ধারাবাহিক গোয়েন্দা উপন্যাস / পঞ্চম পর্ব
একটি মার্ডার : এবং তারপর...
সৈয়দ রেজাউল করিম
তিন
তিনটে দিন অতিক্রান্ত হয়ে গেলেও মৃত মানস মিত্রের ডেডবডি আইডেন্টিফাই হয়নি। তা নিয়ে
ভীষণ দুশ্চিন্তায় ছিলেন যতীন দারোগা। মৃতের আত্মীয়-স্বজনের খোঁজখবর পাওয়া যাচ্ছিল
না কোনভাবেই। বাগনান থেকে জ্যোতিষ বাবু ফিরে আসার পর, তার কাছে সব শুনে স্বস্তির নিঃশ্বাস
ফেললেন তিনি। বিলম্ব না করে তিনি সেই ফোন নাম্বারে ফোন করলেন। একটানা বেশ কিছুক্ষণ
ফোন বাজার পর ফোন ধরলেন এক মহিলা। যতীন দারোগা শুধালেন-- এটা কি মানস মিত্রদের বাড়ির
ফোন ?
--
হাঁ। আমি মানস মিত্রের মা, প্রতিভা মিত্র বলছি। কিন্তু আপনি...?
--
আমি হাওড়া জি.আর.পি থানার বড়বাবু, যতীন দারোগা বলছি। আপনার ছেলে মানস মিত্র এখন কোথায়
জানেন? তার কোন খবর-টবর কিছু পেয়েছেন?
থানা-পুলিশের
কথা শুনে চমকে উঠলেন প্রতিভা দেবী। বেড়ে গেল তার বুকের স্পন্দন।ভাবলেন, ছেলেকে নিশ্চয়ই
পুলিশে ধরেছে। কিন্তু কেন? ও তো কারোর সাথে পাঁচে থাকেনা। তাহলে কি বিনা টিকিটে কোথাও
ধরা পড়েছে? কিছুই বুঝে উঠতে পারলেন না প্রতিভা দেবী। আজকালকার ছেলেপুলেরা সঙ্গ দোষে
কি না করে বেড়াচ্ছে, কে জানে ? মান্থলি টিকিট কাটার জন্য তো এ মাসের প্রথমেই তার কাছ
থেকে টাকা নিয়েছিল মানস। তাহলে? কোন কিছুর খুঁজে না পেয়ে তিনি বললেন- না স্যার
! গত তিনদিন থেকে ওর কোন খোঁজ খবর পাচ্ছি না। কে জানে, মাসির বাড়িতে গিয়ে উঠেছে কিনা! নাকি ওকে আপনারা এ্যারেস্ট করেছেন?
যতীন দারোগা
বুঝতে পারলেন না, মানসের মাকে কিভাবে সত্য কথাটা বলবেন? এখনি তাকে এই সত্য কথাটা বলা
উচিত হবে কিনা ! ছেলের মৃত্যু সংবাদ শুনে যদি কিছু অঘটন ঘটিয়ে ফেলেন ? একটু ভাবনা-চিন্তা
করে যতীন দারোগা শুধালেন-- বাড়িতে আপনার পুরুষ মানুষ কে আছেন ?
--
না স্যার ! প্রতিভা দেবী বললেন-- বাড়িতে আর কেউ নেই স্যার ! বছর খানেক আগে অ্যাক্সিডেন্টে
ওর বাবা গত হয়েছেন। ছেলেকে নিয়ে আমি জগাছাতে থাকি। তার স্যার! মানসকে কি পুলিশ এ্যারেস্ট
করেছে?
সে
প্রশ্নের সরাসরি কোনো জবাব না দিয়ে যতীন দারোগা বললেন-- আপনি এক কাজ করুন। কাল সকালে
পাশের বাড়ির জানাশোনা কাউকে নিয়ে হাওড়া জি.আর.পি থানাতে চলে আসুন। সমস্ত কিছু বুঝিয়ে
বলে দেবেন জ্যোতিষ বাবু।
এ
কথা বলে ফোন রেখে দিলেন যতীন দারোগা। গভীর চিন্তায় পড়ে গেলেন প্রতিভা দেবী। দুঃশ্চিন্তায়
সারা রাত ঘুমাতে পারলেন না। ফোন করে বোনকে এবং পাড়া-প্রতিবেশী ও আত্মীয় স্বজনকে জানালেন।
তারা প্রতিভা দেবীকে আশ্বস্ত করলেন এই বলে যে গত তিন দিন ধরে মানসের কোন খোঁজ পাওয়া
যাচ্ছিল না, এখন তো একটা খোঁজ মিলেছে। কিছু একটা সমাধানের চেষ্টা আমরা করে ফেলব। সকাল
দশটা নাগাদ তুমি চিরঞ্জিতকে সাথে নিয়ে হাওড়া জি.আর.পি থানাতে চলে যেও। আমি চিরঞ্জিতকে
ফোন করে বলে দিচ্ছি।
বোনের
নির্দেশ মতো চিরঞ্জিতকে সাথে নিয়ে সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ প্রতিভা দেবী পৌঁছে গেলেন
থানাতে। জ্যোতিষ বাবু, যতীন দারোগা, সকলেই তখন থানাতে উপস্থিত ছিলেন। পরিচয় জেনে যতীন
দারোগা তার চেম্বারে ডেকে নিলেন তাদের। বসতে বললেন সামনের চেয়ারে। তারপর মৃতের ছবিগুলো
টেবিলের উপর সাজিয়ে প্রতিভা দেবীকে বললেন - দেখুন তো ছবিগুলো মানস মিত্রের কিনা?
ছবি
দেখেই প্রতিভা দেবী বুঝতে পারলেন তার ছেলের ছবি। এটাও বুঝতে পারলেন তার ছেলে আর ইহজগতে
নেই। আর তাই তিনি চিৎকার করে কাঁদতে শুরু করলেন। আক্ষেপ করে বলতে থাকলেন হায় ! আমার
কি সর্বনাশ হল গো।একমাত্র ছেলেকে হারানোর শোকে খুব বিহ্বল হয়ে পড়লেন। কাঁদতে কাঁদতে
একসময় তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেললেন। তাকে সেবা-শুশ্রূষা করার জন্য লেডিস পুলিশরা এগিয়ে
গেলো।
পুত্র
হারানোর শোক যে কি তা যতীন দারোগা উপলব্ধি করেছেন চাকরি জীবনের প্রতিটি পলে পলে। তীর
বেঁধা পাখির মতো হৃদয় যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকে সারা দেহ-মন। কাজ করতে গিয়ে দেখেছেন
কত মানুষের স্বজন হারানোর কাতরতা। তাদের অসহায়তা। তাদের দুঃখ, ক্ষোভ, অভিমানের গরল।
শুধু কি তাই ? নিজের স্বজন হারানোর ব্যথা আজও বয়ে বেড়াচ্ছেন তিনি। এক এক করে তিনি
হারিয়েছেন তার বাবা, মা, ঠাকুরদার মত অনেক স্বজনকে। কালের বিচার, বয়স হয়েছে বলে
নিজের মনকে সান্তনা দিয়েছেন যতীন দারোগা। কিন্তু মাদারিহাট থানাতে বসে যেদিন শুনলেন
তার ছোট ছেলে মতিন মারা গেছে রোড অ্যাকসিডেন্টে, সেদিন আর নিজেকে স্থির রাখতে পারেননি।
বুকটা যেন ভেঙে পড়েছিল তার। অবাধ্য চোখের জল নিঃশব্দে গড়িয়ে পড়েছিল তার দু'চোখ
দিয়ে। ভি.আই.পি ডিউটি শেষ করে, সাহেবদের পারমিশন নিয়ে, কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস ধরেছিলেন
ফালাকাটা রেল স্টেশন থেকে। পরদিন দুপুর বেলা পৌঁছেছিলেন ডায়মন্ড হারবারে । সেই এক
কাপড়েই শ্মশান যাত্রা। মুখাগ্নি। ভাবলে এখনো গায়ের লোমগুলো খাড়া হয়ে ওঠে যতীন দারোগার।
একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে মানসের মারও সেই একই অবস্থা। একটু কান্নাকাটি করে বুকটা হালকা
না করতে পারলে মৃত্যু তার সুনিশ্চিত। তিনি আর একবার তাকিয়ে দেখলেন প্রতিভা দেবীকে।
তার চেম্বারে অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে আছে প্রতিভা দেবী। লেডি কনস্টেবলরা চেষ্টা করছে
আন্তরিকভাবে, তার জ্ঞান ফেরানোর জন্য। কিন্তু এখনো জ্ঞান ফিরছে না । তা দেখে তিনি বললেন--
অঞ্জলি ! ডাক্তারবাবুকে ডাকতে হবে নাকি ?
উত্তরে
কনস্টেবল মধুমিতা বলল-- না স্যার !ওনার জ্ঞান ফিরেছে এইমাত্র। চোখ মেলে একবার আমাদের
দিকে তাকিয়ে দেখেছেন।
জ্যোতিষ
বাবু খাতাপত্র নিয়েই এগিয়ে গেলেন তার কাছে। ব্যাপারটা বুঝতে পেরে যতীন দারোগা বললেন--
জ্যোতিষ বাবু! আজ আর ওনাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে যাবেন না। ওনাদের সঙ্গে নিয়ে আপনি সোজা
চলে যান হাওড়া জেনারেল হাসপাতালে। এখন না গেলে অনেক দেরি করবে ডেডবডি ছাড়তে। আমাদের
শম্ভুকে বলবেন তার গাড়িতে করে ডেডবডিটা যেন জগাছাতে পৌঁছে দেয় । সম্ভব হলে আপনিও
চলে যাবেন ওদের সাথে। একবারে দাহ কাজ সেরে ফিরে আসবেন।
জ্যোতিষ বাবু
বললেন-- ঠিক আছে স্যার !
একথা
বলে প্রতিভা দেবী, চিরঞ্জিত ও অন্যান্যদের সাথে নিয়ে জ্যোতিষ বাবু বেরিয়ে পড়লেন। হাতের কাজকর্ম সেরে যতীন দারোগা ডুবে পড়লেন তদন্তের ভাবনায়। তার মাথায় তখন খেলা
করছিল নানান প্রশ্ন। প্রথম প্রশ্ন হল মানস মিত্রের খুনী কে? তারা সংখ্যায় একজন,
না বেশ কয়েকজন ? তাকে খুন করার কি উদ্দেশ্য ছিল তাদের ? মানসকে খুন করবে বলে কি আগেভাগে
ঠিক করে রেখেছিল? তারা কি প্ল্যান করে তাকে ট্রেন থেকে ঠেলা মেরেছিল? যদি আচমকা ঘটনাটা
ঘটে থাকে, কিংবা যদি উত্তেজনা বশতঃ ঠেলাঠেলি করতে গিয়ে ঘটনাটা ঘটে যায়, তাহলে নিঃসন্দেহে
সেই বগির কোন একজন এসে খবর দিত থানাতে।যার ছাতার বাঁট ধরে মানস নিজেকে রক্ষা করার চেষ্টা
করেছিল, সে এসে নিশ্চয়ই বলতো থানাতে। এটাই মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি। কিন্তু এ ক্ষেত্রে
সেটা ঘটেনি । কেউ এসে কোন অভিযোগ করেনি কোন সংবাদ দেয়নি। তাহলে এটা ধরে নেওয়া
যেতে পারে, এটা ইচ্ছা বা অনিচ্ছাকৃত হত্যার পরিনাম।
এইসব
নিয়ে যতীন দারোগা যখন মনে মনে ভাবছিলেন, তখন হরি চলে এলো থানাতে। হাতে তার কফির গ্লাস।
ঠক করে সেটা টেবিলের উপর রেখে আদেশের সুরে যতীন দারোগাকে বলল-কফিটা খেয়ে নিন স্যার
! ঠান্ডা হয়ে যাবে।
একথা
বলে হরি গেল চলে। কফির পেয়ালায় চুমুক দিয়ে আবার ভাবনায় পড়ে গেলেন যতীন দারোগা।
প্রশ্ন হল কে খুন করতে পারে মানসকে ? কি কারণে তারা খুন করতে পারে? মানসের সাথে কিসের
এত শত্রুতা? কিসের এত প্রতিদ্বন্দ্বিতা? কিসের রেষারেষি? কোন পরিস্থিতিতে খুনের
মত একটা জঘন্যতম ঘটনা ঘটিয়েছে? সে সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পেতে গেলে মানসের বাড়ির
আশেপাশের লোকজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। সেটা আজ আর হয়তো সম্ভবপর হয়ে উঠবে না।
এ
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কেউ না কেউ আছে। কিন্তু তাদের খুঁজে বার করা বড় দুষ্কর। মানুষজন
চিরকালই ভেবে এসেছে, বাঘে ছুঁলে আঠারো ঘা, পুলিশে ছুঁলে ছত্রিশ ঘা। কথাটা প্রবাদের
মত হয়ে গেছে আজকাল। তাই সহজে মানুষ থানা-ফাঁড়িতে মাথা গলাতে আসেনা। অধিকারের পাশাপাশি
কর্তব্য বলে যে একটা শব্দ আছে তা বেমালুম ভুলে যায়। অথবা ইচ্ছা করে এড়িয়ে যায়।
খড়গপুর
হাওড়া এক্সপ্রেস ট্রেন বা লোকাল ট্রেনগুলোতে কমপক্ষে বারোটা বগি থাকে। প্রায় হাজার
দেড়েক লোক এক একটা ট্রেনে যাতায়াত কর। কিন্তু কোন বগিতে ঘটনাটা ঘটেছে, সেটা আদবে
মালগাড়ি ছিল কিনা, কে বলবে? সেখান থেকে প্রত্যক্ষদর্শী লোকজন খুঁজে বার করা খড়ের
গাদায় ছুঁচ খোঁজার সমতুল্য।
একটা
খুনের পিছনে নানান কারণ থাকতে পারে। সাধারণত খুনের পেছনে তিনটি কারণ লক্ষ্য করা যায়।
প্রথমতঃ জমিজমা, অর্থাৎ সম্পত্তি। দ্বিতীয়তঃ টাকা-পয়সা এবং তৃতীয়টি হলো নারী। জমিজমার
কোন ব্যাপারে এখনো কোনো ভাবে মানসের জড়িয়ে থাকার কথা নয়। তাকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে
দিলে তার আত্মীয় স্বজনরা অনেক লাভবান হবে, অনেক সম্পত্তির মালিক হবে, এরকম চিত্র এখনো
পর্যন্ত তদন্তে উঠে আসে নি । তাছাড়া মানসদের খুব একটা বেশি সম্পত্তি আছে বলে মনে হয়
না। মানসের বাবা মারা যাওয়ার পর এখন অসচ্ছল অবস্থা মানসদের সংসারে। ছেলেকে কিভাবে
উচ্চ শিক্ষা দেবে সেটাই এখন মানসের মায়ের চিন্তা। উপায়হীন একটা পরিবারে যথেষ্ট পরিমাণ
টাকা এখন কোথায় পাবে মানস ? যার জন্য তাকে খুন হতে হবে ? তাছাড়া এখনো সে ছাত্র। কোন
চাকরি বাকরি করে না। মার কাছ হাত পেতে তার দিন অতিবাহিত হয়। নেশা টেশা মানস করত কিনা
কে জানে ? কোন ব্যাপার নিয়ে পাড়া পড়শিদের সাথে কোন ঝুটঝামেলা, মারপিট হয়েছিল কিনা
তা কে বলতে পারে ? এসব কিছু জানা যাবে জিজ্ঞাসাবাদ করে। আর নারীর ব্যাপারটা আত্মীয়-স্বজনরা
কেউ স্বীকার করতে চাইবে না। এত কম বয়সে নিশ্চয়ই মানসের বিয়ে হয়নি। তবে কারোর সাথে
ভাব-ভালোবাসা থাকলে মেয়ের পক্ষের লোকেরা প্রতিশোধ নিতে এরকম কাজ করতে পারে । তা বলে
দিন দুপুরে? এভাবে লোকচক্ষুর সামনে? ভাবতে কষ্ট হয় যতীন দারোগার। তবে এটাও ঠিক,
সব জিনিসগুলো খতিয়ে না দেখলে, এ খুনের কূলকিনারা কিছু খুঁজে পাওয়া যাবে না।
এইসব
নিয়ে যতীন দারোগা চিন্তাভাবনা করছিলেন, ঠিক সেইসময় ক্রিং ক্রিং করে টেলিফোনটা বেজে
উঠল। যতীন দারোগা ফোন তুলে বললেন-- নমস্কার । হাওড়া জি.আর.পি থানা।
--
আর.এস.পি বলছি । তোমাদের ওই খুনের ব্যাপারে কি কিছু ডেভলপমেন্ট হলো ?
--
হাঁ স্যার ! ডেডবডি আইডেন্টিফাইড হয়েছে। মৃতের মা ডেডবডি নিতে এসেছেন। মেজ বাবুকে
বলেছি সঙ্গে যেতে। জগাছায় ওদের বাড়ি। ক্রিমিনেশন ওখানেই হবে। মৃত্যুর কারণ নিশ্চয়ই
জানা যাবে। আশা করি কেসটা ডিটেকশন হয়ে যাবে ।
--
ঠিক আছে। একটু ভালো করে দেখো। এক মন্ত্রীসাহেব আমাকে ফোন করেছিলেন কাগজ পড়ে। এ কথা
বলে ফোন রেখে দিলেন আর.এস.পি. সাহেব।
ফোন
রাখতে না রাখতেই আবার ফোনটা বেজে উঠল। কানে ধরতেই অপরপ্রান্ত থেকে জ্যোতিষ বাবু বললেন-স্যার! ডেডবডি নিয়ে আমরা জগাছার উদ্দেশ্যে রওনা হলাম।
যতীন
দারোগা বললেন-- ঠিক আছে। ফেরার সময় রামরাজাতলা স্টেশনে মানস মিত্রের সম্বন্ধে একটু
খোঁজখবর নিও। অবশ্য রাত হয়ে যাবে। লোকজন তেমন পাবে না স্টেশনে। তবু চেষ্টার কোন ত্রুটি
করো না।
ক্রমশ...
----------------------------------------------------------------
এই গোয়েন্দা উপন্যাসটি প্রতি বৃহস্পতিবার ধারাবাহিকভাবে পড়ুন।
মতামত জানান।
ankurishapatrika@gmai
----------------------------------------------------------------
-

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন