছে এলে নীরব থাকিস
ভয় পাওয়াদের মতো।
সাহস করে আয় নারে আজ
খেলবো দারুণ খেলা
তোর সাথে কাটিয়ে দেবো
আমার সারাবেলা।
সোনাবন্ধু, ভয় পেওনা
আমায় খালি খালি
আদর করে নাইতে দেবো
জলের ধারা ঢালি।
সোনা কথায় সোনাব্যাঙে
আমার কাছে আসে
তাই না দেখে বোয়ালমাছে
মিটমিটিয়ে হাসে।
৪.
দেশটা আমার
দেশটা আমার সবচে' প্রিয়
দেশটা আমার প্রাণ
দেশের মাঝে পাই খুঁজে পাই
আমার মায়ের ঘ্রাণ।
দেশটা আমার ভালো লাগা
ভালোবাসার গান
দেশের মাঝে পাই খুঁজে পাই
বুকের ভেতর টান।
দেশটা আমার স্বপ্নে ঘেরা
খোদার সেরা দান
দেশের মাঝে পাই খুঁজে পাই
মুগ্ধ সুরের তান।
দেশটা আমার শান্তি সুখের
অনন্য এক স্থান
জীবন দিয়ে রাখবো ধরে
লাল সবুজের মান।
৫.
বিজয় এলে
বিজয় এলে সোনারদেশে
সোনারছেলে জাগে
একাত্তরের দাগে
লাল সবুজের ঐ নিশানায়
গৌরব হাওয়া লাগে।
এই দেশেরই আলোবাতাস
এই দেশেরই ভাষা
মিটায় মনের আশা
যাঁদের ত্যাগে রক্তদামে,
দিলেম ভালোবাসা।
দেশকে ভালোবেসে যাঁরা
স্বাধীনতার রেশে
জীবন দিলেন হেসে
দেশের মানুষ শ্রদ্ধা জানায়
তাঁদের ভালবেসে।
৬.
ঘোড়া দাদু
টুম্পা মণি দাদুর কাছে
বায়না ধরেছে
তাই তো দাদু হাতি-ঘোড়ার
পোশাক পরেছে।
দাদুর পিঠে চড়তে মজা
টুম্পা বলেছে
তাই তো দাদু ঘোড়ার মতো
ছুটে চলেছে।
৭.
ঘ্যাঙর ঘ্যাঙর ঘ্যাঙ
টাপুরটুপুর শব্দ শুনে নৃত্য করে ব্যাঙ
বৃষ্টি পেয়ে কাদাজলে করে ঘ্যাঙর ঘ্যাঙ।
খোকন সোনা চুপিসারে দাদুর কানে কয়
বাইরে এসব আওয়াজ কিসের লাগছে মনে ভয়।
মুচকি হেসে দাদু বলেন করো নাকো ভয়
বর্ষাকালে গাঁও-গেরামে ঘ্যাঙর ঘ্যাঙর হয়।
ব্যাঙে করে ঘ্যাঙর ঘ্যাঙর পাখি করে গান
তাই তো তোমার বাবার মনে গাঁও-গেরামের টান।
৮.
খেঁকশিয়ালের বিয়ে
হঠাৎ রোদে বৃষ্টি পড়ে মিষ্টি দুপুরবেলা
মেঘে ঢাকা আকাশটাতে বিজলি করে খেলা।
হলদে পাখি হলুদ মেখে গায়হলুদে আসে
কনের বাড়ির পাখপাখালি কনের পাশে হাসে।
হাতি-ঘোড়া'র নাচন দেখে নাচছে যে বাঘ মামা
লাগছে দারুণ টিয়ার গায়ের লাল-সবুজের জামা।
বৃষ্টি রোদের মিষ্টি খেলায় খেঁকশিয়ালের বিয়ে
বর এসেছে কনের বাড়ি টোপর মাথায় দিয়ে।
ফুলে ফুলে সাজানো হয় কনের বাড়ির কক্ষ
সিংহ হরিণ ভালুকসহ এলো বরের পক্ষ।
খেঁকশিয়ালের বিয়ে হলো বাজলো কতো বাদ্য
আয়েশ করে খেলো সবাই বিয়ে বাড়ির খাদ্য।
বরের পাশে কনে যখন নাচতে শুরু করে
খেঁকশিয়ালের নাচন দেখে সবার পরান ভরে।
দুপুর শেষে সন্ধ্যা হলো আনন্দ উৎসবে
সবার আশা বিয়ের এদিন স্মৃতি হয়ে রবে।
৯.
ফুল পাখিদের কাছে
মন থাকে না ঘরের ভেতর সুনীল আকাশ ছেড়ে
জানলা দিয়ে বৃষ্টি ধরি হাত দু'খানি নেড়ে।
আর পারি না থাকতে ঘরে মন যে কেমন করে
ফুলে ফলে বাগবাগিচা গেছে নাকি ভরে।
পাখপাখালি বলল আমায় কিচিরমিচির করে
কেমন করে থাকতে পারো একলা বদ্ধ ঘরে।
বাগান ভরা ফুলের হাসি দেখতে যদি চাও
নেচে গেয়ে হেসে হেসে বাইরে চলে যাও।
মৌমাছিরা বলল ডেকে ভাঙো ঘরের তালা
যাও ফিরে যাও গুনগুনিয়ে গাঁথতে ফুলের মালা।
ফুলের মালা গলায় দিয়ে নাচবে যখন খুব
ফুলপরীরা দেবে তখন রূপ সাগরে ডুব।
চুপিচুপি ফড়িং এসে খুললো যখন তালা
প্রজাপতি মুচকি হেসে বলল এবার পালা।
যেই না আমি ঘর ছেড়েছি ছেড়ে সকল দ্বন্দ্ব
সমীরণে ভেসে আসে মিষ্টি ফুলের গন্ধ।
খানিক দূরের পুকুর থেকে পুঁটিমাছে বলে
সুখের খোঁজে যাচ্ছ বুঝি একলা পথে চলে।
চাও যদি ভাই, তোমার সাথে যাব আমি চলে
বোয়াল মাছে ভেবে বলে সুখ খোঁজে নাও জলে।
ও পুটি ভাই, জলেই জীবন স্থলে যাবে মরে
আজকে তারে দাও না ছেড়ে আর রেখো না ধরে।
হাওয়ার বেগে ছুটছি আমি ফুল পাখিদের কাছে
আজকে আমার মন হারাবো কল্পলোকের ধাঁচে।
১০
ছুটির দিনে
ছুটি পেয়ে আজকে আমি ছুটছি ফুলের দেশে
ফুলবাগিচায় হারিয়ে যাব ফুলের মতো হেসে।
আজ সারাদিন কাটব সাঁতার দিঘির জলে নেমে
সাগর নদী ছাড়িয়ে যাব রবো না আর থেমে।
আজ সারাদিন খেলব খেলা প্রজাপতির ঢংয়ে
ইচ্ছেমতো রাঙিয়ে নেব লাল-সবুজের রংয়ে।
গুনগুনিয়ে গাইব আমি আজকে অবিরত
মধুর নেশায় হারিয়ে যাব মৌমাছিদের মত।
তিড়িং বিড়িং ফড়িং হয়ে নাচব রঙিন গায়ে
ঘাসের ডগা নাড়িয়ে দেব লম্বা চিকন পায়ে।
কিচিরমিচির সুর ছড়াব পাখির গানে গানে
তেপান্তরে হারিয়ে যাব মুগ্ধ সুরের টানে।
নেচে নেচে গাইব আমি মধুর সুরে সুরে
পরীর দেশে হারিয়ে যাব হাওয়ায় উড়ে উড়ে।
সকাল দুপুর সন্ধ্যা রাতে দেখে ফুলের মেলা
মনের সুখে হাসব আমি আজকে সারাবেলা।
এই বিভাগে আপনিও মৌলিক ও অপ্রকাশিত লেখা পাঠান।
ankurishapatrika@gmail.com

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন