লেবেল

সোমবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২১

আজ প্রকাশিত হলো অঙ্কুরীশা-র বইমেলা কবিতা সংখ্যা - ২০২১'।। ৫০জন কবির কবিতা সংকলন।

 

বইমেলা সংখ্যা -২০২১ 



সম্পাদকীয় 

সাম্প্রতিক অর্থাৎ  ২০২০ তে যে মহামারীর আকাল সারাবিশ্বকে  মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে। তাতে সমগ্র মানবজীবন আজ বিপন্ন। চিরাচরিত সরল ও স্বাভাবিক জীবন বোধ আজ উপেক্ষিত। তবুও সব কিছুর মাঝে বই ই আমাদের আনন্দ দেয়। বই এর  প্রতি মানুষের আকর্ষণ সতঃসিদ্ধ। কারণ বই শুধু আমাদের সংস্কৃতি মনস্ক করে না, সর্বকলুষমুক্ত  এক জীবনবোধ গড়ে তুলতে সাহায্য করে। বইয়ের পরশে ঋদ্ধ হয় পাঠকের হৃদয়। বই আমারের বন্ধু।  কিন্তু বর্তমান  পরিবেশ  পরিস্থিতিতে বইমেলা স্তগিত থাকলেও  অঙ্কুরীশা ই ম্যাগাজিন   কিন্তু চুপকরে বসে থাকেনি। তাই ২০২১- এ বইমেলা সংখ্যায় ৫০ জন কবির কবিতা   প্রকাশের মধ্য দিয়ে বইমেলা সংখ্যা২০২১ কে স্বাগত জানানোর অঙ্কুরীশা-র এক অন্যতম আয়োজন।         





সূচি-


গৌতম হাজরা
মণিদীপা বিশ্বাস কীর্তনিয়া
তৈমুর খান
দূর্গাদাস মির্দা   
সুধাংশুরঞ্জন সাহা
সঞ্জিব রাহা
অমিত কাশ্যপ   
হীরক বন্দ্যোপাধ্যায়
পাপড়ি ভট্টাচার্য
অশোককুমার লাটুয়া
তপনজ্যোতি মাজি
শুভঙ্কর দাস
বিমল মণ্ডল   
ধনঞ্জয় সিংহ
জগদীশ মণ্ডল   
বনশ্রী রায়  দাস
কান্তিশ মন্ডল
দেবাশীষ মুখোপাধ্যায়
কবিতা ভট্টাচার্য
সুনীতি গাঁতাইত
শিব শঙ্কর বকসী
পরিমল চট্টোপাধ্যায়
অশোক রায়
পার্থ সারথি চক্রবর্তী
সন্দীপন গুহ    
অমল কুমার ব্যানার্জি
সূরজ নন্দী
শুক্লা রীত
রঞ্জন ব্যানার্জি
সুচিত চক্রবর্তী
চিন্ময়ী সেন শর্মা
মোনালিসা পাহাড়ী
অনির্বাণ ঘোষ
মৃণাল কান্তি দে 
বদরুদ্দোজা শেখু
অভিজিৎ দাশ
শুভময়
বনশ্রী চক্রবর্তী
অঙ্কিত সরকার
রঞ্জন চৌধুরী
তপন কান্তি মুখার্জি
বিমল চন্দ্র পাল
সাত্যকি
ইব্রাহিম সেখ
শ্রীমতি ডলি
ব্রজকিশোর রঞ্জক
নদের চাঁদ হাজরা
নৃপেন্দ্র নাথ মহন্তি
রাজা দেবরায়
তাপসী শতপথী পাহাড়ী
                                 











তোমার বাড়িতে
গৌতম হাজরা

তোমার বাড়িতে এতো গুমোট আর এতো থমথমে
দেখে আমার গা গুলিয়ে উঠল। 
তোমরা আমাকে খুব গাল দিলে, বোকলে
চারপাশ আরও ঘোরালো হল। 

আমার খুব কষ্ট হল, বুক ধড়ফড় করলো;
এবার আমাকে ফিরতেই হবে। 
বুঝতে পারছি কেউ আমাকে এখান থেকে বেরুতে দেবে না
আমার গায়ে পোস্টার সাঁটিয়ে সবাই পালালো। 
            
আমাকে খুব অসহায় লাগলো
তাই,  ভেতরের অস্বস্তি চেপে যখন বাইরে তাকালাম 
দেখলাম, তোমার বাড়িটা ঠিক যেন ডাকিনীর মতো
খিলখিল করে হাসছে ভীষণ এবং ভয়ালো! 




রঙ 
মণিদীপা বিশ্বাস কীর্তনিয়া
                 


মিনিয়েচার শিল্পীর মতো দৃষ্টি কমিয়ে আনছো তুমি
টানা স্বপ্নর ভেতর বসে থাকো রোজ
রঙ ছুঁয়ে ছুঁয়ে শুধু ধারণা বানাও
হরফের কালি ছেনে অন্ধকার হলে,
ধ্বনি উপুড় করে ফের জ্বেলে নাও মোম
কি হয় তারপর?
তাজা মিষ্টি জলে ভিজে যায় ভাবনা চিন্তারা
বসে থাকে ছবি হবে বলে
জানে না অন্ধ হয়ে যাচ্ছো তুমি
খসখসে রাত্তির গুলে ইজেলের সামনে তুলিরা দ‍্যাখে
গরম রঙ ছুটে আসছে কব্জিতে
কাঁধের দুপাশে ঝুলে পড়ছে হাত
চোখদুটি,নিঃসঙ্গ পড়ে আছে রঙের দুধারে...



নিজেই নিজের আজ্ঞাবহ 

     তৈমুর খান 


খড়ের শব্দ ।  শীতের রাত।  জ্যোৎস্না নেই।

গান ঝরছে।  অন্ধকারের তীব্র গান।

ধারণার রাস্তা আগলে কুকুরগুলি দৌড়ে গেল ।

হল্লা নামল পথের মোড়ে।


বিরক্তি আজ।  বন্ধ জানালা।

দুয়ারে সব মৃতমাছ। পর্দা ঠেলছে।

আসছ কেন? কে ডেকেছে ? 

ভূমণ্ডলের নষ্ট প্রলাপ দিব্যি হাসছে ।

রাঙা চোখের কোনো ইশারা দেখছি না আর।


তালপাতারা বাঁশি বাজাচ্ছে।  গাছে গাছে।

ঠাণ্ডা বাতাস হাতুড়ির মতো উঠছে নামছে।

শুনশান ঘুম ওই পালাল। কুকুররগড় চলছে বেশ।


নিজেই নিজের আজ্ঞাবহ।  জানালা খুলে।

আর কথার দোকান।  দোকানে এসেছে চেতনাকুমারী।

বেশ রূপসী।  ছলকাচ্ছে মৃদু গন্ধ।

কাতুকুতু।  হিহি হিহি।  লাফিয়ে নামছে শব্দগুলি।

এসবই খুব প্রাইভেসি।


ওই রক্ত ঝরল।  আবার সঙ্গম। পরপর।

পর্দা নামাও   দেখব না   আর । অনুভূতির দোকান 

বন্ধ।  চোখ ফিরুক চোখের কাছে। বেশ অন্ধকার।


কুকুরগুলি দৌড়ে গেল...



হারিয়ে যাওয়া কথা
দুর্গাদাস মিদ্যা

কথারা  মাঝে মাঝে বেমালুম হারিয়ে যায়
ভাঙা মন নিয়ে সুর খেলেনা দোতারায়
এমন অসহায় হইনি কোনোদিন। 
সমাজের কাছে যতটুকু ঋণ সেও 
থেকে গেল বাকি। 
কোথায় রাখি সেই দুঃখ আমার, 
হঠাৎ যদি বদলে যায় সব
অকেজো হয় হৃদয়ের অনুভব
তবে আর স্বপ্ন দেখা কেন 
কেন এই অবাধ্য শাসন! 
মন ভেঙে চুরমার, জানিনা কবে আবার
ফুটবে ভোরের আলো
কেইবা আবার কবে এসে শুধোবে
তুমি আছো ভালো? 


অনুভবের আলো
সুধাংশুরঞ্জন সাহা

মনের কথা মনেই থাকে
টের পায় না কেউ,
বুকের মাঝে কত কথাই
তোলে তুমুল ঢেউ ।

আবেগ কোনো বাঁধ মানে না
মনটা উড়ু উড়ু,
তুমি আমার আকাশ নিয়ে
কেন তুলছো ভুরু ?

উড়েই যাবো সীমা ছাড়িয়ে
রূপকথার দেশে,
ওগো আমার মেঘকিশোরী
ফিরেই এলে শেষে ।

তোমার ছায়া তোমার মায়া
অনুভবের আলো,
আমার মনে গাইছে পাখি
শীতের জমকালো ।


প্রেম কাহিনি
সঞ্জীব রাহা

প্রেমও ছিল ফেমও ছিল, ছিল  অনেক সুখ, 
পলাশরাঙা ভালোবাসা, মেঘভাঙ্গা রোদ্দুর। 
আদর ছিল সোহাগ ছিল, মাথায় মায়ের হাত, 
শিক্ষা ছিল ক্ষমা ছিল, জোছনা ধোয়া রাত।

উঠে গেছে প্রেমের চিঠি, এসএমএসের তোড়ে, 
ম্যাসেজ ডিলিট হলেই পাখি, দূর আকাশে ওড়ে। 
ছন্দহারা প্রেমকাহিনি, যন্ত্র-জালের যুগে, 
বিকৃতরূপ সমাজ এখন, মরছে রোগে ভুগে।

প্রেম কি শুধু নীল যমুনায়, জোয়ার ভাটা খেলা ? 
কত অমর প্রেম কাহিনি, ভাসায় প্রাণে ভেলা। 
দেশপ্রেমে মানবপ্রেমে, এখনও যাঁরা বাঁচে, 
তাঁরাই হ'ল প্রেমিকপ্রবর, সব মানুষের কাছে।

সঙ্কুচিত অর্থনীতি, প্রেম করেছে ফিকে, 
তবুও প্রেম যেমন ছিল, থাকবে তেমন টিকে। 
প্রেম নেই শুধু তাঁদের কাছে, রিক্ত যাঁরা মনে, 
প্রেমের আমি প্রেমের তুমি, সুখী গৃহকোণে।


মঞ্জুরী
অমিত কাশ‍্যপ

গীতবিতানের ভেতরের পাতায় লেখা, মঞ্জুরী
আমি সুন্দর করে সামনে বসালাম, আমের 
বইমেলার বিকেলে তখন হিমের গন্ধ 
মঞ্জুরী, সদ‍্য পরিচয় হতে, উপহার দিল

পরম যত্নে ব‍্যাগে রাখলাম, উষ্ণ কফির ভেতর
সুবাস, একটু আড়াল, বইমেলার গলিতে গলিতে 
সেই চাপা স্বর, একটু আড়াল, হাতে হাতে উত্তাপ 
বই কিনলেন, কিচ্ছু না, ঘুরছেন, ছুটে আসে শব্দবান

আমরা তো বইপ্রেমী নই, প্রেমী, ঘুরি-ফিরি
বই ভাঁজের কালো কালো বর্ণমালা বেদনা দেয়
সেই পথের পাঁচালী, সেই কত কান্না অক্ষরে সাজিয়েছিল
বিভূতিবাবু তোমাকে প্রণাম, আর একটিও ওরকম লিখ না 



মাত্রাতিরিক্ত
হীরক বন্দ্যোপাধ্যায়

তোমাকে শব্দ অক্ষর ভাষা ছন্দ শেখায় নি কেউ
তোমাকে শরীর চেনায়নি সমুদ্র বৃষ্টি
এমনকি কীটজন্ম গাছজন্ম পতঙ্গ জীবন পেরিয়ে তোমাকে শেখায় নি কেউ অমৃত যোগ
আর ঘুমোলে ময়াস্বপ্ন বেপরোয়া হাওয়া ঠিক না বেঠিক, উতরাই খাড়াই চেনায়নি শাল মহুয়ার
‌নেশা, পরস্ত্রীর আঙুলে কিংবা ওষ্ঠে
কতটা পানীয় ,তোমাকে কী কী উপহার দিলে
নেচে ওঠে অভলাষী হাওয়া
এসবই নিজে নিজে শিখে নিয়ে ভেবেছিলে
নিষ্প্রদীপ ঘরগুলিতে আলো
জ্বালাবে,অথচ কে যেন বললো
পৃথিবীতে কিছুই মাত্রাতিরিক্ত নয়...


মন্ত্র,
পাপড়ি ভট্টাচার্য

সিঁদুরে মেঘ দেখে ভয় পাওয়া স্বাভাবিক ভুল বুঝে ঝগড়া রাগারাগির চেয়ে
ঢের ভাল নিস্পৃহ থাকা।

কুমকুম বৃত্ত,ধ্বনি বৃত্ত,দেখা বৃত্ত
সর্বপরি চুম্বন বৃত্তে মজে থাকা প্রেম
পাক খায় দৈনন্দিন জীবনে।
একটি প্রার্থনা মন্ত্র যে বৃত্তে ঘোরে
সেখানে বার বার অশ্রুকণা
অন্যমাত্রা পায়।

প্রাণের নিঃশ্বাস যার কাছে জমা রেখেছি
আমি অনিচ্ছুক ডুবুরী নামাতে
সমগ্র জমানো থাক।


একদিন কোনো কোনো ' হ্যাঁ ' কিংবা ' না ' 
         অশোককুমার লাটুয়া 

একদিনের ' না ' মেঘ থেকে বৃষ্টি হয়ে ফিরে যাচ্ছে মাটিতে 
ভালোবাসার হাত ধ'রে গাছের  শিকড়ে 
সম্পর্কের গভীরে। 
একদিনের ' হ্যাঁ ' উড়ে যাচ্ছে পাখির মতো আকাশে 
আমার বুকের গভীরে ফেলে রেখে 
গানের স্মৃতির সমস্ত গন্ধ। 

একদিন কোনো কোনো ' না ' 
’ হ্যাঁ ' হয়ে ছুঁয়ে দেয় হৃৎপিণ্ড হঠাৎ। 
একদিন কোনো কোনো ' হ্যাঁ ' 
' না ' হয়ে চিরে দেয় 
সাঁতার কাটা স্বপ্নের কলিজা 
আশ্চর্য অবাক করাত। 


ভাসমান 
তপনজ্যোতি মাজি


ইচ্ছার বিরুদ্ধে হেঁটে কতদূর আর যেতে পারা যায়! যে কোন
সাফল্যে মনকে আতসকাচ করে নিই।ত্রুটি ও অহংকার মুছি
তবু ভুল ইরেজারে।অক্ষর ভুল  গিয়ে কেন যে ভিডিও দেখে 
 রাতজাগা চোখ?

অবসাদ সভ্যতার যৌতুক।যে যত এগিয়েছে তার তত অবসাদ
বেশি। জল জানে প্রবহমানতাই ধর্ম। ধর্ম কেন এত সংস্কারময়?
তুমি যে মেরুকরণের কথা বলো, তাকে বলি ধনতন্ত্রবাদ। দারিদ্র
কি ভেঙে যাওয়া সিঁড়ি?

প্রতিদিন প্রোথিত হয় সত্য ও বিশ্বাস। কে আর হৃদয় দিয়ে বাঁচে?
গাণিতিক তথ্য থেকে সংখ্যা চুরি যায়। সব যুদ্ধ কি দেশাত্ববোধক?
তুমি যে বিশ্বাসের কথা বলো।তাকে বলি প্রেম। রাত্রি জানে কোন
যুদ্ধে তুমি পরাজিত সৈনিক!

মুক্ত করে দিয়েছি সমস্ত বন্ধন।ভেসে আছি জলে ও হওয়ায়। ভুলে
গেছি কতদিন বসিনি মুখোমুখি, কবিতারা মৃদু ওষ্ঠের সম্মোহনহীন ?
নিজেকে  হারানো মুদ্রার  মতো খুঁজি। ভেঙে যাচ্ছে পরিচিত দর্পন। 
তুমি তবু চির অন্তহীন।

উৎসর্গপত্র সাদা
শুভঙ্কর  দাস

ঈশ্বর এসে বললেন,আমাকে দরজা করো।
কবি ঈশ্বরকে রক্তমাংসের  করলেন।
দুঃখ এসে বলল, আমাকে আকাশ করো।
কবি দুঃখকে বীজধান করলেন।
মৃত্যু এসে বলল,আমাকে আগুন করো।
কবি মৃত্যুকে মাঠের পর মাঠ দিগন্তে ছোঁয়ালেন...
তারপর দরজা খুলে আকাশ ছু্ঁয়ে ভাতে ফোটানোর আগুন হয়ে কবি দাঁড়িয়ে রইলেন অনন্তকাল

তাঁকে কী বলবে?পাগল!উদাস!অহিসেবী?বোহেমিয়ান?সন্ন্যাসী?  যে নামেই ডাকো না কেন?বিনয়!বিমান !অলোকরঞ্জন! শম্ভু অথবা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়!

শেষ পর্যন্ত বসুন্ধরা এসে আঁচল ডেকে বলে ওঠেন,কবিতা ঘুমালো,কবি জাগলো,অমরত্ব এলো দেশে...


আজ আমি একা
বিমল মণ্ডল 

পাখিদের  সাথে  আমারও  একটা  অসম্ভব  মিল রেখে 
আমিও  আকাশের দিকে রোজ তাকিয়ে 
ভাবি আমি আরও  ওদের  থেকে উপরে উড়তে চাই
যেখানে  আমিই  এক আকাশ ! 

সব পাখি জোট  ঘিরে আনন্দে সামিল 
আমি শুধু  দিকভ্রষ্ট  বন্দি
যেখানে  সব  ঘর বন্ধ হয় 
আমার লালসায়...
  

তবুও  ফিরে এলে সমস্ত পাখি উড়ে যায়

এখনও  আছি দাঁড়িয়ে 
তবুও 
 আজ আমি একা...

 

আদশ
ধনঞ্জয় সিংহ

ভুঁই ফোড় নেতায় ছেযে় গ্যাছে দেশ
উধাও 'ভালো' বাঁচার পথ,----
যেন কানামাছি খেলছে..

সকলেই জানে----
তালা খোলার কায়দা অজানা থাকলে
চাবি নিয়ে ঘোরাঘুরি বৃথা !

'সৌজন্য' হাঁডি়কাঠে হোযে়ছে বলি
তেজস্বীতায় হারিয়ে গ্যাছে;শুধু
পথে,রাজপথে বা পুকুরে....
গোছানোর ইতিহাসে ব্যস্ত দেশপ্রেম !

' ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর' এর মতো
আদশ‘ চাই। চাই সৈনিকের
                         তেজী মনোভাব ।

দাসত্বে বন্দী হোলে, জানবে----
দাম্ভিকতা শুধু ব্যাঙের আধুলির !


নানান তৈলবাজ
জগদীশ মন্ডল

একটা তৈলবাজকে চিনি
লেখায় আছে মন
প্রকাশ করতে সম্পাদককে তেল
মাখায় সারাক্ষণ।

অফিস কাজে তৈলবাজটি
নানান কথার ছলে
ফাঁকি দিয়ে কাজের সময়
তেল মাখিয়ে চলে।

আরেক তৈলবাজ আসে সে
অফিস করে লেট,
বাড়ির বৌয়ের রান্না খাবার
বসকে দেবে ভেট।

তৈলবাজ তো নানান প্রকার
নিন্দে মন্দ কাজে,
অন‍্যের সমালোচনা করে
নিজেই ভালো সাজে।


চাষাবাদ 
বনশ্রী রায় দাস
                          

পৌষালী মেঘ জমলে মাটির পাড়ে 
নদী খুঁজে পায় নক্ষত্র আঁকা আঁচল ,
শিশির ডানায় ভিজে যায় মৌন কাজল
গন্ধরাজের হংসমিথুন নাভি সরিয়ে 
উড়ে যায় ইচ্ছেপুরের কুটুমপাখি ।

আমার একটুখানি উদযাপনের শরীরে 
তরঙ্গ সাজিয়ে পিদিম জ্বালে অক্ষর-বীজ - - -

পাতার খামে ক্লোরোফিল পাঠিয়েছে সুখ
সবুজ ওড়না উড়িয়ে নিরাময় টুপটাপ ,
ভ্রমণ থেকে ভ্রূণ মা বলে ডাকলে
গর্ভবতী আলোয় ভরে ফসলের মাঠ ।  


কাঠবেড়ালি
কান্তীশ মণ্ডল

কাঠবেড়ালি দাঁত মাজে নি সকাল থেকে উঠে 
বাগান কোণে একমনে সে কি যেন খায় খুঁটে ;
যেই বলেছি,  দাঁত মেজে দি , আয় তো কাছে আয় , 
এমনি ভীরু লেজটি তুলে পালিয়ে কোথা যায় ! 
একটু পরে কোথায় থেকে নিজেই এলো ঘুরে 
আমায় দেখে ভয়ে ভয়েই থাকছে দূরে দূরে , 
বোঝাই তারে ভয় কেন তোর আমি কি তোর পর ? 
চল দেখি তুই আমার সাথে আমার খেলাঘর । 
ভাত রাঁধবো , ডাল রাঁধবো , আমার সাথে খাবি ;
তারপরে নয় অন্য খেলা , মাঠের দিকে যাবি । 
আমার সাথে আসলো না সে এমন পাজি ছেলে 
দুপুরবেলা একলা এসে সব দিয়েছে ফেলে । 
সেদিন তারে দিলাম আড়ি , খেলার সাথী নাই , 
কাঠবেড়ালি আসলে সেধে তবেই কাছে যাই ।



প্রাক্তন সময়
দেবাশীষ মুখোপাধ্যায়

আলোআঁধারি বিছানায় অতীত খুনে রক্তাক্ত
ঝাড়বাতির আলোয় সুখের ঠিকানা সন্ধান
মাধুকরী সুখ লুকোচুরি খেলে দুখের সাথে
বুকে তার অনর্গল জীবন স্নান
  

সময় কড়া নেড়ে চলে গেছে আগেই
আজানুলম্বিত শপথ চোখ চেয়ে পড়ে
মন সাড়া দেয়নি না বুঝেই
কুয়াশা ভেজা সকাল সিক্ততার দেউল গড়ে


হারানোর দহন গোধূলির আকাশে
হলুদ রঙে দিকচক্রবাল
হিরণ্যগর্ভ আলো আলপণা আঁকতে থাকে
ঠোঁটে তার লালনের সকাল 

স্পর্ধিত ধমণীতে সবুজ সব রক্ত
চিরহরিৎ রঙ চেয়ে বয়ে গেছে কাল
দো গজ জমিন কে নীচে
মাটির কানাকানি খুঁজবেই  অন্যএক সকাল




অন্তরঙ্গ
কবিতা ভট্টাচার্য

কতটুকু দিতে পারি তোমার কাছে
কতটুকু তুমি দিতে পারো।
অবিরাম প্রশ্ন জাগে মনে
 জানি না তোমার মনেও কি ...
             কতটুকু উজার করে দিলে
             তুমি হাত বাড়াবে
রাত্রির আকাশ জুড়ে
              লক্ষ্য তারার মালা
বসন্তর বাতাস ছুঁয়ে
সম্পর্কের নিবিড়তায় অবিরাম হাত বাড়াই
বুকের মধ্যে টানটান ভালোবাসা
তোমারও কি এমনি
 সুখটান চঞ্চল শরীরী
সবটুকু উজার করে দিয়ে
  কতদূর যেতে পারো

আমিও কি পারি
  সব কিছু ফেলে
অন্তরঙ্গ আনন্দে ভিজতে
          অনন্ত আনন্দধারায় ।

রোদ্দুর কলম
সুনীতি গাঁতাইত

তোমার চোখে বারি, দেখি আমার তরবারি
বুক খান্ খান্ কষ্ট সৃজনে আবার তোমায় 
গড়ি,এ রোদন নয় তো আহামরি,এসো-
এই আগুনে পুড়ি,শুধু পুড়ি,রোদ্দুর একটু চুরি।

শীত,শীত, গরম জামা হাঁকে শরীর শরীর,
কাছে পিঠে কেউ নেই,কে মাখবে আবীর!
তুমি যদি হতে চাও হিম বৃষ্টি,এসো না এই
আলোর বাগানে,তাপ দাও শুধু প্রেম নিবিড়।

ছায়াহীন বৃক্ষ,আকাশের বোবা মুখ চিনি না,
মায়াবী চাঁদ একা একা কি রাত জাগে না!
এই চোখের ভাসানে বেহুলা হারিয়ে যায় নি,
তুমি পরশমণি ছুঁয়ে থাকো আমার হৃদয়খানি।

আলো সবার ভালো,এই ভাবনার স্রোতে নদীতে
ফেলি নোঙর,স্বপ্নফুল ফুটে উঠুক মনের ভেতর
 অলিন্দে,জীবন তো হেঁয়ালি কাব‍্য কথা নয়,এই
পলাশ ভুবনে আমি অন্ধ হ ই কে জানে! কে জানে!



বই-এর মেলা                  
শিব শঙ্কর বকসী      
    
 বই মেলা মেলা বই, কত বইতো দেখি যে,    
  বই নিয়ে মেলা হয়, ভাবনাতে আসে নাযে।
  যাবে নাকি মেলাতে, দেখবে বই রকমারী,
  বই নিয়ে গোটা মেলা, মোটে নয় বাড়াবাড়ি।

 

  কেউ করে বই ফেরি,কেউ বা ঘোরে মেলাতে,
  কেউ শুধু অন্যকে দেখে, অপলক চোখেতে।
  স্টল থেকে স্টলে ঘোরে,ভাল বই’র খোঁজেতে, 
  কারো আবার মজা লাগে,বই ঘেঁটে দেখাতে।       

 
   ছোট-বড়, নামী-দামী, কবিরা সব ঘুরছে,
   মেয়েরা ঘিরে ধরে, মোবাইলে ছবি তুলছে।
   দেশী-বিদেশী বই-এ, স্টলে আছে ভরপুর,
   লোকজন নাড়ে চাড়ে, বই কেনা বহুদূর।



        বই দেখে ঘুরে ঘুরে, খিদে হয় চনমনে,
        মন যায় ফুচকা, দইবড়া, বা চাউমিনে।
        বই থাকে অবহেলায়,দোকানের শো-কেসে, 
        অনাদরে ধুলো খেয়ে,পরে থাকে অবশেষে।       


নির্মোচন
পরিমল চট্টোপাধ্যায়

 মাঝে মাঝে মানুষের গন্ধ পাচ্ছি আমি।

এ জনারণ্যে
কতদিন ওৎ পেতে আছি
আর প্রতিদিন আতঙ্কখাতায় কেটেছি কলম-আঁচড়। 
ভয়ে কোণঠাসা হতে হতে
একদিন হাঁউমাউচাঁউ হুংকার ছেড়েছি। 
কেউ কেউ সবিস্ময়ে তাকিয়েছে---
তারপর,যেমন হয় আর কী,
আতঙ্কে পালিয়ে গেছে কোথাও। 

পাঁজরের হারমোনিয়ামে এখন বাজছে
বুলবুল-ই-শিরাজের গজল! 

এখন গোলাপের গন্ধ পেলে
আমি প্রেমিকার আগমনবার্তা পাই।
বকুলের গন্ধ পেলে অনুভব করি
কোথাও এসে দাঁড়িয়েছে বন্ধু আমার।
গরম ভাতের ঘ্রাণে লক্ষ্য করি
কেউ এসে দাঁড়িয়েছে দারিদ্র্যের পাশে। 

মানুষ! মানুষ!!
আমি মানুষের গন্ধ পাচ্ছি খুব। 
তবে কি আমি রাক্ষস হয়ে যাচ্ছিলাম!


শব্দ-জাল

অশোক রায়


দীঘির পাঁকে পদ্ম ফোটে

তারুণ্যের আঁচে যৌবন

ওষ্ঠের সীমানায় গোলাপ

রচনা করে মৌ-বন

 

মেট্রোয় বসে হাসনুহানা   

হৃদয়ের ভারে আনত মুখ

সুখ-দুঃখের উতার-চড়াও

হাসিতে ঝরে তৃপ্তি অটুট

 

এস্‌প্লানেডের চওড়া চাতাল

ঠুংরি ঠমকে একটু বেসামাল

এগোব না কথা বলব

ভাবতে ভাবতে শেষ সকাল

 

রাত গভীরে মিলল ছুটি 

সব আনন্দ ক্লান্তির ভাঁড়

রাত নিশুত স্তব্ধ জীবন 

শুধু খোলা ঐ চোখের কাউন্টার ।।  



বেলুনওয়ালা
পার্থ সারথি চক্রবর্তী 


সবাই ভীড়ের মধ্যে ঠেলে ঢুকে পড়ছে
             ,  কিছু একটা পাবার আশায়,
কোন এক প্রসাদী ফুলের ছোঁয়ায় 
নিমেষে সব বদলে যাবার আশায়।

আমি দূর থেকে দেখছি-
একটি ছোট্ট ছেলে, মলিন জামা
একমনে গুনে যাচ্ছে বেলুনগুলো।
কয়েকটি বিক্রি হয়েছে, কয়েকটি ফেটেও গেছে
আর বাকি আছে বারোটা।
সবগুলো বিক্রি করতে হবে,
              করতেই হবে, নাহলে-
মায়ের জন্য ওষুধটা নিতে পারবে না!

মা যে তার সবকিছু, শেষ ভরসা।
তাই সে দূরেই আছে, ভীড় ঠেলছে না! 

জীবন 
সন্দীপন গুহ  

চলতে চলতে, দেখতে দেখতে,  শুনতে শুনতে, এবার বুঝেছি I
জীবনস্রোতের এই যে ধারা, বয়ে চলে উদয়াস্ত ছাড়া, 
ধরা ছোয়ার বাইরে হলেও, অনুশীলনে দেয় যে সাড়া I

ছোট থেকে বড় হয়ে, এখন যখন চশমা বুড়ো,
পিছনপানে চেয়ে দেখি, আমিই তো সেই দুষ্টু  ছেলে,
জীবনের সাথে হাডুডু খেলে, হয়েছি এখন প্রবীণ খুড়ো I 

গগন চুম্বি পাহাড়ে চড়ে,   দৃশ্য দেখার আমেজে মেতে,
স্মৃতির ঢেউয়ে নেচে বেড়াই,   কান্না হাসির সুখটা কুড়াই I
এখনও কি রয়েছে নাকি, আরও কিছু চড়া বাকি I

চাওয়া পাওয়ার হিসাবটা কি, বেয়াড়া মনের মিলবে কখনো,
চললে চলার, দেখলে দেখার, শুনলে শোনার, আছে কি শেষ,
সবাই বলে,  মেনেছি তাই, শ্বাসের সাথে আশের রেশ II

 
শূন্য আর শূন্যতা
অমল কুমার ব্যানার্জী

শূন্য, সে যে জীবনের সমীকরণ,
শূন্য দিয়ে শুরু শূন্য দিয়েই শেষ। 
হিসেব নিকেশ জীবন মাঝে বহু,
নেই কোন তার লেশ। 

শূন্যতা যে, শূন্য সে তো নয়, 
হতাশ ভরা ব্যর্থতা সে।
জীবন খেলা শূন্য যখন হয়,
শান্তি তখন আসে।
শূন্যতা সে জীবন মাঝে ব্যর্থতা কে পুষে।

সাঙ্গ হলে জীবন খেলা,
শূন্য জীবন ভেলা ।
শূন্য সে তো শূন্যতা নয়,
চাওয়া পাওয়ার হিসেব সেটা ।
শূন্যতা সে ব্যর্থ আলাপন,
বিফল মনের অনুরাগের গাথা।



আমায় কবিতা পড়তে দিও

সূরজ নন্দী


চাইলে আমার এসবটুকুই নিও -
শুধু একটিবার এর মত আমায় কবিতা পড়তে দিও ।

আমি বাস্তবটাকে ছুঁয়ে সযত্নে করেছি যে অনুভব,
আনন্দ গান রুক্ষ পাথরে হারিয়েছে তার সব ।
কল্পনা যাওয়ার অলকানন্দা-গাঙুরে রয়েছে ঘিরে
অলীক স্বপ্নে সাজিয়েছে ঘর ক্ষীর সমুদ্রতীরে ।
ভাবনায় যার চিরচঞ্চল পাখির কূজন প্রিয়
বঞ্চনা তারে করো না তোমরা, কবিতা পড়তে দিও ।

আনন্দ শুধু আনন্দ নয় বেদনাও তারে ছোঁবে,
বেদনা যে তার  অশ্রু সাগরে আনন্দ তার ক্ষোভে ।
সে ক্ষোভ বেদনা বিরূপতা নয় দুঃখের অনুবর্তী,
গানে গানে সেথা বিশ্বভুবন সংবেদনের মূর্তি‌ ।
সেথায় শিক্ষা নিজ মাহাত্ম্যে নিজেই বরণীয় ।
আপনি ক্ষেত্রে পূর্ণতা যার, কবিতা পড়তে দিও।

যদি চাও তুমি আমার বাহ্য চেতনাও কেড়ে নিও।
শুধু একটিবারের মতো আমায় কবিতা পড়তে দিও ।
                                  




আমার পদ্য খোঁজে তোমায় 
শুক্লা রীত 


আমি কাব্য বুঝিনা ।
জানিনা কবিতা কাকে বলে । 
আমার ছন্দ আসেনা ।
আমি নিঃস্ব ।
তাই খুঁজি তোমায় আমার কথায় ।
আমার ভাবনার অবয়বে তোমায় খুঁজে পাইনি কখনো।
আমি খুঁজি তোমায় আমার পদ্যে।
আমার পদ্য বোঝে প্রেম ।
জানে ভালোবাসার মানে।
আমার পদ্য এগিয়ে চলে গুঁড়ো গুঁড়ো শব্দ কণা মুুুখে ।
কাঁকড় বিছানো পথের চড়াই উৎরাই বোঝে একটু আধটু।
আমি থমকে যাই হোঁচট খাওয়ার ভয়ে ।
পাশ থেকে তখন যে ভরসা যুগিয়েছিলেে , সে তুমি ।
এখনো আমার পদ্য খোঁজে তোমায় 
শুধুই তোমায় ।।


                  
   রথের মেলা
                  
 রঞ্জন ব্যানার্জী
                   

ঝমঝমিয়ে পড়ছে বৃষ্টি
সকাল থেকে দুপুর,
ঠোঁট ফুলিয়ে কাঁদছে বসে
ভাইয়ের সাথে নুপুর।
রথের মেলায় যাবে সে যে
সঙ্গে যাবে ভাই,
কিনবে খেলনা , চড়বে দোলনা
পাঁপড় ভাজা চাই।।
কাঁদছে বসে সারাবেলা ,
এই বুঝিবা ফুরায় মেলা,
রথ বুঝি ঐ পৌঁছে গেলো
মাসির বাড়ি বিকেলবেলা।
হঠাৎ করে থামলো বৃষ্টি 
ফুটলো হাসি সবার মুখে,
চললো নুপুর ভাইয়ের সাথে
রথের মেলায় মনের সুখে।।


স‍্যার ও মধু
সুচিত চক্রবর্তী

বলল স্যার ওরে মধু
   স্কুলে কেন পাইনি?
 মধু বলল- ইচ্ছে করেই
      স্কুলে যে আজ যাইনি।

  স্যার বলল খুলে বল
        কী হয়েছে তোর?
 মধু বলল- কাটছে না আর
       আমার ঘুমের ঘোর।

 মিড-ডে-মিল এ রোজই দেবে
       বিস্কুট আর মুড়ি,
  ডিম ও ঘুগনি, দেয় না বলে
       কমে যাচ্ছে ভুঁড়ি।

মধুর কথা শুনে স‍্যার
    ভাবছে বলবে কাকে,
 বললে পরে হেডমাস্টার যে
   মুখটি ঘুরিয়ে রাখে।


    ইছে ডানা 
চিন্ময়ী সেনশর্মা


ইচ্ছে গুলো ডুবছে  মেঘে
এদিক ওদিক মেলে ডানা ;
এই দেখি তো শরৎ মেঘে
পেঁজা তুলোর আনাগোনা II

                 ইচ্ছে গুলো বলতে চাই
                 নিয়ে চলো দূর পাহাড়ে ;
                 দুধ সাদা ওই বরফ দিয়ে
                 বাঁধবো তোমায় মনের ঘরে II

ইচ্ছে নদীর নৌকা হবো
দেখব তোমার বুকের তল
আমায় তুমি ডুবাতে পারো ?
জানবো তোমার সাহস বল II

                  ইচ্ছে আজ আকাশ ভরা
                  তারায় তারায় ঝিকিমিকি ;
                  জ্যোৎস্না ভেজা রাতের আলোয়
                  ভালোবাসার আঁকিবুঁকি II 

                                                  
  



অলীক স্বপ্ন ও রুক্ষ্ম মাটির গল্প
মোনালিসা পাহাড়ী

আমি কোনোদিনই আগুন হতে চাইনি
বরাবর চেয়েছি নদী হতে

জীবনটাকে যুদ্ধক্ষেত্র বানাতে চাইনি
হতে চেয়েছি একটুকরো শস‍্যভূমি
ফসলের ঘ্রাণে শুদ্ধতা পেতে

হৃদয়ের গাঙে ভাসাতে চেয়েছি মরমী নৌকা
পাল তুলে যে ছুঁয়ে দেবে অচেনা গন্তব্য...

জীবন আমাকে এসব হতে দেয়নি।

বরং  উপহার দিয়েছে  ঊষর মরু, দুর্গম অরন্য, দুর্ধর্ষ বাদাবন আর কয়েকটা যুদ্ধক্ষেত্র-

আমি জীবনের কাছে বৃক্ষ হতে চেয়েছিলাম
জীবন আমাকে জ্বালানী বানিয়েছে।



    রাস্তা

অনির্বাণ ঘোষ

যেখানে যাওয়ার কথা ছিলো,ভুল করে এগিয়ে গেছি অন‍্য রাস্তায়-
আরো কিছুটা এগিয়ে গেলে,মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকে
একটা অচেনা সকাল;
ওর দু-হাতে শ্বেতী,চরণযুগল ঢাকা আছে আলতো
ফুলের আড়ালে...
সমান ক্ষিপ্রতা নিয়ে ছুটে চলেছে চিলের দল,
তুলে নেয় জমে থাকা স্মৃতির জঞ্জাল-
'এখানে শীত-গ্ৰীষ্মের পায়ের ছাপ স্পষ্ট হয়না বুঝি?'
রাস্তা থেকে অন‍্য রাস্তায়,চন্দনা নদীর তীর বেয়ে
উড়ে এসে পড়ে শালবনির জঙ্গলে-
আমি মাথায় তুলে নিই উজ্জ্বল মাটি,আর
শুয়ে থাকা ঘাসফুলের চিৎকার...
এখানেও সন্ধ‍্যে নামে,আকাশ নীল হয়
আমি ভুল করে অন‍্য রাস্তায় চলে এসেছি শুধু-
এদিকেও রাস্তা হারিয়ে যায়,মিনিটপাঁচেক জিরিয়ে
ছুটে যায় কোথায়...একমাত্র সেই জানে।।



ভাবান্তর

মৃণাল কান্তি দে


 তোমার ভরাট মুখে কুমকুমে খুশির প্রবাহ
তবু,  তুমি ঝড়ের তপস্যা করো-

  তোমার মনে এক আকাশ সরলতা
তবুও,  সমুদ্রের ঢেউ এর সাথে তোমার সখ্যতা -

তোমার হৃদয়ে নরম ভোরের চিত্র আঁকা
তবুও,   মরুভূমির গায়ে তোমার দিনান্তের স্পর্শতা -

তোমার শরীরে ছন্দ - সুরের স্বপ্ন মাখা
তবু,  তুমি জলপ্রপাত কেও সন্দেহ করো-

  আসলে তুমি তা নও
  তুমি,  কেবল কোন এক সবুজ সকালের কুয়াশার চাদর জড়ানো পৌষালী শিশির কণা--


সিকি
বদরুদ্দোজা শেখু 

অচল সিকি-টা

টিনের বাক্সের এককোণে পড়ে থেকে থেকে
 জং-ধরা টিকলির মতাে হ'য়ে গেছে, 
সিকিটা একদিন সচল ছিল, মূল্যবান ছিল। 
বাপের পুরনাে কাগজ পত্রের বাক্সে নথিপত্র 
ঘাঁটতে ঘাঁটতে পাওয়া গেছে, হাতে নিয়ে
 নেড়ে চেড়ে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে
দেখতে দেখতে
একমনে দেখতে দেখতে অকস্মাৎ
সিকিটাকে আশরফি মনে হল, মনে হল আমাদের দীনার মােহর ;
ঘরের দেয়ালে তাঁর সযতনে মাটি-লেপা আঙুলের ছাপ
যেমন এখনাে স্পষ্ট লেগে আছে যেন 
এই মাত্র তাঁর কাজ শেষে বাইরে গ্যাছেন, আর -- 
এক্ষুনি এসেই সিকিটা দেখেই তার ইতিহাস
শুরু করবেন ব'লে আমি তাঁর প্রতীক্ষায় আছি।


ইচ্ছেটা দেয় শিক্ষা
 অভিজিৎ দাশ

ইচ্ছেটা যায় হৃদয় ছুঁয়ে
        ইচ্ছেটা হয় নদী
দুকূল জুড়ে বর্ষা নামে
         ইচ্ছে ভাসে যদি।

বড়ো হতে ইচ্ছেটা চাই,
        ইচ্ছে আনে শিক্ষা
তার সাথে চাই বিশ্বাসী মন,
         মুক্তমনের দীক্ষা।

এই শিশুরাই বড়ো হবে
        মানুষ হবে, মানুষ
সত্য দিয়ে গড়বে জীবন
        উড়বে আলোর ফানুস।

তাদের আলোয় ঝলসে যাবে
         অপরাধী যারা
পৃথিবীটা উঠবে হেসে,
        সুখের ফল্গু ধারা।



জলচৌকি 
শুভময় 

বুকের মধ্যে একটা উঠোন জলচৌকি ভোর 
একটা দুপুর অলস বিকেল অপেক্ষাতেই তোর ll

হাতের  মুঠোয়  ফুসমন্তর  তেপান্তরের  মাঠ 
ছুঁয়ে দিলেই সব পাওয়া হয় আরশি নদীর ঘাট ll

চোখের তারায় বসত করা আদিমকালের ঝোরা  
শুকোয় না সে বইছে কেবল সাতশো নদী পোরা  ll

চুলগুলো আজ ইলিবিলি ফাঁদ কাটা রোদ্দুর 
ঘোরলাগা সব গন্ধ স্মৃতি কে জানে কদ্দুর  !!

পিঠে ঘাড়ে স্মৃতির পিঁপড়ে কাটছে আঁচড় আজও 
পিঁপড়ে বলে  ও বোকারাম কার জন্য সাজো? 

সেজে থাকি সকাল-সন্ধ্যে জল চৌকি পাতা 
আসবি বলেই গান লেখেনি স্বরলিপির খাতা ll

আসবি বলে ঘর বাঁধিনি ঘর ছাড়িনি আজও 
এই ঘরেতেই ঘর ভরেছি আজও খোলা দ্বারও ।।



তারা আসে তারা যায় 
বনশ্রী চক্রবর্তী 

তখন সেলুলয়েডে চরিত্ররা জীবন্ত,নিজেকে উজাড় করে,সবটুকু নিংড়ে ভালো বাসা,
একের পরে এক...
শিল্পী সে,অভিনয়ই শেষ কথা যার,আমৃত্যু...
কখনো অকপট শব্দ নিয়ে খেলা,কাব্যমালা,
মনের ভিতর জমা অভিমান,আক্ষেপ,ভালোবাসা র শব্দগ্রন্থন।
জীবনের প্রতিটি দিন ,যেন সংকল্প সৃষ্টির,
নূতন থেকে নূতনতর।
আরো কিছু দিয়ে যেতে চায় মন,আরো কিছু হয়তো দেওয়া যেতো,
শিল্পীর তৃষ্ণা মেটেনা,কখনো নয়।
তবু একদিন ডাক আসে,সুদূরের।হয়তো
গোছানো ছিল নয়তো বা অগোছালো,
তবু...
রেখে যাওয়া কল্পনা,ফেলে যাওয়া আবেগ 
সব মিলেমিশে একাকার ।
শিল্পী রেখে যায় চিন্হ,কালের আবর্তনের,
জীবনের জাগরণের ।।





নারীশক্তির বন্দনা
অঙ্কিতা সরকার

দুর্গা মানে নয় গো শুধুই 
প্যান্ডেলে প্রতিষ্ঠিত মাতৃমূর্তি,
দুর্গা মানে হলো এক রূপ
সমাজের সকল নারীশক্তি।

তোমরা করো আরাধনা
আর মাতৃশক্তির বন্দনা,
সকল জাতির মধ্যেখানেই
রয়েছে নারী নির্যাতনের যন্ত্রণা।

জাগো হে জগৎলোক
জাগাও তোমাদের শুভবুদ্ধি,
খোলো তোমাদের জ্ঞানচক্ষু
করো বিবেক চেতনা শুদ্ধি।

পবিত্রতার বন্ধনে বাঁচো তোমরা
করো না নারীদের অপমান,
তোমাদেরই লড়তে হবে
ফিরিয়ে দিতে তাদের সম্মান।     


স্বল্প গল্প 
রঞ্জন চৌধুরী

যে গল্পটাই লিখতে চাইনা কেন
কী অদ্ভুত, অল্পেতেই সে ফুরিয়ে যায়।
             
অথচ জানি
সব গল্পেরই একটা লম্বা দৌড় থাকে
সহস্রাব্দ শ্লোকের মত।
              
ফুসমন্তর জানিনা
তবুও নিজের মত করে ফুঁ দিই, বাড়েনা —
               
তবে তুমি সেভাবেই থাকো স্বল্প গল্প
আমি বরং ততক্ষণে
তোমার ওই সমগ্রতার থেকে দূরে দাঁড়িয়ে
চাঁদের সাথে সেলফি তুলে দেখি
রাত কতটা গভীর হলো।


বৃন্তচ্যুত রক্তগোলাপ 
তপনকান্তি মুখার্জি 

     কোথাও এখন আর মানুষ নেই , দুপেয়ে জানোয়ারে থইথই চারধার । নিঃশ্বাস - প্রশ্বাসের বিশুদ্ধ বাতাস নেই , মন ভোঁ ভোঁ । বেঁচে নেই তাই কেউ , মৃত্যুর অধিক মৃত সব । 
      চাঁদের চারপাশে যতো আগাছাদের ভিড় , জোছনা নিয়ে ছিনিমিনি খেলে কাঠের শরীর , চন্দ্রকলা বোঁটাভাঙা , কান্না নিয়ে লুটোয ধুলায় ।
        ঘাসের ওপর চুম্বনের সাথে লেগে থাকে অশ্রু , রক্ত , কাটা জিভ , ভারী পাথর আর প্রাণবায়ু । দিবারাত্র এ পোড়া দেশ বল্মীক হয়ে খুঁজে ফেরে মনীষাদের শবদেহ । 
         কুম্ভকর্ণঘুম কি আর ভাঙবে না ? 


সূরগতি।               
বিমল চন্দ্র পাল

সময়ের তাড়া খেয়ে
          রাত বহু দূর,
অরুণ ময়ুখমালা ছড়িয়ে
          ঐ জাগে সূর।

ঝলমলে পৃথ্বি দেয় দেখা
          অপরূপ রূপ দেয় ছড়িয়ে,
তমসার ঘন বলাহকে
           যেন কোথা যায় হারিয়ে।

প্রাণীকুলে জাগে দেখি
           কতোনা ব্যস্ততা,
জীবকুলে সব ভুলে
           লাগে যে মত্ততা।

প্রদোষ রাঙায় নিজেকে
          রক্তিম সাজে,
বরণ করিতে রবি
          তিমিরের মাঝে।     




কলের গান 
সাত্যকি

খোসা ছাড়ানোর যন্ত্রে খোসা ছাড়াতে ছাড়াতে 
দেখবে একসময় তোমার হাত ছিলে গেছে 
রক্ত বেরোচ্ছে খুব শান্ত গতিতে 
তবে ভিতর ভিতর জ্বালা অনুভূত হবে 
ঠিক বোঝাতে পারবে না কাউকে 
তবে চেপেও রাখতে কষ্ট হবে
 
দাঁতে চেপে ধরবে ঠোঁট 
কাটা জায়গা আঙুলে 
তবুও ভিতর ভিতর একটা লাল বর্ণ ভাবাবে 
একটা স্রোত বয়ে যাবে
 
এভাবে চলতে চলতে ক্লান্ত হবে হারিয়ে যাবে পথ 
একসময় ছেড়ে দেবে আঙুল টান টান করবে বিরক্তি ছাড়াতে  
এইবার চারপাশ দেখবে শান্ত জল হাওয়া 
আর রোদের সংসার তোমাকে চমক দেবে  
তুমি উদ্দেশ্য বিহীন কয়েক মুহূর্তের জন্য 
সূর্যের আলো আর চাঁদের মুগ্ধতা আড়াল করতে হাতে ঢাকবে মুখ...  


দুঃশাসন 

ইব্রাহিম সেখ

মসনদে মহারাজা সোপানে ভিখারি--
শূন্যপাত্র ছিন্নবস্ত্র বাড়িয়েছে হাত,
বিমুখ কেন নৃপতি, কাঁদছে পূজারি
যাচনার বিনিময়ে হানিছ আঘাত?

কালশিটে চিহ্ন আঁকা পিঠে আর বুকে
নীরবে সহিছে সবি ব্যথার যাতনা,
যাদের শোণিত চুষে তুমি আছো সুখে
সর্বহারা প্রজাদের ভাবো-কী ভাবনা?

সেবাইত দাস এরা সেবা করে দান
জন্মাবধি টেনে চলে জগতের ভার,
অবহেলায় নির্যাতনে বলি যায় প্রাণ
ঐশ্বর্যের আলো মাঝে দেখিছে আঁধার!

রাজাসনে বসে করো প্রজার শোষণ?
মহারাজের কর্তব্য প্রজার পোষণ।।

সত্য সুন্দর
 শ্রীমতি ডলি

জগতে সত্যে'র মাঝে  আবদ্ধ আমরা
সৌন্দর্য-বিলাসিতায়   স্বাধীন চিন্তনে,
অখণ্ডনীয়রূপে যে সত্য  যুক্তি-দ্বারা -
সদা হয়  প্রমাণিত   বিশ্বনিকেতনে।

আকাশের নীলিমায়  সৃষ্টিছাড়া রূপ
বনের শ্যামলতায়  সৌন্দর্যের ছোঁয়া,
প্রভাতে সূর্যোদয়ের আলো অপরূপ
নদীবক্ষে আন্দোলিত সূর্যাস্তের ছায়া।

এ হেন অমৃতরূপে   নেই তো  আইন
সৌন্দর্যকে মানবার কোনো দায় নেই,
স্বাধীন ইচ্ছার দ্বারা   করি যে গ্রহণ
'সত্য' নিয়মের বৃত্তে   থাকে সর্বদাই!

তবু  সত্য ও সুন্দর  পাশাপাশি থাকে
সৌন্দর্য মহিমান্বিত সত্যে'র আলোকে ।


গভীর নির্জন পথে 
 ব্রজকিশোর রজক

এই পথ একাই রয়েছে। আকাশে বাতাসে ওই বিরহের ধোয়া। পথটির আলোছায়া দাগ।

আমি না হয় সঙ্গী হলাম। নির্জন শিশিরেরা ভেজায় শরীর।
এখন দিগন্ত বহু দূরে, ওই তো পাহাড় কোলে এলিয়ে দিয়েছে  এলো দুখার্দ্র চুল।

ওই তো ক্লান্ত চিৎ উদ্বাস্তু শরীরের পিঠে।

প্রতিযোগী কলমেরা ঘুমায় এখন। আমিও সরেই গেছি।

ওই পথ বড় দূরে চলে যায়। ঠিকানা গাঙচিল।
সীমান্তে দাঁড়িয়ে থেকো না ওগো চাঁদ।
আমার আঁধারযাপন। আমার বল্কল।

ওই পথ একা হেঁটে যাক। আমি থাকি জীবনের আলপথে শুয়ে,
মনের কলমে তোর চুমো এঁকে নিয়ে।।


রাজার অসুখ
নদেরচাঁদ হাজরা

রাজার অসুখ এখন
বুকের গভীরে শিকড় ছড়িয়েছে ৷
দিন আনি দিন খাই
মানসিকতা এখন জাঁকিয়ে বসেছে
সঞ্চয়ের স্পৃহার লেশমাত্র নেই ৷
তবুও
কল্পনার জাল বুনে চলেছি অণুক্ষণ ৷
অবনমিত প্রতিভার হাত ধরে
আত্মপ্রসাদ লাভে মগ্ন ৷
তারপর !
তারপর টুকু চলে গেছে ৷
কোথায় ?
কে জানে !
হয়তো একদিন
রাজার গভীর অসুখ বুকে নিয়ে
ক্লান্তিভরা হৃদয়ে চলে যাব ৷


মৃত্যুসাজ
(সৌমিত্র স্মরণে)
নৃপেন্দ্রনাথ মহন্ত 

বেশ তো ছিল দিন স্বপ্নরঙিন
আশায় ভরপুর। কেন অকস্মাৎ 
নক্ষত্র পতন?অভিশপ্ত দিন
নির্মল আকাশে অশনিসম্পাত। 

মৃত্যু তো রোজ কত মানুষের হয়
কেউ কেউ করে মৃত্যুকে বানচাল 
সৌমিত্রও তেমনি মৃত্যুঞ্জয়
শুরু হল তার অমরত্বের কাল। 

মরদেহ তার হয়ে গেছে পুড়ে ছাই
জীবন্ত শরীরে ছিল অমেয় আলো
সে আলোর খোঁজ রাজমহলেও নাই
কালের হৃদয় সে আলোই রাঙালো।

মৃত্যু তো নয়,এ তার মৃত্যুসাজ 
জীবন জেগেছে জীবনাবসানে আজ।


আমি আর কাঁদিনা
রাজা দেবরায়


আমি আর এখন কাঁদিনা
কী যে কারণ জানিনা
হৃদয় আর নেই নরম
কথাও বলি গরম গরম
কাঁদিনা কারোর শুনলে মৃত্যুসংবাদ
অথবা কেউ হয়ে গেলে বরবাদ
কাঁদা এখন আর আসেনা
হৃদয় আবেগে আর ভাসেনা
ভোগবাদী দুনিয়ায় হয়ে যাচ্ছি যন্ত্র
নিজে সুখে থাকো – শুনি কানমন্ত্র
কিভাবে হলাম আমি পাষাণ
অনুভূতি নেই জমিন-আসমান
যন্ত্রের মত সারাদিন ছোটাছুটি
একাকিত্বকেই হয়তো লুটি
হতে চাই আগের মতো আমি
সব মানুষকেই যেন ভাবি দামি

জলপরী
তাপসী শতপথী পাহাড়ী

আকাশ গাঙে মেঘ ভেসেছে,
জলপরীরা তাই সেজেছে,
ও বৃষ্টি কণা কোথায় তুমি যাও?
ওই যে দূরে পাহাড় চূড়ে,
 পাখিরা সব যাচ্ছে উড়ে,
সেইখানে তে ভাসাই আমার নাও।

থাকবো সেথায় হাওয়ায় ভেসে,
 হিমের পরশ  থাকবে মিশে,
ঝরনা নুপূর বাজবে আমার পায়।
নেচে নেচে পাহাড় বুকে,
গান শোনাবো মনের সুখে,
আলোক হীরক পড়বে আমার গায়।




--------------------------------------------------------------------------------
 বইমেলা  কবিতা  সংখ্যাটি  আজ প্রকাশিত হল। সবাই কে পড়ার জন্য আমন্ত্রণ রইল। সবাই মতামত জানান। 👆👆👆👆👆  

লাইক করুন 👍👍👍👍👍  

ankurishapatrika@gmail. com
---------------------------------------------------------------------------------------              

1 টি মন্তব্য:

  1. অসংখ্য অসংখ্য ধন্যবাদ ও আন্তরিক শ্রদ্ধা রইলো অঙ্কুরীশ সাহিত্য পত্রিকাকে ।
    সুন্দর পরিবেশন। আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি যে আমার কবিতা এই সংকলনটিতে স্থান করে নিতে সক্ষম হয়েছে ।
    সম্পাদক উপদেষ্টা ও পত্রিকারসমস্ত কুশীলবদের আমার কুর্নিশ।

    উত্তরমুছুন