লেবেল

বুধবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৩

উন্মুক্ত কবিতা -১২ ।। সুদীপ কুমার চক্রবর্তী-এর কবিতা -।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 




উন্মুক্ত কবিতা -১২




সুদীপ কুমার চক্রবর্তী-এর কবিতা 



১.

কবিকৃতি 


"Poets and pigs are only appreciated after their death."

এক বিশাল মহাভোজের স্বপ্ন না দেখে
একটুকরো মাংস কাটো দাঁতে
আর একটু ঝোল থাকুক পাতে।

ঠাকুরদা বলতো এসব 
চটুল চোখ টিপে একটু মুচকি হেসে।
লোলুপ জিভ বুলিয়ে নিত ঠোঁটে।

বলতো - বন্ধ রেখো না মনের রসুই ঘর
সুরন্ধনের গন্ধ ছড়াক সুঘ্রাণে চারদিকে।

এসব না পেয়েও আমরা কত কি যে খাই
কাঁচা সবজি থেকে বাসি রুটি - পান্তা ভাত
যা পাই তাই।
মহাভোজের খাদ্য রসিক কবি
ঠাকুর দাদা আঁকতো সে জলছবি।

কবির শব্দে মানুষ আঁকা থাকে
কবির শব্দে স্বপ্ন মুকুল ফোটে
কবির মৃত্যু অক্ষর এপিটাফে 
পাঠক তাকে কাব্যে মনে রাখে।



২.
এভাবে না বললেই হতো 

এভাবে না বললেই হতো
মনে রাখতাম না আর এতো সুরেলা শব্দ সাজিয়ে।
দরকার কি ছিল এতো কাছে আসার কল্পনার মেঘ উজিয়ে।

এভাবে না বললেই হতো
তরঙ্গে ভেসে ভেসে আর নদীর সঙ্গে 
হতো না এতো অন্তরঙ্গ কথা।
কি দরকার ছিল খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে
এতো প্রেম অভিলাষ !
শুধু শুধু সময় পুড়িয়ে নিজেকে দগ্ধ হওয়ার নির্মম ইতিহাস।

এভাবে না বললেই বোধহয় হতো অনেক ভালো
অন্ধকার ছায়ারা খুঁজতে চাইলো রঙ বেরঙের আলো।
এক আকাশ নক্ষত্র  - হাজার স্বপ্নের কাছে
অনেক ঋণ জমে গেলো।
যা কিছু আমার জন্যে নয় সেখান থেকে 
ফিরে আসার পদধ্বনিকে আবার
ছন্দরতির নুতুন কাব্য বানাতে হলো।



মরু যাত্রী 

সব ব্যাপারে এত উন্নসিক হলে
মরুদ্যানের ভ্রম মরীচিকার গল্প আর কাকে শোনাবো !
শিয়রে সন্ধ্যা নামলে যতীনের চা দোকানে
পরকীয়া আর পরচর্চায় চুমুক মেরে
শুকতারার সঙ্গে হাঁটতে হাঁটতে 
যখন দিলখুশ মেজাজে বাড়ী ফিরে যাও
মল্লিকার কথা আর মনে আসেনা একবারও।
মেয়েটা এখন আখড়ায় থেকে থেকে
কীর্তন গেয়ে ওঠে বৈষ্ণব পদাবলী আওড়ায়।
অপরাহ্নের মাধবী লতায় জল দেয় প্রত্যহ।

নিঃশ্বাসের সঙ্গে তুমুল বিশ্বাসের দূষিত বাতাস
ছেড়ে দিয়ে ঘ্রাণ নিতে নিতে শিস দিয়ে যাও
এসব মোলায়েম দুঃখ কথায়।
প্রতি রাতে দেহ বিলাসের তত্ব কথায়
মল্লিকার আঁচল বিছিয়ে মধুমিতার 
টুকরো স্পর্শ গুলো বেঁধে রাখো বাঁচার অলিন্দে।
দুঃস্বপ্নের মরু ঝড়ে তখন এক পালক খসা
নার্সিসাস নিঃসাড়ে কাঁদে নিঃসঙ্গ আর্তনাদে।

1 টি মন্তব্য: