ধারাবাহিক রহস্য উপন্যাস (পর্ব-১৬)
নেপথ্য সংগীতের আড়ালে
অনন্যা দাশ
ওরা উদয়পুর রওনা হওয়ার আগের দিল রাতে প্রিয়ব্রত ওদের জয়পুরের একটা ভাল রেস্টুরেন্টে খাইয়েছিল। ওর বাড়িওইয়ালা নাকি ওর কাছে প্রচুর ক্ষমাটমা চেয়েছে। বলেছে, “বেটা ওরা আমাকে প্রাণের ভয় দেখিয়েছিল না হলে কি আমি তোমার সঙ্গে ওই রকম করি? আমি দেখছি ওই বদমাইশগুলো তোমার ঘরে ঢুকছে বেরচ্ছে অথচ তোমাকে বলতে হচ্ছে ‘না আমি তো কাউকে দেখিনি’, আমার বুক ফেটে যাচ্ছিল কিন্তু কি করব বলো? প্রাণের ভয় তো বড় ভয় ইত্যাদি। নিজের ওই মিথ্যা আচরণের জন্যে উনি নাকি বলেছেন, ' বেটা আমি তোমার উপর যে অন্যায় করেছি সেই জন্যে তুমি আমাকে এক মাসের ভাড়া দিও না প্রিয়ব্রত আরো বলল, “তবে আমার খুব শিক্ষা হয়ে গেছে বাবা! আর ফেসবুকে ওই সব লেখালিখি নয়! তার চেয়ে বরং কনসিউমার্স অ্যাফেইয়ার্সে একটা কমপ্লেন ঠুকে দেবো তারপর ওরা যা করার করবে।”
“হ্যাঁ সেটাই ভাল।” মামা বললেন।
জয়পুরে বেশিদিন থাকা হয়ে গেল বলে উদয়পুরে মোটে এক রাত থাকা হল। দিনেরবেলা অবশ্য উদয়পুরের পিচোলা লেক, সিটি প্যালেস, সহেলিয়ৌ কি বাড়ি, রা প্রতাপের বাগান ইত্যাদি দেখে ওরা পরের দিন বাসে করে মাউন্ট আবু গেল।
আবুতে ওরা যতটা ঠান্ডা ভেবেছিল ততটা ঠান্ডা ছিল না। আবু শান্ত নাকি লেকের ধারে একটা দোকানে আমেরিকান পিজ্জা খেয়ে ওরা যখন লেকে নৌকা করে ঘুরছিল তখন অখিলবাবু আর নিজেকে সামলাতে না পেরে কবিতা বলতে শুরু করলেন। তার আগে অবশ্য বললেন, “কেল্লা দেখে দেখে একটু যেন দমেই গিয়েছিলাম। এখন এই নদী গাছপালা দেখতে খুব ভালো লাগছে।“
তার উপর নদীর ধারে ভারতমাতা নমনস্থল দেখে উনি খুবই অভিভূত হয়ে পড়েছিলেন, “ভারত্মাতার মন্দির তো আর কোথাও দেখেছি বলে মনে পড়ছে না!” বলে উনি একটু থেমে আবার বলতে শুরু করলেন -
নৌকা চলে
ভারত মাতা
ঝৌকাই মাথা
স্বচ্ছ নীল
নাক্কি বিল।”
উনি হয়তো আরো কিছু বলতেন কিন্তু তখনই ফোনটা এলো বলে মামা ওনাকে হাত তুলে থামিয়ে দিলেন।মামা কিছুক্ষণ কথা বলে ফোনটা ছেড়ে বললেন, “যাক্ এটা ভাল খবর! সুগ্রীব মিত্তলের ফোন ছিল। অঙ্গদের জ্ঞান ফিরেছে। সম্পূর্ণ সেরে উঠতে এখনও অনেক বাক কিন্তু যেহেতু ওর বয়স কম এবং সাস্থ্য ভালই তাই ওরা আশা করছে আবার স্বাভাবিক হয়ে যেতে গারবে। অঙ্গদ কেকাকে স্পেশাল ধন্যবাদ দিয়েছে নীলজ্যোতি কোথায় আছে খুঁজে বার করার জন্যে।“অঙ্গদের জ্ঞান ফিরতে সুগ্রীববাবু খুব খুশি তবে বলেছেন যে ও হাঁটা চলাফেরার মতন সুস্থ হয়ে ওঠার পর ওকে কলকাতা নিয়ে চলে যাবেন জ্যপুরে আর ওকে থাকতে দেবেন না কারণ, কখন আবার নীলজ্যোই নিয়ে গগুগোল শুরু হয় তার ঠিক নেই!”
অখিলবাবু বললেন, “অজিত পাঠকের কি হল তো জানা গেল না।”
“কি আবার হবে, ওনার বাড়ি থেকেও পুলিশ বেশ কয়েকটা দামি পাথর উদ্ধার করেছে। উনি অবশ্য নিজের দোষ স্বীকার করেননি পুরোপুরি এখনও। তা সে কেই বা করে। তবে আপাতত ধুটিবাবকে ওরা সাস্পেক্ট লিস্ট থেকে বাদ দিয়েছে মনে হয় কারণ ওই নকুল আর রাজেন ধরা পড়েছে তাই সব কিছু জলের মতন পরিষ্কার। পুলিশ ওদের কাছে জানতে পেরেছে প্রিয়ব্রতকে ওরা কি কি করেছিল, আর অপহরণের ব্যাপারটাও। ওরা স্বীকার করেছে পাঠক ওদের টাকা দিচ্ছিলেন। যদিও শেষ কাজের জন্যে ওরা নাকি টাকা পায়নি। পাঠক ওদের বলেছিলেন হইচই একটু কমলে তবে ওনার বাড়ির দিকে পা মাড়াতে। পুলিশের ধারণা ওদের দিয়েই লোকেদের বাড়িতে পাথরগুলো পাচার হয়েছে। বেশ কিছু দামি পাথর অবশ্য বিক্রি হয়ে গেছে মনে হয়। তার উপর আবার খুনের ব্যাপার আছে, শুধু তথাগতই নয় আরো বেশ কিছু লোক কালনাগের লোভের শিকার হয়েছিল তাই ওনার কপালে দুঃখ আছে। আর অখিলবাবু আপনার বাকি কবিতাটা না হয় দিলওয়াড়া জৈন মন্দিরের জন্যে থাক।
চলবে...
আরও পড়ুন 👇👇 আরও পড়ুন 👇👇
👇👇👇
https://wwwankurisha.blogspot.com/2021/03/ankurisha-emagazine-bengali-poem-in_82.html

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন