ভালোবাসার গুচ্ছ কবিতা
তু ল সী দা স মা ই তি
১.
মোহন-বাঁশির সুর
বেয়াক্কেলে বাঁশি বেজেই যায়। জল ভর্তি কলসী কি লুকানো যায়!
চাঁদ চোয়ানো উঠোনে বিস্তৃত অশ্রু মুক্তোর মতো ছড়িয়ে
থাকে। সারা রাত্তির।
অভিমানী নুপুর শুয়ে আছে অসহ্য বিছানায়।
জেগে থাকা রাতের কদম্ব শাখায়- মেঘছোঁয়া বাতাসে মিশে যায় সুর। নদীটিও গেয়ে ওঠে ঝিঁঝিঁটের তানে।
প্রহর পারের ডাকে তবু চোখ ছুঁইছুঁই ভয়। অজানা সংশয়ে কালা তো একলা ঘাটে!
বন্ধ ঘরের চৌকাঠে কিশোরীর পায়ে কেটে যায় তাল।
সুর শেষে কুয়াশায় মিশে যায় চাঁদের শরীর। আসে ধোঁয়াটে ভোর , থেমে যায় মোহন-বাঁশিটি।
রাত শেষ হলে তালছুট শূন্য ঘাটে পড়ে থাকে ছাই।
সারা রাত বাঁশির আগুনে পুড়েছিল কেউ।
২.
কিশোরী রাই ও সেই নারী
যে নিদারুণ বাঁশিটি একদিন দগ্ধ করেছিল তোমাকে।
তাতেই তুমি হয়ে উঠেছিলে নারী ।
কালো সায়রের জল ও এক রাখালের সুরের টানে
তোমার সঙ্গী ছিল অসহায় বর্ষা রাত্রি ,আর নিরুপায় নুপুরের নীরবতা ।
মহা সময়ের স্রোত বেয়ে এভাবেই বয়ে গেছে অনেকগুলো সূর্যাস্ত-কাল ।
বহু আঁকিবুকি কথা আর তাম্বুল পাতার ডাকাডাকি।
ক্ষয়ে যাওয়া বেদনার দিনগুলি তবু সনাতন রয়ে য়ায়।
বাজে বাঁশি আজও ।
এ পোড়া বুক নিয়ে ‘বেআকুল তুমি’ ।
তুমি মানবী । অসীম সীমায় গড়া ঈশ্বরী মানবী ।
৩.
বাবার ভাঙা মৃদঙ্গ ও মায়ের ভালোবাসা
সাত বছর হলো বাবা নেই।
তবুও মা বাবার ঘরেই ঘুমোয়। পুব দিকে মুখ করে দেওয়াল জুড়ে হাসছে বাবা।
এই দৃশ্যে স্মৃতিনিবিড় যে রহস্য আছে তা মায়েরই চেনা।
প্রতিসকালে বিছানা তুলতে তুলতেই মা বাবার ছবিতে প্রণাম করেন। কার্তিক মাসের প্রতি-সন্ধ্যায়
সংকীর্তনের দল যখন পাড়া পরিক্রমা করে
মাকে তখন বিচলিত হতে দেখি। একদিন বাবা এই দলের মুল গায়েন ছিলেন। আর রাধার মানভঞ্জন
পালায় রাধা সাজতেন।,
এসব দৃশ্যের মন্থনে মায়ের চোখে জল আসে।
বাবার ঘরে বসে মায়ের এই আপাত রুটিন আমরা এখন জানি।
শুধু জানা হয়নি, বিশেষ দিনে বাবার বাজানো ভাঙা মৃদঙ্গ ছুঁয়ে মা আসলে কি খুঁজে বেড়ান!
৪.
পরকীয়া বর্ষা
পরকীয়া বর্ষা আকাশ লুকিয়ে রাখে,
নৈঋত বায়ু ও অসংযত মেঘ যে দৃশ্য আঁকে, সামনে তার ধূসর দেওয়াল। আর অন্তরালে রোদের আশ্রয়।
নিষেধের কাল রাত্রি শেষে খেতের নরম আলে অম্বুবাচির ভিজে "বতর',
নলসংক্রান্তির ঘুমহীন রাত পেরিয়ে
ব্রীহিভূমির গর্ভ ধারণ ।
পরকীয়া শেষে জোছনা আর ফসল উত্সব ।
৫.
প্রেম বিষয়ক
বিবাহ
প্রেমের ব্যকরণ হাতে
সিঁড়িভাঙা অংক শেখা।
রাত্রি
সঞ্চিত অথবা ঋণ করা রংমশাল
সকাল হলে ছাই দেখা যায় ।
ছায়ানট
ভালোবাসার ঘরে চাঁদ চুরি হলে ছায়ার নৃত্য। আবছায়া জানালায় ছায়ানটের আলাপচারিতা।
---------------------------------------------------------------------
১৪ই ফেব্রুয়ারি ভালোবাসার কবিতা সংকলন প্রকাশিত হবে। নজর রাখুন। মতামত জানান।
👇👇👇👇👇


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন