কবিতায় রবি স্মরণে শ্রদ্ধাঞ্জলি
ফারুক নওয়াজ
১.
আমার ওসব চাই না কিছু
আকাশ ছোঁয়া অট্টালিকা থাক তোমাদের
রঙচঙা এই মজার শহর স্বপ্ন-সাধের
থাক তোমাদের, থাক তোমাদের!
আমার ওসব চাই না কিছু.-- ছাতানাতা
চাই কিছু বই, সঙ্গে কিছু কলম-খাতা
লতাপাতায় ঘেরা মাটির ছোট্ট গেহ
পাখির গান আর মায়ায় মাখা ছায়ার স্নেহ।
ঝরাপাতার শব্দে শুনে কাটবে দুপুর--
মেঘলা দিনে বৃষ্টি এলে টাপুর টুপুর।
সৃষ্টিসুখে হারিয়ে যাবো কল্পনাতে
চাঁদের সাথে চলবে আমার গল্প রাতে।
সুরের ঝিঁঝিঁ সুর ছড়াবে, নাচবে জোনাক...
আর তো কিছুই চাই না আমার-- এইটুকু থাক।
তোমরা থাকো স্বপ্ন ধরার শহর নিয়ে
টয়টা নিশান জীপ পাজেরোর বহর নিয়ে
উড়ছে টাকা ধরতে থাকো হাত বাড়িয়ে।
আমার ওসব চাই না কিছু চোখ ধাঁধানো
থাক না শুধু একটা পুকুর শান বাঁধানো
ফুটবে তাতে শাপলা শালুক কলমিলতা
নিত্য তারা জলের সাথে বলবে কথা।
ভোমরাগুলো গুনগুনাবে পাখনা নেড়ে--
কোথাও আমি আর যাবো না ওদের ছেড়ে।
থাকলে থাকো তোমরা রঙের এই শহরে
দুঃখে কাঁদো, স্বপ্নে হাসো ঘুমের ঘোরে
সুখের নেশায় ছুটলে ছোটো ধলপহরে।
আমার নেশা ওইসবে নেই; চাই যে আমার-
ছোট্ট নদী, নদীর পাড়ে চাষির
খামার...
খামার...
ধান-বিচালির গন্ধ হাওয়ায় আসবে ভেসে...
উঠবে তখন আমার মনে ছন্দ হেসে।
লিখবো গাথা আপাংপাতা বাসবলতার
চায়াফুলের মায়ায় মালা গাঁথবো কথার
কুলঞ্জনার সুগন্ধতে দুচোখ বুজে--
কাটিয়ে দেবো আমুর বনে ডাহুক খুঁজে।
ক্লান্ত হলে বিছিয়ে থাকা হিজল ফুলে
হাত-পা মেলে ঘুমিয়ে নেবো চশমা খুলে।
হয়তো কোথাও ডাকবে হঠাৎ ডাহর পাখি
ডাকটি শুনে ঘুমটি ভেঙে খুলবো আঁখি
উঠবে তখন বনটা জুনির আলোয় ভরে...
তখন আমি ফিরবো আমার মাটির ঘরে।
চাষির ছেলের পাতার বাঁশি সুর শোনাবে
তাঁতির মেয়ের চরকা শুনে রাত্রি যাবে।
এদের মাঝে চাই কাটাতে শেষ অবধি
বইবে আমার ঘরের পাশে ছোট্ট নদী।
তোমরা থাকো স্বপ্ন ধরার শহরটাতে...
কোন্নো কিছু যায় আসে না আমার তাতে !
২.
আমাদেরও বাড়ি ছিল
.............................. ..................
আমাদেরও বাড়ি ছিল; দেখার মতো বাড়ি-
উঠানে থাকতো মেলা মায়ের রঙিন শাড়ি-
মাচাতে উচ্ছে ঝিঙে কুমড়ো খেতো দোলা-
দুপাশে বাগান ছিল; আকাশ ছিল খোলা-
সমুখে নদী ছিল ঊর্মি টলোমলো;
রাতে রোজ চাঁদের আলো করতো ঝলোমলো।
আমাদেরও বাড়ি ছিল; আদর মাখা বাড়ি--
সমুখে হাওয়া দোলা ঝাবুক সারি সারি।
দুপুরে জুড়িয়ে দিতো মনটা ছাতিম-ছায়া...
বিকেলে নিকেল করা রোদ ছড়াতো মায়া।
সাঁঝেতে তুলসীঝোপে জ্বালতো জোনাক আলো...
ঝিঁঝিঁদের ঝিনিকঝিনিক লাগতো কীযে ভালো!
আমাদেরও বাড়ি ছিল; বাড়ির পাশেই পুকুর...
পুকুরের পাড়েই শুয়ে থাকতো ভুলু কুকুর...
কখনো জল কাঁপিয়ে পড়লে ছিঁড়ে পাতা...
ভুলুটা ঘেউ করে খুব ডাকতো নেড়ে মাথা।
কখনো মৌমাছিরা গুনগুনানী তুলে...
বেড়াতো ফুলবাগানে ফুলের থেকে ফুলে।
কখনো মিষ্টি দোয়েল ডাকতো ডুমুর ডালে--
জড়াতো মনটা তখন সুরের মোহজালে।
বাড়িটা বাড়ি তো নয়; চাঁদের আলোর খামার
বাড়িটার চিলেকোঠায় অনেক স্মৃতি আমার।
বাড়িটার খিড়কি দোরে কেয়াফুলের হাসি
ছড়াতো বৃষ্টি এলে গন্ধ রাশি রাশি।..
উঠোনের দখিন কোণে চালতা পাতার দোলা
ডাকলে হলদে পাখি মনটা হতো ভোলা।
কত যে জাদুর আবেশ, রূপকাহিনির ভিটে;
পঊষে ধানের দিনে উড়ত হাওয়ায় চিটে।..
আমাদের সেই বাড়িটা হারিয়ে গেছে কবে--
জানি না আর কি তেমন বাড়ি কারোর হবে!
আরও পড়ুন 👇👇👇
https://wwwankurisha.blogspot.com/2021/04/ankurisha-emagazine-bengali-poem-in_58.html

তিনটি কবিতাই খুব সুন্দর লিখেছেন কবি।তন্মধ্যে
উত্তরমুছুনপ্রথম ও শেষের কবিতাগুলির মধ্যে একটা নৈসর্গিক সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলেছেন কবি। অপূর্ব মায়াময়।