গদ্যকবি
'অলম অতিবিস্তারেণ'
যখন বলে গদ্যকার,
মুচকি তখন হাসতে থাকে
নীরব থাকা কাব্যকার।
কারণ আছে, কবি বলেন,
কথাটি কম বলতে হয়,
মাপা কথায় বড় মাপের
কাব্যপথে চলতে হয়।
একেই বলে তাৎপর্য
একেই বলে ব্যঞ্জনা!
কাব্যে থাকে মশলা এ-সব
ধ্বনি খোঁজার মন্ত্রণা!
বাছা শব্দ ছন্দঘেঁষা
অলংকারে বিভূষিতা,
সে যেন এক কুলাঙ্গনা
আবেগময়ী আকাঙ্ক্ষিতা।
সে-সাজ আজ পথ ভুলেছে
ঘোমটাহীন অঙ্গবাসে,
স্পষ্ট বড়ো অধিকারেই
লড়াই দেয় বস্তুত সে।
কত দিনের অভিলাষেই
লজ্জিত সে নূতন আলো,
কবি তো তার সঙ্গে থেকে
গদ্যপ্রভা জড়িয়ে দিলো।
কবিতা আজ প্রতিবাদের
কবিতা আজ শুদ্ধচেতা,
কবিতা আজ গদ্যে মিশে
ছড়ায় কিছু সুলভ্যতা।
বাঁচার দিকে কবি-মানুষ
একক দেখি এ নির্জনে
গদ্য-মেশা কাব্যদেহে
ফুল ফোটান সংগোপনে।
এই দেহেও ফলটি ধরে
কাব্যকলা নামটি পশে,
গদ্য-কবি বলি তাদের---
আন নামের অভাববশে।।
রোল্-কল
কী যে নিষ্ঠুর
নির্মাণ ভাঙছে,ভেঙে চুরচুর!
সংখ্যারা কেমন অতিশয়
টুক করেই বলে:উপস্থিত মহাশয়,
কেউ ইয়েস স্যার,প্রেজেন্ট স্যার বলে
ইংরেজী হামেশা বেশ চলে----
টগবগে শিক্ষার্থীমহলে ।
অধ্যাপকগণ অভ্যাসের বশে
প্রেজেন্টের খাতায় উপস্থিতি কষে
কেউ কষ্ট পান
সংখ্যার দাপটে নাম কেন খান খান!
বনলতা কবিতা ঊষা সুদীপ্তা অশোকা
আদিত্য সুরমা পর্ণা বীথিকা অলকা
সংখ্যা কেন এরা হবে !
নামের আড়ালে আখ্যাত হারাবে ?
নামের তো স্রষ্টা থাকে
থাকে মন ক্ষণও থাকে
মগ্ন ধ্যানও থাকে কল্পালেখ
সম্যক চেনার লক্ষ্য শান্ত অভিলেখ ।
রোল্-কল ---ইয়েস স্যার
নয় নয়তো নয় আর
নাম তার রাখুক আশয়
সঙ্গত করুক তাতে
" উপস্থিত মহাশয় "।।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন