৷।শুক্রবারের গল্প।।
গরিবিয়ানা
উত্তমকুমার পুরকাইত
আকাশের দিকে চেয়ে থাকে সঞ্জয়। মনটা ভাল নেই। বউ আর বউমা কিছুতেই মিলছে না। দু'জন দু'জনকে সহ্য করতেই পারে না। এই নিয়ে ছেলে-মায়েও লেগে যায়। ক'দিন আগে তো ছেলে মাকে বলল, মনে হিংসা থাকলে সততা আর দায়বদ্ধতা নিয়ে কি ধুয়ে খাবে? ওটা দূর করো, তবে এগোতে পারবে। বছর দশেক আগে মুখার্জিবাবুও তাই বলেছিল। গরিবের গরিবিয়ানা না ঘুচলে সে চারদিকে উদার চোখে তাকাতে পারে না, তার মনের মধ্যে ক্ষোভ জমে, সে পৃথিবীকে সুন্দর করে দেখতে শেখে না।
স্বপনের মাথার ঘিলু টগবগিয়ে উঠেছিল। গরিবের হাহাকার আর দীর্ঘশ্বাস দেখলেই কেন যে এদের জ্ঞানে পায়! ঠিক এই সুযোগে সেও বলেছিল, এবার একটু মাইনে বাড়িয়ে দিন না বাবু।
মুখার্জিবাবু ওর মুখের দিকে তাকিয়ে ভেবেছিল। মাথা নাড়তে নাড়তে বলেছিল, হ্যাঁ ঠিক বলেছিস।
মাস শেষ হল। মাইনে বাড়ল না। সঞ্জয় মনে করিয়ে দিতেই লোকটা হাঁ হয়ে গেল। তাৎক্ষণিক বিপর্যয়কে সামাল দিতে তখনকার মতো বলল, হ্যাঁ হ্যাঁ দেখছি।
আরও কয়েকটা সপ্তাহ, মাস কেটে গেল। লোকটার দেখা আর হয়ে উঠল না। ছেলে-গিন্নির চাপে বছর শেষের মাইনে বাড়াতে গিয়ে যে-লোক ইতস্তত করত, হাত খুলে তাকাতে পারত না, অথচ জ্ঞান...
এসো দেখি বাড়িতে একটু এসো। এমন ঠূঁটো জগন্নাথের মতো বোবা সেজে থাকলে হবে না, একটা বিহিত করতে হবে। নইলে ও থাকবে, নয় আমি।
সূর্য ডুবে গেছে। একটা মেয়ে বুড়ো বলদটাকে দড়িতে টানতে টানতে নিয়ে যাচ্ছে গোয়ালে। বুড়ো হলে মানুষকেও কি সবাই এভাবে আছাড়িপিছাড়ি টানে?
কী হল, শুনতে পাচ্ছ? একটু পা চালিয়ে এসো।
কেন কী হয়েছে? তোমার বউমা এই ভর সন্ধেয় বেরিয়েছে, বাপের বাড়ি যাবে।
যেতে চাচ্ছে যাক না। মিছিমিছি অশান্তি বাড়াচ্ছ কেন?
ও যা ইচ্ছে তাই করবে! সংসারে মঙ্গল-অমঙ্গল বলে কিছু নেই? ওর না হয় যা কিছু হল, কিন্তু ছেলেপিলে...
চুপ থাকলে হবে না, কিছু একটা বলতে হবে বলে দিলুম।
লাঠিটা বাড়িয়ে দেয় সঞ্জয়। গোধূলির আলোয় একটা প্রজাপতি। জীবনে কতবার একটু রঙের প্রত্যাশায় হাত বাড়িয়েছিল, কেউ এগোয়নি। বউটাও না। এই বয়সে কোমর বেঁকিয়ে তরতরিয়ে কেমন চলেছে। প্রতিদিন বউমার সঙ্গে ঝগড়া করবে, আর তার কাছে শালিস মাঙবে।
সে গরিব ছিল, কিন্তু শান্তি ছিল। সে মুখার্জিবাড়িতে কেয়ারটেকারের কাজ করত, আর বউ গ্রামের বাড়িতে বাড়িতে কাঁথা সেলাই করে বেড়াত। তাতে হয়তো কেউ একবাটি চাল দিল, কেউ বাগানের সব্জি দিল, কেউ ছেলের বই কেনার টাকা দিল। চলে যেত। সে কম রোজকার করত বলে বউ কখনও টানাহেঁচড়া করত না। একবার রেগেছিল বউ। ছেলেটা যেদিন পলিটেকনিক পাশ করে কলেজে ভর্তি হল। সঞ্জয়ের আশা ছিল বাবু তার বিশাল চৌহদ্দিতে ছেলেটার একটু ঠাঁই দেবে। গ্রাম থেকে কলকাতা যাতায়াত করে পড়াশোনা তো সম্ভব নয়। সঞ্জয় সাহস করে বাবুর কাছে পেড়েছিল, ছেলেকে একটু জায়গা দেবেন বাবু। লোকটা মুখের দিকে তাকাল, দেখি তোর গিন্নিমার সঙ্গে কথা বলে।
সঞ্জয় অপেক্ষায় ছিল। দু'দিন গেল, চারদিন গেল, ছ'দিন। কোনও জবাব এল না। মুখার্জিবাড়ির ছোটছেলে একদিন মদ খেয়ে ব্যালকনি থেকে চেঁচাতে শুরু করল, কাজের লোকের এখানে ঠাঁই হতে পারে, তাই বলে তার পোষ্য? কারও ঠাঁই হবে না এখানে, কারও না। সঞ্জয় হাসল। মানুষটা বলেছিল, গরিবের গরিবিয়ানা না ঘুচলে সে চারদিকে উদার চোখে তাকাতে পারে না।
সেই প্রথম রেগেছিল বউ, কাদের দেখভাল করতে পড়ে আছো ওখানে? পিশাচ! চলে এসো এখানে।
একটু ইতস্তত করেছিল সঞ্জয়, কিন্তু এতদিন পরে গ্রামে গিয়ে বা কী করব বলো তো? এই বয়সে গ্রামের খাটনিতে বড় কষ্ট।
ওখানে পড়ে থাকতে তোমার লজ্জা করছে না? কী করবে আমি ভেবে রেখেছি, চলে এসো।
রাতারাতি ব্যাগপত্তর গুছিয়ে নিয়েছিল সে। সূর্য ওঠার আগে বাবুর ঘরে গিয়ে দরজায় ঠোক্কর দিয়েছিল।
দরজাটা খুলে চোখ রগড়াতে রগড়াতে বাবু সামনে দাঁড়িয়েছিল, কী ব্যাপার?
আমি চলে যাচ্ছি।
চলে যাচ্ছি মানে?
এখানে পোষাচ্ছে না, কাজ করব না।
কী বলছিস এসব!
সঞ্জয় হেসেছিল। গিন্নিমা একটু থতমত খেল, কিন্তু বাছা হঠাৎ করে যাব বললে তো হয় না। সঙ্গে সঙ্গে কাজের লোক আমরা পাব কোথায়?
মুখার্জিবাবু দু'চোখ তুলে তাকাল, তোর এখানে অসুবিধা কোথায়?
আপনি তো জানেন অসুবিধা কোথায়। গরিবদের হয়ে কথা বলবেন, অথচ গরিবি দূর করার সু্যোগ পেয়েও চোখ বুজে থাকবেন, এতেই তো রাগ হয় আপনাদের উপর। আপনার উপর ভরসা করে আমি ছেলেকে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে বলেছিলাম। আপনি কথা রাখলেন না। আপনারা মনে-প্রাণে কেউ চান না দেশ থেকে গরিবিয়ানা দূর হোক। সোজাটা ভাবার পর বাঁকাটাও ভেবে ফেলেন আপনারা। তাহলে আপনাদের ফাইফরমাশ খাটবে কে? আপনাদের চাকরগিরি করবে কে?
মুখ সামলে কথা বল সঞ্জয়। ছোট মুখে বড় কথা বলিস না।
উপর থেকে সিঁড়ি ভাঙতে ভাঙতে নীচে নামছিল বাড়ির ছোট ছেলে। ট্যারা চোখে তাকাল, যাব বললে তো যাওয়া যায় না।
যদি যাই আটকাতে পারবেন?
পুলিশে দেব, চুরির দায়ে।
সঞ্জয় সামলাতে পারল না নিজেকে। ওরা সক্কলে ঠোঁট চেপে হাসল। সঞ্জয়ের চোখে-মুখে বারুদ। ফস করে জ্বলে উঠল, জেল থেকে ফিরে যদি সবকটাকে খুন করি।
কী বললি হারামির বাচ্চা? ছোটবাবু ছুটে এসে ওর গলাটা চেপে ধরে, খুন করব শুয়োরকে।
সবাই মিলে থামিয়ে দিয়েছিল সে যাত্রায়। গিন্নিমা চিৎকার করে বলেছিল, ও ছোটলোক হয়ে বড়লোকের সুখ-স্বাচ্ছন্দকে ঈর্ষা করতে পারে, কিন্তু তা বলে তুইও মাথা গরম করবি।
মুখার্জিবাবু সবার সামনে হুকুম করল, ওকে যেতে দাও।
গ্রামে ফিরেছিল সঞ্জয়। বউকে সঙ্গে নিয়ে মুড়িভাজার ব্যাবসায় নামল। একটু একটু করে অভাব ঘুচল। ছেলেটা পলিটেকনিক পাশ করে কোম্পানির অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার হল। দূর হল তাদের গরিবিয়ানা। ছেলেকে দেখেশুনে পছন্দ ঘরে বিয়ে দিল। নাতি হল, নাতনি হল। সুখের আলোয় যখন চারপাশ ঝলমলে দেখাচ্ছে, তখনই বউ-বউমার ঠোক্কর।
বউমা পরিষ্কার জানিয়ে দিল, শুধু জল তোলার লোকে তো হবে না, রান্নার লোকও একজন চাই।
তেড়ে নেমে এল বউটা, আর তুমি কী করবে? শুয়ে শুয়ে সিনেমা?
বউমা বিছানায় শুয়ে পা দোলাচ্ছিল। সোজা হয়ে বসল, দ্যাখো মা, খোঁচা দেবে না। আমি কেয়ারটেকারের বউ নই।
ভ্যাঁ ভ্যাঁ করে কাঁদল বউ, শ্বশুরকেও খোঁচা দিচ্ছ! ওরে কে আছিস শোন, আমরা গরিব ছিলাম, কিন্তু মানুষ ছিলাম গো। এ কে এল আমাদের ঘরে? মেরে ফেলবে গো।
বউমা নীচে নামল, খবরদার চেঁচাবে না। আমারও কাজ আছে, ছেলেমেয়েকে পড়ানো।
আহা পড়ানো! ভাত-পান্তা ছেড়ে রাতদিন দোকানের খাবার গিলছে, আর কার্টুন দেখছে। পড়বে!
সঞ্জয় অতীষ্ঠ হয়ে বারান্দায় নেমে পড়ত। ছেলের দেখাশোনার সময় বউকে কতবার বলেছিল, আমরা যেমন ঝাড়ের, তেমন ঝাড় দেখবে। সেয়ানে সেয়ানে কোলাকুলি।
বউ কথা শোনেনি। ফুৎকারে উড়িয়ে দিয়েছিল তার কথা, আমি মুখ্যু বলে, কালো বলে, বউকেও তাই আনব নাকি? আমাদেরও তো শখ-আহ্লাদ আছে। ছেলেরও আছে।
সঞ্জয় হেসেছিল, ছেলে চাকরি পাওয়ায় তাহলে তো বড়লোক হয়ে গেলে। এবার মুখার্জিবাবুদের মতো হবে। ধরাকে সরা জ্ঞান। চারপাশের মানুষকে গরিব ভেবে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করবে।
চুপ করো তো। তোমার ওই বাবুর মতো কাফের হব না।
সঞ্জয় মনে মনে হাসে, হবে গো বউ হবে। নিজের সঙ্গে বউমার ফারাকটা চোখে পড়ছে তোমায়। তোমার ঈর্ষা হচ্ছে। মনের কোণেও তুমি গরিব রয়ে গেছ। অভ্যাস পালটাতে পারোনি।
ছেলে বলেছিল, তোমরা কষ্ট করেছিলে বলে বউমাকেও কষ্টের মধ্যে দেখবে। এত ছোট মন কেন তোমাদের? এখন তো সময় ফিরেছে। তবু সুখী হতে পারছ না কেন? গরিববেলার গ্লানিকে বুকের মধ্যে পোষ্য করে রেখেছ কেন? সবার সুখ দ্যাখো। কত গরিব তো আজকাল স্টাইলে দিন কাটায়। অথচ তোমরা... তোমরা হলে জন্মদুঃখী। নিজে ভাল থাকবে না, আর কাউকে ভাল থাকতে দেবে না। তোমাদের স্বভাবটাই নষ্ট হয়ে গেছে।
অফিসের সাজগোজ করে কাঠ-কাঠ কথাগুলো মাকে বলে হনহন করে বেরিয়ে গিয়েছিল ছেলে।
হাউহাউ করে কেঁদেছিল মা। সঞ্জয়ের হাতদুটো জড়িয়ে ধরে।
কী গো আসবে? বউটা আবার ডাকে।
এই বয়সে সঞ্জয়ের আর কারও সঙ্গে চিৎকার-চেঁচামেচি করে কথা বলতে ইচ্ছে করে না। কত ভেবেছিল, ছেলে নেই, বউমা এসে শ্বশুর-শাশুড়িকে বাপ-মার মতো মান্য করবে। সারাক্ষণ এ নিয়ে অশান্তি করে বউ। অথচ মেয়েটার স্বভাব বদলায় না।
হঠাৎ পুকুরের ওপাশ দিয়ে তেড়েফুঁড়ে একটা কান্না বেরিয়ে আসে। ফেলুকার বাপটা মরল বোধহয়। অনেকদিন ভুগছিল বুড়োটা। কিডনির রোগে। ছেলে-বউ একটু চিকিৎসা করাল না। কতবার মানুষটা তাকে বলেছে, নিজের দুঃখ নিজের কাছে রাখিস বাবা, কাউকে জানাতে যাস না। কেউ কারও নয়।
লোকটা মরে গেল। ছেলে, ছেলের বউ কেউ দেখত না। বেঘোরে মারা গেল।
প্রজাপতিটা ওড়ে। অন্ধকারে ক্রমশ ফ্যাকাশে হয়ে যাচ্ছে। সঞ্জয় দাঁড়ায়। আকাশের দিকে চেয়ে থাকে। বড় অন্ধকার। তবু ঈশানে একফালি ঠোঁট। কনেবেলার মেয়ের মতো। একটাও জোনাকি নেই। শুধু একটা ঠোঁট। বউটা সব ভুলে হারিয়ে যাওয়া ঠোঁট নিয়ে আবার যদি চেয়ে থাকত। বউটার জন্য কষ্ট হয়। খাটতে খাটতে জীবনের সব রসকষ শুকিয়ে ফেলেছে। আবার যদি নতুন করে তাকাত তার দিকে, হয়তো বদলাত। হয়তো নতুন করে তাকাত ছেলের দিকে, ছেলের বউয়ের দিকে, নাতি-নাতনির দিকে। কান্নাটা উত্তোরত্তর বাড়তে থাকে। যারা জীবিতকালে দেখল না, তারা এখন মরা কান্না কাঁদছে। ভাল লাগে না কিছু। ভাল হয়েছে, ফেলুকা মরেছে।
বেশভূষা করে ছেলে-মেয়ের হাত ধরে বউমা উঠান ছাড়িয়ে পথে নেমেছে। বউটা সমানে চিৎকার করছে, গুরুজনকে মানে না ও। গ্রামে একটা মানুষ মরেছে, এ-সময় বেরোয়, ওর আক্কেল নেই।
লাঠি হাতে বউমার সামনে দাঁড়ায় সঞ্জয়, অন্য কোনওদিন যেও মা। লোকে খারাপ বলবে।
ক'দিন থেকে তো বলছি বাবা আমার মা'র অবস্থা ভাল নয়, দাদাও দিল্লি থেকে এসেছে, দেখতে। এক্ষুনি ফোন করল কাল ভোররাতে চলে যাবে, একটু দেখা করবে। তাছাড়া যে মানুষটা মরেছে আমাদের জ্ঞাতি তো নয়।
তাতে কী? পাড়ার মানুষ তো?
আমাকে যেতে হবে বাবা।
তাহলে নিজে যাও, বাচ্চাদুটোর নে যাওয়ার কী দরকার?
বউও চিৎকার করে, কোনও কথা শুনবে না যখন নিজে যাও। আমরা ওদের দেখব। এত কথা বলে কেমন হাঁপিয়ে যায়।
নিজের সামলাতে পারো না, আবার ওদের! সারাক্ষণ তো গজরাবে।
কী গো, কিছু একটা বলো।
সঞ্জয় কী যে বলবে বুঝে ওঠে না। বেহাইয়ের শরীরটা খারাপ। পেটে টিউমার। একটা অপারেশন হয়েছে কিন্তু ডাক্তার আশ্বাস দিচ্ছে না। এই নিয়ে অশান্তি সঞ্জয়ের পছন্দ নয়। বউটার বয়স হচ্ছে, তবু কেন যে বোঝে না। বউমাও ভাবতে পারত। একটা মান্নুষ মরেছে, অথচ ছেলেপিলে নিয়ে এই অন্ধকারে...। চারপাশে তাকালে মনে হয় কোথায় যেন সব কিছু হারিয়ে যাচ্ছে। হয়তো মেয়েটা ঠিক, তারাই ভুল। ছেলে তো সরাসরি বলল, সবাই এগোচ্ছে, অথচ তারা পারছে না। গরিব রয়ে গেছে।
ফেলুকাকে নিয়ে মরা কান্নাটা ক্রমশ বাড়ছে। ঝিম মারছে অন্ধকার।
বউমা বলে, দেরি হলে গাড়ি পাব না, চললাম।
থ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে বউ। বউমা দু'পা এগোতে ফোঁস করে, অভাব নেই, বাধা নেই। জানি না কেন এত তাড়া...
পিছন ফেরে বউমা, তুমি তো জানবে মা। তুমি মনে করো তোমার ছেলের সব ইনকামের টাকা আমার বাবার চিকিৎসায় ঢালছি।
মেয়েটা একটু এগিয়ে আসে। একেবারে মুখের কাছে। বলে, আর নিলেই বা? ছেলে তার বাপ-মার জন্য করতে পারে, আর শ্বশুরের জন্য নয়? এত পর ভাবো তাদের! এত নীচ তোমরা! তোমার ছেলের সব ফুরিয়ে যাবে না। যাক। যে-টাকা ভালর জন্য কাজে লাগে না, সে টাকা উইপোকা খাক। ভিখিরি হোক তোমার ছেলে।
হিম স্রোত বয়ে যায় সঞ্জয়ের শরীরে। এই অন্ধকারে মেয়েটাকে ঠিক চেনা যাচ্ছে না। কিন্তু বউটা যে বোবা হয়ে কাঁপছে, টের পায় সে।
মেয়েটা অন্ধকারে ফণা নাড়াতে নাড়াতে বলে, মৃত মানুষকে নিয়ে আদিখ্যেতা দেখাতে পারো, আর একটা মরতে বসা মানুষকে বাঁচাতে পারো না। কমে যাবে তোমাদের! ছি!
অন্ধকারকে ঘুলিয়ে দিয়ে, মরা কান্নাকে ঘুলিয়ে দিয়ে বউমা ছেলেমেয়েকে নিয়ে এগিয়ে যায়। বউটা পাথরের মতো দাঁড়িয়ে। সঞ্জয় কী করবে ঠিক বুঝে উঠতে পারে না।
----------------------------------------------------------------
পড়ুন ও পড়ান।
মতামত জানান
ankurishapatrika@gmail. com
----------------------------------------------------------------

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন